নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনামহীন

“ভালোবাসি তাই,ভালোবেসে যাই”

দুঃখী রাজপুত্র

নিজেকে নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই আমার। Good for nothing টাইপের একটা ছেলে আমি। Future নষ্ট করার জন্য যা যা করতে হয় তার প্রায় সব-ই আমি করেছি;বাকি গুলো করছি। এখন আমার Aim in life হল একজন ভালো মানুষ হওয়া।কিন্তু সেটাও বোধ হয় হওয়া হবেনা। রাগ,ক্ষোভ,প্রতিশোধ পরায়ণতা খুব বেশি;আর নিজের অভিধানে ক্ষমা নামের শব্দটি না থাকায় ভালো মানুষ-ও হতে পারছিনা।

দুঃখী রাজপুত্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

নামহীন সম্পর্ক

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২১

মেঘ-এর সাথে জয়িতার সম্পর্কটা ঠিক প্রেমের নয়।

মেঘ জয়িতাকে ভালোবাসে প্রচন্ড।ঠিক কতটা তা সে নিজেও জানেনা।আর জয়িতার মনে হয়তো কিছুটা দুর্বলতা আছে মেঘের জন্য।

যে মেয়ে জানে,একটা ছেলে তাকে এতটা ভালোবাসে,তার জন্য নিজের মনে একটু দুর্বলতা তো থাকতেই পারে।এটা অবশ্য মেঘ-এর ধারণা।

একটা নামহীন সম্পর্কে জড়িয়ে আছে দু'জন।নামহীন সম্পর্কের স্থায়ীত্ব কম,এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুজনেই দিব্যি আছে।

একই ডিপার্টমেন্টে ইয়ারমেট হওয়ায় দেখা হয় প্রায় প্রতিদিনই।ফোনে কথা হয় নিয়মিত।ফেসবুকের কল্যানে চ্যাটিংটাও চলে।মাঝে মাঝে ঘুরতে যাওয়া কিংবা ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি........

এভাবেই কাটে দিন।

পাগলাটে একটা ভাব আছে ছেলেটার মাঝে।কোন কিছু করার পেছনে যে কারণ থাকতেই হবে এই ধারণায় বিশ্বাসী নয় ও;এ জন্যই বোধহয় ওকে এত ভালোলাগে আমার।

নিজের সাথে অনেক মিল খুঁজে পাই ওর।

মাঝখানে হিমু হবার ভূত চেপেছিল মেঘের মাথায়।তবে ও হাঁটত ভর দুপুরে,তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে।

ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে একটা বেনসন ধরিয়ে তাতে দু'টি টান দিয়ে ভাবত,এইতো বেশ আছি।

পরে অবশ্য হিমু হবার ইচ্ছে চলে গেছে ওর।ও জানে,চাইলেই পারবেনা ও হিমু হতে।

এখন ওর ধারণা হুমায়ূন স্যার বেশ ভেবে এরকম একটা চরিত্র সৃষ্টি করেছেন,যেন অনেকেই চায় হিমু হতে।আবার ইচ্ছে করেই হিমুকে এরকম কিছু বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন,যেন কেউ পুরোপুরি হিমু হতে না পারে।একটা আক্ষেপ যেন মানুষের মাঝে থেকেই যায়,ইস আমি যদি হিমু হতে পারতাম।



আজ জয়িতার বিয়ে। বর আর্মি ম্যান। মেঘ-এর মত বাউন্ডুলে কেউ নয়।

বাসা পাশাপাশি আর দুই পরিবারের সম্পর্কটা বেশ ভালো হওয়ায় মেঘ-এর বাড়ির সবাই গেছে জয়িতার বাসায়।



বহুদিন বাদে হাঁটতে বেরিয়েছে মেঘ।

আজ রোদের তেজটা একটু বেশিই।নেশাগ্রস্থের মত টলছে ও।চলছেনা পা।পকেটে একটা বেনসন ছিল,ঘামে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।একটা সিগারেট খাওয়া দরকার।কিন্তু কোন দোকান চোখে পড়ছেনা।

হাঁটতে হাঁটতে শহরের বাইরে কখন চলে এসেছে,বুঝতেই পারেনি।

আচ্ছা,জয়িতার কি কষ্ট হচ্ছে ওর কথা ভেবে??

হচ্ছেনা হয়তো।কোন সম্পর্কে তো ওরা জড়ায়নি,তবে কেন শুধু শুধু কষ্ট পাবে??

নিজের কষ্ট হচ্ছে কি না বুঝতে পারছেনা মেঘ।



উফ,অবশেষে একটা দোকান পাওয়া গেছে।

-মামা,একটা বেনসন দাও।

=বেনসন নাই।নেভি আর মেরিজ।

-লিফ হবেনা??

=কইলাম তো ওইগলা এই এলাকাত চলেনা।

-আচ্ছা ঠিক আছে,মেরিজই দাও একটা।



দোকানের সামনের আমগাছের তলায় বাঁশের মাচায় বসে পড়ল ও।

সিগারেট ধরিয়ে দুইটা টান দিল।তিতকুটে একটা স্বাদ।ফেলে দিল।

উঠে দাঁড়াতে গিয়েও পারনা।

রাজ্যের ক্লান্তি ভর করেছে।

বড় মাচা।শুয়ে পড়ল ও।

আমপাতার ফাঁক দিয়ে সামান্য একটু আকাশ উঁকি দিচ্ছে।

সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘ।হঠাৎ বুকটা ফাঁকা হয়ে গেল ওর।হৃদস্পন্দনের সাথে সাথে শরীরের প্রতিটি কোণে রক্ত ছড়িয়ে পড়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনুভব করতে পারছে ও।



আর পারলনা।শরীর কাঁপিয়ে বুকের ভেতর থেকে জমাট বাঁধা কান্নার একটা ঢেউ গ্রাস করল ওকে।

দোকানদার অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে নীল পাঞ্জাবি পড়া অপরিচিত যুবকটির দিকে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:২২

আমিনুর রহমান বলেছেন:




মন খারাপের গল্পে +++

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৬

দুঃখী রাজপুত্র বলেছেন: সানন্দে + গুলো গ্রহণ করলাম আর দিলাম অনেক ধন্যবাদ।
আর হ্যা,
আমার গল্পগুলো মন খারাপেরই হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.