| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অর্থহীন দাঁড়কাক
ক্রিং ক্রিং ক্রিং...
শূণ্য রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে ফয়সাল। ফাঁকা রাস্তায় সাইকেলের রিং বাজাতে তার ভালোই লাগে। আকাশের চাঁদটা তার সাথে সাথে যাচ্ছে। বাস্তব জগতে কেউ তাকে ফলো না করলেও এখন যেন চাঁদটা তাকে বিরামহীনভাবে ফলো করছে। আর চাঁদের আশেপাশের তারাগুলো মিটিমিটি জ্বলে এই তামাশা উপভোগ করছে।
সাইকেলে প্যাডেল মারতে মারতে এক সময় নতুন এলাকায় এসে পড়ল। নতুন এলাকা মানে নতুন অভিজ্ঞতা। আর যত অভিজ্ঞতা তত বেশি লাভ। জীবনের চলার পথে সব ধরণের অভিজ্ঞতা দরকার। ভালো হোক বা খারাপ। তবে খারাপ অভিজ্ঞতার চর্চা না করলেই হয়।
সাইকেল চলছে। চাকাও ঘুরছে। একসময় থমকে যায়। ফয়সাল ইচ্ছা করেই সাইকেল থামায়। কারণ রাস্তার পাশে একটা অ্যাপার্টমেন্টের অদ্ভুত আচরণ তার চোখে ধরা পড়েছে। তিন তলার অ্যাপার্টমেন্টের প্রথম আর তৃতীয় তলায় আলো জ্বলছে। কিন্তু দ্বিতীয় তলা থেকে কোন আলো আসছেনা। মনে হল যেন দুটি পাহাড়ের মাঝখানে গভীর খাদ। এই গভীর খাদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়া অসম্ভব। তেমনি প্রথম তলা থেকে তৃতীয় তলায় যেতেও অসম্ভব কাজ মনে হচ্ছে। একটু অস্বস্তিকর অনুভূতি হচ্ছে ফয়সালের। এখানে আর থাকতে ইচ্ছা করছে না। প্যাডেল মেরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। পিছনে পড়ে রইল অ্যাপার্টমেন্ট। এখনে তেমন কোন অভিজ্ঞতা না হলেও সাইকেলের অভিজ্ঞতার থলেতে একটা আনসোলভড অভিজ্ঞতা জমা হলো।
রাস্তায় একটি যুবক সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে। একটু আগে কিছুক্ষণের জন্য থেমে ছিল। দ্বিতীয় তলার জানালা থেকে এতক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছি একটি নারীর অবয়ব। আজ রাতেও এক অভিজ্ঞতা জমা হবে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। যত বেশি অভিজ্ঞতা তত বেশি লাভ। তবে এই অভিজ্ঞতার চর্চা হয় মন্দের পক্ষে। সামনে থেকে শিকার চলে গেলেও কোন চিন্তা হচ্ছেনা। কারণ শিকার নিজেই ফিরে আসবে নতুন অভিজ্ঞতার টানে।
সাইকেলের চাকা ঘুরছে। এগিয়ে চলছে ফয়সাল। আকাশের চাঁদটাও এগিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে সে ই চাঁদটাকে ফলো করছে। চাঁদের পিছনে ছুটছে। কিন্তু দূরত্ব এক বিন্দুও কমছে না। তারার তামাশা যেন এখন বুঝতে পারছে। পিছনে অ্যাপার্টমেন্ট টি ফেলে আসার পর সামনে আর কোন ভবনের দেখা পাওয়া যায়নি। ঐ অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু না; সামনে এগিয়ে চলছে সাইকেল। যেন পিছনে ফেরার ইচ্ছা নেই।
চলতে চলতে এক সময় সামনে একটা অ্যাপার্টমেন্টের দেখা পেল। তিন তলার অ্যাপার্টমেন্ট। থেমে যায় সাইকেলের চাকা। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এইবার প্রথম ও তৃতীয় তলায় আলো নেই। দ্বিতীয় তলা থেকে আলো আসছে। জানালার এক নারীর অবয়ব ফুটে উঠেছে...
ক্যাচ ক্যাচ করে জং ধরা লোহার গেইট দিয়ে প্রবেশ করছে যুবকটি। সিড়ি দিয়ে উঠার শব্দ আসছে। তার শেষ অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে এগিয়ে আসছে। আর আমার আরেকটি অভিজ্ঞতা জমা হবে। জানলার পাশ থেকে ভাবছে অতৃপ্ত আত্মাটি।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সকালে প্রত্যয় বাসার সামনে এক সাইকেলের খোঁজ পেল। সাইকেলের মালিকের খোঁজ নিতে গিয়েও পারছে না। কারণ তার আশেপাশে কোন বাড়ি-ঘর নেই। দুইদিন মালিকের অপেক্ষা করে সাইকেলটি নিজের করে নিল। সাইকেলে প্যাডেল মারতেই নতুন অভিজ্ঞতার জন্য বেড়িয়ে পড়তে ইচ্ছা হল তার। সাইকেলের আত্মাও নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়!
©somewhere in net ltd.