| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]
সুফিবাদ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখছি। আমরা দেখেছি ইসলামের অভ্যূদয়ের প্রথম শতকেই আরবে সুফিবাদ- এর উত্থান হয়েছিল । সে যুগে পশমের কাপড় পরা একদন সৎ মানুষ ছিলেন যারা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ) ও চার খলিফার সহজ-সরল সাম্যবাদী জীবনাদর্শ মেনে চলতেন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ) ও চার খলিফার শাসনব্যবস্থার অবসানের পর ইসলামে বিলাসিতা, আড়ম্বর ও সংসারের প্রতি আসক্তি বেড়ে গিয়েছিল। সে সময়ই পশমী জামা পরা কিছু সৎ, উদাসীন ও আল্লাহভক্ত মানুষ নিজেদের ওসব থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এবং অনেকটা নিরবেই বিলাসিতা, আড়ম্বর ও সংসার আসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূখর হয়ে উঠেছিলেন। টিকে থাকার জন্যেই সেইসব ত্যাগী আর সৎ মানুষদের একটা আদর্শ দাঁড় করাতে হয়েছিল। সেসময় তাদের বলা হল সুফি বা ‘পশমী জামা পরিধানকারী।’ পরবর্তীকালে আরবদের ভোগবাদী ও বস্তবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সুফিদের মধ্যে মরমি চিন্তার স্ফূরণ ঘটে এবং তাদের চিন্তাধারায় কোরান শরীফের বিশেষ কয়েকটি আয়াত গভীর প্রভাব ফেলে। সুফিরা সৃষ্টি জগতের সর্বত্র আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে পান এবং আল্লায় মিশে যেতে চান। সুফিরা বিশ্বাস করতে থাকেন ... এই দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টিরহস্যের ভিতর দিয়ে সেই আলিমুল গায়েব -এর ইঙ্গিত, ইশারা ও অভিব্যাক্তির আভাস বুঝতে হবে। এসব ব্যাখ্যা-বয়ান সুফিবাদকে সর্বেশ্বরবাদ বা Pantheism এর পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল। এসব নিয়েই আমরা প্রথম পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই পর্বের বিষয় আরব থেকে সুফিবাদের বিকাশ এবং তার পরিবর্তনের স্বরূপ । বিশেষ করে সুফিবাদ পারস্যে পৌঁছনোর পর তার কী মৌলিক পরিবর্তন হল সেটি।
খ্রিস্টীয় নবম শতকের শেষের দিকে সুফিরা মিশর পারস্য বুখারা সমরখন্দ তুর্কিস্থান প্রভৃতি অঞ্চলে সুফিমতবাদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েন। এসব অঞ্চলে আগে থেকেই মরমি ঐতিহ্য ছিল। আসলে মরমি ঐতিহ্য বিশ্বের সব জাতির মধ্যেই কমবেশি রয়েছে। কাজেই মিশর থেকে তুরস্ক-এই সুবিশাল ভূখন্ডের জনগন মরমিবাদ পছন্দ করত বলেই তারা সুফি মতবাদটিকে গ্রাহন করল বটে তবে ভিন্ন পরিবেশে এবং স্থানীয় প্রভাবে সুফি মতবাদের কিছু অনিবার্য পরিবর্তন ঘটল। যেমন একজন মিশরীয় সুফি এবং একজন তুর্কি সুফির সুফিতাত্ত্বিক ব্যাখ্যবয়ান তাদের নিজস্ব মরমি অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপরই নির্ভর করত। আর বিশ্বের প্রত্যেক অঞ্চলেরই মরমিবাদের নিজস্ব একটি ধরণ (ফর্ম) থাকে। মিশর কিংবা তুরস্কের মরমি ঐতিহ্যের স্থানীয় রূপটির সংমিশ্রনে মিশরীয় এবং তুর্কি সুফিসাধকদের সুফিচিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল বলেই আরব-উদ্ভূত সুফিবাদ নতুন একটি রূপ ধারণ করল। পরবর্তীকালে আমরা ভারতবর্ষে যে চিশতিয়া-কাদেরিয়া সুফি তরিকা (তরিকা= মন্ডলী, সম্প্রদায় বা ঘরানা ) উদ্ভব হতে দেখি তার কারণও এই। এক কথায় খ্রিস্টীয় নবম শতকের শেষের দিকে আরব সুফিরা যখন মিশর পারস্য বুখারা সমরখন্দ তুর্কিস্থান প্রভৃতি অঞ্চলে সুফিবাদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তার কিছুকাল পরেই সুফিবাদে অনিবার্য কারণেই সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছিল। ফলে সুফিবাদের আদিরূপটি যে কী ছিল সেটি যেন নতুন নতুন চিন্তার কুয়াশায় ঢেকে গেল, তাকে আর সহজে বোঝা যেত না!
