নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শুভ ব্লগিং !

ব্লগিং হোক আগামীর...

ব্লগার মাজু

শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী

ব্লগার মাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

'গনতন্ত্র' মুক্তি পাক? :||

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৩





সরকার বদল হওয়ার সময় হইলেই দেশের রাজনীতি প্রিয় মানুষের কাছে দুইটা কথা অবশ্যই শোনা যায়।



১. আরে এবার বিএনপি মানে পরেরবার আ'লীগ, এবার আ'লীগ মানে পরেরবার বিএনপি। সরকার চেন্জ্ঞ হইলে আগের সব বাদ। আবার নতুন করে শুরু হবে।



২. হুমম...আর্মি আসতেছে...এইবার দেইখেন কি করে !



সাংস্কৃতিক অথবা ভৌগলিক যে কোনো কারনেই হোক, খাওয়া আর ঘুমানো ছাড়া আমাদের দেশের মানুষ কোনো বিষয়েই সিরিয়াস না। (আমিও এর বাইরে না) যে কোনো জটিল সমস্যাকে সহজভাবে দেখার একটা প্রবনতা খেয়াল করা যায় সবসময়। এরশাদের পর আজকে প্রায় ২০-২২ বছর তথাকথিত 'গনতন্ত্র' চলতেছে। অনেক ঝামেলা করে হলেও নির্বাচন হচ্ছে। এত অব্যবস্থাপনা এবং সুশাসনের অভাব থাকার পরও অর্থনীতির সব সূচকে বাংলাদেশ আস্তে আস্তে এগুচ্ছে। সামাজিক উন্নয়ন সূচকে আশপাশের দেশ গুলোর তুলনায় এগিয়ে আমরা। অনেক দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা থাকলেও দেশ অনেকটাই স্থিতিশীল। তাহলে এই নৈরাশ্যবাদী চিন্তা-ভাবনার কারন কি? একটা কি হইতে পারে প্রবল দুর্নীতি? একটু স্মৃতি রোমন্থন প্রয়োজন ! বিএনপি-আ'লীগ দুইটা ভাগ কেন তৈরি করা হইলো সেইটা একটু ভাবা দরকার।



বেশি পিছনে না যাই। বিএনপি মূলত এন্টি-আ'লীগ একটা দল। ৭১ থেকে ৭৫ এর মধ্যে আ'লীগের দু:শাসনের পর খুব খেয়াল কইরা এইটা বানানো হইছিলো আ'লীগ বিদ্রোহী সবাইরে নিয়া। জেনারেল জিয়া মোটামুটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থায় চলে আসার পর এর প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু এরশাদের সময় আরও বেশি খেয়াল কইরা এইটাকে জীবন্ত রাখা হইলো Divide & Rule পলিসির জন্য। আ'লীগকে মসনদে ফেরার ব্যবস্থা করা হইলো। এরশাদের পর অতি বুদ্ধিমান কিছু বাঙালী বুঝতে পারলো এর Potentiality ! বাঙালী মাত্রই দলাদলী করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই দিল ক্যচাল লাগাইয়া ! জন্মলগ্ন থেকে চলতে থাকা অবাধ দুর্নীতি চলতেই লাগলো। এর সুফলভোগী আসলে কারা?



বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রসংগটা উঠলেই যেই জিনিসটার কথা সবার আগে মনে পরে সেটা হইলো কদম ফুল ! কদম ফুল দেখতে বড়ই সৌন্দর্য্য। উপরের রোয়া গুলা বাদ দিলে যেটা থাকে সেটা হইলো শক্ত একটা টেনিস বল। যেটা দিয়ে আসলে খেলা যায় না। জোরে আছাড়া দিলে ফেটে যায়। ফাটা টুকরাগুলো নাকে মুখে লাগে। এমনিতে দেখলে টাক মাথার মতো মনে হয়। মনে হয় দীঘলকেশীকে কাউকে জোর করে ন্যড়া করে দিয়েছে। কদম ফুলের খুব হতাশাজনক একটা অবস্থা ! বাইরের দিক থেকে দুর্নীতির বিস্তার যত ভয়াবহ মনে হোক, ভেতরের দিকে আসলে শক্ত একটা চক্র আছে। সেটা অনেক কাঠামো বদ্ধ এবং আলাদা করা সম্ভব। এটাও আছাড় দিয়ে ফাটানো সম্ভব। তবে সাবধান ! নাকে মুখে লাগবেই ! যেই সরকারই আসুক, এই চক্র কিভাবে কিভাবে যেন দুর্নীতি করেই যায়। এই দুর্নীতির চক্র এই মুহূর্তে এতটাই শক্তিশালী, একে বন্ধ করা সম্ভব না। শুধু নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিসের মতো।



কিছু জীবানু আছে যেগুলোতে শরীর আক্রান্ত হলে সেগুলোকে মারা চেষ্টা করে লাভ হয় না। তারচেয়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ালে এমনিতেই কমে যাবে। আমার মনে হয় দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায় থাকতে পারে। অল্প অল্প করে হলেও শুধুমাত্র উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি রাখা। ইনায়ে বিনায়ে যত কথাই বলি, আমাদের দেশের সাধারন মানুষও দুর্নীতিগ্রস্থ বা দুর্নীতিপরায়ন বা অন্তত দুর্নীতিতে উৎসাহ দেয়। এদের স্বভাব পাল্টাতে হলে আগে অভাব পূরন করতে হবে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াইতে হবে। গত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনেক হম্বি-তম্বি করা হইছিলো। আসলে সবই ছিলো আইওয়াশ। শেষ-মেষ ওরাও কিন্তু দুর্নীতিতে জড়াচ্ছিল। আর দুই-চার বছর থাকলে অবশ্যই অবস্থা একই হইতো। দুর্নীতির চক্রটার হাত থেকে বাঁচা এতো সোজা না। মাঝখান থেকে দুই বছর দেশের সার্বিক উন্নয়ন অনেকটাই বন্ধ ছিলো।



বাংলাদেশ এখন একটা "আন্তর্জাতিক" রাষ্ট্র হয়ে গেছে। জাতিসংঘের আড়ালে তথাকথিত 'বন্ধু প্রতিম' রাষ্ট্রগুলোর নির্দেশনা ছাড়া এখন আর কিছু হয় না। এই মুহুর্তে কিছু করার নাই। তবে তাই বলে আমরা স্বপ্ন দেখব না কেন? শ্বশুরবাড়ি গিয়েছি ঠিকই। একসময় শ্বশুরবাড়ির চাবি কেন হাতে নেব না?



মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৩১

মহাজাগতিক পাগল বলেছেন: মগের মুল্লুকের মত চলছে দেশ । বিভিন্ন খাতে অব্যাবস্থাপনার কথা শুনতে শুনতে আমি বা আমরা ক্লান্ত

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.