নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঢাবিয়ান

ঢাবিয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

'' গ্লোবাল ওয়ার্মিং '' শব্দটি র সাথে আমাদের কমবেশী সবারই পরিচয় আছে। বর্তমান বিশ্বে এটি একটি হট টপিক।উন্নত বিশ্বে স্কুল থেকেই বাচ্চাদের '' গ্লোবাল ওয়ার্মিং '' কি, এর কারন ও প্রতিরোধ সম্পর্কে শেখানো শুরু হয় যাতে বাচ্চা বয়স থেকেই প্রতিটি ছাত্রছাত্রী পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে সমর্থ হয়। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য মুলত যে গ্যাসটি দায়ী তার নাম কার্বন ডাই অক্সাইড। এই গ্যাসটি তাপ ধারন করতে পারে বিধায় এটি চারপাশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।মুলত এই গ্রীন হাউজ গ্যাসটির পরিমান বৃদ্ধির কারনেই জলবায়ু উষ্ণ হয়ে উঠছে, হিমবাহ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। '' গ্লোবাল ওয়ার্মিং ' এর ফলে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষনা সংস্থা নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল ডুবে যাবার কথা বলে আসছে।




কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসটি আবার গাছের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।গাছ সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়া্য কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষন করে থাকে। এই কারনে গাছাপালার পরিমান বেশি থাকলে সে অঞ্চলের বাতাশে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান কম থাকে এবং পারাপার্শিক তাপমাত্রাও কম থাকে। বর্তমানে কার্বন ডাই অক্সাইড এর অন্যতম উৎস হচ্ছে কয়লা, ফসিল ফুয়েল জাতীয় জ্বালানি তেল পুড়িয়ে বিদূৎ উৎপাদন। এই ধরনের জ্বালানি কমবার্শন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে। উন্নত দেশগুলো এখন তাই পরিবেশবান্ধব জ্বালানী ব্যবহারের ওপড় জোড় দিচ্ছে এবং ফসিল ফুয়েল থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে।



এদিকে সম্প্রতি এক গবেষনায় প্রকাশিত হয়েছে যে চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং জাপানের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৯টি মেগা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। গত বুধবার বিশ্বব্যাপী এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা মার্কেট ফোর্সেস এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থ্রিফিফটি ডট অর্গ (350.org) যৌথভাবে এই গবেষণায় অংশ নেয়।এতে বলা হয়, বাংলাদেশে যে কয়লা চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা থেকে ২০৩১ সালের মধ্যেই ১১৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সবগুলোই নদী কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের কাছে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ উপকূলের পায়রা, মাতারবাড়ি এবং মহেশখালিকে কেন্দ্র করে পাওয়ার হাব নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের।

পরিবেশ দূষণকারী এই কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনে। বাংলাদেশে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ(টিআইবি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা) এবং ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ সম্মিলিতভাবে প্রকাশ করে। গত বুধবার ( ৬ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে এটি প্রকাশ করা হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, চীন, ভারত, জাপান এবং যুক্তরাজ্য কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশে আগ্রাসী বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করছে। এসব দেশের চাপের কাছে বাংলাদেশও নতি স্বীকার করছে।

এই ইস্যূতে এখন প্রয়োজন ব্যপক জনমত সৃষ্টি ও মিডিয়া কভেরেজ।জনবান্ধব সরকার গঠন না হলে আসলে সামনে আমাদের অস্তিত্ব বজায় রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যূৎ এর চাইতে হাজারগুন বেশি জরুরী আমাদের আবসস্থল রক্ষা করা।

মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: বিশ্বের মানুষগুলো এমন এমন কিছু কাজ করে থাকে যার কারণে প্রতি বছরে বিশ্বের উষ্ণতা একটু একটু করে বেড়েই যাচ্ছে। কিন্তু এই উষ্ণতা আমাদের চোখে পড়ার মতো না, কারণ প্রতি বছর যে পরিমাণের উষ্ণতা বাড়ছে সেটা অনেক কমই কিন্তু এভাবে বাড়তে থাকলে এক সময় গিয়ে উষ্ণতা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে যে তখন আর উষ্ণতা কমানোর কোনো রাস্তা থাকবে না।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে বাংলাদেশ অন্যতম। এই কারনে আমাদের নীতি হওয়া উচিৎ গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধের পক্ষে। কিন্ত কার্যত দেখা যাচ্ছে উল্টো আমাদের অবস্থান গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর পক্ষে!!!!