তবে এটি ঠিক যে-পারস্যে পৌঁছনোর পরই সুফিবাদে সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছিল সবচে বেশি। কিন্তু কি এর কারণ? ড.মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর ‘বঙ্গে স্বূফী প্রভাব’ বইয়ে এর কারণটি ব্যাখ্যা করে লিখেছেন: ‘আরব স্বূফী-মতবাদের জন্মদান করিলেও, পারস্য তাহার লালন-পালন ও বর্দ্ধনের ভার গ্রহন করিয়াছিল। পারস্যের স্বভাব নিকুঞ্জে গোলাপ-বুলবুলের লীলা নিকতনে, ঔষর আরবের বেদুঈন সন্তান রাজপুত্রের ন্যায় লালিত-পালিত হইয়া জগতের ঔৎসুক দৃষ্টি আকর্ষন করিয়াছিল।’ (পৃষ্ঠা: ৩৫) ড.মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর ‘বঙ্গে স্বূফী প্রভাব’ বইয়ে আরও লিখেছেন: ‘ফল কথা, স্বূফী মতবাদ আরব ছাড়াইয়া যতই পূর্ব্বদিকে অগ্রসর হইতে থাকে, ইহার মধ্যে ততই পূর্ব্বদেশীয় ভাবধারার সম্মিলন ঘটিতে থাকে। এই জন্যই অনেক পাশ্চাত্য পন্ডিত ভুল করিয়া স্বূফী-মতবাদের উদ্ভবকে ‘আর্য্য হৃদয়ের উপর আরবী প্রভাবের প্রতিক্রিয়া (A reaction of Aryan mind against the Semetic people.) বলিয়া উল্লেখ করিয়া থাকেন।’ (পৃষ্ঠা: ৩৫) আসলে সুফি ভাবনায় প্রথম থেকেই এমন কিছু স্পেস ছিল যা অন্য অঞ্চলের মরমি ভাবনা ও রহস্যবাদী চিন্তাধারা সেই স্পেস পূর্ণ করতে পারত। পারস্যের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তার ওপর পারস্যবাসী ছিল আর্য। ইসলাম পারস্যে পৌঁছায় ৬৩৭/৬৫১ খ্রিস্টাব্দে। ইসলাম- পূর্ব পারস্যবাসীর ধর্মীয় চিন্তার কেন্দ্রে ছিলেন জরথুশত্র। এবং পারস্যের আর্য চেতনায় ছিল হাজার বছরের পুরনো সর্বেশ্বরবাদী ধ্যানধারণা বা Pantheism.( Pantheism, doctrine that identifies the universe (Greek pan, “all”) with God (Greek theos) যে কারণে পারস্যে পৌঁছনোর পর সুফিবাদের ওপর এই সর্বেশ্বরবাদী ধ্যানধারণার অনিবার্য গভীরতর প্রভাব পড়েছিল। ইসলাম ধর্ম যদিও সুফিবাদের ৪ 'শ বছর আগেই পারস্যে বিস্তৃত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও ‘এদেশবাসীর হৃদয়ে তলে তলে ইহা বেশি লীলায়িত ছিল।’ মন্তব্য করেছেন ড.মুহম্মদ এনামুল হক! খ্রিস্টীয় নবম শতকের শেষভাগ হতে দশম শতকের প্রথমভাগের মধ্যে পারস্যের সুফি সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পস্টতই সর্বেশ্বরবাদী ধ্যানধারণা প্রকট হয়ে উঠেছিল। ওই সময়ের কয়েকজন প্রসিদ্ধ সুফি হলেন: বায়োজিদ বোস্তামি (মৃত্যু: ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দ); জুনায়েদ বাগদাদী (মৃত্যু ৯১০ খ্রিস্টাব্দ); এবং মনসুর আল হাল্লাজ (হত্যা ২৬ মার্চ ৯২২ খ্রিস্টাব্দ) ।
মনসুর আল হাল্লাজ -এই নামে বাঙালির হৃদয়ে এক গভীর আবেগ উথলে ওঠে। কারণ, তাঁর জীবন, তাঁর বিশ্বাস তাঁর হত্যাকান্ড ...। নীচের নিবন্ধে সেই আবেগের প্রমান রয়েছে।
Click This Link
আমিও ২০০৮ সালে ২৫ অক্টোবর পারস্যের সুফিসাধক মনসুর আল হাল্লাজ কে নিয়ে মনসুর আল হাল্লাজ: মা ফি জুবাতি লা-আলা এই শিরোনামে এই ব্লগে একটি পোস্ট করেছি। পারস্যে সুফিচিন্তায় সর্বেশ্বরবাদী প্রভাব সর্ম্পকে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেতেই পোস্টটি এখানে উল্লেখ করছি।
