নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঢাবিয়ান

ঢাবিয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আফগানিস্তান - খনিজ সম্পদে ভরপুর সম্পদশালী এক দেশ

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:০৮

আফগানিস্তান দেশটিকে আমরা জানি হতদরিদ্র, বিদেশী আগ্রাসনের কবলে পড়া যুদ্ধপীরিত একটি দেশ হিসেবে। তবে দেশটি মোটেও দরিদ্র কোন দেশ নয়। বিপুল পরিমান খনিজ সম্পদের মালিক তারা। স্বর্ন, চুনি, পান্না , লৌহ , তাম্র, শিষা, দুর্লভ মেটাল, পেট্রোলিয়াম , প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মহামুল্যবান বিপুল পরিমান খনিজ সম্পদ রয়েছে দেশটিতে । বিশেষ করে কয়েক বছর পুর্বে আবিষ্কার হয়েছে লিথিয়াম মেটালের বিশাল ভান্ডার। ল্যপটপের ব্যটারি তৈরীতে লিথিয়াম মেটাল অপরিহার্য।

মুসলিম দেশগুলোর খনিজ সম্পদ লুট করতে পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের খনি আবিস্কার না হলে , সেখানে কোনদিনও হামলে পড়ত না আমেরিকা। মাস ডেস্ট্রাকন উইপেন থাকার গুজব রটিয়ে ইরাকও দখল করত না। আফগানিস্তানেও যে এই একই লুটপাঠের উদ্দেশ্যেই গেড়ে বসেছিল, তা বোঝার জন্য শার্লক হোমস হবার প্রয়োজন পড়ে না। ২০ বছরের জবর দখল আগ্রাসন শেষে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে কি পরিমান খরচ তাদের হয়েছে এই দেশে থাকাকালীন সময়ে , সেই কথা প্রচারেই বেশি ব্যস্ত পশ্চিমা মিডিয়া। কিন্ত কি পরিমান খনিজ সম্পদ তারা আফপগানিস্তান থেকে তুলে নিয়ে গেছে , সে ব্যপারে খোজ নিতে গেলে কিছু ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন। সাহসী ও নির্ভীক অনেক সাংবাদিকদের তৈরী সচিত্র প্রতিবেদনে সেসব দেখা যায়।

বর্তমানে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতার দখল নিয়েছে। তালেবান , উগ্র মৌলবাদী না ধর্মান্ধ তা আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীন সমস্যা। বিদেশী সাংবাদিকের সাথে তালেবানদের নেতৃত্বে থাকা বেশ কিছু লিডারের ইন্টারভিউ দেখলাম। সেসব ইন্টারভিউতে তাদের বেশ বিচক্ষন বলে মনে হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও তারা দিয়েছেন। তালেবান ইসলামি শরিয়া ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ঘোষনা দিয়েছে। সেটা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব কি বলছে তা জরুরী নয়। শরিয়া আইন এখনও বহু মুসলিম ধনী দেশে রয়েছে। তবে শরিয়া আইন আসলে রসুলের জমানার মত করে মানা হচ্ছে না কোনখানেই। রাজতন্ত্র পুরোপুরি নিশিদ্ধ ইসলাম ধর্মে। ইসলামে খলিফা নির্বাচনের দ্বায়িত্ব রসুল দিয়ে গিয়েছিলেন সুরা বা কাউন্সিলের হাতে যেটা বলা যায় গনতন্ত্রের মুল ভিত্তি। অত্যন্ত দুঃখজনক যে অনেক মুসলিম দেশেই সেই সিস্টেম মানা হচ্ছে না। কাজেই তালেবান যদি সঠিকভাবে ইসলাম ফলো না করে তবে তারা নিজ দেশেই বিপুল সমালোচনার মধ্যে পড়বে। সংস্কারের মধ্য দিয়ে না গেলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেও ব্যার্থ হবে।

বর্তমানে তালেবান সরকারের সবচেয়ে প্রথমেই যেটা করা উচিত সেটা হচ্ছে আইন শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা। এর আগেরবার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ধর্মের নাম দিয়ে তারা যেসব বিতর্কিত কাজ কর্ম করেছে ,এবারো তার পুনরাবৃত্তি করলে যে উল্টো আবার পশ্চিমা শিয়ালগুলো হামলে পড়বে , সেটা আশা করি তারা বুঝতে পেরেছে। খনিজের লোভে শিয়ালগুলো হন্যে হয়ে সুযোগের অপেক্ষায় আছে। আপাতত তারা চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। করোনার উৎপত্তি ইস্যূতে চীন এখন কোনঠাসা অসবস্থায় আছে বিশ্বে। তাদের এখন মিত্রের প্রয়োজন। চীনের সাথে সম্পর্ক পাতিয়ে আসলে অনেক দেশই উন্নতি করেছে যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এই দেশগুলো্র আভ্যন্তরীন উন্নয়নে রয়েছে চায়নার বিড়াট অবদান। চায়না কিছুটা হলেও দ্বিপাক্ষিক ফায়দা হবার নীতিতে বিশ্বাষি।