২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮

কিরমানী লিটন বলেছেন: আমরাই আমাদের ধ্বংশ ডেকে আনছি। কোথাও কেউ নেই, বলার- শুনার.....

খুব গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ প্রিয় ঢাবিয়ান।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: এভাবে আর কতকাল চলবে কে জানে!

৩| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: পরিবেশ দূষণকারী এই কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনে। এসব আহবান টাহবানে সাড়া দেয়ার মত অবস্থানে বাংলাদেশ নেই। :((

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১২

ঢাবিয়ান বলেছেন: তাতো বটেই। জবাবদিহিতারতো কোন প্রয়োজন নাই। আপনার এলাকাতো দেখছি হুমকির মুখে।

৪| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




বাংলাদেশে সকল আমলের সকল সরকার যা একবার স্থির করেছেন তা করে ছেড়েছেন এবার তা দেশের জন্য যতো ক্ষতিকারকই হোক না কেনো। বিদ্যুতের জন্য সোলার প্যানেল, ওইন্ডমিল প্রযুক্তি আছে - সম্ভবত এসব প্রযুক্তি বাংলাদেশের কাছে মান্ধাতা আমলের প্রযুক্তি তাই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাবহারে কার্বন বোমা তৈরি করা হবে সমগ্র বাংলাদেশে। সাবাস। পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি এক একটি ভয়ঙ্কর এটম বোম - এটি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণকে কে বোঝাবে?


০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৬

ঢাবিয়ান বলেছেন: সোলার প্যানেল, উইন্ডমিল প্রযুক্তি দিয়ে খুব বেশি পরিমান বিদূ্ৎ উৎপাাদন হয়ত সম্ভব নয়।কিন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদৎের দরকারটা কি ? দিনরাত ইন্টারনেটে পড়ে থাকা ছাড়া আরতো কোন উন্নয়ন চোখে পড়ে না। পরিবেশ সংরক্ষনের প্রয়োজনে এক দুই ঘন্টা লোডশেডিং মেনে নিতে আপত্তি থাকার কোন কারনতো দেখি না।

৫| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঢাবিয়ান,





অনেক অনেক দিন ধরেই এসব সতর্কবাণী প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু যে সব কানে এসব ঢোকার কথা, সেসব কানে কি একথা ঢোকে না ঢুকেছে কখনও?

ঠাকুরমাহমুদ ঠিকই বলেছেন, "বাংলাদেশে সকল আমলের সকল সরকার যা একবার স্থির করেছেন তা করে ছেড়েছেন এবার তা দেশের জন্য যতো ক্ষতিকারকই হোক না কেনো।"

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪১

ঢাবিয়ান বলেছেন: সুন্দরবনে যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, তা এখন বাস্তবায়ন করা হবে অন্য অঞ্চলে

৬| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





আহমেদ জী এস ভাই,
মরণব্যাধি থার্ড ষ্টেজ ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ যেমন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করেন, বাংলাদেশের তাবত মানুষের অবস্থা তেমন হয়েছে। অপক্ষো - - - - - - - - - -



০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: বড় তিক্ত এক সত্য্ কথা বললেন ।অপেক্ষা ----------------

