| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার মাজু
শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী
ধর্মকথা - ১. বারডেম হাসপাতালে মাতৃসেবা করছি। সিঙ্গেল কেবিন পাওয়া গেল না। শেয়ারড কেবিনেই ভরসা। পাশের সিটের ভদ্রমহিলা যে হিন্দু ধর্মের এটা খেয়াল করি নাই। খেয়াল করার প্রয়োজনও ছিলো না। আমাদের দেশে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হইলে মোটামুটি চিড়িয়াখানার জন্তুতে পরিনত হয়। তবে টিকেট লাগে না, ফ্রী সবাই দেখে যায় ! এক মুরুব্বী আত্নীয় কেবিনে ঢুকেই পাশের সিটের ভদ্রমহিলার কপালে সিদুর দেখে মুখে আঁচল চাপা দিলেন। মুখ বিকৃত করে বললেন, "এহ্ হে ! হিন্দু !!" এই অন্চলে প্রাক্তন হিন্দুসমাজে ভিন্ন জাত ছোঁয়ার ব্যপারে একধরনের বিধিনিষেধ ছিল। ইসলামের আগমনের একটা কারন ছিল এই সমস্যা। বোঝা যাচ্ছে সেই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে পারি নাই।
ধর্মকথা - ২. ঈদের জামাত। সব বিদ্বেষ ভুলে যাওয়ার কথা। সেই বার হুমায়ূন আযাদ মারা গেছেন। এক মুরুব্বী আত্নীয় নামায় শেষে বললেন, "শুওরের বাচ্চা নাস্তিক ! মরছে ভালো হইছে !! তার আবার জানাযা পড়াইছে কেন?" নাস্তিকদের উচিৎ তাদের মৃত্যু পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানের বিষয়গুলো পরিস্কার করা। সমস্যা হচ্ছে একজন মানুষ মারা গেলে তার মৃতদেহ সৎকারের কাজ বেঁচে থাকা মানুষদেরই করতে হয়। এর দায় দায়িত্ব বেঁচে থাকা মানুষেরই। তাকে কবর দেব না পুড়ে ফেলব না সমুদ্রে ফেলে দেব সেটা মূল না। মূল কাজ সৎকার করা। তা নাহলে গন্ধ ছড়াবে। নাস্তিক মরলে মানুষের মুখের বিষবাষ্পেই পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। তার সাথে যদি মৃতদেহের দুর্গন্ধ যোগ হয় তাহলে পরিবেশ নারকীয় হয়ে যাবে।
ধর্মকথা - ৩. তিনবন্ধু মিলে বাসে করে কোথায় যেন যাচ্ছি। রোযার দিন। রোযা রেখে শেষ বিকেলে এমনিতেই বিরক্ত লাগছে। এর মধ্যে বাসের ড্রাইভার কর্কশ কন্ঠের ওয়াজের টেপ ছেড়ে দিলো। ওয়াজ বললে ভুল হবে। ওয়াজের আড়ালে রাজনৈতিক কথাবার্তা। ধর্মীয় বয়ান এতো কর্কশ কন্ঠে দিতে হবে কেন? হেল্পারকে ডাক দিয়ে বললাম, বন্ধ কর ব্যটা ! পেছন থেকে এক উগ্র স্বভাবে স্মার্ট তরুন আগ্রাসীভাবে তেড়ে আসলো, "কেন ভাই? বন্ধ করবে কেন? আমার তো ভালো লাগতেছে !" তখন আমাদের বয়স কম, কাপড় চোপড়ের ঠিক নাই, তাই চেহারা দেখে বোধহয় ফাউল মনে করছে। একটু ভাব মারার চেষ্টা আর কি ! তারপরেও জবাব দিলাম, "আমাদের ভালো লাগতেছে না !" মুহুর্তের মধ্যে বাসে হট্টগোল শুরু হয়ে গেল। সবাই ওয়াজ বন্ধ করার জন্য চেচামেচি শুরু করলো। ওয়াজ বন্ধ হলো। ঐ ছেলেকে আর কিছু বলতে শুনলাম না। এক রসিক ভদ্রলোক বলে উঠলেন, আরে ব্যটা একটা গান ছাড়। গান শুনতে তো নিষেধ করে নাই। আরেকজন বললেন, এইরকম ওয়াজ দিলি কেন? হামদ-নাত দে, নাইলে কোরান তেলওয়াত দে !!
