| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার মাজু
শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী
গত কয়েকদিনে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন কয়েকটি ব্লগ এবং ফেইসবুক পেইজ বন্ধ করে দিয়েছে যেগুলো জামাত-শিবির-স্বাধীনতাবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করে যাচ্ছে। স্পষ্টভাবে বলছি, বিটিআরসির এই কর্মকান্ডের আমি ঘোর বিরোধী। এইধরনের কাজ থেকে বোঝা যায় ইন্টারনেট সম্পর্কে তাদের কোনো ধারনা নাই এবং পাবলিকের উন্নয়নের ব্যপারে তাদের কোনো আগ্রহ নাই।
ইন্টারনেট অর্থ আমার কম্পিউটারের সাথে তোমার কম্পিউটারের যোগাযোগ। এখানে সরকার কোনো পক্ষ হতে পারে না। একটা আইন করা হয়েছিল সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য। সেখানে কি বলা আছে, কে করলো, কিভাবে করলো আমরা সাধারন মানুষ আজ পর্যন্ত জানি না ! ক্রাইম মানুষ করতে পারে ই্ন্টারনেট না। সবচেয়ে বড় কথা সরকার চাইলেই কোনো সাইট বন্ধ করতে পারে না। ইউটিউব এখন বন্ধ আছে। কিন্তু আমি হরদম ব্যবহার করছি ! প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, পাকিস্থানেও ইউটিউব নিষিদ্ধ। পাকিস্থান হচ্ছে সেই দেশ যে দেশের মানুষ প্রাপ্তবয়স্কদের সাইট ভিজিট রেটিং এ সারা বিশ্বের মধ্যে প্রথম! সেই দেশের মানুষ মহানবীকে অসম্মান করে বানানো মুভি দেখে কষ্ট পায় ! আমার ঈমান এতো দূর্বল হবে কেন যে কোন এক অর্বাচীন মহানবীকে কটুক্তি করলো আর আমি উত্তেজিত হয়ে গেলাম? ঈমানের জোর ভিজিট রেটিং এর মধ্যেই আছে !!
এক জায়গায় দেখলাম, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার একটা মনিটরিং সেল করেছে এবং আমাদের ব্যক্তিগত একাউন্ট মনিটর করা হবে। কথাটা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আমি আরো নিশ্চিতভাবে বলবো, এরচেয়ে বড় বেকুব আর হয় না ! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আসলেও আমার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্ট মনিটর করতে পারবে না ! একবার আমার একাউন্টের পাসওয়ার্ড চুরি হওয়ার পর প্রায় সপ্তাহখানেক ফেইসবুকের সিকিউরিটি টিমের সাথে চিঠি চালাচালি করতে হইছে। তখন আমি দেখছি, বিষয়টা অতো সোজা না। মার্ক জুকারবার্গ নিজেও একজন হ্যাকার ছিলো এবং সে ফেইসবুকের স্বাধীনতার ব্যপারে বেশ গোঁয়াড়। সুতরাং সরকারের দাবী একেবারেই বোগাস।
এটা ঠিক যে আমারা একটা পিছিয়ে পড়া সভ্যতা। সব ব্যপারেরই আমাদের অনেক সাবধান আর রক্ষনশীল হইতে হয়। কিন্তু সভ্যতার ইতিহাস বলে অগ্রগতিই মুক্তির উপায়। কোন লেখা পড়ে বা ছবি দেখে কেউ চুলকানি অনুভব করবে কিনা বা কতটুকু প্রভাবিত হবে সেটা তার মানসিক বৃদ্ধি, পারিবারিক ঐতিহ্য আর বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে। আমরা যদি দেশের মানুষকে শিখাইতে না পারি কোনটাতে প্রতিক্রিয়া দেখাইতে হবে আর কোনটাতে হবে না, তাইলে জামাত-শিবিরের প্রপাগান্ডাকে দোষ দিয়া লাভ কি? শান্তি-শৃঙ্খলা কিভাবে বজায় রাখতে হবে এটা মানুষের শিক্ষার ব্যপার, কার লেখার প্রভাবে হইলো সেটা তো অতো গুরুত্বপূর্ন না।
হ্যাঁ, আমার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে সেটা যদি কেউ প্রকাশ করে দেয় সেটা অপরাধ। সেটা অন্য আইনে। ফেইসবুকে আমি এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য রাখি না যেটাতে আমার কোনো সমস্যা হইতে পারে। যারা রাখে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার ! এখানে বলে রাখি, মাঝে মাঝে যেসব স্ক্যন্ডাল বের হয় সেটা অপরাধ, তবে অন্য আইনে ! বিশ্বাস ভঙ্গের আইন ! ইন্টারনেট একটা মাধ্যম মাত্র। অপরাধের মূলহোতা অন্য জায়গায়।
মোদ্দা কথা হইলো, ইন্টারনেটের বিষয়বস্তু আমরা কখনোই বন্ধ করতে পারবো না। টেকনিক্যলি এটা সম্ভব না। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রন করার এই চেষ্টা পছন্দ করছি না। সরকার 'ধর্মকারী' বা 'মুক্তমনা' সাইট কি বন্ধ করতে পারছে? 'জেজে' কি নতুন নামে আসে নাই? বাংলাদেশে বসে পশ্চিমা বিশ্বের অশুভ দিকগুলো আমি ইচ্ছে করলেই পেতে পারি। সরকার সেটা কি রুখতে পারবে? সামাজিক অবক্ষয় বা অস্থিতিশীলতার ভয় থাকলে আমাদের সমাজকেই শক্তিশালী করতে হবে। মানুষকে উন্নত করতে হবে। সাইট নিষিদ্ধ করে লাভ নাই। আদম নিষিদ্ধ গন্ধম খাবেই !
