নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অমীমাংসিত ইতিহাসের পুনর্জন্ম

পৃথিবী আজ ঘুমন্ত, ঘুমন্ত আমার অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে একসময়ের পরিচিত পথে... যে পথ আমার অপরিচিত পদচারণায় ঘুমন্ত। অন্যভুবনের অমীমাংসিত রহস্যে আমি মীমাংসিত ভুবনে বেমানান হয়ে বেঁচে থাকি... একসময় পুনর্জন্ম হয় আমার অমীমাংসিত ইতিহাসের।

অর্থহীন দাঁড়কাক

অর্থহীন দাঁড়কাক › বিস্তারিত পোস্টঃ

# দু'নলের লম্বা বন্দুক

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১:০৩

একটা বন্দুক দরকার। লম্বা বন্দুক। অবশ্যই দু'নলের বন্দুক।



এই নিয়ে পরপর তিনদিন দেখলাম মায়াবিনী পাখিটাকে। সে তার সঙ্গীর জন্য অপেক্ষা করে। আর আধ ঘণ্টা পর তার সঙ্গী আসে। তারপর ফুড়ুত করে কোথায় চলে যায়। সঙ্গীনীর সাথে সঙ্গীটা একেবারে বেমানান। অপেক্ষারত পাখিটার চোখ জোড়া অসাধারণ। সুন্দর স্বপ্ন ভাসে নীল আকাশে। তার হেয়ার স্টাইলটা জোস। কোনো পার্লারে, এই স্টাইলে চুল কাটালে জেনে নিতাম।

একটা বন্দুক দরকার। লম্বা বন্দুক। অবশ্যই দু'নলের বন্দুক। শিক্ষা দিতে হবে এই কাপলটিকে।



ফাহাদের চারতলা আলিশান বিল্ডিং এর সামনে বিরক্তিকর অবস্থায় দাড়িয়ে আছি। শালার নতুন দারোয়ান ভিতরে যেতে দিচ্ছে না। ফাহাদকে ফোন দিছি পাঁচ মিনিট আগে। আসার নামগন্ধ নাই। তার বাবা বান্দরবানের বন সংরক্ষণের একটা বড় পোস্ট দখল করে আছে। বাংলা সিনেমায় বনের কর্মকর্তাদের কাছে প্রায় সময় লম্বা দু'নলের বন্দুক দেখতাম। তার বাবার কাছেও থাকতে পারে। তার বাবাকে পটিয়ে একটা বন্দুক হাতিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা আছে।



ফাহাদ নিচে আসে।

:কীরে? নতুন দারোয়ান ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছেনা ক্যান? হারামজাদার কান দুইটা মলে দিতে ইচ্ছা করছে।

:সরি দোস্ত, আব্বুর কড়া নির্দেশ অপরিচিতদের ভিতরে ঢুকতে না দেয়া।

:আচ্ছা, ঠিক আছে। উপরে চল। তোর বাপ আছে তো? তার সাথে ইস্পিশাল কথা আছে।

:স্পেশাল কথা আর বলতে হইবে না। আজ ভোরে বান্দরবান চলে গেছে।

:কী!!! আরোও না দুইদিন থাকার কথা ছিল?

:হ্যা। কিন্তু একটা জরুরী কাজে হঠাত্ করে চলে যেতে হয়ছে।

:যা হোক। তোর বাপের বন্দুক আছে? দু'নলের লম্বাআ... বন্দুক। (হাত দুইটা প্রসারিত করে লম্বার দৈর্ঘ্য দেখিয়ে দিল)

:তোর মাথা দেখি ঠিক নাই। অফিসের বন্দুক বাসায় রাখে নাকি? সব ঐখানেই রেখে আসে।

:কিন্তু সিনেমায় তো বন্দুক বাসায় ঝুলিয়ে রাখতে দেখতাম....

:ধুর... যা ভাগ...





একটা বন্দুক জোগাড় করেছি। প্রতিদিনের ন্যায় আজও মায়াবিনী পাখিটা এসেছে। অপেক্ষা করছে তার সঙ্গীর জন্য। আমিও অপেক্ষা করছি। আধ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার সঙ্গীটি আসে না। তার চোখে যথেষ্ঠ চিন্তার ভাজ লক্ষ্য করতে পারছি। তার আলতো মনের কোণে নিশ্চয় কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।

এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তার সঙ্গী এখনো আসেনি। আমার বন্দুকও গর্জে উঠেনি। বন্দুকটা লম্বাও না, আবার দু'নলেরও না। ব্যাটারি চালিত খেলনার বন্দুকটি অপেক্ষায় আছে কাকাতুয়া পাখিটার সঙ্গীর জন্য। ভয় দেখিয়ে তাদের জীবনে একটু চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে চাই। কিন্তু এখনো আসছেনা কেন তার সঙ্গীটি!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.