নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চারিদিকে শুধু অনিয়ম আর দুর্নীতি। আমার বিদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে। দেশ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। হে আইন, হে মানবাধিকার হে স্বাধীনতা তুমি কোথায়?

আমার বিদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে। দেশ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি

ইন্জিনিয়ার রুমান

আমার বিদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে।দেশ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি

ইন্জিনিয়ার রুমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কক্সবাজারে পরে আছে কোটি কোটি ডলার এর ব্ল্যাক গোল্ড!!!

০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:১৫

‎** কক্সবাজারে চোখের সামনে পরে আছে কোটি কোটি ডলার এর ব্ল্যাক গোল্ড**



কালো সোনা বা ব্ল্যাক গোল্ড হল কিছু মিশ্রিত তেজস্ক্রিয় খনিজ পদার্থ যেমন –জিরকন, ইলমেনাইট, রুটাইল, গার্নেট, ম্যাগনেটাইট, মোনাজাইট ইত্যাদি। কক্সবাজার সুবিশাল সমুদ্র সৈকতে রয়েছে অফুরন্ত কালো সোনা বা ব্ল্যাক গোল্ড। বঙ্গোপসাগরের কত তরঙ্গমালা যে ব্ল্যাক গোল্ড সমৃদ্ধ ওই সৈকতে আছড়ে পড়েছে, এর কোন হিসেব নেই। সরকার কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। হওয়ার মধ্যে হয়েছে কক্সবাজারের সৈকতের নিকটে আনবিক গবেষণা কেন্দ্রের ছোট্ট একটি ভবন।



কক্সবাজারের বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতের প্রতি ধূলিকণাতেও ছড়ানো ছিটানো রয়েছে ওই মহামূল্যবান ব্ল্যাক গোল্ড। খালি চোখে তা শুধুই বালু। কিন্তু ওই বালু যে কত মূল্যবান রত্ন বুকে ধারণ করে রয়েছে, কে তার খোঁজ রাখে? কক্সবাজারের এই সুদীর্ঘ বালুকাবেলায় প্রাপ্ত খনিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে জিরকন, মোনাজাইট, ইলমেনাইট, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইটসহ প্রায় ৮ ধরনের উপাদান। যা রত্নের চেয়ে মূল্যবান। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতে এ ধরনের ব্ল্যাক গোল্ডের পরিমাণ শতকরা মাত্র ৫ ভাগ। তাই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় খনিজশিল্পে ব্ল্যাক গোল্ড তৃতীয়স্থানে। তাই রফতানি করে তারা বিদেশের চাহিদার ৯০ ভাগ পূরণ করে। আর আমাদের কক্সবাজার সৈকতের বালুতে ব্ল্যাক গোল্ড পরিমাণ শতকরা ১৫ ভাগ। অথচ আমরা যে তিমিরে ছিলাম, সেই তিমিরেই রয়ে গেছি।



২০০২ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এদেশের একটি সাময়িকী (সাপ্তাহিক ২০০০) এই ব্ল্যাক গোল্ড উপরে কভার স্টোরি করে। হেডিং ছিলঃ 'বিলিভ ইট অর নট'। 'এই বালুতে আছে ১৪৫ লাখ কোটি টাকারও বেশী সম্পদ।' পত্রিকাটিতে কক্সবাজারের কোন কোন স্থানের বালুতে কোন কোন খনিজ পদার্থ কী পরিমাণে মজুদ রয়েছে, তারও বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়। যতদূর জানা যায় কক্সবাজারের প্রতিটি বালুকণার সাথে রয়েছেঃ

(১) রুটাইলঃ যা রঞ্জক পদার্থের কাঁচামাল, ওয়েল্ডিং রডের বহিরাবরণ ও টাইটেনিয়াম মেটাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

(২) ইলমেনাইটঃ টাইটেনিয়াম মেটাল তৈরিতে এর গুরুত্ব সর্বাধিক। টাইটেনিয়াম মেটাল লোহার চেয়ে ৪/৫ গুণ শক্ত অথচ লোহার চেয়ে অর্ধেক হালকা। বিভিন্ন যানবাহনের যন্ত্রাংশ এমনকি এ্যারোপেস্ননের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরিতেও এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী।

