নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনামহীন

ফাল্টু মিঞাও

ফালতু একজন মানুষ।

ফাল্টু মিঞাও › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে বিধর্মী বিবাহ এবং একটি প্রশ্ন...

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:১৪

বিয়ে নিয়ে আমার মনে বহুদিন যাবত একটা প্রশ্ন ঘুরছে। ইসলাম ধর্মে অমুসলিম নারী/পুরুষকে বিয়ের ব্যাপারে কি কোন নিষেধাজ্ঞা আছে?

এই প্রশ্নটা আমি একজন হুজুর (মসজিদের ঈমাম)কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তাঁর মতে, বিধর্মী বিয়ে করা সম্পূর্ন নাজায়েজ। তবে, যদি সেই বিধর্মী নারী/পুরুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন তবে তাকে বিয়ে করা যাবে।

এখন যদি এমন হয় যে, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে পরস্পরকে পছন্দ করে। ছেলেটি মুসলিম এবং মেয়েটি হিন্দু/খ্রিস্টান। সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তারা বিয়ে করতে চায়। এজন্য মেয়েটি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করল। এক্ষেত্রে নাকি বিয়ে জায়েজ হবে না। কারন মেয়েটি একজন মানুষের (ছেলেটির) প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। অবশ্য তিনি আমাকে এ সম্পর্কে কোন রেফারেন্স দিতে পারেন নাই।

আমিও সন্তোষজনক আর কিছু খুজে পাইনি।



বিধর্মী বিবাহ নিয়ে কুরআন-এ যা পেয়েছি,

“‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন এবং মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে’। {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২২১}



আবার এটাও পেয়েছি...

‘আজ তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো সব ভালো বস্তু এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তাদের খাবার তোমাদের জন্য বৈধ এবং তোমার খাবার তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের সাথে তোমাদের বিবাহ বৈধ। যখন তোমরা তাদেরকে মোহর দেবে, বিবাহকারী হিসেবে, প্রকাশ্য ব্যভিচারকারী বা গোপনপত্নী গ্রহণকারী হিসেবে নয়’। {সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৫}



এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সতী-সাধ্বী খ্রিস্টান ও ইহুদীদের বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন।

এটা দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে? মুসলিম পুরুষ সতী-সাধ্বী খ্রিস্টান/ইহুদী নারী বিয়ে করতে পারবে, কিন্তু মুসলিম নারী কোন বিধর্মী পুরুষ বিয়ে করতে পারবে না?

আর বিধর্মী নারীটি কি বিয়ের পরে তার নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে?



ব্লগে কেউ কি আছেন যিনি এসম্পর্কে জানেন?

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৩১

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: আপনার এলাকার কোন ভাল আলেমের সাথে এ বিষয়ে কথা বলুন, ব্লগে বিভ্রান্ত হবেন।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:২৪

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: ভাল আলেম বলতে আশেপাশে কেউ নেই। আমার দৌড় ওই মসজিদের ঈমাম পর্যন্তই। তাই ব্লগেই ভরসা। আর আমার ধারনা যত বেশি মানুষের সাথে আলোচনা করা যায়, তত ভালভাবে জানা যায়। তাই জানার আশায়ও এখানে আসা।

২| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৪০

দীপঙ্কর_আলোসন্দিপ বলেছেন: :) :) faltu e roye geli re bolod

৩| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৪৩

বলশেভিক বলেছেন: আমি শুনেছি কিতাবি ধর্মের মেয়েদের(খ্রিশ্টান,ইহুদি) কনভার্শন ছাড়া বিয়ে করা যায়।

৪| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০০

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: ইসলামের দৃষ্টিতে আহলে কিতাবধারীদের বিয়ে করা যাবে। চলুন আপনার সাথে সহমত হয়ে আবারো সূরা মায়েদা দেখি।

সূরা মায়েদা ৫:৫ আয়াতঃ
الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلُّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلاَ مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ وَمَن يَكْفُرْ بِالإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্তঃ আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মুসলিম পুরুষ সতী-সাধ্বী খ্রিস্টান/ইহুদী নারী বিয়ে করতে পারবে, কিন্তু মুসলিম নারী কোন বিধর্মী পুরুষ বিয়ে করতে পারবে না?

