নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অমীমাংসিত ইতিহাসের পুনর্জন্ম

পৃথিবী আজ ঘুমন্ত, ঘুমন্ত আমার অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে একসময়ের পরিচিত পথে... যে পথ আমার অপরিচিত পদচারণায় ঘুমন্ত। অন্যভুবনের অমীমাংসিত রহস্যে আমি মীমাংসিত ভুবনে বেমানান হয়ে বেঁচে থাকি... একসময় পুনর্জন্ম হয় আমার অমীমাংসিত ইতিহাসের।

অর্থহীন দাঁড়কাক

অর্থহীন দাঁড়কাক › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:৫৯

গণিতের সৌন্দর্যই তার একমাত্র উপভোগের বিষয় ছিল। পার্থিব বিষয়ের আনন্দ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার গবেষণার প্রবন্ধ সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দেড় হাজারে অধিকের উপরে। কারোর পরিচয় থেকে তার কাছে তার 'সমস্যা' সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। আজ তার মৃত্যুদিবস। সেই বিশ্ববিখ্যাত গণিতবেত্তার নাম পল আরডস।



তার সম্বন্ধে আমার জ্ঞান সীমিত। তবুও যা জানি তার কিছু অংশ শেয়ার করছি।

পল আরডস কোন তত্ত্ব রচনার কিংবা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেননি। কম্বিন্যাটরিকস, নাম্বার থিওরি ও গ্রাফ থিওরির বিভিন্ন সমস্যার ততোধিক ও সরল সমাধানই তার গবেষণার মূল আকর্ষণ। কম্পিউটার এর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয় ডিসক্রিট ম্যাথমেটিক্স তার কাজের উপর ভিত্তি করে সমৃদ্ধ হয়। মৃত্যুর আগে ১২০০ টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। বর্তমানে তার প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে ৫০০ এর বেশি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় দশ এর মতো।



তার ব্যস্ত সময় কাটতো সমস্যা সমাধানে। সেমিনার আর কনফারেন্সে তার বছরের এক পঞ্চামাংশ সময় কেটে যেত। ছুটি নিতেন নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য। তাও আবার দিনে ১৯ ঘণ্টা এর পেছনে ব্যয় করতেন।



তার সেমিনারগুলো ছিল অন্যরকম। বোর্ডে বিভিন্ন সমস্যা লিখে দিতেন। তার পাশে সমস্যাটির সমাধানের জন্য ৫০ ডলার, ১০০ ডলার লিখে রাখেন। সমাধান করতে পারলে সমাধানকারীকে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কোন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে সমাধানের অপেক্ষায় থাকলে তার পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। গণিতানুগারীদের সমস্যা সমাধানে উত্সাহিত করার জন্য তার উলফ পুরস্কারের ৫০ হাজার ডলারসহ বেশিরভাগ পুরস্কারের অর্থই ব্যয় করেছেন।



তার গবেষণায় সহযোগীর সংখ্যা ছিল ৫০৭ । তারা আরডসের সাথে কমপক্ষে একটি করে প্রবন্ধ লিখে গেছেন। 'আরডস নাম্বার' অনেকের কাছে একটা মজার বিষয়। অনেকটা বংশগতির সোপান এর মত। পল আরডসের 'আরডস নাম্বার শূন্য'। যারা পল আরডসের সঙ্গে প্রবন্ধ লিখেছেন তাদের সকলের আরডস নাম্বার এক। আবার 'আরডাস নাম্বার এক' এর কারো সাথে নতুন কেউ কোন প্রবন্ধ লিখলে তার আরডস নাম্বার হতো দুই। এভাবেই প্রবাহিত হয় আরডস নাম্বার।

কিছু বিখ্যাত মানুষের আরডস নাম্বার বলতে গেলে আইনস্টাইন এর আরডস নাম্বার দুই, সত্যেন বোসের তিন, বিল গেটসের চার।



কোন সেমিনারে আরডসের পাশে বসা কেউ কোন সমস্যা দিলে, কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে তাকে সমাধানের পথ দেখিয়ে দিতেন। এর জন্য তার পাশের আসনের প্রতি সবারই আকর্ষণ থাকতো।



অকৃতদার এই গনিতবিদ দীর্ঘ ষাট বছর যাযাবর সময় কাটিয়েছেন। এক দেশ থেকে অন্য দেশ। এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়। সাথে সঙ্গী ছিল তার মা।



১৯১৩ সালের ২৬ মার্চ জন্ম নেয়া পল আরডস ১৯৯৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মারা যান। ভবিষ্যতের গণিতবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে বেঁচে থাকবেন তিনি।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ ভোর ৪:০৯

খেয়া ঘাট বলেছেন: চমৎকার কিছু জানলাম ভাই। দারুন একটা পোস্ট।

২| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:৪৯

অর্থহীন দাঁড়কাক বলেছেন: ধন্যবাদ...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.