আর দশটা জটিলতার মতো ধর্মের ব্যপারেও আমরা অনেকটাই উদাসীন। ধর্ম নিয়ে আমাদের দেশে অনেক সমস্যা। সমস্যা কোন দেশে নাই? কিন্তু আমাদের মতো এইরকম ভোদাই মনে হয় আর কোনো দেশে নাই যে ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজের বাবা-মার হত্যাকারীদের বাঁচাইতে চায়।
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:২৭
ব্লগার মাজু বলেছেন: আমরা আসলে ধর্মের বাইরে চিন্তা করতে পারি না। এই কারনেই হয়তো নাস্তিকদের ধর্মভুক্ত করার জন্য আমরা এতটা ব্যস্ত। তবে তাদের (বা যে কোন মানুষের) মৃতদেহের সৎকার কি শুধুই ধর্মীয়? এটা কি প্রাকৃতিক একটা প্রয়োজন না? বিষয়টা আসলে আমি পরিস্কার না ! ধর্মের জন্য জীবন না জীবনের জন্য ধর্ম?
একজন হিন্দুও ভাত খায়, মুসলমানও ভাত খায়, নাস্তিকও ভাত খায়। তাদের খাবার তরিকা ভিন্ন থাকতে পারে। কেউ রামনাম নিয়ে শুরু করে, কেউ বিসমিল্লাহ বলে, কেউ ডারউন বলে ! তরকারীতেও পার্থক্য থাকতে পারে। কেউ শূকরের মাংস, কেউ গরুর মাংস আর কেউ শুধু নিরামিষ !!
হিন্দুও মৃতদেহের সৎকার করে, মুসলমানও করে, নাস্তিকেরও করতে হয়। পার্থক্য তরিকায় থাকতে পারে, কিন্তু মূল জিনিস সেই একই ! তাই নয় কি?
পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
২|
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:১৯
ভুদাই আমি বলেছেন: আমি ভুদাই কেন ??
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
ব্লগার মাজু বলেছেন: নিজেকে একা ভাববেন না ! :#>
৩|
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:২১
সমকালের গান বলেছেন: সহমত।
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
ব্লগার মাজু বলেছেন: হুমম...
৪|
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:২২
ইনেফারাজ বলেছেন: nastik morle sotkar hbe janaja kano? Mati khure pute fellei kellafote. Dhormo bissas na kre dhormio riti kano?
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৬
ব্লগার মাজু বলেছেন: যেটাই করা হোক তার দায়-দায়িত্ব বেঁচে থাকা মানুষেরই। যে মরে গেছে সে তো আর জেগে উঠে তার মৃতদেহ সৎকার করবে না !! তবে মনে রাখতে হবে, আমরা যারা পরকালে বিশ্বাস করি, তাদের কিন্তু এই কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে! দায় নিলে তার জবাবদিহিও করতে হবে। :-<
৫|
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩১
আমি ব্লগার হইছি! বলেছেন: লেখকের সাথে প্রবল ভাবে সহমত।
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
ব্লগার মাজু বলেছেন: পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
৬|
০২ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:১১
তানি জী... বলেছেন: নাস্তিক যেহেতু কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না .।।।তাই নাস্তিক দের উচিত মরনের আগে বলে যাওয়া তাকে কিভাবে সৎকার করা হবে.।.।। আর একজন মুসলিম মারা গেলে যেমন মুসলিম রা সৎকার করে ,হিন্দু মারা গেলে হিন্দুরা,খ্রিস্টান মারা গেলে খ্রিস্টান রা যেমন সৎকার করে । ঠিক তেমনি নাস্তিক মারা গেলে শুধু নাস্তিক রাই তার সৎকার করবে ওখানে আর কোন ধর্মের মানুষের থাকা ঠিক না.। কারন নাস্তিক দের মতে নাস্তিকতাও নাকি একটা ধর্ম ।তাই আমরা যারা পরকালে বিশ্বাস করি ওই সব নাস্তিকদের কবর দিয়া আমাদের ঘাড়ে দায় নেওয়ার কোন দরকার নাই.।।
০২ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১:২৫
ব্লগার মাজু বলেছেন: কেন? একজন হিন্দু মারা গেলে তার মুসলমান বন্ধু বুঝি সৎকার অনুষ্ঠানে যায় না?!
