| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার মাজু
শুওরের বাচ্চার দাঁত উঠলে সবার আগে বাপের পশ্চাদদেশে কামড় দিয়ে দাঁতের ধার পরীক্ষা করে। - ড. আকবর আলী
বাংলাদেশের রাজনৈতিক চেতনায় তিনটা ভাগ আছে। বাম-মধ্যম-ডান। বামেরা এই দেশে কখনো তেমন ভাত পায় নাই। ডানেরা অনেক প্রভাবশালী। তবে সবচেয়ে প্রভাবশালী অতিঅবশ্যই মধ্যমপন্থীরা। এদের মধ্যে আবার বাম ঘেঁষা, ডান ঘেঁষা ভাগ আছে, উদারপন্থীও আছে। ৯০ এর পর থেকে হয় ডান ঘেঁষা, নয় বাম ঘেঁষা মধ্যমপন্থীরাই ক্ষমতায় ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে মূলত এই মধ্যমপন্থীদের চেতনাকেই বোঝায়। এই অন্চলের মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যমপন্থী হইতে চায়। যে কারনে দেশ দখল করতে হইলে প্রথমে এই মধ্যমদের আক্রমন করাই সবার জন্য, সবসময়, সবচেয়ে জরুরী ছিলো। ৭১ এ এই মধ্যমপন্থীরাই আক্রান্ত ছিলো এবং এর বিজয়কে স্বভাবতই মধ্যমপন্থীদের বিজয় হিসেবে দেখা হয়। এখন প্রশ্ন হইলো, এর মইধ্যে ডানপন্থীরা এতো প্রভাব অর্জন করলো কিভাবে?
এই অন্চলে যে গোষ্ঠীই শাসন-শোষন করতে আসছে সেই মধ্যমপন্থীদের চাপে রাখতে চাইছে। শোষক গোষ্ঠী কতৃক ডানদের পৃষ্ঠপোষকতার উদ্দেশ্য তাই পরিস্কার। কিন্তু জনগনের কাছে ওরা ভাত পাইলো কেমনে? উত্তর একটাই। দারিদ্র এবং বৈষম্য। আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যমপন্থীদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং সুবিধাবাদী আচরন। একটা ক্ষুধার্ত-আশ্রয়হীন মানুষের অভাব পূরন করা হইলে সে গোলামী করবে এটাই স্বাভাবিক। ক্ষুধার কাছে চেতনা খুব অসহায়। একটা কুত্তাও খাবার পাইলে প্রভুর সামনে দাঁড়ায়ে ন্যজ নাড়ে। প্রসঙ্গক্রমে, বাঙালী আবার খুব প্রভুভক্ত !
দরিদ্রজনগোষ্ঠীর ত্রাতা হওয়ার সুযোগটা বামেরাও নিতে পারতো, নেয় নাই। কারনটা হয়তো তাদের এপ্রোচে ভুল এবং এটাও ঠিক, বামেরা প্রভাবশালী হইলেও যে খুব আহামরি কিছু হইতো তাও না। ডানেরা সুযোগটা নিতে পারছে। তাই তারা আপেক্ষিকভাবে সফল। মুশকিল হইলো, এই যে তাদের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভাব, এই অর্থের উৎস কিন্তু শুধু শোষকগোষ্ঠী না, দেশের মধ্যমপন্থীরাও ! গরু মেরে জুতা দান মধ্যমপন্থীদের স্বভাব। এছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজের পায়ে দাঁড়ানো মাত্রই মধ্যমপন্থী হয়ে যায় এবং তার ফেলে আসা অতীতের কথা মনে করে। তাইলে এই দেশে মধ্যমদের সাথে ডানেদের সংঘর্ষের কারন কি? Surprising ! এটা কি শুধু ডানেদের self preservation? i doubt it. highly doubt it.
ড. জাফর ইকবালের প্রগতি সফল হইতে হইলে আমাদের প্রথম স্বীকার করে নিতে হবে দোষটা আমাদের, মধ্যমপন্থীদের। প্রগতির যে চিত্র আমাদের দেখানো হয় তা খন্ডিত। এর উল্টা পিঠে যে ভয়াবহ সমস্যা রয়ে গেছে সেটা আমরা Address করি না বা করতে চাই না। কারন আমরা সুবিধাবাদী। এই কারনেই ডানেদের বা বামেদের হাতে দুইটা পয়সা দিয়া আমরা নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করি।
মধ্যমপন্থীরা যতদিন দুর্নীতি আর সুবিধাবাদীতা ছেড়ে দেশের অভাবে থাকা জনগোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য না করবে, নেতৃত্বে না আসবে, ততদিন দেশে অস্থিরতা থাকবেই। হাজারটা প্রজন্ম চত্বর করেও প্রগতি হবে না, এই অস্থিরতা দমন করা যাবে না। অস্থিরতা শুধু বাড়বেই। এখনকার মতো সেই অস্থিরতা মাঝে মাঝে সহিংসতায় রূপ নিয়ে আমাদের চোখের সামনে ঘোরাঘুরি করবে।
তাও ভালো, আমরা প্রগতি চাইতে শুরু করেছি। সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছি। অস্থিরতা হওয়া মানে স্থির হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। স্থবির অবস্থানে বসে থাকলে সমস্যার ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না।
দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, ক্ষতি কি?! ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:২১
প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, ক্ষতি কি?
একমত।
( নির্লজ্জের মত নিজের একটা লেখা শেয়ার করলাম। এক ধরণের এডভার্টাইসমেন্ট বলতে পারেন। তবে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি একটা ভাবনা। তাই নির্লজ্জের মত শেয়ার করলাম। নিজগুণের ক্ষমা করে দিবেন।
দূষিত নেতৃত্ব কে না বলুন
Click This Link