নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

সহিহ হাদিস সংকলনের কোরআনিক পদ্ধতি কি?

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

* হাদিস দ্বারা যেন অভিন্ন পথের হিদায়াত পাওয়া যায় সেজন্য হাদীসের রাবীগণের দায়িত্ব ছিল তাঁদের নিকট সঞ্চিত হাদিস আমির হযরত আবু বকরের (রা.) নিকট পৌঁছে দেওয়া। আমির হযরত আবু বকরের (রা.) দায়িত্ব ছিল প্রাপ্ত সকল হাদিস মজলিশে শুরার বিবেচনায় প্রদান করা। মজলিশে শুরার দায়িত্ব ছিল প্রাপ্ত হাদিস থেকে মানসুখ বাদ দিয়ে এবং মতভেদ থাকলে সেটা নিরসন করে অভিন্ন হাদিস সংকলন প্রস্তুত করে খেলাফতের বিভিন্ন কেন্দ্রে এর শিক্ষার ব্যবস্থা করতে আমির হযরত আবু বকরকে (রা.) সুপারিশ করা। আমির হযরত আবু বকরের (রা.) দায়িত্ব ছিল খেলাফতের বিভিন্ন কেন্দ্রে সংকলিত হাদিস সংকলনের শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং এর বাইরে কেউ হাদিস প্রচার করলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে জান না। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি।আমারা সিগ্র তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব। এরপর তারা মহা শাস্তির দিকে যাত্রা করবে।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৭। আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তারা শপথ করেই বলবে তারা ভাল কিছু করার জন্যই ওটা করেছে; আর আল্লাহ সাক্ষি দিচ্ছেন নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

সহিহ বোখারী ৪৯৯ নং হাদিসের (সালাতের ওয়াক্ত সমূহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৯৯। হযরত যুহুরী (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনে মালেকের (রা.) নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি যা যা দেখেছি তার মধ্যে এ নামাযই আজ পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু এখন নামাজও নষ্ট হতে চলেছে।

* হাদিস সংকলন সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রতিপালিত না হওয়ার সুযোগে মোনাফেক ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) নামে মিথ্যা হাদিস প্রচার করে ইসলাম নষ্ট করে। নষ্ট ইসলাম মেরামত পদ্ধতি কি?

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

# সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াতের তাফসির- তাফসিরে ইবনে কাছির
৩। এ আয়াতের তাফসিরে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহর পার্শ্বে বসে ছিলাম, এমন সময় তাঁর উপর সূরা জুমুয়া অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞাস করেন হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ‘ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিন বার এ প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে সালমান ফারসীও (রা.) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাতখানা সালমান ফারসীর (রা.) উপর রেখে বললেন, ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থাকত তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক কিংবা একাধিক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেত।(ফাতহুলবারী ৮/৫১০, মুসলিম ৪/১৯৭২, তিরমিযী ৯/২০৯, ১০/৪৩৩, নাসাঈ ৫/৭৫, ৬/৪৯০, তাবারী ২৩/৩৭৫)।

* মিথ্যা হাদিস সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলো আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে উপস্থাপিত হাদিস বাতিল করে আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের সাথে গৃহিত হাদিস দ্বারা গঠিত আল্লাহর সুন্নাত ফিকাহ মেনে চলা।পারসিক ইমাম আবু হানিফা (র.) আল্লাহর সুন্নাত ফিকাহ সংকলন তৈরী করে এর শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সহিহ মুসলিম, ৪৫৭৬ নং হাদিসের (কিতাবুল ইমারাহ) অনুবাদ-
৪৫৭৬। হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, বারজন খলিফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম পরাক্রান্ত অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কি বললেন, তা’ আমি বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতার নিকট জিজ্ঞাস করলাম তিনি কি বলেছেন? তিনি বললেন নবি করিম (সা.) বলেছেন, তাঁদের সকলেই হবে কোরাইশ বংশোদ্ভুত।

* সবচেয়ে পরাক্রান্ত আব্বাসীয় কুরাইশ খলিফা হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফা (র.) সংকলিত ফিকাহ মজলিশে শুরার মাধ্যমে পরিশোধন করে অনুমোদন করলে দুইতৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয় এবং একতৃতীয়াংশ মুসলিম মিথ্যা হাদিসের অনুসারী থাকে। তারা পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের সংগৃহিত হাদিস আমিরের দরবারে উপস্থাপন না করেই এ গুলিকে সহিহ আখ্যা দিয়ে মুসলিম জাতিকে বিভ্রান্ত করার ব্যবস্থা করে। তারা অহংকার না করে তাদের সংগৃহিত হাদিস আমিরের দরবারে উপস্থাপন করলে এবং আমির মজলিশে শুরার মাধ্যমে এসব হাদিস সংকলন পরিশোধন করে অনুমোদন করে প্রচারের ব্যবস্থা করলে এসব হাদিস গ্রন্থের কারণে মুসলিম জাতি বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষা করতে পারতো।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

