নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...

বিপ্লব০০৭

...

বিপ্লব০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ : গোরা

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১২:৩১



"গোরা।" এই উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথের "ভাব"-এর রসাধিক্য স্বভাবতই একবিংশ শতকের আপনার "আধুনিক" মনে প্রচন্ড বিরক্তির উৎপাদন করতে পারে, তবে তৎকালীন সমাজ-বাস্তবতা এবং রবিবাবুর মানসচেতনা মনে রেখে পড়া গেলে বইটা উপভোগ্য।

রবীন্দ্রনাথের wit অসাধারন- এ স্বীকার করতেই হবে। আর ঊনিশ-শতকের মধ্যবিত্ত হিন্দু-সমাজচেতনায় বাইরের ঘাত-প্রতিঘাত এসে যে আলোড়ন তুলছিল তা গোরায় দুর্দান্তভাবে উঠে এসেছে। সুচরিতার সাথে একজায়গায় রবিবাবুর আরেক মাস্টারপিস "শেষের কবিতা"-র নায়িকা লাবণ্যের মিল পাওয়া যায়; গোরার কথায়-বাক্যে উদ্দীপ্ত সুচরিতার মনে এই ভয়টিও কাজ করে যে সে গোরার যোগ্য কি না!

হয়তো তার দৈন্যতা একদিন গোরার নিকট নগ্নভাবে ধরা পড়বে- এই ভয় ঠিক অমিতের নিকট লাবণ্যের নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ের মতনই।

(লাবণ্যের জবানিতে ব্যাপারটা হল- অমিত শুধুই কথার জালে নিজকে ভুলিয়ে রাখে, কিন্তু এমন একদিন হয়তো আসবে যখন অমিতের কথা ফুরিয়ে আসবে; সেক্ষণে দু'জনের মাঝখানে বিরাজ-করা নৈ:শব্দের মাঝ দিয়ে প্রকাশ পাবে লাবণ্য কতটা নি:স্ব আর রিক্ত)।

তবে "গোরা" উপন্যাসের শেষদিকে যখন গোরা জানতে পারে সে আইরিশ-ম্যানের ছেলে তখন তার মতাদর্শ ভোজবাজির মতন পাল্টে যায় ঠিক অমিতের মতনই যখন সে জানতে পারে লাবণ্য তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে শারীরি পৃথিবীতে। কিন্তু তারপরও সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, খৃষ্ট-চেতনায় প্রাচ্যকে হেয় করার মানসিকতাবিরোধী গোরার মতাদর্শ এবং ভারতবর্ষের যা কিছু তার অগৌরব, যা কিছু তার সংস্কার সেগুলিকেই আপন করে নিয়ে সে থেকে প্রাচ্যের পথেই উত্তরণের প্রচেষ্টা...পশ্চিমকে অন্ধ অনুকরণ নয়। আমাদের লড়াই আমাদেরকেই করতে হবে, পশ্চিমের তথাকথিত আধুনিকতা নকল করে আমরা "আধুনিক" হতে পারবো না প্রকৃতরূপে। তবে বুদ্ধিমান পাঠকমাত্রই অনুমান করে নেবেন যে, গোরার এই বৈপ্লবিক ইউনিক চিন্তায় বিবর্তন এনে কবিগুরু শেষপর্যায়ে তাঁর চিরাচরিত স্বভাবজাত বৈশ্বিক চিন্তায় উপনীত হবেন যেখানে তা 'কিছুটা হলেও' প্রকারান্তরে পশ্চিমের অনুকরণই...। এগুলো আসলে সবই দার্শনিক সঙ্কট।

ব্যক্তির চাহিদা যদি সমাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয় তবে সেই ব্যক্তি সমাজ নয়, নিজ বিবেকের দ্বারা বিচার করবে তার নিজস্ব ভালো-মন্দ। কিন্তু সমস্যা হল, ব্যক্তির একক 'চিন্তা'-র সঠিকতাই বা কিভাবে যাচাই করবো আমরা যেখানে ভালো-মন্দের কোন পরম মানদন্ড নেই?

আজ হয়তো আমি রামমোহনবাবুর নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বরণ করি, কিন্তু চিন্তা করুনতো তাঁর নিজস্ব সমাজ-বাস্তবতার কথা যখন তাঁকে স্বকীর্তির জন্য দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছিল? রামমোহনবাবু স্বচেষ্টায় আজ প্রতিষ্ঠিত বিধায় তাঁর সমাজ-বাস্তবতা অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রতিভাত হচ্ছে "আমার" বর্তমান চিন্তায়, লক্ষ্য রাখতে হবে এখানে নীতি-নৈতিকতার মতন বিমূর্ত জিনিসের আদৌ স্থান নেই। ঠিক তেমনি আজকের আমাদের সমাজ-বাস্তবতার সাথে দৃশ্যমান কোন অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকান্ড (যেমন ধরুন: সেম সেক্স ম্যারিজ) যদি কোন এক বা একাধিক সংখ্যালঘু ব্যক্তির নিকট গ্রহনীয় হয় তখন আমাদের করণীয় কি?