নাস্তিকরা বিষয়টা পরিস্কার করতে পারে। তবে সেটা গুরুত্বপূর্ন না। সৎকারের দায়িত্ব বেঁচে থাকা মানুষের। মৃত ব্যক্তি কি বলে গেল সেটা অতটা গুরুত্বপূর্ন না। কেউ যদি বলে যায় তাকে গ্রামে কবর দেয়ার জন্য, তার মৃত্যু হইলো ঢাকায় বা দেশের বাইরে বা সমুদ্রে তখন তার ইচ্ছা পূরন সম্ভব কিভাবে? আমার সুবিধা অনুযায়ীই তো আমি করবো তাই না? একজন মুসলমানের যদি জানাযা না পড়া হয় তাহলে দোষ কার? যে মরে গেছে তার না যারা জানাযা পড়ায় নাই তাদের? বিষয়গুলো ভেবে দেখা উচিৎ।
আমার মনে হয় নাস্তিকদের প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারনে আমরা আসলে আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য ভুলে যাচ্ছি।
৭|
০২ রা মার্চ, ২০১৩ ভোর ৫:৪৯
আমিই মিসিরআলি বলেছেন: সহমত।
৮|
০২ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:১১
সুপারনোভা ০০৭ বলেছেন: আসলেই আমরা এতো ভোদাই কেন ? এটা আমারও প্রশ্ন। আমিও এইগুলো মাঝে মাঝে লক্ষ্য করি। আমরা কি পারি না, ধর্ম যাই হোক সবাই মিলে একসাথে থাকতে।
৯|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:০২
ফিরোজ খাঁন তুষার বলেছেন: বাহ
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:১৪
বিশ্বাস করি 1971-এ বলেছেন: ভাই ধন্যবাদ আপনার সত্য কথাগুলোর জন্য।
দু:খজনক হলেও সত্যি যে জাতি হিসেবে আমরা কম রেসিষ্ট নই। কবিতা বা গানের যতই রেফারেন্স দেই না কেন প্রকৃত অবস্থা কিছুটা উল্টো।
তবে এটাও সত্যি যে আমাদের দেশে যারা সংখ্যালঘু তারা পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ নয়। হয়তো বা বিরুপ সমাজ বা জনমত তাদেরকে সবসময় এই কথা ভাবতে বাধ্য করে। আমাদের দেশে প্রধান দুটি দল সবসময় সংখ্যালঘুদের নিয়ে খেলেছে। বিএনপির সময় সংখালঘুরা যেমন বঞ্চিত হয়েছে তেমনিভাবে আওয়ামীলীগের সময় সংখালঘুরা কিছুটা হলেও সুবিধা পেয়েছে।
আর একটা কথা বলে না বলে পারছি না। একজন নাস্তিক যদি মারা যান তাকে আমরা ধর্মভুক্ত করার জন্য পাগল হয়ে থাকি কেন? কেউ যদি ধর্মে না বিশ্বাস করেন তবে তার মৃর্ত্যূ পরবর্তী কাজ ধর্ম করতে হবে কেন যদি তিনি জীবিত অবস্থায় না চেয়ে যান? এটা কি হিপোক্রেসি নয়?