আজকে জামাত-শিবিরের ব্লগ বন্ধ করছে। আগামীকাল 'সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী' প্রচারনার অভিযোগে আমাদের ব্লগ যে বন্ধ করবে না তার কি গ্যরান্টি? 'সোনা ব্লগে' শিবিরের পোলাপান যে হিটলিস্ট প্রকাশ করছিল, এর জন্য আপনে শিবিররে ধরেন। ওর ব্লগ হাতাইয়া লাভ কি?
জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হউক, তাদের (বা আমাদের) ব্লগ না। আর পাবলিককে বেশি বেশি ভিটামিন - বি খাওয়ানো হউক !!
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:১৫
ব্লগার মাজু বলেছেন: সোনার বাংলা ব্লগ চালু হওয়ার পর থেকে সামুর অনেকেই বিরোধীতা করেছে। আমিও করেছি (অন্য নিকে ! ) । ওরা সবসময় দৌড়ের উপর ছিলো। তবে ওদেরকে বন্ধ করে দিতে বলি নাই। কিন্তু দুম করে সরকার ঐ ব্লগ বন্ধ করে দেয়ায় সমস্যা যেটা হবে, ভবিষ্যতে এটাকেই উদাহরন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্লাস ওরাও বলতে চাইবে সরকার অন্যায়ভাবে তাদের বাধা দিচ্ছে !
আমিও হাইড্রার কথাই বললাম ! ওদের ব্লগ বন্ধ করে লাভ কি? জামাত-শিবিরকেই বন্ধ করা হোক। আরও ভালো হয় ওদের পৃষ্ঠপোষকদের বন্ধ করতে পারলে। যেমন - ইসলামী ব্যংক জাতীয়করন করা যেতে পারে।
.জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করলেও একটা সমস্যা আছে। ওরা তখন অন্য নামে রাজনীতিতে আসবে। যেহেতু নাম চেন্জ, পাবলিক ভোটও দিবে। ফলাফল - অশনি সংকেত।
আসলে শুভবুদ্ধির লোকজনকে মাঠে থাকতে হবে। রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে। পাবলিকের সেবা করতে হবে সক্রিয়ভাবে। তাহলেই জনগনের বিশ্বাস অর্জন করা যাবে। ফলাফল - দেশ চলবে শুভবোধে।
বছর দু'য়েক আগেও আমি আবেগী ছিলাম। এখন বুঝি, কৌশল, কৌশলই সব।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:০৭
সিউল রায়হান বলেছেন: হাইড্রা প্রাণীটার সাথে পরিচয় আছে আপনার? এই প্রাণীটার একটা মাথা কাটলে আরো ১০টা মাথা গজায়।
জামাত-শিবিরের ওই পেইড বেজন্মাগুলোও হাইড্রার মতই। ওরা আবার ফিরবে, কিন্তু সময় লাগবে। তাই এইমুহুর্তে ওদের পেজ/সাইটগুলো বন্ধ করা খুব প্রয়োজন ছিলো ওদের প্রপাগান্ডা মেশিন থামাতে। ভবিষ্যতের চিন্তা এখন করবেন না, ৪২ বছরের পাপমোচন করুন আগে এরপরে সবাই মিলেই সামনে এগুবো (তখন সরকার কোন কিছু ব্লক করবে আমিও প্রটেস্টে অংশ নিবো, ডোন্ট ওয়ারী)