| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন পরিব্রাজক
ধারণার বাইরে যা আছে । যা কিছুই আপেক্ষিক । আমি সেসব ই খুজি...
সকাল থেকে রাজিনের পায়ে ব্যথা । অদ্ভুত ব্যথা । কারণ ব্যথা পায়ের কোথায় ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা । পা নাড়ালে হাড়ের ভেতর ব্যথা অনূভূত হয় । রাজিন মুখ ভর্তি অস্বস্তি নিয়ে মুখ বাকায়ে বসে আছে । অস্বস্তির কারণ বেশ কয়েকটা আছে । প্রথমত, আজ স্বরবর্ণ আসার কথা । প্ল্যান ছিলো একটু ঘুরাফেরা করবে, দুপুরে খাওয়া করবে তারপর আবার ঘুরাফেরা । অনেকদিন থেকেই মেয়েটার সাথে দেখা হয়না । সে দেশে ছিলোনা । ফিরেছে গতকাল । রাজিন নিজেই তাকে আজকের সময় দিয়েছে । দ্বিতীয়ত, রাজিনের অফিসের একটা ফাইল একজনের কাছে আছে । সেটা রাজিনের বস তাকে নিয়ে নিতে বলেছে । সময় করে সেটা নিতে যেতে হবে । তৃতীয়ত, আজ বেতন তুলতেই হবে হাত একেবারেই খালি । ব্যথাওয়ালা পা নিয়ে দিনটা কিভাবে যাবে সেটাই তার মূল অস্বস্তির কারণ । সে ভাবছে ছুটি নিয়ে ভূল করেছে । অফিসে থাকলেই বসে থাকা যেতো ।
মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠেই কিছু নতুন পাওয়ার মতো উত্তেজনা বোধ হয় । স্বরবর্ণের ঠিক সেরকমটাই মনে হচ্ছে । প্রচন্ড আনন্দবোধ হচ্ছে । তার মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে ব্যপারটা । মনে হবে বহুদিন সে এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলো । সে একবার মনে করলো শাড়ি পড়বে । পরক্ষণেই বাদ দিলো । সারাদিনে শাড়ী পরে থাকাটা অনেক বেশি ঝামেলার হয়ে যাবে । তারচেয়ে ভালো সূতি টাইপের কিছু একটা পড়া । ইদানিং বেশ গরম পড়েছে । তারপরও রাজিন একবার বলেছিলো, মেয়েদের সবচাইতে সুন্দর লাগে সাধারণ সালোয়ার কামিজে । এর চাইতে আর কোনো ড্রেসে কোনো মেয়েকে ভালো লাগেনা । আজ সে যাবে রাজিনের মতো করেই । ভালোলাগার অসংখ্য কিছু আছে পৃথিবীতে । কিছু কিছু দিন ই থাকে ভালোলাগার জন্যে । রাজিনের সাথে থাকলে স্বরবর্ণের এই ব্যপারটা হয় ।
রজিন আর স্বরবর্ণ পাশাপাশি বসে আছে । বের হওয়ার সময় রাজিনের মনে হচ্ছিলো অনেক কথা জমা পড়ে আছে । সারাদিনেও সেসব কথা শেষ হবেনা । কিন্তু এই মূহুর্তে দুজনের মুখেই কোনো কথা নেই । দুজন দুদিকে দেখে আছে । কথা হারিয়ে ফেলেছে দুজনেই । হুট করেই মনে হচ্ছে কারোও জন্যেই কারো কোনো কথা নেই । কথা শুরু করলো রাজিন নিজেই ।
- কেমন আছো ?
- এইতো আছি । তুমি?
- চলছে ।
- চাকরি কেমন লাগছে?
- বোরিং ।
- বিয়ে করবানা?
রাজিন হেসে ফেললো ।
- হাসো কেনো?
- কিছুনা । এমনিতেই ।
- বললানা?
- কি?
- বিয়ে করবানা?
- কাকে বিয়ে করবো? আর আমাকেই বা কে বিয়ে করবে?
- কেনো? দেশে কি মেয়ের অভাব পড়ে গেছে?
- দেশে আমার জন্যে মেয়ের অভাবই বলতে পারো ।
- ও আচ্ছা ।
- যাবা?
-কোথায়?
- কিছুক্ষণ রিক্সায় ঘুরে বেড়াই?
আকাশ মেঘলা । রিক্সায় স্বরবর্ণ আর রাজিন । খোলা হুড । ফাঁকা রাস্তা । দূর থেকে ওদের দুজনকে দেখতে কি চমৎকারই না লাগছে । স্বরবর্ণের খোলা চুল উড়ে এসে মাঝে মাঝে রাজিনের মুখে এসে পড়ছে । অন্যসময় হলে হয়তো রাজিনের খুব বিরক্ত লাগতো । কিন্তু আজ ভালো লাগছে । মনে হচ্ছে আজীবন এই রিক্সায় চলতে থাকুক ওরা দুইজন । ঝড় বৃষ্টি যা আসে আসুক । রাজিন সব সামলে নেবে । এইসব ভাবতে ভাবতেই হুট করে একটা বিকট শব্দে রাজিনের ভাবনায় ছেদ পড়লো । আর স্বরবর্ণ ভয় পেয়ে রাজিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো । রিক্সা থেকে গেলো । ওদের রিক্সার টায়ার বাস্ট হয়েছে । রিক্সাওয়ালা নেমে খুব অপরাধীর দৃষ্টিতে তাকালো ওদের দিকে । রাজিন নেমে ভাড়া দিয়ে দিলো ।
সন্ধ্যা নেমে গেছে । স্বরবর্ণের বাসায় ফেরার সময় হয়ে গেছে । যেতে ইচ্ছে করছেনা । একসময় রাজিন নিজেই ওর যাবার কথা তুললো ।
- তোমার যাবার সময় হয়ে গিয়েছে ।
- হুম । কিন্তু যেতে ইচ্ছে করছেনা ।
- আরো থাকবা কিছুক্ষণ?
- নাহ । বেশি দেরী হয়ে যাবে ।
- হুম ।
- চলো রিক্সা করে দাও ।
- আমি পৌছে দিয়ে আসি ।
- দরকার নেই । আমি একাই যেতে পারবো ।
- আবার যদি টায়ার বাস্ট হয়?ওরা দুজনেই হো হো করে হেসে উঠলো ।
পাশ দিয়ে একটা লোক চমকে উঠে ওদের দিকে অবাক হয়ে তাকালো । কি ভাবলো কে জানে । কে কি ভাবে ভাবুক ওদের এখন কিছু যায় আসেনা ।
৪ বছর পরের কথা । রাজিন আর স্বরবর্ণের বিয়ে হয়নি । ওরা এখন নিজেদের আলাদা আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত । সময় খুব দ্রুত বদলায় । একজন সময়ের কলকাঠি নাড়াতে থাকে । তবে এখনো ওরা মাঝে মাঝে একজন অন্য জনের জন্যে সুখ খোঁজে...
(উৎসর্গঃ শোভাকে । আমি যার হাসি দেখেছি কিন্তু কান্না দেখিনি । আমার মতে তার কান্না তার হাসির চেয়েও অনেক সুন্দর । তবে সে কখনও না কাঁদুক...)
©somewhere in net ltd.