(৩) লিউকক্সিনঃ এর কার্যকারিতা অনেকটাই রুটাইলের মত।

(৪) কায়ানাইটঃ একটি এ্যালুমিনিয়াম খনিজ।

(৫) গারনেটঃ এটি লোহা, এলুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও সিলিকা মিশ্রিত ধাতু। গারনেটের গহনার চাহিদা উন্নত বিশ্বে সমধিক।

(৬) মোনাজাইটঃ এটি একটি তেজষ্ক্রিয় খনিজ। পারমাণবিক চুলিস্নতে জ্বালানি হিসাবে তো বটেই, এমনকি এটমবোমার কাঁচামাল হিসাবেও এটি ব্যবহার হয়। তাছাড়া মোনাজাইট ব্যবহৃত হয়ে থাকে গ্যাসপস্নান্ট ও কালার টেলিভিশনেও।

(৭) ম্যাগনেটাইটঃ আকরিক লৌহ। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের চুম্বক তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। তেজষ্ক্রিয় বিকরণের ঢাল হিসাবেও সর্বত্র এর প্রচুর চাহিদা।

(৮) জিরকনঃ এমন এক খনিজ যা সিরামিক কারখানায় ও গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় জিরকন দিয়ে সিনথেটিক ডায়মন্ড তৈরী হচ্ছে। এই জিরকন দিয়ে তৈরি ১০০ গ্রাম কৃত্রিম হীরার দাম ২০০ ডলার। কক্সবাজারের এই বালু থেকে উপরোক্ত ৮ ধরনের খনিজ পদার্থ দেশীয় প্রযুক্তিতেই আহরণ করা হবেন এবং বিশ্বের বাজারে গ্রহণীয় করে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন এ বিষয়ে আগ্রহীদের কেউ কেউ।



AUSIMM জার্নালে প্রকাশিত “Physical, Chemical and Mineralogical Investigations on Bangladesh Zircon” নামক এই পাবলিকেশনে দাবী করা হয়েছে বাংলাদেশে প্রাপ্ত জিরকনের বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৫.৮৯ শতাংশ। খাঁদ হিসেবে যা আছে সেটাও বেশ দামী এক আকরিক, টাইটেনিয়াম অক্সাইড। তারা এক্সরে ডিফ্র্যাকশন এর সাহায্যে এই উপাত্ত পেয়েছেন যা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। আনুমানিক হিসেবে বাংলাদেশের এই কোস্টাল অঞ্চলে প্রায় ১৬০ হাজার টন জিরকন, ৭০ হাজার টন রুটাইল, ১০২৬ হাজার টন ইলমেনাইট, ২২৫ হাজার টন গার্নেট, ১৭ হাজার টন মোনাজাইট ও প্রায় ৮১ হাজার টন ম্যাগনেটাইট মজুদ আছে।



সোনার বাংলায় সোনার খনি নেই। কিন্তু আমাদের যা আছে এটা সোনা থেকে মোটেই কম নয়। এ খাত থেকে শত-শত কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদা রেডিওএকটিভ মেটিরিয়াল মূল্যবান খনিজ সম্পদ রুটাইল, মেগনেটাইট, মোনাজাইট, গার্নেট, ইলমিনাইট এবং জিরোকোন 1950 সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আবিষ্কার করেন। ষাটের দশকে আবিষ্কৃত হওয়া এ খনি, সকল সরকারের আমলে তাদের রহস্যময় নিরবতা শঙ্কাজনক। বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের নাম-কা-ওয়াস্তে একটি প্রকল্প চালু আছে এ খাতে, কিন্তু কোনোই গবেষণা নেই, সরকারী বরাদ্দ নেই তো গবেষণা করবে কি দিয়ে। আমরা আমাদের এই সম্পদকে অতল সাগরে বিলীন হয়ে যেতে দিতে পারিনা, পারিনা অন্য বৃহৎ কোন শক্তি এসে আমাদের এ সম্পদ লুটে নিয়ে যাক। আমাদের কিছু অন্তত করা উচিৎ। আশা করা যায় সরকার আশু পদক্ষেপ নেবেন এই ব্যাপারে, আমাদের সকলের-ই এটা কাম্য।



----সংগৃহীত

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৪০

আলস্যের আনন্দে আমি বলেছেন: ভাই কি কেমিস্ট্রির ছাত্র নাকি?ভাই রে কত সম্ভাবনাইতো আছে এ দেশে,নেই শুধু উদ্যোগ।আমরা পাবলিকরাও কি কম খারাপ,যতই শোষনের শিকার হই না কেন ভোট ঐ বি.এন.পি,আ.লীগ ও জামাতের বাইরে দিব না!!!কেন,স্বতন্ত্র কিন্তু ভাল এমন লোক দেখে ভোট দিলে কি এমন ক্ষতি হয়????????????
দেখুন আপনি যে পোস্টটা দিয়েছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এটা কেউ পড়বে না,১৮+ পোস্ট দেন,দেখবেন হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

জার্মান দার্শনিক হেগেলের কথাই ঠিক "যে দেশের মানুষ যেমন,তারা তেমন নেতাই পায়"

০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:৫০

ইন্জিনিয়ার রুমান বলেছেন: না ভাই কেমিস্ট্রির ছাত্র না। ভাই আশা ছারতে নেই, আর কিছু না পারেন আল্লাহর উপর অন্তত বিশ্বাস রাখুন। এমন ও তো হতে পারে যে আমাদের দেশে একদিন আপনিই হয়ে আসবেন প্রধানমন্ত্রি? অথবা আমি কিংবা কোন অত্যন্ত ভালো কোন লোক. কি আসতে পারে না? আমরা যদিও কিছু করতে পারবো না তথাপি মনে মনে অন্তত এই বিশ্বাস টা রাখা উচিত যে কেউ একজন ঠিকই করবে। আপনিই বলেন আপনার বাবা যদি আনবিত শক্তি গবেষনার প্রধান হয়ে যান আপনি কি একটা সুযোগ পাবেন না এটা নিয়ে কাজ করার ???

২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:০৭

আলাভী বলেছেন: ভাই লেখাটা আগেই পড়ছিলাম.......অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সাথে ১টা চুক্তি করবো এইটাও শুনছি........এরপর কি হইছে জানি না......... :( :( :( :( B:-) B:-)

০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:৫৩

ইন্জিনিয়ার রুমান বলেছেন: আমিও লেখাটা এর আগেই পরেছিলাম এটা নিয়ে টিভিতে নিউজ ও হয়েছিন কিন্তু পরে আবার সবাই ভুলে গেছে!!! : ( : ( : ( :((

৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৩

বালক বন্ধু বলেছেন: এই কথা আগেই জানতাম। যখনি শুনি তখনি দুঃখ লাগে। আমাদের এত এত সম্ভাবনা থাকার পরও আমার কেন কিছু করতে পারছি না???

০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:৫৭

ইন্জিনিয়ার রুমান বলেছেন: পারবো একদিন নিশ্চয়ই পারবো। আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আপনি কিংবা্ আপনার কোন আপনজন প্রজাতন্ত্রের উপরের পদে অধিষ্ঠ হলে এই দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন !!!


হ্যা আপনার মতো আমিও বলতে চাই সুযোগ পেলে এই দেশের জন্য কিছুটা অবশ্যই করে যাবো।

৪| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৩

আলস্যের আনন্দে আমি বলেছেন: ভাই,অনেক আশা করে আটঘাট বেধে নেমেছিলাম ছাত্ররাজনীতিতে,ভাল কিছু একটা করার জন্য।টুকটাক কিছু করেছিও,কিন্তু সফল হতে পারে নি।বাংলাদেশের রাজনীতি এমন এক ছকে বাধা পড়েছে যে এখান থেকে জনদরদী নেতা পাওয়া সম্ভব না,পাওয়া যাবে শুধু কিছু টেন্ডারবাজ অথবা রাজনীতি ব্যবসায়ী।আপনাকে যদি আমি সাবান বানানোর কাচামাল কিন্তু সেমাই বানানোর মেশিন দিয়া প্রেডাক্ট হিসেবে সাবান চাই,পারবেন সাবান তৈরী করতে??আমি যখন ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি তখন পত্রিকায় ডাকসু নির্বাচন নিয়া বেশ আশাবাদী কিছু নিউজ দেখেছিলাম কিন্তু আমার কপালে সেই সৌভাগ্য হয় নি।অবশেষে নিজেই এখন দেশের বোঝা অর্থাৎ বেকার।ভাই,এই জীবন এখন আর ভালো লাগে না।দোয়া করবেন,পরিত্রাণ চাই।

২৪ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:১৭

ইন্জিনিয়ার রুমান বলেছেন: আমিও আপনার মতো দেশ নিয়ে কিছুটা হতাশ তারপরও স্স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর সকালের।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.