যে বিপুল পরিমান খনিজ রয়েছে আফগানিস্তানে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আফগানিস্তানও একসময় হয়ে ঊঠতে পারে দুবাই, কাতার , আমিরাত ইত্যাদি ধনী দেশগুলোর মত একটি দেশ। বিদেশী আগ্রাসন থেকে যদি তারা নিজেদের মুক্ত রাখতে পারে তবে সে দেশের জনগনই একসময় হয়ে উঠবে দেশের উন্নয়নের মুল চালিকা।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:১১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমরা তো শুধু আম্রিকা আফগানিস্তানে কতো খরচ করছে সেই হিসাবই শুনি, কতো টাকার খনিজ সম্পদ লুটপাট করছে সেই হিসাব কই?

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৫৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: পশ্চিমা মিডিয়া সেই ব্যপারে পুরাই নিশ্চুপ। মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ইয়েলো মিডিয়ার কাজ কারবার দেখলে।

২| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:২৪

ভুয়া মফিজ বলেছেন: লিথিয়াম শুধু ল্যাপটপের ব্যাটারী না, ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারী তৈরীতেও অপরিহার্য। সামনের দিনগুলিতে তেলের গাড়ি আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদন হবে শুধু ইলেক্ট্রিক গাড়ির। কাজেই বর্তমানে বিশ্ব-রাজনীতি আর অর্থনীতিতে তেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সামনের দিনগুলিতে সেই জায়গা নিবে লিথিয়াম।

আমার তো মনে হয়, চৌরা আম্রিকা গত বিশ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমান লিথিয়াম সরিয়েছে আফগানিস্তান থেকে।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০১

ঢাবিয়ান বলেছেন: ঠিকই বলেছেন লিথিয়ামের গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু লিথিয়ামই নয় অন্য আরো অনেক রেয়ার আর্থ মেটালের সন্ধান পাওয়া গেছে সেখানে। ইউটিউবে কিছু ভিডিও আছে যে কিভাবে আগগানিস্তান থেকে লিথিয়াম সরিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকান এক জিওলজিস্ট বলেছে , লিথিয়ামের বিশাল ভান্ডার রয়েছে আফগানিস্তানে। তারা এও বলেছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের খনিজের ওপড় বসে আছে তালিবান।

৩| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৫৩

জুন বলেছেন: আর এই চোরাই লিথিয়াম দিয়ে ইলন মাস্ক গাড়ি বানাইয়া বিক্রি কইরা সবচেয়ে ধনী হইছে।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০৩

ঢাবিয়ান বলেছেন: হা হা আপু। সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না :)

৪| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:১৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: লিথিয়ামের চাহিদা সামনে অনেক বাড়বে।

বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন বেশীর ভাগ দেশ ধারণা করেছিল এই দেশ টিকবে না। অনেক দেশ এই কারণেও স্বীকৃতি দিতে দেরী করেছে। আফগানিস্তানের মানুষ নিজেদের দেশ নিজেরা শাসন করুক এটা অনেকের পছন্দ হচ্ছে না। বাইরের দেশ থেকে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে একটা দেশকে কত বছর চালানো সম্ভব। ওদের সমস্যা ওদেরই বুঝতে দেয়া উচিত।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দেশ শাষন করতে যায় না আম্রিকা, খনিজ সম্পদ লুট করতে যায়। শেতাঙ্গরা দুনিয়াব্যপী কলোনিয়াল সিস্টেম চালু করেছিল দস্যূগিরির উদ্দেশে। এখনও এই ধারা তারা অব্যহত রেখেছে ।

৫| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৩৬

শাহ আজিজ বলেছেন: এখনো প্রতিরোধ যুদ্ধে ব্যাস্ত তালেবান । তাদের সরকার টিকবে কি না টিকবে তাতে আমার মাথাব্যাথা নেই তবে সাধারনের উপর অত্যাচারের খড়গ নামিয়ে নিলেই হয় । একটা গণভোট করলেই বোঝা যাবে তালেবানের গ্রহনযোগ্যতা । আফগানিস্তান ৭১ সালে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া বাঙ্গালীদের আশ্রয় খাদ্য দিয়েছিল । আমি কৃতজ্ঞ আফগানিস্তানের প্রতি । স্বার্থ ছাড়া চীনারা পায়খানাও করে না । তবে এই তালেবানের একটি অংশ চীনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে উইগুর মুসলিম ইস্যুতে ।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:২৮

