নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শুভ ব্লগিং !

ব্লগিং হোক আগামীর...

ব্লগার মাজু

শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী

ব্লগার মাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিষয়বস্তু নারীত্ব নয়, নারী...

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৪৪

সত্যিকার নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা বড় সমস্যা আছে। নারী মহল ক্ষিপ্ত হয়। পুরুষ মহল মুখ বাঁকা করে হাসে। ভাবে, ব্যটা কাউরে পটাইতে চাইতেছে আর নাইলে "আসছে, আমাগো প্রগতিশীল"। যেহেতু নারী ঘটিত কোনো জটিলতায় (!) ভুগতেছি না এবং উহাদের তেল মারার আপাতত কোনো ইচ্ছা নাই, এবং যেহেতু পুরুষদের নিয়ে চিন্তিত হওয়ার বয়স আর নাই, তাই কিছু সত্যি কথা বলি। দেশের বাইরে যাবো না।



নারীরা কি আগাইছে? সিম্পল উত্তর, ঘন্টাটাও আগায় নাই। বরং আমার মনে হয় পিছাইছে ! নারী অগ্রগতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার টাইম আছে আমার মতো অলস মধ্যবিত্ত মানুষের। তাদের চোখে কর্মজীবি নারী অর্থ টিপটপ সেজে 'ভদ্র' একটা চাকরী করা। এটা একটা খন্ডিত চিত্র। কর্মজীবি নারীর সবচেয়ে বড় উদাহরন হইতে পারে আসলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা।



এইসব নারী শ্রমিকদের হাতে পয়সা এসেছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতা এসেছে কি? পরিবারের কাছে সে একটি সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়েছে। পরিবারের নেতা হতে পেরেছে কি? সামাজিক বা পারিবারিকভাবে সে বন্চনা থেকে উঠে আসতে পেরেছে? সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কতটা বেড়েছে? স্বাধীনতা কই? শুধু হাতে কিছু কাঁচা পয়সা এসে গেলেই ক্ষমতায়ন হয় না।



শ্রমিকদের না হয় কর্মক্ষেত্রে তেমন সিদ্ধান্ত দিতে হয় না। কিন্তু যারা ম্যনেজমেন্ট লেভেলে চাকরি করছেন, প্রথম কথা কয়জন সেটা করছেন, তারা আসলে পুরুষদের সমকক্ষ হয়েছেন কি? চাকরির বাজারে কতটুকু চাহিদা তৈরি করতে পেরেছেন? সম্পূর্ন নিজ গুনে একটা গুরুত্বপূর্ন পদে কাজ করছেন এমন কয়জন আছেন? এমন কয়জন গুরুত্বপূর্ন পদধারী আছেন যাকে দেখে আমাদের মনে হয় নি, উনি তো একটা নারী, উনি আর কি বুঝে !? নারীকে মানুষ হিসেবে ধরতে শুরু করেছি কি? নারী বললেই আমাদের মাথায় আসে দূর্বল-নাজুক একটা চরিত্র !



এরমধ্যে আবার সমস্যা হইছে, নারীর ক্ষমতায়নের খারাপ দিকগুলো অনেকে খুজে বের করেছেন। কিছু নারী সেই পথেই হেঁটেছেন। ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। সামগ্রিক আরো অনেক কারনে নারীর উপর অত্যাচারও বেড়েছে।



সমাজে যেখানেই বৈষম্য থাকবে সেখানেই হতাশা থাকবে, সেখানেই দুর্নীতি হবে, সেখানেই বিবাদ হবে, সংঘাত হবে। সংঘাত ছাড়া এতো বড় একটা পরিবর্তন কখনোই সম্ভব না। তবে যেটাই হোক, কাজটা করতে হবে নারীকেই। দূর্বলদের কেউ কখনো জায়গা দেয় না। জায়গা করে নিতে হয়। সেটা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই প্রযোজ্য।



এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, এই নারীর ক্ষমতায়নের প্রসংগ আসলেই পুরুষদের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু একটা কল্পনা করা হয়। দোষটা এখানে পুরুষদের দিলে লাভ নাই। দোষ সিস্টেমের। পুরুষ সেই সিস্টেমের সুবিধাভোগী মাত্র। কিছু করতে চাইলে সিস্টেম পাল্টাও। পুরুষ বাধা দিবে, সেটাও সামলাইতে হবে। তবে সবচেয়ে কঠিন সিস্টেম পাল্টানো। কারন হে নারী, তুমিও সিস্টেমের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে গেছ। বাইরে আসতে হবে।



কিছু মানুষ নারীর ক্ষমতায়নকে নেতিবাচকভাবে দেখে। এইটা ঠিক না। নারীর ক্ষমতায়ন অর্থ পুরো সমাজের ক্ষমতায়ন। এতে সমাজ আরো স্থিতিশীল হবে। আর ক্ষমতায়নের বিষয়টা শুরু করতে হবে শিশুকাল থেকেই, বাবা-মাকেই। যাতে বড় হয়ে শুধু সমাজকে দোষারোপ করতে না হয়।



পৃথিবীতে নারী-পুরুষের হার এখন প্রায় ভারসাম্যপূর্ন। বড় কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলে এই Ratio আরো স্থিতিশীল হবে। সেই পরিবর্তীত ডেমোগ্রাফীতে মানিয়ে চলতে হলে নারীকে ক্ষমতার স্বাদ দিতেই হবে। নারীকেও সেটা নিতেই হবে।





(মাইক্রোব্লগ)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.