নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঢাবিয়ান

ঢাবিয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

অসম্পুর্ন ৯০ এর গনআন্দোলন

১৫ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:২৯



১৯৭১ এর মুক্তিযূদ্ধের পর বাংলাদেশে গনআন্দোলন ছিল ৯০ এর গনআন্দোলন । এই আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ যখন তৎকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন । সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেই সামরিক আইন জারি করেন । সেই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করে ছাত্ররা । ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে সেনাবাহিনীর হামলায় জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা সহ অনেক ছাত্র/ছাত্রী নিহত হয় । তখন থেকে জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে একটি লাগাতার ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেনঃ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ । মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেনসহ মোট তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন।এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরোও ত্বরান্বিত হয়। ১৯৯০ সালের ১০ই অক্টোবর জেহাদ নামে একজন ছাত্র পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হলে সেই মৃত জেহাদের লাশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তৎকালীন ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হয় । ২৪টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গড়ে উঠে "সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। সব কয়টি ছাত্র সংগঠনের মিলিত শক্তির আন্দোলনের কাছে সেনাবাহিনী সমর্থিত জেনারেল এরশাদ টিকতে পারে নাই । সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এর আন্দোলনের সাথে দেশের জনগণ সম্পৃক্ত হলে তা গণ আন্দোলন থেকে গণ অভ্যুত্থানে রুপ নেয় । সেই গণ অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ৪ঠা ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ।

গনআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ছাত্র জনতা এই আন্দোলনের সুফল বাংলাদেশের দুই মাফিয়া রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দিয়ে ঘরে ফিরে যায় । ফলাফল স্বরুপ ছাত্র জনতার সেই আত্মত্যাগ , ১৯৭১ এর লাখো মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মতই মুখ থুবরে পড়ে। স্বৈরাচারী এরশাদের সেই সময়ে সুষ্ঠু বিচার হলে ফাশি হত সেই সময়েই। তা না করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েই দ্বায়িত্ব শেষ করে তৎকালীন সরকার। এর মুল কারন হচ্ছে বিএনপি বা আওয়ামিলীগ দুই দলেরই রাজনীতি এরশাদের রাজনীতির চাইতে ভিন্ন কিছু নয়। এ কারনেই কয়েক বছর জেলে খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে এসে আবারো এরশাদ রাজনীতিতে ফেরত আসে এবং বিরোধী দল হিসেবে বরাবরই সকল সরকারের সুনজরে থেকে ব্যপক সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। আর এই দেশের রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন আসাতো দূরে থাক, দিনকে দিন দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে টার্ন নেয়।

এরশাদবিরোধী গনআান্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র ও আমজনতা কি এমনটাই চেয়েছিল? আসলে সেই সময়ে ছাত্রদের স্বৈরাচারী এরশাদের বিচার সম্পন্ন না করে রাজপথ ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নাই। সেই সাথে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন নিশ্চিত করে তবেই ঘরে ফেরা উচিৎ ছিল ছাত্রদের। আন্দোলনকে অসম্পুর্ন রেখে ঘরে ফেরাতেই স্বৈরাচারও নিপাত যায়নি, গনতন্ত্রও মুক্তি পায়নি এদেশে।

সীমাহীন দুর্নীতি, চোরাচালানি, লাম্পট্য থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নাই যা স্বৈরাচারী এরশাদ করে নাই। রাস্ট্রের প্রতিটি সেক্টরকে কব্জা করে দুর্নীতিকে রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয় মুলত তার আমলেই। কোটি কোটি টাকা খরচ করে কিছু রাস্তা ঘাট বানানো এবং রাস্তার দুই ধারে সোডিয়াম বাতি লাগানোকেই কিছু মানুষ সেই আমলের উন্নতির উদাহরন হিসেবে হাজির করে এখনও। এই ধরনের কথাবার্তা মুলত তারাই বলে যারা সেই সময়ের বেনিফিশিয়ারী।

সীমাহীন অপরাধ করেও রাজা বাদশাহের মত জীবন যাপন করে ৯০ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেছে স্বৈরাচারী এরশাদ। তার সময়কালের মিথ্যা গুনগান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মুলত এই দেশের স্বৈরাচারী , লুটপাঠের রাজনীতির প্রতিই সমর্থন জ্ঞাপন এবং জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা ,নুর হোসেন, ডাঃ মিলনদের ত্যাগের প্রতি অশ্রদ্ধা জানানো।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: একাত্তুরে দেশদ্রোহীতা,পরে অন্যায় ভাবে ক্ষমতা দখল করে,ফ্যাসিষ্ট উপাধী পাওয়া এরশাদকেই, রাজনীতিতে খুব গুরত্বপূর্ণ করে তোলা হলো।কেনো?

১৫ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: কারন সবাই এক গোয়ালের এক গরু। জাতীয় পার্টি, আওয়ামিলীগ , বিএনপি সবার নীতিই এক সেটা হচ্ছে দেশের বারোটা বাজিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করা। ছাত্র জনতা যদি এরশাদের পতনের পর তার শাস্তি এবং রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন নিশ্চিত করে ঘরে ফিরত তবে হয়ত আজ দেশের চেহারা অন্যরকম হত।

২| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১:০৭

শ্রেষ্ঠ অফিসার বলেছেন: একজন কবি,
একজন প্রমিতিউজ
একজন প্রেমিক

৩| ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৪৯

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: দুর্নীতি, উন্নয়ন সব সরকারের আমলেই হয়েছে। যেই গনতন্ত্রের জন্য আমরা স্বৈরচারী কে হঠালাম, সেটাও তো ঠিমত পেলাম না।



ক্স নিকটা আপনার না। :D

৪| ১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:১১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: কিছূ কিছু পত্রিকার স্বৈরাচারিতার প্রতি নগ্নপক্ষপাত দুষ্টতা দৃষ্টিকটু রকমের!

স্বাধীনতার একক হোলসেলার দাবীদার চেতনার এই জঘন্য অধ:পতন
যে পাকি স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আজীবন আন্দোলন, তার কন্যার স্বৈরাচারি হওয়া পিতার অপমান বৈকি!

প্রকৃত মুক্তি আর গণতন্ত্রের অপেক্ষায় পুরো জাতি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.