| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি এক মায়ের কথা জানি, সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য টানা আ–ট মাস যে খেতে পারে না। একটুও না, এক ফোঁটাও না।
সেই মায়ের নাম শ্বেত ভাল্লুক।
এক মা আছে, জন্মের পর পর তার সন্তানরা তাকেই খেয়ে ফেলে। মা স্বেচ্ছায় এই মৃত্যু মেনে নেন।
সে মা এক ধরনের মাকড়শা। মা চাইলেই জাল বেয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে পারত নিজেকে বাঁচাতে। কিন্তু সেটা সে করে না। সন্তানদের প্রোটিনের চাহিদা সে এভাবেই মেটায়।
মহান সৃষ্টিকর্তা মায়েদের এমনভাবে তৈরি করেছেন, তার নিজের সত্তা সন্তানের কাছে বিলীন হয়ে যায়। খুব ছোটবেলায় আমি একবার লাফিয়ে পার হতে গিয়ে ভুল করে একটা মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলেছিলাম। আমার নিজেরও কষ্ট হয়েছিল খুব। সেই মা মুরগিটা গায়ের সব পালক ফুলিয়ে ঠোঁট দিয়ে আক্রমণ করতে এসেছিল। তার তুলনায় একটা বিরাটাকায় মানুষকেও পরোয়া করেনি।
‘মা’ শব্দটা ভাবতেই আমি সব সময় সেই ভয়ংকর রাগী মুরগি মায়ের ছবিটাই দেখতে পাই। এমনকি আমার মায়ের মধ্যেও।
আমার নিজের মায়ের সংগ্রামের গল্প আমি কখনোই লিখতে পারিনি। হয়তো পারবও না। পৃথিবীর এমন কোনো শব্দ, বাক্য তৈরি হয়নি সেই সংগ্রামটা প্রকাশ করতে পারে। আমার ছোটবোন জন্মের কয়েক দিন পর মারা গিয়েছিল। আম্মা কয়েক বছর মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বাকি চার সন্তানকে আগলে রাখতে চাইতেন। এই আগলে রাখা সত্যিই পাগলামীর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। আমাদেরও সহ্য হতো না।
বড় হয়ে বুঝেছি, মা সব সময় শঙ্কায় ভুগতেন, তার চার সন্তানের বুঝি কোনো বিপদ হবে!
ঋদ্ধি যখন তার মায়ের গর্ভে, ডাক্তার জানাল, যে তরলে সন্তানরা ভেসে থাকে মায়ের পেটে, সেটি আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল, বীথিকে দীর্ঘদিন একপাশে কাত হয়ে থাকতে হয়েছে। একটুও পাশ বদলাতে পারেনি।
ঋদ্ধি যখন সাত কি আট মাস, একবার কাশির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাঝরাতে গলগল করে কফ বেরোতে শুরু করল। ওর শ্বাসনালী বন্ধ। নিশ্বাস আটকে আছে। স্থির হয়ে আছে দেহ। একটুও নড়ছে না!
সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা আমি ভুলতে পারি না। সেই রাতে একজন মায়ের আর্তনাদ আমি ভুলতে পারি না, যে মা নিজের প্রশ্বাস তার সন্তানকে দিয়ে দিতে চেয়েছিল। মায়েরা হয়তো কখনো কখনো নিজের কোলে এমনভাবে সন্তানকে আগলে রাখতে পারেন, মৃত্যুও সেই বাধা টপকে যেতে পারে না!
***
এক মা তার দুই সন্তানকে গলা টিপে মেরে ফেলেছে, এই খবর আমার বিশ্বাস হতে চায় না কিছুতেই। গতকালই আমি আরেকটি খবরে দেখেছি, এ মা জানলা দিয়ে তার নবজাতককে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলেছে! কী বীভৎস খবর! একটাও পুরো পড়তে পারিনি।
***
আমি সব সময়ই বলেছি, লিখেছি, বিশ্বাস করেছি, পৃথিবীতে অজস্র খারাপ মানুষ আছে। কিন্তু একটাও খারাপ মা নেই, বাবা নেই।
এই খবরগুলো যদি পুরোটাই সত্যি হয়ও, আমি আমার বিশ্বাস থেকে এক চুলও নড়ব না।
কারণ আমার চোখে এরা ‘মা’ কিংবা ‘বাবা’ নয়। হতে পারেই না। পৃথিবীতে একটাও খারাপ মা নেই, খারাপ বাবা নেই!
©somewhere in net ltd.