শুসতার জায়গাটা ছিল পারস্যের পশ্চিমে। প্রখ্যাত মরমী সাধক মনসুর আল হাল্লাজ-এর জন্ম হয়েছিল সেই পারস্যে শুসতার-এ। ৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে। মনসুরের পরিবার তুলার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। আরবিতে হাল্লাজ মানেও কিন্তু তাই। সময়টা নবম শতক। ইসলাম ততদিনে গৃহিত হয়ে গেছে পারস্যে। তবে ধারনা করা হয় যে -মনসুরের পিতামত ছিলেন জরথুশত্রবাদী। ইসলাম পারস্যে গ্রহনযোগ্য হওয়ার আগে ওই জরথুশত্রবাদই ছিল পারস্যের রাষ্ট্রধর্ম। মনসুরের পূর্বপুরুষ ছিল কুর্দি।
সে যা হোক। মনসুরের বাবা সাধারণ জীবন যাপন করতেন। বালক বয়েসে যে জীবনটা সম্ভবত ভালো লাগত মনসুরের। ওই বয়েসেই হেবজ করেছিলেন কোরান; সেই সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবন এড়িয়ে রহস্যবাদের দিকে ক্রমেই ঝুঁকছিল বালক মনসুর।
বিবাহ করলেন যুবা বয়েসে । তারপর হজ পালন করতে মনস্থির করলেন। কাবা শরীফে যতদিন ছিলেন রোজা রাখতেন; মৌন থাকতেন। তারপর বেরুলেন ভ্রমনে ।আরব বিশ্বের পথে পথে ঘুরলেন। (সুফিদের যে মোকাম বা স্তর রয়েছে, তার একটি হল সফর।) ... সে যা হোক। ভারত থেকে মধ্য-এশিয়া। ছন্নছাড়া জীবনে কত কিছু যে শিখলেন। অপরকে শেখালেন। উদার মানুষ। এমন মানুষের প্রতি মানুষ আকর্ষন বোধ না করে পারে না। বহু শিষ্যও পেয়ে গেলেন হাল্লাজ। শিষ্যদের নিয়ে আরও কয়েকবার মক্কা গেলেন।
তারপর তিনি বাগদাদেই স্থায়ী ভাবে বাস করতে লাগলেন। সেই সময়টায় বাগদাদ ছিল শিক্ষা-দীক্ষার কেন্দ্র। আব্বাসীয় খলিফাদের রাজধানী।
অল্প সময়ের মধ্যেই বোঝা গেল বাগদাদের অধিবাসীরা তাঁকে শ্রদ্ধা করে। শ্রদ্ধা করত খলিফারাও।অবশ্য হাল্লাজ ছিলেন অন্য সূফীদের চেয়ে ব্যাতিক্রম। কী ভাবে?
তৎকালীন অধিকাংশ সূফী-সাধকই আধ্যাত্মিক মরমী সাধনার তত্ত্ব নিয়ে আলাপ আলোচনা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন, সাধারণ জনগনের সঙ্গে সে সব নিয়ে আলাপ করতেন না।
মহাত্মা হাল্লাজ করতেন। (যেমন লালনের সব গানই বাউলদর্শনের গান নয়, নইলে লালনের গান নিয়ে মেইনস্ট্রিম বাঙালির কেন এত উচ্ছ্বাস? । অথচ বাংলার লোকধর্ম সাহেবধনী ধর্মসম্প্রদায়ে তাত্ত্বিক গীতিকার কুবির গোঁসাই ১২০৩ খানা গান লিখেও আজ আবধি দুই বাংলার মেইনস্ট্রিম বাঙালির অপরিচিত!)
খোলাখুলি মত প্রকাশ করার জন্য লালনের শক্র তৈরি হয়েছিল। এবং হাল্লাজেরও শক্র তৈরি হয়েছিল। খলিফার কানে তারাই বিষ ঢালল। সুতরাং, তৎকালীন বাগদাদের পুঁজিবাদের অগ্রদূত, সিরিয়াস কনফার্মিস্ট শাসকগন শঙ্কিত হয়ে উঠল।
একবার ঘোরের মধ্যে বলে হাল্লাজ বলে বসলেন- “আনাল হক।”
কি এর মানে?
হক মানে সত্য। আনাল মানে আমি (হই)। যার মানে দাঁড়ায়- আমিই সত্য। এই কথাটা মিথ্যে নয়।আমি সত্য না হলে জগৎ সত্য হয় কি করে। কিন্তু, শক্ররা কথাটা ছড়াল এভাবে- হাল্লাজ নাকি বলেছেন, আমিই আল্লা। যেহেতু আল্লা সত্য।
কী! শুসতার-এর মনসুর নিজেকে আল্লা দাবি করছে! কী স্পর্ধা!
বাগদাদের খলিফা ক্ষেপে উঠলেন। বাগদাদেও আমজনতার মধ্যে শোরগোল উঠল। এসব চিল্লচিল্লি উপেক্ষা করে হাল্লাজ বললেন -আমার পাগড়ীতে আল্লা ছাড়া আর কিছু জড়ানো নেই।
আমজনতার চিৎকার চেঁচামেচি আরও তীব্র হয়ে উঠল। তো, জনতার এসব চিৎকার চেঁচামেচি উপেক্ষা করে হাল্লাজ নিজের পোশাক দেখিয়ে বললেন, মা ফি জুবাতি লা-আলা।
কি এর মানে?