এখানে মুসলিম বলতে কেবল অনেক্ই মনে করে ইসলামের অনুসারীরাই মুসলিম! এটা ঠিক নয়। আল্লাহর তাকুয়া আদায়কারী সকলেই মুসলিম।
বিশষশ করে কিতাবধারীরা।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩০

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: হুমমম... বুঝলাম।

আর বিধর্মী মেয়ে/ছেলে বিয়ের আগে ধর্ম পরিবর্তন (বিয়ে করার জন্য) করলে কি বিয়ে জায়েজ হবে? এই ব্যাপারে কি কোন আয়াত বা হাদিস আছে?

৫| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৯

বাঙাল শিক্ষক বলেছেন: ইসলামের দৃষ্টিতে আহলে কিতাবধারীদের বিয়ে করা যাবে, তবে কিছু শর্ত আছে। খুব শীঘ্রই জানাব, ইনশা'আল্লাহ!

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩১

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: অপেক্ষায় থাকলাম...

৬| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১১

জ্যাকসন বলেছেন: অপেক্ষায় থাকলাম, দেখি আর সবাই কি বলে। আমিও এই কেসের আসামী।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৩

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: একই পাপের পাপী...!!!
শুভকামনা রইলো।

৭| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২৩

পড়শী বলেছেন: বিয়ে কইর‍্যা ফেলেন মিয়া ভাই-প্রেমে মজিলে মন। সত্যিকারের প্রেমের উপর কিছু নাই।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৫১

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: ভাই, বলা সহজ। বিয়ে করাও সহজ। কিন্তু তারপর??? এরপরের ঠেলা সামলাবে কে???
আমার এক বড় ভাই একটা হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছিল। তারপর কি হয়েছিল জানেন? সমাজ ছেলে আর মেয়ে দুইজনের পরিবারকেই এলাকা ছাড়া করল। মেয়েটারে ছেলের ফ্যামিলি মেনে নেয় নাই। ছেলেকে তারা দেশের বাইরে পাঠায়ে দিল। আর মেয়েও তার নিজের ফ্যামিলিতে আর ফিরতে পারে নাই। একা একা এর বাসায় তার বাসায় থাকত। আট কি নয় মাস পর ছেলে পালায়া দেশে এসে মেয়ের ভার নেয়। তার মাঝেও বহুত কাহিনী ঘটে গেছে। এখন অবশ্য ছেলের ফ্যামিলি মেয়েকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু প্রায় ৫ বছর তারা যে ঝামেলার মাঝে গেছে, কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই ভয় হয়...

আমি অবশ্য সমাজের থোড়াই কেয়ার করি। খালি আমার বাবা মা মানলেই হবে। আর ধর্ম মত বিয়ে করলে বাবা মাও মানবেন আশা করি। তাই ব্যাপারটা একটু পরিস্কার হওয়ার জন্য পোষ্টের অবতারনা....

৮| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৩

বায়েজিদ আলম বলেছেন: মুসলিম পুরুষই কেবল আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নারীদের বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু মুসলিম নারীরা পারবে না। মুশরিকরা তথা হিন্দু বৌদ্ধরা সর্বতোভাবে নিষিদ্ধ।

কিন্তু বর্তমানে বাজারে যেসব ইহুদি খৃস্টান রয়েছে তারা কুরআন শরীফে বর্ণিত আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নয়। কারণ তারা নবী রাসূল সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে থাকে, যেহেতু বাইবেল বিকৃত হয়ে গিয়েছে এবং তাতে নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে খারাপ কথা প্রবেশ করেছে।

সুতরাং বর্তমান যামানায় মুসলিমরা কেবল মুসলিমদেরই বিয়ে করবে।

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:০৪

ফাল্টু মিঞাও বলেছেন: ধর্মান্তরিতদের ক্ষেত্রে কি কোন শর্ত আছে?
বিধর্মী মেয়ে/ছেলে বিয়ের আগে আগে ধর্ম পরিবর্তন করলে কি বিয়ে জায়েজ হবে?

