| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উলামা মাশায়িখ ও আওলিয়া কিরামের মাযারের আশ-পাশে বা এর সন্নিকটে ইমারত তৈরী করা জায়েয। কুরআনে কারীম, সাহাবায়ে কিরাম ও সাধারণ মুসলমানদের আমল ও উলামায়েকিরামের উক্তিসমূহ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআন কারীম আসহাবে কাহাফের কাহিনী বর্ণনা প্রসংগে ইরশাদ করেন-
قَلَ الَّذِيْنَ غَلَبُوْا عَلى اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ علَيْهِمْ مَسْجِدًا
তিনি বললেন, তাঁরা যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন (ইবাদত বন্দেগীতে) তাঁদের সেই স্মৃতির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। তফসীরে রূহুল বয়ানে এ আয়াতের بُنْيَانًا ব্যাখ্যা প্রসংগে উল্লেখিত আছে-
لَايَعْلَمُ اَحَدٌ تُرْبَتَهُمْ وَتَكُوْنُ مَحْفُوْظَةً مِنْ تَطَرُّقِ النَّاسِ كَمَا حُفِظَتْ تُرْبَتُ رَسُوْلِ اللهِ بِالْحَظِيْرَةِ
তাঁরা প্রস্তাব দিলেন, আসহাবে কাহাফের জন্য এমন একটি প্রাচির তৈরী করুন, যা তাদের কবরকে পরিবেষ্টিত করবে এবং তাদের মাযারসমূহ জনগণের আনাগোনা থেকে হিফাজতে থাকবে, যেমন হুযুর আলাইহিস সালামের রওযা পাককে চার দেয়ালের দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাব আগ্রাহ্য হলো, মসজিদই নির্মাণ করা হলো। উক্ত রূহুল বয়ানে مَسْجِدًا এর তাফসীর এভাবে করা হয়েছে-
يُصَلِّىْ فِيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ وَيَتَبَرَّ كُوْنَ بِمَكَانِهِمْ
জনগণ সেখানে নামায আদায় করবে এবং ওদের থেকে বরকত হাসিল করবে। কুরআন কারীম সেসব লোকদের দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন; এক আসহাবে কাহাফের আস্তানার পাশে গম্বুজ ও সমাধি তৈরী করার পরামর্শ; দুই, ওদের সন্নিকটে মসজিদ তৈরী করার সিদ্ধান্ত । কুরআন করীম কোনটাকে অস্বীকার করেননি। যার ফলে প্রতীয়মান হলো যে, উভয় কাজটা তখনও জায়েয ছিল এবংএখনও জায়েয আছে। যেমন উসুলের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রমাণিত আছে- شَرَائِع قَبْلِنَا يَلْزِمُنَا(আগের যুগের শরীয়ত আমাদের জন্য পালনীয়) হুযুর আলাইহিস সালামকে হযরত সিদ্দীকা (রা: ) এর কুটিরে দাফন করা হয়। যদি এটা নাজায়েয হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরাম প্রথমে ওটা ভেংগে ফেলতেন, অত:পর দাফন করতেন, কিন্তু তা করলেন না। হযরত উমর (রা: ) স্বীয় খিলাফতের যুগে এর চারিদিকে কাঁচা ইটের দেওয়াল তৈরী করে দিয়েছিলেন। অত:পর ওলিদ ইবনে আবদুল মালিকের যুগে সৈয়্যদেনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর সকল সাহাবায়ে কিরামের জীবীত থাকা অবস্থায় ঐ ইমারতটাকে খুবই মজবুত করেছেন এবংএতে পাথর স্থাপন করেছেন। যেমন সৈয়দ সমহুদী (রহ: ) স্বীয় خلاصة الوفا باخبار دار المصطفے নামক কিতাবের ১০ম পরিচ্ছেদের ১৯৬ পৃষ্টায় হুযুরা সম্পর্কিত আলোচনায় লিপিবদ্ধ করেছেন-
বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েযের مَاجَاءَ فِىْ قَبْرِالنَّبِىِّ وَاَبِىْبَكْرِ وعُمَرَ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ওরওয়াহ (রা: ) থেকে বর্ণিত আছে- ওলিদ ইবনে আব্দুল মালিকের যুগে রসুলুল্লাহ আলাইহিস সালামের রাওযা পাকের একটি দেওয়ালধসে পড়ে গিয়েছিল। যখন اَخَذُوْا فِىْ بِنَائِه সাহাবায়ে কিরাম একে মেরামত করার কাজে নিয়োজিত হলেন-
فَبَدَتْ لَهُمْ قَدْم فَفَزِعُوْا وَظَنُّوْا اَنَّهَا قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ
তখন একটি পা দৃষ্টিগোচর হলো। এতে তাঁরা ঘাবড়ে গেলেন এবং মনে করলেন এটা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র কদম মোবারক।
حَتّى قَالَ لَهُمْ عُرْوَةُ لَاوَاللهِ مَاهِىَ قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَام مَاهِىَ اِلَّا قَدَمَ عُمَرَ
শেষ পর্যন্ত হযরত ওরওয়া (রা: ) বললেন, খোদার কসম, এটা হুযুর আলাইহিস সালামের কদম নয়, এটা হযরতফারুকের (রা: ) কদম।
“জযবুল কুলুব ইলা দেয়ারিল মাহবুব” গ্রন্থে শেখ আব্দুল হক (র: ) লিপিবদ্ধ করেছেন যে, ৫৫০ হিজরীতে জামাল উদ্দিন ইষ্ফাহানী তথাকার উলামায়ে কিরামের উপস্থিতিতে দেয়ালের চারিদিকে চন্দন কাঠের জালী তৈরী করে দিয়েছিলেন এবং ৫৫৭ হিজরীতে কয়েকজন ইসায়ী ধার্মিকের ছদ্মবেশে মদীনা শরীফে এসেছিলেন এবং সুড়ংগ খনন করে লাশ (দেহ) মুবারক বের করে নিতে চেয়েছিলেন। হুযুর আলাইহিস সালাম তৎকালীন বাদশাকে তিনবার স্বপ্ন দেখালেন। অত:পর বাদশাহতাদেরকে কতল করার নির্দেশ দিলেন এবং রওযা পাকের চারিদিকে পানির স্তর পর্যন্ত ভিত্তি খনন করে সীসা ঢেলে একে ভরাট করে দিয়েছিলেন। আবার ৬৭৮ হিজরীতে সুলতান কালাউন সালেহী সবুজ গম্বুজটা, যা এখনও মওজুদ আছে,তৈরী করিয়েছিলেন।
উপরোক্ত ভাষ্য থেকে এটা বুঝা গেল যে, পবিত্র রওযা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম তৈরী করিয়েছিলেন। যদি কেউ বলে, এটাতো হুযুর আলাইহিস সালামের বিশেষত্ব, এর উত্তরে বলা যাবে, এ রওযা শরীফে হযরত সিদ্দীক (রা: ) ও হযরত উমর (রা: ) কেও দাফন করাহয়েছে এবং হযরত ঈসা (আ: ) কেও দাফন করা হবে। সুতরাং এটা হযুর আলাইহিস সালামের বৈশিষ্ট বলা যায়না। বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েয এবং মিশকাত শরীফের البكاء على الميت শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যখন হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী (রা: ) ইন্তিকাল করেছিলেন- ضَرَبَتْ اِمْرَ أتُه الْقُبَّةَ عَلى قَبْرِه سَنَة তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর কবরের উপর এক বছর পর্যন্ত গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর তৈরী করে রেখেছেলেন।
এটাও সাহাবায়ে কিরামের যুগে সবারবর্তমানে হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেন নি। অধিকন্তু তাঁরস্ত্রী ওখানে একবছর পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন, অত:পর ঘরে ফিরেআসেন। এ হাদীছ থেকে বুযুর্গানে কিরামের মাযার সমূহের কাছে খাদিমের অবস্থান করাটাও প্রমাণিত হলো। এ পর্যন্ত কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত করা হলো।
©somewhere in net ltd.