আমার পোশাকের নিচে আল্লা ছাড়া কিছু নেই।
এসব উদ্ভট কথাবার্তায় বাগদাদের পুঁজিবাদের অগ্রদূত, সিরিয়াস, কনফার্মিস্ট শাসকবর্গ অত্যন্ত ভীষন উৎকন্ঠিত হয়ে উঠল।
তাদের নির্দেশে হাল্লাজকে বন্দি করা হল।
দীর্ঘদিন ধরে বিচারকার্য চলল। মানে বিচারের নামে চলল প্রহসন ...হাল্লাজ প্রায় ১১ বছর বন্দি থাকলেন বাগদাদের ভূগর্ভস্থ অসহনীয় জিন্দানে। ১১ বছরই টর্চার সহ্য করেছেন। কি রকম? চিৎ হয়ে শুইয়ে বেঁধে রাখা হত। তারপর পাথর বসিয়ে দিত বুকের ওপর। ঘন্টার পর ঘন্টা নিঃশ্বাসের ভীষন কষ্ট হত ...ভীষণ ...
In the end, he was tortured and publicly crucified (in some accounts he was beheaded and his hands and feet were cut off) by the Abbasid rulers for what they deemed "theological error threatening the security of the state." Many accounts tell of al-Hallaj's calm demeanor even while he was being tortured, and indicate that he forgave those who had executed him. According to some sources,[who?] he went to his execution dancing in his chains. He was executed on March 26, 922.
হাল্লাজের লেখা বইটির নাম "কিতাব আল তাওসিন।"কিংবা "তা সিন আল আযল"।
বাংলা করলে এমন দাঁড়ায়-প্রেরিত পুরুষের প্রদীপ।
এই বইয়ে দুটো অধ্যায়ে শয়তান ও আল্লার সংক্ষিপ্ত সংলাপ রয়েছে। আমরা জানি আল্লা আদেশ করলেও শয়তান আদমকে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল। শয়তান ভেবেছিল, আল্লাই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তা হলে আমি আল্লা ব্যতীত অন্যকে সেজদা করব কেন! অথচ, এই প্রত্যাখানই বিয়োগান্তক ভাবে খোদ আল্লাকেই প্রত্যাখানের শামিল হয়ে দাঁড়াল। হাল্লাজ নাকি বলতেন, If you do not recognize God, at least recognise His sign, I am the creative truth -Ana al-Haqq-, because through the truth, I am eternal truth. My friends and teachers are Iblis (Satan) and Pharaoh
বলাই বাহুল্য, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আল্লার সন্ধানের ওপর জোর দিতেন হাল্লাজ। লালনের মতন। তাঁর পথ ছিল “সর্বজনীন রহসবাদী অর্ন্তদৃষ্টি।” কাজেই, কেবল মুসলিম জাহান নয়-হাল্লাজ বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন।এ কারণেই হাল্লাজ সম্বন্ধে বলা হয়: Even beyond the Muslim faith, Hallaj was concerned with the whole of humanity ...
আমরা জানি পারস্যের সুফিসাধক বায়োজিদ বোস্তামি বাংলায় এসেছিলেন। চট্টগ্রামে এই সুফির মাজার আছে। তবে বায়োজিদ বোস্তামি চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল ধর্মসাধনা করেও আবার পারস্যেই ফিরে গিয়েছিলেন, তার মানে চট্টগ্রামে বায়োজিদ বোস্তামি কবর নেই; এমন একটি বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। সে যাই হোক। বায়োজিদ বোস্তামি বাংলায় আগমনের এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। তা হল: বায়োজিদ বোস্তামির মৃত্যু: ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দ হলে বলা যায় বাংলায় নবম/দশম শতক অর্থাৎ সেন আমল থেকেই সুফিদের আগমন শুরু ।
সে যা হোক। কিন্তু, বায়োজিদ বোস্তামি কি বিশ্বাস করতেন, শিষ্যদের কি শিক্ষা দিতেন? বলতেন, আমিই সত্য, আমিই সত্য ভগবান,আমাকে ভগবত প্রশংসায় আহ্বান কর। (ড.মুহম্মদ এনামুল হক । ‘বঙ্গে স্বূফী প্রভাব’; পৃষ্ঠা: ৩৫) বায়োজিদ বোস্তামি
বলতেন, ‘আমি আরশ, আমি করসী, আমি কলম, -যিনি প্রকৃতপুরুষ লাভ করেন, তিনি আল্লহর মধ্যে বিলীন হন।’
আর পারস্যের সুফিসাধক জুনায়েদ বাগদাদী কি বলতেন?
‘তাওহীদকে (আল্লাহর একত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’
(ড.মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর ‘বঙ্গে স্বূফী প্রভাব’ পৃষ্ঠা; ৩৬)
ক্রমশ ...
