| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার মাজু
শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী
(মাইক্রোব্লগ)
বিভিন্ন ইন্টারভিউতে যে কমন প্রশ্নটা আমাকে শুনতে হয়, "ইংরেজি সাহিত্যে পড়ে শিক্ষকতায় যাচ্ছেন না কেন?" তখন অনেক কথাই মনে আসে, উত্তেজনায় কিছুই বলতে পারি না! ডিপ্লোমেটিক কিছু একটা বলে পাশ কাটাই। আজ হঠাৎ উত্তর দিতে ইচ্ছে করলো। অবশ্য এটাও ডিপ্লোমেটিক উত্তর !
আমার মনে হয়, পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। কারন বাবা-মায়ের পরে আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকেই মানুষ হওয়ার কায়দা শিখি। একজন শিক্ষকের অনেক ক্ষমতা। তিনি চাইলে তার ছাত্রকে অমানুষ করে ফেলতে পারেন আবার একেবারে মানুষ করে ফেলতে পারেন। থিওরী দিয়ে যদি বলি, বাবা-মায়ের শিক্ষাটা কাজ করে Id লেভেলে। আর শিক্ষকের কাজ ego লেভেল নিয়ে, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ন। বটম লাইন হচ্ছে, একটা জাতি কেমন হবে সেটা নির্ভর করে সেই জাতির বাবা-মা এবং শিক্ষকদের উপর। এতটা গুরু ভার আমি কখনো নিতে চাইনি, সামর্থ্যের কথা ভেবে।
আমাদের সংস্কৃতিতে ক্ষমতাশালীদের সুড়সুড়ি দিতে গেলে বুকের পাটা লাগে। হঠাৎ আমি এই সাহস কোথায় পেলাম? নাহ, বিশেষ কোনো কারনে বা ক্ষোভ থেকে এই দু:সাহস দেখাচ্ছি না। বা কাউকে আঘাত দেয়াও আমার উদ্দেশ্য না। সমস্যা হচ্ছে, কাগজে কলমে আমরা এখন একটা গনতান্ত্রিক দেশে বাস করি। গনতন্ত্রের একটা ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সময়ে সময়ে গনতন্ত্রের রূপকারদের তাদের দায়িত্ব স্মরন করিয়ে দিতে হয়। গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের অধিকার। রবিঠাকুর বলেছেন, "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো বিড়ম্বনা আর নাই!" একসময় মনে হয়েছিল এই অধিকার ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে অধিকার আরো বেশি করে পেয়েছি। যেহেতু নিজে শিক্ষক না, তাই দূর থেকে এই গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেই যাবো !!
আমি অবশ্যই বলছি না জাতিগতভাবে আমরা একেবারে রসাতলে চলে গেছি। তবে আমরা কেউ কি সন্তুষ্ট? আশা রাখি, নতুন প্রজন্মের শিক্ষকরা নিশ্চয়ই আমাদের জাতিকে আলোকের ঝরনাধারায় স্নাত করবেন। কল্পনার জগতের বিচরন না করে তারা বাস্তবতার শিক্ষাটুকু আমাদের দেবেন। দু'চোখ মেলে তাকাবেন। নিজেকেও দেখবেন, আমাদেরও দেখবেন।
©somewhere in net ltd.