৯| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৯

একাকি একজন বলেছেন: বাঙাল শিক্ষক@ ইসলামের দৃষ্টিতে আহলে কিতাবধারীদের বিয়ে করা যাবে, তবে অনেক অনেক শর্ত আছে।

১০| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২২

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: বায়েজিদ আলম বলেছেনঃ মুসলিম পুরুষই কেবল আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নারীদের বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু মুসলিম নারীরা পারবে না। মুশরিকরা তথা হিন্দু বৌদ্ধরা সর্বতোভাবে নিষিদ্ধ।

কিন্তু বর্তমানে বাজারে যেসব ইহুদি খৃস্টান রয়েছে তারা কুরআন শরীফে বর্ণিত আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নয়। কারণ তারা নবী রাসূল সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে থাকে, যেহেতু বাইবেল বিকৃত হয়ে গিয়েছে এবং তাতে নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে খারাপ কথা প্রবেশ করেছে।

সুতরাং বর্তমান যামানায় মুসলিমরা কেবল মুসলিমদেরই বিয়ে করবে।


বায়েজিদ আলম ভাই আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নারীদের বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু মুসলিম নারীরা পারবে না বলেছেন। কিন্তু ব্যাপারটা কি জানেন? আসেলে পুরুষরা বিয়ে করে নারীরা নয়। নাদীদের পোন দিয়ে পুরুষরা বিয়ে করে বলে নারীদের কথা বলা আছে। কিন্তু উল্টো আহলে কিতাবী নারীরাও আহলে কিতাবী পুরুষদের বিয়ে করতে পারবে।

আপনি বলেছেনঃ বর্তমানে বাজারে যেসব ইহুদি খৃস্টান রয়েছে তারা কুরআন শরীফে বর্ণিত আহলে কিতাবের অন্তর্ভূক্ত নয়। কিন্তু এটা আপনার কেন মনে হলো। তারা নবী রাসূল সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে থাকে এটাইবা কেন মনে হলো? আপনি বলেছেন বাইবেল বিকৃত হয়ে গিয়েছে। আপনি বিকৃত দেখাতে পারবেন? তাতে নবী রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে খারাপ কথা প্রবেশ করেছে। বলেছেন এটাও আপনার মনগড়া কথা। আপনি যা বলছেন তা দেখাতে পারবেন না। কারন আপনি বাইবেল পড়েন নাই। আপনি মানুষের কাছে শুনেছেন। আসলে মোনা কথা বলতে নাই।

বায়েজিদ আলম আপনি আরও বলেছেনঃ বর্তমান যামানায় মুসলিমরা কেবল মুসলিমদেরই বিয়ে করবে।


আপনার সঙ্গে আমি একমত নই। কেন? আপনার কথাকে সত্য বলে মানলে সূরা মায়েদার ৫ নং আয়াটি মিথ্যা প্রমানিত হবে। দেখুন কি বলছে আল্লাহ্ "আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে"

১১| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৩৮

বাঙাল শিক্ষক বলেছেন: কোনো মুসলিম মেয়েকে ইহুদী-খৃস্টানদের ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়া তো এমনই হারাম যেমন মুশরিক মেয়েকে বিয়ে করা হারাম। তবে আহলে কিতাবের কোনো মেয়েকে কোনো মুসলিম পুরুষের জন্য বিয়ে করার বিষয়ে সূরা মায়েদা (আয়াত : ৫) শর্তসাপেক্ষে ছাড়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধানটি অনেকে ভুল বুঝে কিংবা ভুল প্রয়োগ করে। তাই এ বিষয়ে আলকাউসার রবীউস সানী ’২৮ হি., মে ’০৭ ঈ. সংখ্যায় (পৃষ্ঠা : ০৯) বিস্তারিত একটি ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। তা এখানে উদ্ধৃত হল :

‘‘মুসলিম ছেলেদের জন্য আহলে কিতাব মেয়েদেরকে বিবাহ করার বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের হুকুম কয়েক ভাগে বিভক্ত এবং বিভিন্ন শর্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার দাবীদার। তাই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি ভূমিকাসহ কিছুটা বিস্তারিতভাবে জবাব পেশ করা হল।

ভূমিকা

অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় ‘মুসলমান ছেলেদের জন্য আহলে কিতাব মহিলাদের বিবাহ করা বৈধ।’ এটি একটি ব্যাখ্যাবিহীন অসম্পূর্ণ কথা। কেউ কেউ একথা শুনে মনে করেন যে, যে কোনো ইহুদী-খৃস্টান মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ। অথচ এ ধারণা নিতান্তই ভুল।

প্রকাশ থাকে যে, এ উত্তরপত্রে তিনটি শব্দ ব্যবহৃত হবে। (১) বিবাহ ‘সংগঠিত’ হওয়া (২) বিবাহ ‘না জায়েয’ হওয়া (৩) বিবাহ ‘অনুত্তম’ হওয়া। এ তিনটি শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ :

বিবাহ ‘সংগঠিত’ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এ কাজ সম্পাদনের পর ওই দম্পতির স্বামী-স্ত্রী সুলভ সম্পর্ক ব্যভিচার বলে গণ্য হবে না এবং তাদের সন্তান বৈধ বলে গণ্য হবে।

আর বিবাহ ‘না জায়েয’ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, কাজটি করা শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ ও গোনাহের কাজ এবং তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

আর বিবাহ ‘অনুত্তম’ বলে বুঝানো হয়েছে কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ না হলেও তা পরিত্যাজ্য এবং তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, কোনো ইহুদী-খৃস্টান মহিলার সাথে বিবাহ শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ বলে গণ্য হওয়ার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এদুটি শর্তের কোনো একটি না পাওয়া গেলে সেটি বিবাহ বলেই গণ্য হবে না; বরং যিনা ও ব্যভিচার সাব্যস্ত হবে। তবে উভয় শর্ত পাওয়া গেলেই যে তাদেরকে বিবাহ করা বিনা দ্বিধায় নিঃশর্ত জায়েয ও বৈধ হয়ে যাবে বিষয়টি এমনও নয়; বরং বিবাহের পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বেই আরও কয়েকটি শর্তের উপস্থিতির ব্যাপারে আশ্বস্ত হওয়া আবশ্যক। যদি ওই শর্তগুলো না পাওয়া যায় তবে সে ক্ষেত্রেও বিবাহ জায়েয হবে না। এর পরের কথা হল, এই শর্তগুলোও যথাযথ বিদ্যমান থাকলে বিবাহ তো জায়েয হয়ে যাবে, কিন্তু এ কাজ যে অবশ্যই মাকরূহ হবে তা তো বলাই বাহুল্য। ইসলামী শরীয়তে যেখানে মুসলিম নারীকে বিবাহ করার ক্ষেত্রেও নামাযী ও শরীয়তের অনুসারী নারীকে পছন্দ ও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে সেখানে যে মহিলা ইসলামের কালিমাকেই মানে না (যদিও সে আহলে কিতাব হয়ে থাকুক এবং বিবাহ সহীহ হওয়ার নির্ধারিত শর্তসমূহও বিদ্যমান থাকুক) তাকে বিবাহ করা কি আদৌ পছন্দনীয় হতে পারে? এখানে ভুল বোঝাবুঝির মূল কারণ এই যে, প্রধান দুই শর্ত সাপেক্ষে আহলে কিতাব মহিলার সঙ্গে বিবাহ শুদ্ধ হওয়াকেই জায়েয হওয়া বলে মনে করা হয়। অথচ বিবাহ শুদ্ধ হলেই জায়েয হয় না; বরং জায়েয হওয়ার জন্য ভিন্ন শর্ত রয়েছে। সেদিকে লক্ষ করা হয় না। এরপর বিবাহ জায়েয হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যে বিবাহ সম্পন্ন হয়, তাকে মাকরূহ বিহীন বিবাহ ধারণা করা হয়ে থাকে; অথচ এ ধারণা সহীহ নয়। এজন্য নিম্নে আহলে কিতাব মহিলাদের বিবাহ করা সম্পর্কিত ইসলামের নির্দেশনাসমূহ তিনটি স্তরে কিছুটা বিশ্লেষণের সাথে তুলে ধরা হল। বিষয়টি যথাযথভাবে বুঝে নেওয়া আবশ্যক।

এক. বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি

প্রথমেই জানা দরকার যে, এ যুগের অধিকাংশ ইহুদী ও খৃস্টান আহলে কিতাব নামধারীরা আদমশুমারীতে ওই দুই ধর্মের লোক বলে সরকারিভাবে রেজিষ্ট্রিকৃত হলেও মূলত তারা কোনো আসমানী কিতাব বা ধর্মে বিশ্বাসী নয়; বরং ঘোষিত বা অঘোষিতভাবে জড়বাদী ও বস্ত্তবাদী নাস্তিকই বটে। তাই কোনো নারীর শুধু সরকারী খাতায় ধর্মাবলম্বী বলে নিবন্ধিত হওয়া কিংবা ইহুদী বা খৃস্টান নামধারী হওয়াই তার সাথে মুসলমান পুরুষের বিবাহ সহীহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে।