প্রথম পর্বের লিঙ্ক
Click This Link
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:১১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলে আমিও এই কথাটায় রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছি। আমার কাছে তথ্যসূত্র রয়েছে বলেই উল্লেখ করলাম। নইলে হয়তো এড়িয়ে যেতাম।
ধন্যবাদ।
২|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:১৯
দিপ্২৪ বলেছেন: ++++
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:২০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৩|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:৩৪
সূর্য বলেছেন: হুম্, জুনায়েদ বাগদাদী আর মনসুর হাল্লাজের মিলটা তাহলে এখানেই। তবে শরীয়তপন্থীদের প্রাবল্যের সামনে এখন সুফীদের দাঁড়ানো কঠিন, মালির ঘটনা তাই বলে আর আমাদের দেশে লালনের ভাষ্কর্য নিয়ে যে লাঠালাঠি চললো তাও শংকাজনক।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:৫৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: কর্মবাদী এবং মর্মবাদীদের মধ্যে একটা সংঘাত প্রতিটি ধর্মেই লক্ষ করি।যিশু আদতে মরমি ছিলেন, অথচ রোমান গির্জেপিতারা তাঁকে আচরণবাদী/কর্মবাদী করে উপস্থাপন করলেন । সেন্ট ফ্রান্সিস আবার মর্মবাদী জীবন কাটালেন। কবিরা তাঁকে ভালোবাসলেও সিরিয়াস খ্রিস্টানদের উপেক্ষাই পেয়েছেন। এরকম অনেক উদাহরণ আছে।
ধন্যবাদ।
৪|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:৪৯
আমি লিখতে চাই না বলেছেন: ‘তাওহীদকে (আল্লাহর এতত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’
আল্লারে!
প্রথম পর্বে তুর্কিদের সুফিবাদ এড়িয়ে গিয়েছিলেন দেখে একটু মনোক্ষুন্ন হয়েছিলাম। যেখানে পারস্যের পরপরই সুফিবাদে তার্কিশদের অবদান সেখানে আপনি ভারতের নাম লিখেছিলেন। অথচ ভারত থেকে গত এক হাজার বছরে একজনও সুফী চিন্তাবিদ যিনি সুফী বাদের মতবাদ গুলোকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন; এমন কেউই জন্মান নাই।যে খানে আমরা বাউল মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি সেখানে দিল্লীর মসনদ কিন্তু সেরকম কোন মতবাদ স্থাপন করে যেতে পারেনাই। যদিও বেশির ভাগ সম্রাটগণ ছিলেন সুফিবাদের একনিষ্ঠ ভক্ত।
এই পর্বটাও যথেষ্ঠ তথ্য সমৃদ্ধ। ভালো লাগা রইলো।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: প্রথম পবেই তো সব কথা বলা যায় না। আপনার বক্তব্যের বিষয়গুলি আসবে তৃতীয়/চতুর্থ পর্বে। ইতিহাস বলে যে ভারতে সুফি প্রভাব বিস্তারে চিশতিয়া এবং সুরওয়ার্দি তরিকা অসামান্য অবদান রেখেছে । চিশতিয়া তরিকার প্রবর্তক খাজা বাবার জন্ম আফগানিস্তানে এবং সুরওয়ার্দি তরিকার প্রবর্তক শায়ক বাহাউদ্দীন ধকরিয়ার জন্ম মূলতানে। তবে উপমহাদেশে সুফিবাদ বিস্তারে তুর্কিদের অবদান আছে। আমরা মাওলানা রুমির কথা জানি। তবে রুমির পূর্বপুরুষ আফগান। আমরাও এও জানি যে সিলেটে ইসলাম প্রচারের জন্য একচ্ছত্র কৃতিত্ব হযরত শাহজালাল এর। তো উনি তুরস্ক থেকে এলেও আদতে ছিলেন ইয়েমেনের। হযরত শাহজালাল কে ইয়েমেনি বলা হয়। তবে বাংলায় সুফি প্রভাব নিয়ে লিখব ৫ম এবং ষষ্ট পর্বে। তখন তুর্কিদের অবদানের কথাও বিস্তারিতভাবেই আসবে।
ধন্যবাদ।
৫|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১৭
ক্ষ্যাত বলেছেন: বরাবরের মতন মাস্টার-পিস। উপকারের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। খুব শিগ্রি সংগ্রহ করব। আবারো আপনাকে ধন্যবাদ।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:৪২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৬|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৪০
যাযাবরমন বলেছেন: পড়লাম আর বুঝলাম যে সুফিবাদ পুরাই ভুয়া জিনিষ।
আমার খুদ্র চিন্তায় এটা বুঝি যে, যে ভাল তার বদনাম হবেই। বায়েজিদ, জুনায়েদ বাগদাদী আর মনসুর হাল্লাজের এদের কোন বদনাম শুনি নাই।
আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম কেন তাদের বদনাম শুনি নাই, আপনার লেখা সত্য হলে এনারাও ভুয়া। অবশ্য আমার ধারনা আপনার তথ্য ভুল।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৭|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৯
রাতুলবিডি বলেছেন: অথচ ভারত থেকে গত এক হাজার বছরে একজনও সুফী চিন্তাবিদ যিনি সুফী বাদের মতবাদ গুলোকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারতেন; এমন কেউই জন্মান নাই।- আমি লিখতে চাই না ।
: তাই কি ?
খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী, নিজামুদ্দীন আউলিয়া, বখতিয়ার কাকী, ফরীদুদ্দীন গন্জেশকর - প্রতে্যাকেই প্রাক মোগল যুগে অত্যন্ত প্রভাবশালি ছিলেন, দিল্লীর মসনদে।
মোগল যুগে আকবরের শাসন আমলে কঠোর ইসলামী অনুসারীদের প্রভাব রাজ দরবারে কমে গেলেও মুজাদ্দিদে আলফেসানী দেশব্যাপী ব্যাপক ইসলামী পুণর্জাগরন ঘটান এবং ধীরে ধীরে কেন্দ্রেও কঠোর ইসলামী অনুশাসণপন্হীদের প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৮|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৪
রাতুলবিডি বলেছেন: সুফিবাদের ধারা দুটি : মুল ধারা ও দুষ্টু ধারা। মুল ধারার ভিত্তি ইসলাম তথা কোরান - হাদিস।
দুষ্টু ধারা ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাতে গড়ে উঠেছে : সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই ( স্বার্থ ও অর্থ - ই এর মুল এদের কেউ কোরান - হাদিস সরাসরি অস্বিকার করে কেউ অপব্যাক্ষা করে )
সুফী বাদের মতবাদ গুলোকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে - ইসলামের মুল বিধিবিধান গুলোর আন্তরিক চর্চা, স্রষ্টার গোলামীর মরিয়া চেষ্টা - এগুলোকেই শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে হয়, যা ভারতের সুফীরা কার্যকর ভাবেই করেছেন।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৮
রাতুলবিডি বলেছেন: বাউল মতবাদ - ইসলামের মুল ধারার সাথে মিল খায় না। তাই এটি সুফীবাদের নামে বেড়ে ওঠা একটি ভিন্নমতবাদ, যার সাথে মুল ইসলাম বা সুফীবাদের সম্পর্ক নেই। মুল ধারার নমুনা হাসান বসরী ( হিজরী : ১ম শতক ), আব্দুল কাদের জিলানী এবং গাযযালী ( ৫ম শতক), মুজাদ্দিদে আলফে সানী ( ১০ম শতক) এছারা হাতেম আসেম, শিবলী, জুনাইদ, মইনুদ্দীন চিশতী, শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়াদরদী, বাহাউদ্দীন নকশব্নদী এইসব কালজয়ী সুফীদের মটের সাথেও মিল নেই!
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১০|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৯
রাতুলবিডি বলেছেন: যাযাবরমন বলেছেন: পড়লাম আর বুঝলাম যে সুফিবাদ পুরাই ভুয়া জিনিষ - এতদ্রুত কোন মতবাদকে কি বুঝা যায়?
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১১|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪২
রাতুলবিডি বলেছেন: আমি সুফিবাদের একজন ছাত্র। শুধু এজন্যই এই পোষ্টে আমার আগ্রহ অপরিসীম। নিজের মন-প্রাণের বিষয়ে কিছু লেখার আগ্রহ আটকে রাখতে পারলাম না তাই বেশী বেশী লিখছি, - পাঠকদের বিরক্তির জন্য মাফ চাইছি।
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: বিরক্তির কিছু নেই, আপনি আপনার মন্তব্য জানাতেই পারেন।
ধন্যবাদ।
১২|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০২
রাতুলবিডি বলেছেন: বায়োজিদ বোস্তামি বলতেন, ‘আমি আরশ, আমি করসী, আমি কলম, -যিনি প্রকৃতপুরুষ লাভ করেন, তিনি আল্লহর মধ্যে বিলীন হন।’
পারস্যের সুফিসাধক জুনায়েদ বাগদাদী কি বলতেন?
‘তাওহীদকে (আল্লাহর একত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’
ড.মুহম্মদ এনামুল হক সাহেবের এই কথাগুলোর সুত্র কি জানা সম্ভব?
আমি প্রায় ১০ বছরের বেশী সুফীবাদের তালিম নিচ্ছি, বাংলাদেশের একজন শীর্ষ স্হানীয় সুফিসাধকের কাছে, এছাড়া দেশ বিদেশের অনেক সুফীদের কছেও গিয়েছি- লম্বা সময় থেকেছি, সুফীবাদের উপর বেশ কিছু বইপত্রও পড়েছি, কিন্তু এই মতগুলো আমার দেখা সুফীবাদের সাথে একদমই মিলছে না!
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ড.মুহম্মদ এনামুল হক সাহেবের এই কথাগুলোর সুত্র কি জানা সম্ভব?