৭| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: শৈশবে অনেক আবুলতাবুল বই পড়েছি তার মধ্যে এমন একটা বই পড়েছিল যেখানে রাষ্ট্র পরিচালক নিজের অদক্ষতা ঢাকতে রাষ্ট্রের সকল কুকর্মা সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার আসনে বসিয়ে ছিল । আর তারা সকল সমস্যা দেখেও মনস্বাধীন মতো যা ইচ্ছা তা করে বেড়াতো । আমাদের সুচিন্তক রাষ্ট্র পরিচালকদের কুকর্ম দেখলে মাঝেমধ্যে সেই বইয়ের উপন্যাসের কথা মনে পড়ে।


গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য অনেক ভালবাসা ।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৮

ঢাবিয়ান বলেছেন: ২০৫০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুহারা হবেন শুধু জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে। এই ঝুঁকিতে প্রায় শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশ। জনবান্ধব সরকার গঠন না হলে সমুহ বিপদ সামনে।

৮| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৭

করুণাধারা বলেছেন: চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং জাপানের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৯টি মেগা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে।

এক রামপাল সুন্দরবনকে শেষ করে এদেশের ধ্বংস ডেকে আনছে... এরপর আরো ২৯ টা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পুরো দেশটাকে কার্বন বোমা ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। :(

চমৎকার ভাবে লিখেছেন, অনেক কিছু জানলাম আর ভীত হলাম।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৭

ঢাবিয়ান বলেছেন: সম্প্রতি বিজ্ঞান বিষয়ক কিছু সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদাহরণ টেনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই শতাব্দীতে কার্বণ নিঃসরণের হার কমিয়ে না নিয়ে আসলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরে এই হার ৪৫ শতাংশ না কমালে বিপর্যয় অবধারিত। এ নিয়ে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়া নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন তিনি।

আমরা সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন দেশ অথচ আমরাই কার্বন নিঃসরন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি!!!!!!

৯| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১৬

মা.হাসান বলেছেন: সোলার প্যানেল, উইন্ডমিল প্রযুক্তি দিয়ে খুব বেশি পরিমান বিদূ্ৎ উৎপাাদন হয়ত সম্ভব নয়।

উইন্ড মিল স্থাপন করার মতো ফাকা জায়গার অভাব আছে আমাদের। উপকূলের সামান্য কিছু এলাকায় এটা স্থাপন করা যায়।

সোলার প্যানেল-- দেশের বিরাট অঞ্চলে সৌর বিদ্যুতের নীরব বিপ্লব হয়ে যাচ্ছে। আমার নিজের বাল্যবন্ধু উত্তরবঙ্গে কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করছে। ইডকল সহ বেশ কিছু সংস্থা ফান্ডিঙের কাজ করছে। আমার বন্ধুটি কানাডা থেকে দেশে চলে এসেছে দেশের প্রতি টান থেকে। কিন্তু এখানে প্রায় সবারই উদ্দেশ্য ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার। চাইলেও অগ্রগতি কম। সে কিছুটা হতাশ।

পুরাতন জেনারেশনের সোলার প্যানেলের এফিসিয়েন্সি কম, নতুন জেনারেশনের গুলোর কনভার্শন রেট ভালো। আমার পরিচিত এক জন জাপানের ল্যাবে সোলার সেল ডেভেলাপমেন্টের কাজ করতো। দেশে এসে এখন লাল-সাদা-গোলাপি দলের কাজে লেগে গেছে, ওখানে বহুত ফায়েদা।

রিসার্চের কাজে কিছু বিনিয়োগ করা দরকার, নিজেদের প্রয়োজন ভিত্তিক বেশি এফিসিয়েন্ট প্যানেল তৈরি করা দরকার।

উত্তরের বিভিন্ন গ্রামে দেখেছি সোলার প্যানেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হচ্ছে, গোটা গ্রামে বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে, এমন কি ১০ মেগা ওয়াটের প্লান্ট চালানো হচ্ছে। ওখানে অনেক অব্যবহৃত বিদ্যুত নষ্ট হচ্ছে। সরকারের গ্রিডে এমন কি ফ্রিতে দিতে গেলেও অনেক লালফিতা। এখান থেকে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল করা যায় কিনা চিন্তা করা হচ্ছে (বিষয়টা ফান্ডের কারণে শুধু চিন্তার পর্যায়েই আছে এখনো)।

