নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্ত্যজ বাঙালী, আতরাফ মুসলমান ...

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান।রবীন্দ্রনাথ

ইমন জুবায়ের

জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]

ইমন জুবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮





মংগোল সম্রাট হালাকু খান। সময়কাল ১২১৭ থেকে ১২৬৫ খ্রিস্টাব্দ। হালাকু খান এর পিতামহ ছিলেন মংগোল সাম্রাজ্যের স্থপতি সম্রাট চেঙ্গিস খান; বাবার নাম তোলুই, মায়ের নাম সোরঘাগতানি বেইকি। হালাকু খান খ্রিস্টানদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হালাকু খান-এর মা ছিলেন নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টান এমন কী হালাকু খান-এর একজন সেনাপতি এবং অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন ছিলেন খ্রিস্টান । তবে একটি সূত্র থেকে জানা যায় মৃত্যুর পূর্বে হালাকু খান বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন। হালাকু খান রক্তপাতের জন্য কুখ্যাত। তারই পরিচালিত অভিযানে ১২৫৭ সালে ধ্বংস হয়েছে বাগদাদ, ১২৬০ সালে ধ্বংস হয়েছে সিরিয়া। এরকম একজন রক্তপিপাসু সম্রাট মৃত্যুর পূর্বে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করলেন! এ জন্যই প্রশ্ন ওঠে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?









প্রাচীন ভারতের মানচিত্র। প্রাচীন ভারতেরই এক সম্রাট যুদ্ধের তান্ডব দেখে ব্যথিত হয়ে উঠেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। অশোকের সময়কাল অবশ্য খ্রিস্টপূর্ব ৩০৪ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২...







সম্রাট অশোক। প্রাচীন ভারতের মৌর্যবংশের সম্রাট ছিলেন অশোক । শাসন করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ থেকে ২৬৯ খ্রিস্টপূর্ব । আমরা ২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধ কথা জানি। কলিঙ্গর অবস্থান ছিল বর্তমানকালের উড়িষ্যায়। যে যুদ্ধের রক্তপাত দেখে হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন।মংগোল সম্রাট হালাকু খান এর জীবনেও তেমনই এক মানবিক ঘটনা ঘটতে দেখি।







মংগোলিয়ার মানচিত্র। এখানেই উত্থান হয়েছিল চেঙ্গিস খান হালাকু খান প্রমূখ রক্তলোলুপ মংগোল সম্রাটদের।



১২৫৫ সালে মংগোলরা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অভিমূখে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অনিবার্যভাবেই সে অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন হালাকু খান।







হালাকু খানের সফল নেতৃত্বে মংগোল সৈন্যরা ১২৫৭ সালে বাগদাদ ধ্বংস করে, এবং এর ৩ বছর পর ১২৬০ সালে সিরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সেই সময়ে মিশর শাসন করছিল বাহরি মামলুক সুলতানরা। মিশরও পদানত করেন হালাকু খান। এভাবে মিশর থেকে মংগোলিয়া অব্দি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।









হালাকু খান মারা যান ১২৬৫ সালে।









লেক উরমিয়া। উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি লবনহ্রদ। এই হ্রদের একটি দ্বীপেই হালাকু খানের সমাধি রয়েছে।



হালাকু খান এর নেতৃত্বে সামরিক অভিযানের সময় অসংখ্য মৃত্যু ও প্রচুর রক্তপাত অনুমান করা যায়। মনে প্রশ্ন জাগেএ বিষয়ে হালাকু খান এর কী রকম অনুভূতি হয়েছিল। তার কি বিবমিষা জাগ্রত হয়েছিল? তার মনে কি দয়া ও করুনার উদয় হয়েছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর হয়ত পাওয়া যাবে না।

তবে তিনি মৃত্যুর পূর্বে হালাকুর অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন এর প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এরকম একটি তথ্য পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ...

Hulagu told the Armenian historian Vardan Arewelc'i in 1264 that he had been a Christian since birth. It is recorded however that he was a Buddhist. as he neared his death, against the will of his Christian wife Dokuz Khatun.







হালাকু এখনও রক্তপাতের প্রতীক। অথচ তাঁর শেষ জীবনের চিন্তার মানবিক বাঁক আজও অনালোচিত!



২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধের পর হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। হালাকু খানও কি অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন? তবে তিনি হয়ত বৃহদকার মংগোল সাম্রাজ্যের স্বার্থেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেননি। বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করাটা ছিল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন তো হতেই পারে হালাকু খান রক্তপাতের ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছিলেন, বিবেকের তাড়নায় গ্রহন করেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম।

কাজেই এ প্রশ্ন উঠতেই পারে ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?







বুদ্ধ। যিনি বলেছিলেন ... Even death is not to be feared by one who has lived wisely.





মন্তব্য ৩৯ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৩৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:০১

রাজসোহান বলেছেন: :-* :(

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:০৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন: :(

২| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:০৯

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: আরো জানাবেন।

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: জানাব।
ধন্যবাদ।

৩| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১০

চতুষ্কোণ বলেছেন: ভাল লাগল পোষ্ট।

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৮

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ

৪| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১১

আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: :(:(:(

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন: :P

৫| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৩

সায়েম মুন বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন ভাই!!

