| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার মাজু
শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী
আমার পুরো নাম হেলাল মোহাম্মদ মাযহারুল আবেদীন। মায়ের নামের সাথে মিল রেখে হেলাল আর রাসূলের উম্মত বিবেচনায় মোহাম্মদ। এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময় নামের আগে 'হেলাল' আর 'মোহাম্মদ' বাদ দিয়েছি। এর মানে এই না যে মায়ের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে বা রাসূলকে অবমাননা করতে চাচ্ছি। কারও উম্মত হওয়া বা টান প্রকাশ করার জন্য কাজ-কামই মূখ্য, নাম না। এখন আজকে যদি আমি একটা খুন করি আর ৪০ বছর পর আমার যদি বিচার হয় এবং বিচারে যদি 'মাজু'র ফাঁসি হয়, তাহলে হেলাল মোহাম্মদেরও ফাঁসি হবে! কমন সেন্স তাই বলে !
বাচ্চু রাজাকার আর মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, দেইল্ল্যা রাজাকার আর আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, রাজাকার কাদিরা আর আবদুল কাদের মোল্লা কিন্তু একই ব্যক্তি। আমরা এই সহজ বিষয়টা ধরতে পারছি না কারন আমাদের কমন সেন্স বোধহয় কমে গেছে !
জন্মের পর থেকে শুনে আসছি, অমুক মহিলা আর অমুক পুরুষ আমার মা-বাবা। নিজের চোখে কিছু দেখিনি। মানুষের মুখে শুনেছি, বার্থ সার্টিফিকেটে দেখেছি। এটা পুরোটাই বিশ্বাস। আমি সত্যতা যাচাই করতে যাই নি ! বড় হওয়ার পর ডিএনএ টেস্ট করতে পারতাম। বিষয়টা হয়তো তখন 'আন্তর্জাতিক' মানের হতো ! ইতিহাস বিষয়টাও সেরকম। শোনা কথা। ইতিহাস বিশ্বাসের উপর, এর কোনো 'আন্তর্জাতিক' মান হয় না !
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একাত্তরের পর পরই করা যতটা সহজ ছিলো এখন আর ততটা সহজ না। কারন আমার বয়সী তরুন প্রজন্ম একাত্তর দেখেনি। ইতিহাসের পাতা তাদের জন্য যথেষ্ঠ নয়। তারা যদি এর দলিল চায়, চাইতেই পারে। কিন্তু তখন বিষয়টা আসলে জটিল হয়ে যায়। এই কারনেই আজকে আমাকে শুনতে হয়, জামায়াতে ইসলাম (পূর্ব পাকিস্থান এবং তারপরে বাংলাদেশ শাখা) মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের কাছে প্রতিবাদ করেছিলো !!!
বিচারের ব্যপারে সন্দেহ প্রকাশকারী বেশিরভাগই ইসলামী ভাবধারার লোক। মেশিনম্যানের অডিও তাদের কাছে সফটওয়ার দিয়ে তৈরি করা 'ফেইক' তবে তার স্বপক্ষে প্রকাশিত 'স্বাক্ষী'দের অডিও সঠিক ! দেলু রাজাকার আর সায়্যেদী একই ব্যক্তি নন ! বিচারের আড়ালে সরকার প্রতিপক্ষ কমাচ্ছে। প্রজন্ম চত্ত্বর বামপন্থী আর নাস্তিকদের আড্ডা। কোনো পয়েন্টে Rigid হয়ে যায় এই রকম ডানপন্থী বা বামপন্থী বা উদারপন্থী, নাস্তিক বা আস্তিক কোনোটাই আমার পচ্ছন্দ না !! আমি সাধারন মানুষ, কমন সেন্সই আমার সম্বল।
সমস্যা হচ্ছে, নাস্তিকরা সাধারনত সন্দেহবাতিক গ্রস্থ হয়। এই যে বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহতে ভুগছে ইসলামী ভাবধারার লোক, তারা কি জানে এটা যে নাস্তিকদের মতো আচরন হচ্ছে?? তারা কি জানে শয়তানের কাজই হলো মানুষের মাঝে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়া?? তারা কি জানে তারা ইসলাম থেকে কতো দূরে সরে গেছে?