এ স্থলে পরেশের জবানিতে কবিগুরু সঙ্কটটির সঠিক সমাধানটি দিয়েছেন। পরেশের মতে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের (বিনয় ও ললিতা) প্রতিকূল সমাজ-বাস্তবতায় নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, কারণ 'বাহির' তাকে সর্বদাই যন্ত্রণা দেবে, পেছনে ঠেলবে; সুতরাং সমাজের ঠেলা অতিক্রম করে নিজকে সাধারণের চেয়ে উপরে উঠতে হবে। না হলে, সাধারনের ভিড়েই 'নিকৃষ্ট' নাম নিয়ে হারিয়ে যেতে হবে।

তবে ভালো হত, যদি উপন্যাসের প্রথমে গোরা খৃষ্টান এই তথ্যটুকু সরাসরি না জানিয়ে দেওয়া হত, প্রয়োজনে পাঠকের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য কিছু পরোক্ষ ঈঙ্গিত দেওয়া যেত। গোরার আসল পরিচয় প্রথম দিকে পাঠক না জানলে উপন্যাসটা আরো জমতো।

গোরা সম্ভবত রবিবাবুর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১২:৩৯

শায়মা বলেছেন: আরে ভাইয়া হঠাৎ দেখছি তুমি একজন রবীন্দ্র গবেষক!! তুমি যে রবীন্দ্রনাথ এত জানো তাহা তো আমার জানা ছিলো না। তবে রবিঠাকুরের উপন্যাস বা গল্পের চাইতে তার গান আমার জীবনের প্রতি মুহূর্তে জড়িয়ে থাকে। আমি আমার জীবনের সকলখানে, সকল স্থানে, সকল ব্যাপারেই তার গানের লাইন খুঁজে পাই.... আমি কখনও বলতেই পারবোনা এটা তার সবচেয়ে সুন্দর গান। রবিঠাকুরের প্রতিটা গানই এক একভাবে সুন্দর! যেন জীবনের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়!

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১২:৫০

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: আমি রবিঠাকুর ধরেছি ক্লাস এইটে থাকতে, তখন থেকেই রবীন্দ্রনাথ আলো-বাতাস-জল-হাওয়া হয়ে আমার সাথে জড়িয়ে আছেন। আর রবিঠাকুরের গান...ও নিয়ে কিছু বলার স্পর্ধা এখনো করিনি।

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:১৯

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: সরি, ভুলে রিপ্লাই ডিলিট করতে গিয়ে তোমার কমেন্টটা ডিলিট করে দিয়েছি। কী অদ্ভূত ব্যাপার। তুমি যেমন কখনোই বলতে পারে না এটা তার সবচেয়ে সুন্দর গান, আমিও তেমনি বলতে পারি না উনার গলায় আমার রবীন্দ্রসঙ্গীত ভালো লাগে। আমার কাছে সব রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক-গায়িকাকেই ভালো লাগে।

২| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:০৪

ডার্ক ম্যান বলেছেন: রিভিউ ভাল হয়েছে । বইটি পড়া হয় নি। পাঠ্য বইয়ের বাইরে রবীন্দ্রনাথের কোন লেখা আমার পড়া হয় নি

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:২২

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: আমি 'গণশত্রু' ছবিটা ডাউনলোড দিয়েছি, কিন্তু আজকে ২/৩ দিন হয়ে গেলো, অর্ধেক নেমেছে...বাকি অর্ধেকের অপেক্ষায় আছি।

৩| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:২৪

শায়মা বলেছেন: আমিও রবীন্দ্র সঙ্গীত ছাড়া আর কোনো গানই গাই না। আমিও রবীন্দ্র গায়িকা ভাইয়া!!!!!! :)
আমার কয়েকটা স্টুডিও রেকর্ডেড রবীন্দ্র সঙ্গীত ইউটিউবে আছে। তার মাঝে বিশেষ প্রিয়

আমার নিশীথ রাতের বাদলধারা

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৩৯

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: আমি তোমার এই গানটা পরে শুনবো। কারণ এই গানটার সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই গানটা আমি প্রথম শুনেছি শাহানা বাজপায়ীর কণ্ঠে, বৃষ্টির রাতে হেডফোনে গানটা বাজতো আর সেই রাতগুলোর স্মৃতি জড়িয়ে আছে শাহানার গলা নিয়ে। তোমার গলায় এখন গানটা শুনলে এক ধরনের দু'জনের ভয়েসের কম্পেয়ার করার মানসিকতা কাজ করবে যেটা চাচ্ছি না।

৪| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: https://www.youtube.com/watch?v=6SMZw8fPq1M

৫| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: ললিতা আর বিনয় এর কথা তো কিছু বললেন না??

