নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের অন্বেষণে কালের স্রোতে বয়ে চলেছি অবিরাম...............

একটি ধ্রুবতারা

ধ্রুবতারা আমি...কিন্তু পথ দেখাই না কাউকে....উল্টো নিজেই সঠিক পথের সন্ধানে আছি...........................................

একটি ধ্রুবতারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

তোমায় সশ্রদ্ধ চিত্তে কুর্নিস জানাই লাখো-কোটিবার হে মহাবীর

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৩

:::::::::::::বিনম্র শ্রদ্ধা আর অফুরন্ত ভালবাসা রইলো হে কালের মহানায়ক::::::::::::
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি স্ক্রিনে বড় করে লেখা "ব্রেকিং নিউজ" টা দেখেই আঁতকে উঠলাম...নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না...তাতক্ষণিকভ
াবে প্রতিটা চ্যানেল এ দেখলাম বড় বড় লেখায় একই নিউজ প্রচার করছে,
"পাটের জিনোম আবিষ্কারকারী প্রখ্যাত বাংলাদেশী বিজ্ঞাণী ড. মাকসুদুল আলম আর নেই...তিনি আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে "কুইনস মেডিকেল সেন্টার" নামক একটি হাসপাতালে যকৃত জনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবত আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন"(ইন্না লিল্লাহী.......
..রাজেউন)
খবরটা হজম করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল...এই অভাগা দেশে গুটাকয়েক যে কজন মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম তিনি তাঁর মধ্যে একজন...সেই মানুষটা এভাবে মাত্র ৬০ বছর বয়সে মারা গেলেন??তার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করি...আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুন(আমীন).........
১৯৫৪ সালের যে ডিসেম্বর মাসে ফরিদপুরে উনার জন্ম,সে ডিসেম্বরেই তিনি আবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে...কাকতালীয় ভাবে এ মহান মানুষটার মা-বাবার মৃত্যুর সালটাও একে-অপরের থেকে ভিন্ন থাকলেও দিনটা কিন্তু অভিন্ন ই ছিল(উভয়েরই মৃত্যু হয়ে ছিল ৩ রা জুন).........
শহীদ পিতার সন্তান ড. মাকসুদুল আলম শৈশব থেকেই বিজ্ঞাণ মনষ্ক ছিলেন....রাশিয়া ও জার্মানিতে "অনুপ্রাণবিজ্ঞাণ" বিষয়ে পড়াশোনা কমপ্লিট করে তিনি আমেরিকা যুক্তিরাষ্ট্রের হাওয়াই তেই অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন...অতঃপর ওখানে পেঁপেঁর জিনোম আবিষ্কার করেন ...তারপর মালয়েশিয়ায় যেয়ে রাবারের জিনোমও আবিষ্কার করেন অত্যন্ত প্রতিভাবান এ বিজ্ঞাণী...এসব কারনে যুক্তরাষ্টের অত্যন্ত প্রভাবশালী জার্নাল "ন্যাচার " উনাকে নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়...উনি জার্মানি,রাশিয়া
,যুক্তরাষ্ট্র,মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে সুখ্যাতি অর্জন করেন............
অতঃপর আপাদমস্তক একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এই মানুষটি নিজের দেশের জন্য কাজ করার তাগিদ অনুভব করেন মন থেকে...চলে আসেন বাংলাদেশে...ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার,ড . হাসিনা খানম ম্যাম সহ নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে ৭২ জন বিজ্ঞানী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদকে নিয়ে ২০০৮ সালের জুন মাসে "স্বপ্নযাত্রা" নামক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন...মাত্র ২ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আবিষ্কৃত হয় পাঁটের জিনোম...যার সবটুকু কৃতিত্বই তরুন গবেষকদের দিয়েছেন সদা হাস্যোজ্জল এই নিরহংকারী মানুষটি.....আর একইসাথে তখন দেশে অর্জিত হয় বিজ্ঞাণ চর্চার এক নতুন মাইলফলক...যার অগ্রনায়ক ড. মাকসুদুল আলম...যিনি বিনা পারিশ্রমিকে সম্পূর্ণ কাজটুকু করেন যেখানে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে পারিশ্রমিক হিসেবে ১৬ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল...একেই বলে বিশুদ্ধ দেশপ্রেম..............
এর পর আবার তাঁরা ৫০০ টি ফসলের ক্ষতিকারী ছত্রাকের জিনোম ও আবিষ্কার করেন ....যার ফলে এই সব কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ............
পাঁটের পর তুলসীসহ নানা রকম দেশী ঔষধি গাছের ও জিন নকশা উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন তিনি...দেশের প্রান-রসায়ন বিজ্ঞাণীদের উন্নীত করতে চেয়েছিলেন বিশ্বমানে...কিন
্তু তা আর পারলেন কই??সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে বন্দী হয়ে এই কাজগুলো অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলেন তিনি...হয়ত সমাপ্তি টা আমরাই ঘটাবো বলে...তিনি সুদূর অলক্ষ্যে থেকে তা মুগ্ধনয়নে দেখবেন আর হাততালি দিয়ে উতসাহ দিবেন আমাদেরকে................
তিনি বিশ্বাস করতেন,"যদি তরুনদের জন্য গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ সুনিশ্চিত করা যায়,তবে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না বাংলাদেশকে"...আ
মরাও তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এবং করতে চাই..........
ড. মাকসুদুল আলমেরা যুগে যুগে একবারই আসে...উন্মোচন করে যায় নব দিগন্তের দোয়ার...বাংলাদেশের বিজ্ঞাণ চর্চার যে ধারা তিনি সূচনা করে গেলেন, তা হয়ত এগিয়ে নিয়ে যাবো আমরাই কিংবা আমাদের অনাগত প্রজন্ম...কিন্তু ইতিহাসের সোনালি পাতায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা থাকবে একটি নাম,
"ড. মাকসুদুল আলম"
লাখো কোটি সশ্রদ্ধ সালাম আর বিনম্র কুর্নিস রইলো তোমার প্রতি হে মহাবীর...তুমি ছিলে,আছো এবং থাকবে যুগ হতে যুগান্তরে...তোমার দেহের মৃত্যু ঘটলেও তুমি বেঁচে আছো তোমার কর্মে, স্বদেশপ্র
েমে...তুমি মিশে আছো আমাদের সমগ্র চিন্তায়,চেতনায় অস্তিত্বে......
......................
"We all love u...love u so so soooo much,Sir"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.