| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এবার ফকীহ, মুহাদ্দীছ, তাফসীরকারীগণের উক্তি সমূহ প্রত্যক্ষ করুন।
রূহুল বয়ানের তৃতীয় খন্ডে দশম পারায় اِنَّمَا يَعْمُرَ مَسَجِدَ اللهِ مَنْ اَمَنَ بِاللهِ এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।
উলামা, আওলিয়া ও বুযুর্গানে কিরামের কবরের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয যদি মানুষের মনে শ্রেষ্ঠতম ধারণা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; যাতে লোকেরা ঐ কবরবাসীকে নগণ্য মনে না করে।
মিরকাত শরহে মিশকাতের কিতাবুল জানায়েযে دفن الميت অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
পূর্বসূরী আলেমগণ, মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয বলেছেন, যাতে লোকেরা যিয়ারত করে এবং বসে আরাম পায়।
শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী শরহে সফরুস সা’আদাত কিতাবে উল্লেখ করেছেন-
শেষ জামানায় সাধারণ মানুষ যখন বাহ্যিক বেশভূষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেল, তখন মাশায়িখ ও বুযুর্গানে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করার প্রতি বিশেষ অভিপ্রায়ে জোর দেয়া হয়, যেন মুসলমান ও আওলিয়া কিরামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে হিন্দুস্থানে, যেথায় হিন্দু, কাফির ও অনেক শত্রুর অবস্থান, তথায় পুণ্যাত্মা মনীষীদের শান-মান প্রকাশ, সেসব কাফিরদের মনে ভীতি ও আনুগত্য সৃষ্টির সহায়ক। অনেক কাজ আগের যুগে মাকরূহ ছিল কিন্তু শেষ জামানায় মুস্তাহাবে রূপান্তরিত হয়েছে।
ফতওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড الدفن অধ্যায়ে লিখা আছে-
وَقِيْلَ لَايَكْرَهُ الْبِنَاءُ اِذَا كَانَ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَشَائِخِ والعُلَمَاءِ وَالسَّادَاتِ
যদি কবরবাসী মাশায়িখ, উলামা বা সৈয়দ বংশ থেকে কেউ হয়ে থাকেন, তার কবরের উপর ইমারত তৈরী করা মাকরূহ নয়। সেই এক অধ্যায়ে দুর্রুল মুখতারে উল্লেখিত আছে-
لَايَرْ فَعُ عَلَيْهِ بِنَاء وَقِيْلَ لَابَأسَ بِه وَهُوَ الْمُخْتَارُ
(কবরের উপর ইমারত তৈরী করা অনুচিত। কেউ কেউ বলেছেন, এতে কোন ক্ষতি নেই। এবং এ অভিমতটাই পছন্দনীয়।) কতেক লোক বলেন যে, শামী ও দুর্রুল মুখতারে ইমারতের বৈধতার কথাটা যেহেতু শব্দ فِيْلَ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, সেহেতু এ অভিমতটা দুর্বল। কিন্তুএটা ভুল ধারণা। ফিকাহ শাস্ত্রে فِيْلَ শব্দ ব্যবহারটা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং কোন কোন স্থানে একটি মাসআলার জন্য দু’টি মতামত ব্যক্ত করা হলে উভয় মতামতই فِيْلَ শব্দ দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা যায়। তবে হ্যাঁ, যুক্তি বিদ্যায় فِيْلَ শব্দটা দুর্বলতার নিদর্শন। কবরে আযান শীর্ষক আলোচনায় فِيْلَ শব্দের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। তাহতাবী আলা মরাকিল ফলাহ গ্রন্থে ৩৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-
মিসরের লোকেরা কবর সমূহের উপর পাথর স্থাপন করে, যাতে বিলীন বা উচ্ছেদ হয়ে না যায় এবং কবরকে যেন পলেস্তারা করতে না পারে আর যেন কবরের উপর ইমারত তৈরী করতে না পারে। কেউ কেউ এগুলোকে জায়েয বলেন এবং এটাই গ্রহনযোগ্য ।
‘মীযানুল কুবরা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের শেষ কিতাবুল জানায়েযে ইমাম শারানী (রহ
বলেন-
অন্যান্য ইমামগণের মতামত হচ্ছে, কবরের উপর ইমারত তৈরী করা এবং একেচুন দিয়ে আলপনা করা যাবে না। তা সত্বেও ইমাম আবু হানীফার বক্তব্যহচ্ছে এসব জায়েয। সুতরাং প্রথম উক্তিতে কঠোরতা এবং দ্বিতীয় উক্তিতে নমনীয়তা প্রকাশ পায়।
এখনতো আর কিছু বলার নেই। স্বয়ং মযহাবের ইমাম হযরত আবু হানীফার অভিমত পাওয়া গেল যে, কবরের উপর গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।
আল্লাহর শুকর, কুরআন হাদীছ ও ফিকাহের বিভিন্ন ইবারত এমনকি স্বয়ং ইমাম আবু হানীফার উক্তি থেকে প্রমানিত হলো যে, আওলিয়া ও উলামায়ে কিরামের কবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।
©somewhere in net ltd.