(১) মেয়েটি বস্ত্তবাদী নাস্তিক না হতে হবে; বরং প্রকৃত অর্থে ইহুদী বা নাসারা তথা আহলে কিতাব হতে হবে। এ জন্য তার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপস্থিতি জরুরি। (ক) আল্লাহ তাআলার সত্তা ও অস্তিত্ব স্বীকার করা। (খ) ইহুদী হলে মুসা আ. ও তাওরাতের উপর আর খৃস্টান হলে ঈসা আ. ও ইঞ্জিলের উপর ঈমান থাকা।

(২) মেয়েটি পূর্ব থেকেই ইহুদী বা খৃস্টান ধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে। মুরতাদ, অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে ইহুদী বা খৃস্টান হয়েছে এমন না হতে হবে। তাই কোনো মুরতাদের ইহুদী-খৃস্টান মেয়ের সাথেও মুসলমান পূরুষের বিবাহ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

এসব শর্ত কোনো ইহুদী বা খৃস্টান মেয়ের মধ্যে পাওয়া গেলে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিয়ে করলে বিবাহ শুদ্ধ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ এ সকল শর্ত সাপেক্ষে বিবাহের আকদ করলে তাদের একত্রে থাকা ব্যভিচার হবে না; বরং তাদের মেলামেশা বৈধ ধরা হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, কেবল এ শর্তগুলো পাওয়া গেলেই তাদেরকে বিবাহ করা জায়েয তথা নিস্পাপ কাজ বলে গণ্য হবে; বরং সে জন্য দরকার আরও কয়েকটি শর্তের উপস্থিতি। যা পরবর্তী ধাপে বর্ণনা করা হচ্ছে। -আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩২৩-৩২৬; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৪/৬৪; ফাতহুল কাদীর ৩/১৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৫, ৪/২৫৫-২৫৬; বাদায়েউস্ সানায়ে ৬/১২৫-১২৬; বুহুস ১/৪১৫; তাফসীরে মাজহারী ৩/৪২

দুই. বিবাহ জায়েয হওয়ার শর্তাবলি

(১) ইহুদী-খৃস্টান মেয়েকে বিবাহের আগে এই বিষয়ে প্রবল আস্থা থাকতে হবে যে, এই বিবাহে স্বামীর দ্বীন-ধর্মের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই; বরং এই বিবাহের পরও সে ঈমান ও দ্বীনের উপর অটল থাকতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

(২) এই ব্যাপারেও নিশ্চিত ধারণা ও আস্থা থাকতে হবে যে, এই দম্পিতির যে সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করবে (মা আহলে কিতাব হওয়ার কারণে) তাদের দ্বীন-ঈমান রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বাধা শিক্ষা-দীক্ষা অনুযায়ী জীবন কাটাতে পারবে। পুরুষ অথবা তার ভবিষ্যত সন্তানদের ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে কোনো আশঙ্কা থাকলে বিবাহ জায়েয হবে না।

(৩) বিবাহের আগে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে, যে রাষ্ট্রের মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করছে সে রাষ্ট্রে
সন্তানদেরকে মায়ের ধর্মের অনুসারী গণ্য করার আইন রয়েছে কি না। অর্থাৎ ‘মা অমুসলিম হলে সন্তানও অমুসলিম ধর্তব্য হবে’ এরকম আইন থাকলে সেখানে থেকে ওই মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয হবে না।

(৪) তালাক বা স্বামীর ইন্তেকালের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলে সন্তানরা ধর্মের দিক থেকে মায়ের অনুসারী গণ্য হবে এবং স্বামী বা স্বামীর ওয়ারিশরা তাদের নিতে পারবে না-এই ধরনের কোনো আইন যে দেশে রয়েছে সে দেশে অবস্থিত কোনো আহলে কিতাব মহিলাকেও বিবাহ করা জায়েয হবে না।

(৫) যদি আলামত-প্রমাণের মাধ্যমে স্পষ্টত বোঝা যায় যে, এই বিবাহের কারণে ইসলামী রাষ্ট্র বা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি হবে তাহলে এ বিবাহ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। উপরোক্ত শর্তগুলোর দিকে সূরা মায়েদার ৫ নং আয়াতের শেষাংশে ইঙ্গিত রয়েছে। বিধর্মী রাষ্ট্রের ইহুদী-খৃস্টানদের মধ্যে যেহেতু সাধারণত উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া যায় না তাই ফুকাহায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধভাবে এই ফতোয়া দিয়েছেন যে, বিধর্মী রাষ্ট্রের কোনো আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমী; তথা না জায়েয ও গোনাহের কাজ। কোনো আহলে কিতাব মহিলা যদি ইসলামী রাষ্ট্রের অধিবাসী হয়ে থাকে এবং উপরোক্ত শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় তাহলে বিবাহ যদিও সংঘটিত হয়ে যাবে কিন্তু তা হবে খুবই অনুত্তম কাজ। যার আলোচনা তৃতীয় ধাপে আসছে। উপরোক্ত আলোচনার স্বপক্ষে কিছু নির্ভরযোগ্য দলীল প্রামাণ নিম্নে পেশ করা হল,