এই প্রশ্নটি আমারও।
ধন্যবাদ।
১৩|
০৫ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:৫৭
েশখসাদী বলেছেন:
আপনার দুটো পর্বই পড়লাম । ভালো লাগলো---এ নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ ।
মনসুর হাল্লাজ কে নিয়ে অনেক অলৈাকিক কাহিনী প্রচলিত আছে..তার উল্লেখ করলেন না । আল্লাহ ভালো জানে সেগুলো কতটুকু সত্য ।
ছোটবেলায় এইসব অলী আল্লাহর জীবন কাহিনী অনেক পড়েছি । উনাদের দ্বারা যেসব অলৈাকিক ঘটনা ঘটেছে তা অনেকেই বিশ্বাস করতে চাননা । আল্লাহ উনাদের এসব কিছু ক্ষমতা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলেই উনাদের দ্বারা ইসলাম প্রচার সহজ হয়েছিলো । বর্তমানে যারা নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর দ্বীন প্রচার করে তারাও আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হয় ।
আপনার লেখায় "‘তাওহীদকে (আল্লাহর একত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’----------এটা একদমই মানতে পারলাম না ।
কারণ...ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তিই হলো যে-- আল্লাহ এক । উনার কোন শরীক নেই । আর এটাই হলো জান্নাতের চাবি কাঠি । সমস্ত নবী রাসূলগণ সেটাই প্রচার করে গেছেন ।
যা কিছুই কোরআন ও হাদীসের বিরুদ্ধে যাবে -- তা সে যেই বলুক , তা বাতিল । কুরআন ও সহী হাদিস হলো বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের মাপকাঠি । এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করা হয় কে সত্যিকারের আওলিয়া আর কে ভন্ড ।
লেখার জন্য ধন্যবাদ । আল্লাহ আপনাকে হেদায়াত ও সঠিক জ্ঞান দান করুন ।
০৫ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৮:৩১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: এই পর্বের বিষয় পারস্যে সুফিবাদ। তাই সুফিসাধক মনসুর হাল্লাজ কে নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করতে পারলাম বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আমার লেখায় "‘তাওহীদকে (আল্লাহর একত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’ জুনায়েদ বাগদাদীর এই মন্তব্যের তথ্যসূত্র আমি উল্লেখ করেছি।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
১৪|
০৬ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৬
মুখচোরা বলেছেন: পড়লাম। লেখা পড়ে সুফিবাদকে খাঁটি ইসলাম বলেতো মনে হচ্ছে না। অপরদিকে সুফি স্বাধক হিসেবে যাদের নাম বলা হচ্ছে তাঁদেরকে তো মহান ইসলাম প্রচারক হিসেবেই জানি।এঁদের বাদ দিয়ে তো ইসলামের এহেন বিস্তার সম্ভব ছিল না। এঁদের উক্তি হিসাবে যা তুলে ধরা হচ্ছে তা শিরক বলে মনে হচ্ছে। নিশ্চয়ই কোথাও কোন ফাঁক থেকে যাচ্ছে। ড. মুহম্মদ এনামুল হকের 'বঙ্গে স্বূফী প্রভাব' বইটি ছাড়া অন্য কোন রেফারেন্স কেন ব্যবহার করছেন না?
০৬ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৯:০৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ড. মুহম্মদ এনামুল হকের 'বঙ্গে স্বূফী প্রভাব' বইটি ঐতিহাসিক আলোকে লেখা। সুফিবাদ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক আলোচনা তেমন পাইনি। অন্য বই যা পেয়েছি সেগুলো কোনও বিশেষ সুফি সম্প্রদায়ের বয়ান, মুখরোচক ঘটনা, যা ইতিহাসের ছাত্রকে তৃপ্ত করে না। তাছাড়া ড. মুহম্মদ এনামুল হকের 'বঙ্গে স্বূফী প্রভাব' বইটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় । আমি ঐতিহাসিক আলোকে সুফিবাদ সম্পর্কে আলোচনা করছি বলেই ড. মুহম্মদ এনামুল হকের 'বঙ্গে স্বূফী প্রভাব' বইটির সংক্ষিপ্তসার লিখছি। তবে এটিই যেহেতু আমার সুফিবাদ বিষয়ে শেষ রচনা নয় কাজেই ভবিষ্যতে অন্য রেফারেন্স অবশ্যই ব্যবহার করব।
ধন্যবাদ।
১৫|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১৬
পদ্ম।পদ্ম বলেছেন: (y)
০৮ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ২:০৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৬|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৫
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ‘আমি আরশ, আমি করসী, আমি কলম, -যিনি প্রকৃতপুরুষ লাভ করেন, তিনি আল্লাহর মধ্যে বিলীন হন।’
> বাংলায় একটা কথা/তত্ত্ব আপনিও বলে গেছেন ভিন্ন ভাবে- যা আছে বিশ্ব ভ্রহ্মান্ডে তা আছে মানব ভান্ড!