ঢাবিয়ান বলেছেন: পশ্চিমা মিডিয়ার তালিবানদের সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করার পেছবে হাজারটা উদ্দেশ্য আছে। মার্কিন আগ্রাসনমুক্ত হতে পারলে দেশটিতে ধীরে ধীরে স্থিরতা ফিরবে। সময় গড়ালে সেখানকার জনগনই একসময় নির্ধারন করতে সমর্থ হবে যে তাদের জন্য কোনটা সঠিক বা কোনটা বেঠিক।

৬| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:১৪

কামাল১৮ বলেছেন: যেমন আপনি আমাদে নিজেদের দেশ নিয়ে পোষ্ট দিয়েছেন।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:২৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য।

৭| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:০৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:

কিন্ত কি পরিমান খনিজ সম্পদ তারা আফপগানিস্তান থেকে তুলে নিয়ে গেছে , সে ব্যপারে খোজ নিতে গেলে কিছু ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন।
এরা নিজের লাভ ছাড়া আর কিছু বুঝে না।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৩

ঢাবিয়ান বলেছেন: গুগলে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদের পরিমান জানতে সার্চ দিলে চমকে উঠবেন। আমেরিকান জিয়োলজিস্টরাই এসব তথ্য দিয়েছে। এখনো আবার হামলে পড়ার অপেক্ষায় আছে পশ্চিমারা ।

৮| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১২

খায়রুল আহসান বলেছেন: ভালো প্রসঙ্গ টেনেছেন। আমরা শুধু গত বিশ বছরে ওরা আফগানিস্তানী 'পশু'দেরকে 'মানুষ' বানাতে কত ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, সে কথাই শুনে আসছি। কত পরিমান লিথিয়াম ওরা সরিয়েছে আফগানিস্তান থেকে, কত ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও শিল্পকর্ম সরিয়েছে ইরাক থেকে, তার হিসেব কেউ দেখেও না, দেখায়ও না।

ইউটিউবের লিঙ্কগুলো পোস্টে উল্লেখ করলে ভালো করতেন।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২১

ঢাবিয়ান বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় ব্লগার আপনার মূল্যবান কমেন্টের জন্য। ২০ বছর ধরে আমেরিকা কি পরিমান খনিজ সরিয়েছে তার পরিপুর্ন হিসাব জানা কখনই সম্ভব হবে না। ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে অনেকে শেয়ার করেছে বিভিন্ন ভিডীও। সেইভ করে রাখিনি। তবে ইউটিউবে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে। এমনকি গতকাল পত্রিকায় এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা আফগানিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তালেবানদের দেওয়া হবে না।

Afghanistan is one of the poorest nations in the world. But US geologists revealed at 2010 that the country, which lies at the crossroads of Central and South Asia, was sitting on mineral deposits worth nearly $1 trillion.Supplies of minerals such as iron, copper and gold are scattered across provinces. There are also rare earth minerals and, perhaps most importantly, what could be one of the world's biggest deposits of lithium — an essential but scarce component in rechargeable batteries and other technologies vital to tackling the climate crisis. "Afghanistan is certainly one of the regions richest in traditional precious metals, but also the metals [needed] for the emerging economy of the 21st century," said Rod Schoonover, a scientist and security expert who founded the Ecological Futures Group.

কোন উদ্দেশ্যে আমেরিকা আফগানিস্তানে এত বছর গেড়ে বসেছিল , তা বোঝার জন্য তাদের জিয়োলজিস্টদের বক্তব্যই যথেষ্ঠ।এখনো তালিবানদের আহাম্মকির সুযোগ নিয়ে আবা্রো হামলে পড়ার অপেক্ষায় আছে। প্রথম আলোর এক আর্টিকেলে পড়লাম যে কাতারভিত্তিক আলেবানিদের একটা গ্রপ আছে যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং যোগ্য । এরা ক্ষমতায় আসতে পারলে হয়ত আফগানিস্তানকে রক্ষা করতে পারবে। তানাহলে মুর্খ , জঙ্গী বকধার্মিক তালেবানিরা আবারো বিদেশিদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে সাহায্য করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.