قال ابن عباس : لا يحل نساء أهل الكتاب إذا كانوا حربا.

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ‘আহলে কিতাব মহিলাগণ ‘হারবী’ তথা কাফের রাষ্ট্রের অধিবাসিনী হলে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন হালাল নয়।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৬৪৩১

وتكره كتابية الحربية إجماعا، لانتفاح باب الفتنة من إمكان التعلق المستدعي للمقام معها في دار الحرب، و تعريض الولد على التخلق بأخلاف أهل الكفر.

সুপ্রসিদ্ধ ফক্বীহ আল্লামা ইবনে হুমাম রহ. (মৃত : ৮৬১ হি.) বলেন, কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলাকে বিয়ে করা ফিকাহবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে মাকরূহে (তাহরীমী বা না জায়েয)। কারণ স্বামীকে কাফের রাষ্ট্রে তার সাথে বসবাস করতে হবে। ফলে সকল প্রকার ফিতনার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এতে সন্তানদেরকে কাফেরদের সমাজে তাদের মতো করে বেড়ে উঠতে বাধ্য করা হবে।-ফাতহুল কাদীর ৩/১৩৫

সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ আল্লামা দারদীর রহ. বলেন, কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মেয়েকে বিয়ে করা আরও কঠিনভাবে নিন্দনীয়। কারণ মুসলিম রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলার চেয়ে এদের ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। ফলে মহিলাটি সন্তানদেরকে স্বীয় ধর্মের উপর লালিত পালিত করতে থাকবে এবং সন্তানের পিতাকে এ ব্যাপারে সে কোনো পরওয়াই করবে না।-আশশারহুস সাগীর ১/৪০৬

বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শারবীনী রহ. বলেন, কিন্তু যে সকল আহলে কিতাব মহিলা কাফের রাষ্ট্রে থাকে তাদেরকে বিবাহ করা মাকরূহ (তাহরীমী)। তদ্রূপ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মুসলমান দেশে বসবাসকারিনী আহলে কিতাব মহিলাকে বিয়ে করা দোষনীয়; ফিতনার আশঙ্কার কারণে। কিন্তু মুসলিম রাষ্ট্রের চেয়ে কাফের রাষ্ট্রের অধিবাসিনীকে বিয়ে করা অধিক গর্হিত কাজ।-মুগনীল মুহতাজ ৩/১৮৭

জামেয়া আজহারের প্রখ্যাত শায়খ আব্দুল্লাহ আল গুমারী রহ. বলেন, কাফের রাষ্ট্রের আহলে কিতাব মহিলাদেরকে বিয়ে করার বড় একটি খারাবী হল, সন্তানাদি মার মতোই খৃস্টান হয়ে যায়। কারণ পিতার মৃত্যু ঘটলে মা নিজের ধর্মের অনুসারী করে সন্তানদেরকে লালন করতে থাকে। আর যদি স্বামী তালাক দিয়ে দেয় তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে স্বামী সন্তান নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় না। ফলে সন্তানরা মার সাথে থেকে তার ধর্মেই দিক্ষিত হয়।-দফউশ্ শক ১৯

এরপর তিনি (শায়খ আব্দুল্লাহ) বেশ কিছু বাস্তব ঘটনার উদাহরণ নিয়ে এসেছেন, যেগুলোতে দেখা গেছে যে, সন্তানরাও তাদের মায়ের ধর্মাবলম্বী হয়েই বড় হয়ে উঠেছে ও আহলে কিতাব হয়ে গেছে।

আরও দ্রষ্টব্য : আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩২৬; আহকামুল কুরআন, থানভী ১/৪০৪; তাফসীরে মাজহারী ৩/৪১; তাতার খানিয়া ৩/৭

তিন. মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারিনী ইহুদী-খৃস্টানকে বিবাহের হুকুম