আপনি দক্ষিনের তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের কথা লিখেছেন। উত্তরে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে নিজেদের কয়লা দিয়ে ১২৫ মেগা ওয়াটের দুটা পাওয়ার প্লান্ট করা হয়েছে (পত্রিকায় কয়লা হাওয়া হবার খবর এসেছিলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের টাকার মতো এটাও তদন্ত পর্যন্তই শেষ)। ঐ খানে ফসলের সমস্যার কথা এবং মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা পত্রিকায় এসেছে। বিদ্যুত কেন্দ্র হবার আগে বলা হতো ঐ বিদ্যুত দিয়ে আগে স্থানিয় চাহিদা মিটবে। বাস্তব হচ্ছে, সেচের মৌসুমে দিনে কম পক্ষে ছয় ঘন্টা বিদ্যুত থাকে না। ওখানকার পরিবেশ নষ্ট করে ঢাকা আলোকিত করা হয়। ওখানে ৩য় একটা ইউনিট করা হবে বলাহচ্ছে, ২৫০ মেগাওয়াটের। মানুষ না বাঁচলে বিদ্যুত দিয়ে কি হবে? উইকিলিকস অনুসারে আমেরিকার স্টেটস ডিপার্টমেন্টের চাপ আছে ওখানকার কয়লা ওঠানোর ব্যাপারে।

আপনি যেটা ইচ্ছে করে লেখেন নি তা হলো বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের পিছনে অর্থনৈতিক অসাধুতার বিষয়টি। সৌর বিদ্যুতের যে কেন্দ্র গুলো চলছে সেগুলো স্বয়ংসম্পূর্ন, সরকারের কাছ থেকে টাকা নেয় না বা দেয় না। এসব কেন্দ্র তৈরি হলে চোরদের কোন লাভ নাই। কিন্তু ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকায় বিদ্যুত কেন্দ্র করলে এর বালিশ-পর্দা সব জায়গা থেকে চুরির সুযোগ থাকে। এর আগে বিএনপি জামাতের সময়ে বিশ্ব চোর মোশারফ সাহেব জ্বালানী খাতের বারোটা বাজিয়ে গেছে। এই সরকার পরিবেশ ও অর্থনীতির ২৪ টা বাজাচ্ছে।

দেশের পরিবেশ, অর্থনৈতিক খরচ, সামরিক নিরাপত্তা সব কিছুর প্রতি লক্ষ্য রেখে কোর এলাকায় সরবরাহের জন্য সীমিত আকারে ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুত কারখানা রেখে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমি বিদ্যুত আমদানির পক্ষে। নেপালের প্রচুর জল বিদ্যুত আছে। এটা সবচেয়ে ক্লিন সোর্স। যতদূর জানি আমদানির কথা চলছে, বাড়াতে হবে। সদিচ্ছা থাকলে সব সম্ভব, চুরির ধান্দা থাকলে কিছুই হবে না, বরং উন্নয়ন বিরোধী, কাজেই পাকিস্তানি এজেন্ট অ্যাখ্যা পেতে হবে।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: সদিচ্ছা থাকলেতো কত কিছুই করা সম্ভব। কার্বন নিঃসরন কমাতে উন্নত দেশগুলোতে ব্যপকভাবে পাওয়ার প্ল্যন্টে বিদ্যূৎ উৎপাদনে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহ্রত হচ্ছে Hydrogen Gas, Tidal Energy, Biomass Energy, Geothermal Power,Natural Gas ,Biofuels ,Hydroelectric Energy , Solar Power , Wind Energy, Nuclear Power।

একমাত্র Nuclear Power ছাড়া বাকি আর সবগুলো এনার্জিসোর্স বাংলাদেশে ব্যবহার করে বিদ্যূৎ উৎপাদন সম্ভব।