একাত্তর এবং স্বাধীনতার এই এতোগুলো বছরে আমরা অনেক উন্নতি করতে পেরেছি, অর্থনৈতিক বা সামাজিকভাবে। কিন্তু আমাদের প্রজন্মের মধ্যে প্রতিনিয়ত যে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছি, সন্দেহ আর আস্থাহীনতার যে বীজ বপন করেছি, আমাদের সকল অর্জনকে নস্যাত করার জন্য তাই যথেষ্ঠ।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২৫
ব্লগার মাজু বলেছেন: জামায়াত ইসলামী (বাংলাদেশ শাখা) আমাদের রাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত না। বিদেশী একটি সংগঠনের শাখা মাত্র যারা ভিনদেশী ভাবধারা এই দেশে প্রচারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের অস্থিত্বই এরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে চায় না। সুতরাং এরা যে সহিংসতা করে তার সাথে "গৃহযুদ্ধের" মতো গুরুতর বিষয়কে এক করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। যদি বলেন বাংলাদেশ থেকে ওরা আবার পূর্ব পাকিস্থান বানাতে চায়, তাহলে বলবো তথাকথিত 'গৃহযুদ্ধ' হতে দিন।
একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। ধরে নিলাম যুদ্ধ লাগলো। গেরিলা ফোর্স বাদ দিলাম, আমার জানামতে দেশে সামরিক-আধাসামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে সদস্য আছে ৫ লাখের উর্দ্ধে। জামায়াতের কর্মী যদি ১ লাখও ধরি, সমর্থক ধরি ৪ লাখ তাহলেও সমান সমান হতে চায় না ! এর মধ্যে নারী-শিশু, এদের কথা নাহয় বাদই দিলাম! ওদের আছে দেশী কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ! ফায়ার পাওয়ারে ধারে কাছেও নেই !! কোনো রিট্রিট পয়েন্ট নেই। ভারত সীমান্তে এলার্ট জারি করে এটাও বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা ওদের আশ্রয় দেবে না। সবচেয়ে বড় কথা, যুদ্ধ করতে লাগে জনসমর্থন। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৪ লাখ লোকের সমর্থন নিয়ে গৃহযুদ্ধে জয় আসা করা যায় কি ?! আমাদের গার্মেন্টস কর্মীরা হাটা ধরলেও তো ওরা টিকবে না !
ওদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলো শক্তিশালী কিছু রাষ্ট্রের পরোক্ষ সমর্থন। আমার জানামতে সেটা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওরা এই কারনেই এখন পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। তারা জানে তাদের সামনে আর পালানোর পথ নেই। বেঈমানদের এবার হাতে পেয়েছে জনগন।
তাদের সামনে একটাই পথ খোলা আছে। এই বিদেশ বিভুই ছেড়ে নিজ নিজ দেশে পালিয়ে যাওয়া। সেই দেশে, যে দেশের ধ্যন ধারনা তারা এই দেশে খাটাতে চেয়েছিলো, কিন্তু সফল হয় নি। কয়েকটা মাথা সরলেই বাকীরা আত্নসমর্পন করবে। তাদের বিচার হবে। সাজা হবে। নিরপরাধীদের আমরা শুদ্ধ করবো। শরীর থেকে বিষ বের করে নিয়ে আসবো। বাঙালী হতে শেখাবো।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:২৯
খইকাঁটা বলেছেন:
সন্দেহ বলছেন ভাই? নিশ্চিতভাবেই জামায়াতকে ঠকানো হলো। এখন যদি প্রতিশোধ পরায়ন এই মানুষগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রন না করতে পারে তাহলে কি পারবেন দেশের এই সুনিশ্চিত গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে?