নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গোধূলির বৃষ্টি

গোধূলির বৃষ্টি › বিস্তারিত পোস্টঃ

টঙ্গীর সেই যুবক

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:২৩


খণ্ডঃ ০১

নাদিম (ছদ্ম নাম) হাটঁছে তো হাটঁছেই। সেই সকালে রওনা করেছে সে। সূর্যটা মাথার উপর উঠে এসেছে। হাত উঁচিয়ে ঘড়িটার দিকে তাকায়। বেলা এগারটা। টঙ্গী থেকে ফার্মগেট যাবে সে। ঢাকাগামি গাড়ি গুলোর অস্বাভাবিক জানজট ছাড়াও কেন যেন তার ইচ্ছা করছে আজ হেটেই এত দুরত্ব পাড়ি দিবে। নাছির অপেক্ষা করছে তার জন্য ফার্মগেটের পার্ক নামক ময়লা জায়গাটিতে। অবশ্য ওখানে নিরিবিলি কারো সাথে কথা বলার জন্য ওই জায়গাটা ছাড়া আর তেমন জায়গা নেই। নাছির দশ মিনিট আগে পৌঁছেছে এখানে। বিশ টাকার বাদাম কিনে ছিলে ছিলে চিবাচ্ছে আর মোবাইলে এক নাগাড়ে কল দিয়েই যাচ্ছে নাদিমকে। নাদিমের ফোন সাইলেন্ট। সে শুধু হাটঁছে। ক্লান্ত শ্রান্ত অবস্থায় এসে পৌঁছায় উদ্ভাসের মালেক টাওয়ারের সামনে। যখনই ওপারে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে সে ট্রাফিক মামা খামার বাড়ির দিক থেকে আসা গাড়ির সারি কে অবমুক্ত করে দেয়। নিরূপায় পিছনে ফিরে আসে কয়েক পা। কিছুক্ষণ পর ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে ঢুকে পড়ে পার্কে। ওই তো নাছির ফোন হাতে বসে বসে বাদাম চিবাচ্ছে। সামনে এগিয়ে যায় সে। বাম দিক থেকে এগুতে এগুতে কাছে গিয়ে বলা কওয়া ছাড়াই নাছিরের পাশে বেঞ্চের ফাঁকা যায়গাতে ধপাস করে বসে পড়ে। নাছির চমকে উঠে কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে ডান দিকে একহাত সরে যায়, হাত থেকে বাদামের প্যাকেট ছিটকে পড়ে আর বাদামের ঝাল ও খোসা তার পাছার নিচে পড়ে।

:তুই?

নাদিম কোন কথা বলছেনা। চোখ লাল টকটকে হয়ে গেছে মুখ যেন ঘামের ঝর্ণায় পরিণত হয়েছে।

:তোকে কতবার ফোন দিয়েছি আমি?

এবারও কথা বলেনা। আশপাশের দিকে তাকিয়ে সবুজ গাছের ভিতর থেকে আসা ঝিরঝিরে বাতাসের এক অংশ নাশিকা গহ্বরে ঢুকিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে
-কেন ডেকেছিস?

:আমার প্রশ্নের তো উত্তর দিলিনা! ঠিক আছে দরকার নেই। ডেকেছি এবং আমিও এসেছি এখানে তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ নিয়ে।

একটু বিস্ময় ও কৌতুহলের সাথে নাদিম
-সারপ্রাইজ!

:হ্যা। তবে সারপ্রাইজ টা পাবার শর্ত হল আমাকে কে এফ সি তে নিয়ে একদিন ভরপুর খাওয়াতে হবে।

-বলতো আগে

:শিমলাকে চিনতি?

-কোন্ শিমলা?

স্মৃতির অতল গভীরে চলে যায় নাদিম। কিন্তু শিমলা নামের কাউকে খুঁজে পায়না।

নাছির একটু সাহায্য করে
:স্কুলে আমরা একসাথে পড়তাম। দ্বিতীয় বেঞ্চের ডান কোণায় জানালার পাশে বসত সবসময়।

- ওহ ও! হ্যা চিনেছি চিনেছি। অস্বাভাবিক সুন্দর ছিল মেয়েটি। কেন হঠাৎ তার কথা?
আর কিসেরইবা সারপ্রাইজ? খুলে বল।

নাদিমের সব ক্লান্তি এক নিমিষেই কোথায় দূর হয়ে গেল!

-ও তোকে অনেক দিন যাবত খুঁজছে। ওর বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারে তুই টঙ্গী থাকিস। কিছুদিন পর আমার কাছে জানায় তোর প্রতি ওর দুর্বলতা; বলতে পারিস ভালবাসা আমাকে সরাসরিও না বললেও আমি বুঝে গিয়েছি।
(চলবে)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.