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ

৬| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৪

নুভান বলেছেন: কিন্তু ইমন ভাই, উইকিতে আরও পেলাম
"His funeral was the only Ilkhanid funeral to feature human sacrifice"
তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করলে তার কুলখানিতে মানুষ কোরবানি দেয়া হবে কেন? ব্যাপারটা মাথায় আসছেনা। :-*

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:২৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমার মনে হয় আই ক্যান এক্সপ্লেইন।
অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর পাটলিপুত্রের রাজবাড়িতে খাওয়ার জন্য ময়ূর হত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি পেরেছিলেন। কারণ তিনি সময় পেয়েছিলেন।
হালাকু খানের বৌদ্ধধর্ম গ্রহন ঘটেছিল জীবনের শেষ প্রান্তে। ধরা যাক ১২ ৬৪ সালে। তিনি বদলাতে পারেন নি। যে কারণে আমি লিখেছি ...তবে তিনি হয়ত বৃহদকার মংগোল সাম্রাজ্যের স্বার্থেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেননি। বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করাটা ছিল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন তো হতেই পারে হালাকু খান রক্তপাতের ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছিলেন, বিবেকের তাড়নায় গ্রহন করেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম।

যে কারণে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মানববলি হল। এই তথ্যে চমকে আমিও গেছি। আমার জানা মতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মানববলি দিত শকরা। ওদের উত্থানও মঙোলিয়ায়। এবং হালাকু খানের জন্মের প্রায় ১০০০ বছর আগে শকরা ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চটি দখল করেছিল। যা হোক। মংগোলরা বৃহত্তর সাম্রাজ্য গড়ে নানা সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছিল। মানববলি তারই উদাহরণ। কিংবা হালাকুখানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মানববলি একটি বিশেষ ঘটনা। যেমন হালাকু খানের সমাধি একটি লবণহ্রদের মাঝখানে নির্মাণ।

৭| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫২

নুভান বলেছেন: ধন্যবাদ ইমন ভাই, বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য :)

৮| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:০৪

বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: শাসন করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯ থেকে ৩৩২ খ্রিস্টপূর্ব




ভাইয়া সাল গুলো কি উলটো হবে না?

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। ভুল হয়ে গেছে। ঠিক করছি।
অনেক ধন্যবাদ।

৯| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:০৬

বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: শাসন করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯ থেকে ৩৩২ খ্রিস্টপূর্ব

ভাইয়া সাল গুলো কি উলটো হবে না? মানে বেশি টা আগে, আর কম টা পরে? যেহেতু খ্রিস্টপূর্ব।

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। ভুল হয়ে গেছে। ঠিক করছি।
অনেক ধন্যবাদ।

১০| ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:০৭

শ।মসীর বলেছেন: janar ase onek kisui.....

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১২

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই।

১১| ১৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৯

দীপান্বিতা বলেছেন: তার মানে হালাকু খান আর অশোকের শেষ দিকটা অনেকটা এক! ............শেষ ছবিটা খুব সুন্দর! নিয়ে গেলাম!:)

১৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন:

১২| ১৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

ক্ষ বলেছেন: শাসক দের খুনি হতে হয় ..পৃথিবীর সকল শাসক খুনি..কেও কম কেও বেশি

১৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই।

১৩| ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫২

অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: বিষয়টা অন্যরকমের আর আকর্ষণীয়। মানুষের মন পরিবর্তনশীল, আবার প্রমাণিত এই কথা।

এই ব্যাপারে আরো জানার অপেক্ষায় রইলাম।

শুভেচ্ছা।

+

১৮ ই জুন, ২০১০ ভোর ৬:০৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

১৪| ১৮ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:২০

সোমহেপি বলেছেন: পাইয়াছি আমি ইহাকে পাইয়াছি

১৮ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:৪৮

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

১৫| ১৮ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৪:১৪

দীপান্বিতা বলেছেন: খাঁটি কথা!

১৮ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই।

১৬| ১৮ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৪:৩৪

আকাশ_পাগলা বলেছেন: সারাজীবন কোপাকোপি করে শেষে ভাল হলেই কী আর না হলেই কী!
ওরে সামনে পাইলে দৌড়ানি দেয়া দরকার।

১৮ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলেই।

১৭| ১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ৯:০৬

নাজিম উদদীন বলেছেন: গীতা এবং উপনিষধের বাংলা কোন লিন্ক আছে আপনার কাছে।

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ৯:৫৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: No!

১৮| ১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:১৮

শিরীষ বলেছেন: হালাকু খান এর শেষ জীবনের অধ্যায় জানা ছিল না ইমন ভাই। জেনে নিলাম। আর গুরু গৌতমের সবুজ ছবিটা নিয়ে গেলাম।

১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৩৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: O.k

১৯| ২২ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৫:০৪

তারার হাসি বলেছেন:
বেশ তথ্য এবং ছবি সংবলিত চমৎকার পোস্ট।

২২ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৫:৫৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

২০| ২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৪৫

অলস ছেলে বলেছেন: দারুণতো।

২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:২০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.