১০| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১:৫৭

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: ভালো লিখেছেন পড়ে অনেক কিছু জানলাম।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০১

ঢাবিয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ

১১| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:০৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আপনার শিরোনামই ভুল।
শুধু বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হবে কেন?
সারা পৃথিবীব্যাপি গ্লোবাল ইমিশন।
কার্বন নি:সরন কোন সীমান্ত পাসপোর্ট মেনে চলেনা।

গ্লোবাল কার্বন ইমিশনে বাংলাদেশের অবদান কত?
.০০১% ও হবে না। ২৯ টা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে ২% ও হবে না। বাংলাদেশ সব বন্ধ করে দিলেও গ্লোবাল ওয়ার্মিং থামবে না। বাংলাদেশ কেন? কেউই বিকল্প ব্যাবস্থা না পেলে ১ টা পাওয়ার ষ্টেশনও বন্ধ করবে না।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৭

ঢাবিয়ান বলেছেন: শিরোনামটা আসলে আমি দেইনি।শিরোনামে ব্যবহ্রত বাক্যটা গবেশনাপত্রে উল্লেখ করেছে বিজ্ঞানীরা।

১২| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:২৫

জোবাইর বলেছেন: আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে যে দলের সরকারই হোক না কেন বারবার নিরাশ হওয়ার পরও আমরা সবকিছু সরকার থেকেই পাওয়ার আশা করি। আমরা যারা শহরে বা গ্রামে নিজস্ব বাড়িতে বাস করি তারাতো নিজের খরচেই সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে পারি। এতে পরিবেশ দূষণ হবে না, সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরেও চাপ কম পড়বে। বর্তমানে নতুন জেনারেশনের সোলার প্যানেল দিয়ে কম খরচে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এই ধরনের সোলার প্যানেল থেকে ছোট ও মাঝারি পরিবারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে খরচ মনে হয় তুলনামূলকভাবে সরকারি লাইন থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ থেকে কিছুটা বেশি পড়ে। সরকার সোলার প্যানেল এবং এর ব্যবহারকারীদের কিছু ভুর্তুকী দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মানুষ আরো বেশি উৎসাহিত হতো। কারণ মানুষ প্রথমে নিজের লাভ দেখবে তারপরে চিন্তা করবে পরিবেশের।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার সোলার প্যানেল ব্যবহারকারীদের কর রেয়াত বা ভুর্তুকী দেয়। অথচ এই শীতপ্রধান দেশগুলোতে বছরের বেশির ভাগ সময় সূর্যের আলোও থাকে কম। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের দেশে সারা বছর প্রায় সমপরিমাণ সূর্যের আলো থাকে। কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাসটি যে দেশেই সৃষ্টি হউক না কেন এটি আগে বা পরে আশাপাশের দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই পৃথিবীকে গ্লোবাল ওয়ার্মীং থেকে বাঁচাতে হলে লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা না করে প্রতিটি দেশ ও প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নাগরিকদের শিক্ষা, সচেতনতা, উদ্যোগ এবং সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতি ও বিনিয়োগ।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০০

ঢাবিয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। পুরোপুরি একমত আপনার সাথে। প্রয়োজন নাগরিকদের শিক্ষা, সচেতনতা, উদ্যোগ এবং সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতি ও বিনিয়োগ।

১৩| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে বাংলাদেশ অন্যতম। এই কারনে আমাদের নীতি হওয়া উচিৎ গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধের পক্ষে। কিন্ত কার্যত দেখা যাচ্ছে উল্টো আমাদের অবস্থান গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর পক্ষে!!!!