এই তত্ত্বে এই সত্যের অনুভব জ্ঞানমার্গে পৌছানো যায় সহজেই। তখন আরশ কুরশী লাওহ ক্বলম সবই দৃশ্যমান হয়।
তবে সেই স্তরে না পৌছানো ব্যক্তির কাছে এটা বিশ্বাস করা, অনুভব করা ততটাই কঠিন যতটা কঠিন একটা সুইয়ের ভিতর উটের প্রবেশ!
>>পারস্যের সুফিসাধক জুনায়েদ বাগদাদী কি বলতেন?
‘তাওহীদকে (আল্লাহর একত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’
> আমার একটা জিনিষ ধারনায় এসেছে আমরা এক একক আর একত্বকে গুলিয়ে ফেলি প্রায়শ!
আল্লাহ এক। আল্লাহ একক। আর আল্লাহর একত্ববাদের সুক্ষ পার্থক্যটা গুলীয়ে ফেলি বলেই বিভ্রান্ত হই।
এই তিনটি শব্দ তিনটি পৃথক জ্ঞান এবং মূর্ত ধারনাকে প্রকাশ করে। আল্লাহ কে বুঝলেই কেবল জুনায়েদ বাগদাদী রহঃ এর বাক্যের মর্মার্থ অনুধাবন করা সম্ভব, নচেৎ নয়।
+++
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৪৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৭|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৮:২৪
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এক -সাংখ্যিক। গণনা সূচক।
একক- সামষ্টিক পরিমাপক।
একত্ব- সামগ্রিকতাকে প্রকাশসূচক।
০৯ ই জুলাই, ২০১২ ভোর ৬:২১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৮|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৯:২৫
রাতুলবিডি বলেছেন: বস! আপনের পোষ্ট থেকে কমেন্ট কপি পেষ্ট করে আলাদা একটা পোষ্ট দিয়ে দিলাম। সুফীবাদ নিয়ে লেখার আইডিয়াটা আপনার, উদ্দোগটাও আপনার। আমি অনকটা কৈ এর তেলে কৈ ভাজছি আরকি!
আপনার কাছ থেকে অনুমতিও নেই নি, কমপক্ষে আলোচনাও করিনি। কাজটা খারাপ হোয়েছে, মাফ করে দিয়েন।বসআপনের পোষ্ট থেকে কমেন্ট কপি পেষ্ট করে আলাদা একটা পোষ্ট দিয়ে দিলাম। সুফীবাদ নিয়ে লেখার আইডিয়াটা আপনার, উদ্দোগটাও আপনার। আমি অনকটা কৈ এর তেলে কৈ ভাজছি আরকি!
আপনার কাছ থেকে অনুমতিও নেই নি, কমপক্ষে আলোচনাও করিনি। কাজটা খারাপ হোয়েছে, মাফ করে দিয়েন।
সুফিবাদের ইতিহাস নিয়ে ইমন জুবায়েরের পোষ্ট : উসখুস করতে করতে আর মন্তব্য লিখতে লিখতে, পোষ্টই দিয়ে দিলাম
০৯ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:৫৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: লেখাটা আমি দেখেছি । মন্তব্যও করেছি।
ধন্যবাদ।
১৯|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৩০
রাতুলবিডি বলেছেন: @ বিদ্রোহী ভৃগু, আপনার দাবীমত এক, একক, একত্ব এই তিনটির পার্থক্য মেনে নিলে কি "তাওহীদ" -এর সাথে "তাওহীদ" এর বিরোধ হয়?
২০|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৯:৩৩
রাতুলবিডি বলেছেন: @ বিদ্রোহী ভৃগু, আপনার দাবীমত "তাওহীদ" মানে "আল্লাহর একত্ব ";
আর এই "আল্লাহর একত্ব " অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ "আল্লাহর একত্ব "?!
- কেমন যেন অর্থহীন হয়ে গেল না!
২১|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১০:১৩
হাছন রাধা করিম বলেছেন: Salaam. You have started a tremendous job of writing on a subject which is very controversial all around the Islamic World. The subtle nature of Sufism is such that its incomprehensible for ordinary mind to understand the depth of the subject. But obviously the mission of Sufism have been hijacked by the false pirs of the Indian sub-continent and they have intoxicated people with myth and in the process weaken the real meaning of Islam which is to seek your creator in your existence and submit yourself willingly to your creator's commands.
০৯ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
২২|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১০:১৫
হাছন রাধা করিম বলেছেন: Sincere apology for writing in English as I've logged in from mobile.
০৯ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অসুবিধে নেই। ধন্যবাদ।
২৩|
০৯ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:০৫
মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম আপনার এই পোষ্টে। এই ধারার পোষ্টগুলো অনুসরন করব ।
ধন্যবাদ আপনাকে।
০৯ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ৭:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:০৬
আবু সালেহ বলেছেন: আর পারস্যের সুফিসাধক জুনায়েদ বাগদাদী কি বলতেন?
‘তাওহীদকে (আল্লাহর এতত্বকে) অস্বীকার করাই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওহীদ।’ ....বলে কি!!!!