আহলে কিতাব নারী যদি মুসলমান রাষ্ট্রে বসবাসকারিনী হয় এবং তাদেরকে বিয়ে করলে স্বামী বা সন্তান বিধর্মী হওয়ার আশঙ্কা নাও থাকে তবুও সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও চার মাযহাবের ফেকাহবিদগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাদেরকে বিয়ে করা মাকরূহ বলেছেন।

সাহাবী হুযায়ফা রা. এক ইহুদী মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। হযরত উমর রা. পত্র মারফত ওই মেয়েকে ছেড়ে দেওয়ার পারমর্শ দিলেন। তখন তিনি লিখে পাঠালেন, যদি তাকে বিয়ে করা হারাম হয়ে থাকে তাহলে আমি ছেড়ে দিব। উত্তরে হযরত জানালেন, আমি হারাম হওয়ার কথা বলি না, তবে আমার আশঙ্কা হয় এভাবে তাদের ব্যভিচারিনীদেরকেও বিবাহ করা শুরু হবে।-ইবনে আবি শাইবা, হা : ১৬৪১৭

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘হুযায়ফা রা. হযরত উমর রা.-এর শাসন আমলে এক ইহুদী মহিলাকে বিয়ে করেন। তখন উমর রা. তাকে বললেন, ‘তুমি ওই মেয়েকে তালাক দিয়ে দাও। কারণ সে হল অগ্নিকুন্ড।’-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১০০৫৭

এ ঘটনার কিছু দিন পর হযরত হুযায়ফা রা. ওই মেয়েকে তালাক দিয়ে দেন।

হযরত ত্বলহা রা. জনৈক ইহুদী মহিলাকে বিয়ে করলে খলিফা হযরত উমর রা. তাকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১০০৫৯

হযরত উমর রা.-এর যুগ স্বর্ণযুগের অন্তুর্ভুক্ত। তার প্রশাসনের অধীনে বসবাসকারিনী আহলে কিতাব মহিলার বিয়ের ব্যাপারে যদি তার এ অভিমত হয়ে থাকে তবে বর্তমান যুগে ইহুদী-খৃস্টান নারীদের অবস্থা দেখলে তিনি কি হুকুম দিতেন তা সহজেই অনুমেয়। হযরত হাসান রা.কে একদা আহলে কিতাব মহিলাকে বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি এর জবাবে বলেছিলেন, আহলে কিতাব মহিলাকে কেন বিবাহ করতে হবে? অথচ আল্লাহ তাআলা প্রচুর মুসলমান রমণী রেখেছেন।-রুহুল মাআনী ৪/৬৬

আল্লামা জাস্সাস রহ. তাদের নারীকে বিয়ে করা মাকরূহ হওয়ার আরেকটি কারণও বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার ইরশাদ (তরজমা) যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না।-সূরা আলমুজাদালাহ ২২

আর বিবাহ যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে এটা তো বলাই বাহুল্য।-আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩২৬

এছাড়াও চার মাযহাবের ফকীহগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে মুসলিম দেশে বসবাসকারিনী আহলে কিতাব মহিলাদেরকেও বিয়ে করা মাকরূহ তথা অনুত্তম বলেছেন।-আদদুররুল মুখতার ৩/৪৫; ফাতহুল কাদীর ৩/১৩২-১৩৬; আলমুগনী ৬/৫৯০; আলমুফাস্সাল ৭/১৮-১৯; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ২/৩২৪; আহকামুল কুরআন থানভী ১/৪০৫

পুরো বিষয়টির জন্য আরও দেখা যেতে পারে : তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৩০; তাফসীরে কুরতুবী ৩/৫১; মাআরিফুল কুরআন ৩/৬০-৬৪; আলমাবসুত ৪/২১০; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১১০; আলবাহরুর রায়েক ৩/১০৩; আননাহরুল ফায়েক ২/১৯৪; ফাতহুল কাদীর ৩/১৩৫-১৩৬; আলমুফাস্সাল ৭/১২-২৪; দাফউশ্শাক্কি ওয়াল ইরতিয়াব, আব্দুল্লাহ আলগুমারী রহ.।’’


http://www.alkawsar.com/article/624


১২| ০৫ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১৩

রাজীব বলেছেন: শুধু তাওরাত ও ইনজিল এর অনুসারী।
যবুর নামেও তো একটি আসমানী কিতাব ছিল!!!

আসমানী কিতাব কি ৪ টা ? নাকি ১০৪ টা????

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.