প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। প্রচুর। গাছ দিয়ে পুরো বাংলাদেশ ডেকে ফেলতে হবে।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: বনায়ন করতে হবে, পরিবেশ বান্ধব বিকল্প জ্বালানী সোর্স ব্যবহার করতে হবে।

১৪| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৫

আরোগ্য বলেছেন: ভাগ্যিস মুরুব্বি নাই নইলে আমাদের এসব সত্য থুক্কু সরকারবিরোধী পোস্ট ও মন্তব্যের জন্য জামাতি উপাধি দিয়ে দিত :P কি করবো বলেন সত্য যদি সরকারবিরোধী হয় তবে কি কাউয়ার মত মিথ্যা কা কা করবো। :(

মা হাসান ভাইয়ের মন্তব্যে পেলাস।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: :)

১৫| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৭

আখেনাটেন বলেছেন: এই প্রথম ব্লগার হাসান কালবৈশাখীর কোনো লেখা বা মন্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করলুম। :D

আপনার লেখাটি ভালো। তবে শুধু বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হবে এটা ঠিক নয়। বাংলাদেশ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করলেও তা হবে না করলেও হবে। কারণ উন্নত বা নয়া শিল্পোন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণের হার নগণ্য। । আর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার চেয়ে সস্তা কোনো জ্বালানী নেই বা সক্ষমতাও নেই। আর সত্যটা হচ্ছে উন্নত বা ইমার্জিং ইকোনমির দেশগুলো কয়লা পুড়িয়ে যত শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার ধারে কাছেও বাংলাদেশ নেই। তাই দেশের উন্নতির ধারা বজায় রাখতে হলে এর বিকল্পও হাতে নেই আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর। মাঝে চীন কিছু কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করেছিল কার্বন নিঃসরণের হার কমানোর জন্য। চাহিদার কাছে হার মেনে সেগুলোকে আবার চালু করতে বাধ্য হয়েছে।

তবে একটা জিনিস অবশ্যই সরকারকে বিবেচনা করতে হবে এর ফলে যেন পরিবেশ প্রতিবেশের উপর ন্যুনতম প্রভাব পড়ে তা নিশ্চিত করা। যদিও সরকারের কাজে কর্মে তা পরিলক্ষিত নয় (উদাঃ রামপাল), সেটাই আমাদের জন্য ভয় জাগানিয়া ব্যাপার।

শিল্পও দরকার আবার প্রতিবেশ-পরিবেশের ভারসাম্যও দরকার এটাই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয় লোভ ও ক্ষমতার অপব্যবহার লেলিহান শিখা হয়ে পরিবেশকে ভস্মীভূত করে কিনা।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: :) :)। ব্লগার হাসান কালবৈশাখির সব তথ্যই যে বেঠিক নয়, তা আমিও জানি। :) :)

যাইহোক '' বাংলাদেশ কার্বন বোমায় পরিণত হবে'' খবরটা আসলে আমার নয়। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষনা প্রতিষ্ঠানের পবেষনাপত্রে এটা উল্লেখ করা হয়েছে।

পাওয়ার প্ল্যন্টে আসলে সর্বাধিক পরিমান কার্বন নিঃসরন হয় বলে বিশের বেশিরভাগ দেশই পেট্রোলিয়াম , কয়লা জাতীয় ফসিল ফুয়েল ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। যাদের উন্নত প্রযুক্তি আছে তারা নিউক্লিয়ার পাওয়ার ব্যবহার করছে বিদ্যূৎ উৎপাদনে। উন্নত দেশগুলো পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার কমায়নি মুলত যানবাহনে যদিও যানবাহন থেকে নিসৃত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান তুলনামুলকভাবে অনেক কম। তারপরেও বিভিন্ন কনাভার্টার ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরন কমানোর বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা।

চীন অবস্যই বর্তমান বিশ্বে ভাল কোন উদাহরন নয়। সাম্প্রতিক আসিয়ান সম্মেলনের একটি খবরে এসেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের সিংহভাগ হবে চীনের। যার সংখ্যা অন্তত নয় কোটি ৩০ লাখ। বাংলাদেশে চার কোটি ২০ লাখ মানুষের ক্ষতি হবে। ভারতে তিন কোটি ৬০ লাখ, ইন্দোনেশিয়ায় দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষের ক্ষতি হতে পারে। ( সুত্র গো নিউজ২৪/আই)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.