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৫২

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: না বলবো না। কারণ এইটা রিভিউ। আপনার সবাই মিলে রিভিউর চৌদ্ধগুষ্ঠী উদ্ধার করে ছেড়েছেন। বই রিভিউ দেন; অথচ অ্যাকচুয়াল্লি করেন কি- বইটার পুরো কাহিনী সংক্ষেপে তুলে দিয়ে সেইটাকে বইয়ের রিভিউ বলেন। রিভিউ হল একজন পাঠক যখন বই পড়ে তিনি নিজে নতুনভাবে সেই বইটার উপরে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন এইটা, বইয়ের কাহিনী-সংক্ষেপ না।

৬| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: লেখা খুব সুন্দর হয়েছে।

২২ শে মে, ২০২০ রাত ২:২৪

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: আপনি অহেতুক তেল দেন না- এইটা ভালো লাগে।

৭| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪৬

শায়মা বলেছেন: ৪. ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪১১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: https://www.youtube.com/watch?v=6SMZw8fPq1M

লিঙ্ক দেবার জন্য মুমিনভাইয়াকে অনেক অনেক থ্যাংকস!!!!

৮| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ১:৫৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি সৃষ্টি নিয়ে বিশ্লেষণ ধর্মী পোস্ট ভালই লাগলো। গোরা কবিগুরুর বহুলপঠিত রাজনৈতিক উপন্যাস। তৎকালীন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দারুন সৃষ্টি।

সুন্দর।+

২২ শে মে, ২০২০ রাত ২:০২

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: শেষের কবিতায় অনেকদিন বুঁদ হয়ে ছিলাম, তারপর একে একে রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য উপন্যাসগুলো পড়ার পর গোরা নিয়ে এক অদ্ভূত মানসিকতা কাজ করেছিলো। রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য উপন্যাসগুলোর তুলনায় গোরার বিশাল গল্পটা বেশ লক্ষ্য করার মতন। তাছাড়া গোরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পশ্চিমের তুলনায় পিঁছিয়ে-পড়া জনগোষ্ঠীবহুল ভারতবর্ষকে তার নিজের যা কিছু অগৌরব সেগুলোকেই মুকুট বানিয়ে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-দার্শনিক আধিপত্যের সামনে প্রাচ্যের মৌনঋষি ভারতবর্ষকে প্রতিষ্ঠার যে ইউনিক চিন্তা বা দর্শন-- এইটার কারণে গোরাকে রবিবাবুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনার উপাধি দিতে হয়েছিলো।

৯| ২২ শে মে, ২০২০ ভোর ৪:৫১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: খুবই ভালো একটা বিশ্লেষণ করলেন । তবে পড়া হয়নি। আপনার লেখায় না পড়ার দুঃখ গেল

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১১:৩৯

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: না পড়লেও তেমন কোন ক্ষতি এসে যাবে না। আপনি কি ফেনীতেই থাকেন?

১০| ২২ শে মে, ২০২০ ভোর ৫:৩৪

রুদ্র নাহিদ বলেছেন: বইটা পড়া শুরু করেছি তাই পুরো পোষ্ট পড়লাম না। পড়া শেষ করে আসবো মন্তব্য দিতে।

২২ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:৩৬

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: ভালো করেছেন, কারণ বই না পড়ে এই পোস্ট পড়লে তেমন কিছু বোঝা যাবে না।

১১| ২২ শে মে, ২০২০ সকাল ৭:২৫

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: অনেক আগে পড়েছি,তবে পড়ার সময় মনে হয়েছে ধর্মের কিছু কুসংস্করের বিরুদ্ধে সংস্কার মুলক লেখা।রিভিউ পড়ে মনে হল আরো কিছু ছিল,যা হয়তো তখন বুঝতে পারিনি।আমার ভাল লাগে তার নাটক।

২২ শে মে, ২০২০ দুপুর ১:২৫

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: গোরার বক্তব্য অনেক গভীর। শুধু ধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংস্কারমূলক লেখা হলে গোরা নিয়ে লিখতে বসতাম না আমি। আর রবিঠাকুরের নাটক আমারও ভালো লাগে।

১২| ২২ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

২২ শে মে, ২০২০ রাত ৮:১২

বিপ্লব০০৭ বলেছেন: ভালো থাকেন, আর সাবধানে থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.