* মজলিশে শুরার পরিশোধন বিহীন এবং আমিরের অনুমোদন বিহীন হাদিস সংকলনকে সহিহ বলা মূলত মিথ্যা কথা।এসব হাদিস সংকলক অহংকারী হওয়ার কারণ এরা ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় খলিফা যাদেরকে আল্লাহ রাজত্ব প্রদান করেছেন তাদের উপর নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করেছে। সকল হাদিস সংকলনের সময় আল্লাহ ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় খলিফা নিযুক্ত রেখেছেন, সুতরাং এরা আল্লাহর দরবারে তাদের অপরাধের কৈফিয়ত দিতে পারবে না। আল্লাহ ফিকাহ মানতে বলেছেন। প্রথম শুদ্ধ ফিকাহ ছিল রাসূলের (সা.) অলিখিত ফিকাহ। সেটি নষ্ট হওয়ার মজলিশে শুরা পরিশোধীত ও আমির অনুমোদীত একমাত্র ফিকাহ হচ্ছে হানাফী ফিকাহ। এরপরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হবে এবং এর সাথে মতভেদকারীরা হবে জাহান্নামের পথের যাত্রী।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

২০০১ সালের জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে আপনি কী করেছিলেন আপনি কি বলতে পারবেন?

যদি না পারেন তাহলে হাদিস নিয়ে আলোচনা কইরা লাভ নাই।

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনার মন্তব্য বোধগম্য নয়।

২| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



রাসূল (সা.), সাহাবা (রা.) ও আখারিনের (অন্যান্য) ফিকাহ বিভিন্ন হলেও অভিন্ন ফিকাহ মানা আপনার জন্য ফরজ

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সহিহ আল বোখারী, ২৮৮৯ নং হাদিসের (জিহাদ অধ্যায়) অনুবাদ-
২৮৮৯। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে কল্যাণ দানের ইচ্ছা করেন, তাঁকে তিনি দীন সম্পর্কে ফিকাহ (গভির জ্ঞান) দান করেন। আল্লাহ প্রদানকারী আর আমি বন্টনকারী। আমার এ উম্মত তাদের বিরোধীদের উপর চিরদিন বিজয়ী হবে। এ অবস্থায় আল্লাহর চূড়ান্ত সমাধান এসে যাবে।

* রাসূল (সা.) ফিকাহ পেয়েছেন এবং বন্টন করে দিয়েছেন। রাসূলের (সা.) ফিকাহ পূর্ণাঙ্গ হলেও কোন সাহাবার (রা.) ফিকাহ পূর্ণাঙ্গ ছিল না। কারণ রাসূলের (সা.) ফিকাহ বন্টনে সবসময় তাঁর সাথে থাকা তাদের কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। সুতরাং রাসূলের (সা.)পূর্ণাঙ্গ অলিখিত ফিকাহ, সাহাবার অপূর্ণাঙ্গ অলিখিত ফিকাহ ফিকাহ ছিল, কিন্তু আখারিনের (অন্যান্য) ফিকাহ সংকলিত থাকায় ফিকাহ বিভিন্ন রকম ছিল।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে জান না। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি।আমারা সিগ্র তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব। এরপর তারা মহা শাস্তির দিকে যাত্রা করবে।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৭। আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তারা শপথ করেই বলবে তারা ভাল কিছু করার জন্যই ওটা করেছে; আর আল্লাহ সাক্ষি দিচ্ছেন নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

সহিহ বোখারী ৪৯৯ নং হাদিসের (সালাতের ওয়াক্ত সমূহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৯৯। হযরত যুহুরী (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনে মালেকের (রা.) নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি যা যা দেখেছি তার মধ্যে এ নামাযই আজ পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু এখন নামাজও নষ্ট হতে চলেছে।

* ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) নামে মিথ্যা হাদিস প্রচার করে মোনাফেক রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অলিখিত ফিকাহ নষ্ট করে ইসলাম নষ্ট করে ফেলে। আখারিন (অন্যান্য) কোরআন দিয়ে বিনষ্ট ফিকাহ ঠিক করে ফিকাহ সংকলন করে বিনষ্ট ইসলাম মেরামত করে। যেহেতু ফিকাহ দিয়ে আল্লাহ ভয় প্রদর্শন করা ও সাবধান হওয়া ফরজ করেছেন সেহেতু আখারিন (অন্যান্য) সংকলিত ফিকাহ মানা আপনার জন্য ফরজ। আর যদি আপনি বলেন কোরআন দিয়ে ক্যামনে ফিকাহ মেরামত করে তবে আপনি কোরআনের সক্ষমতার কাফের।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

# সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াতের তাফসির- তাফসিরে ইবনে কাছির
৩। এ আয়াতের তাফসিরে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহর পার্শ্বে বসে ছিলাম, এমন সময় তাঁর উপর সূরা জুমুয়া অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞাস করেন হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ‘ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিন বার এ প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে সালমান ফারসীও (রা.) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাতখানা সালমান ফারসীর (রা.) উপর রেখে বললেন, ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থাকত তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক কিংবা একাধিক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেত।(ফাতহুলবারী ৮/৫১০, মুসলিম ৪/১৯৭২, তিরমিযী ৯/২০৯, ১০/৪৩৩, নাসাঈ ৫/৭৫, ৬/৪৯০, তাবারী ২৩/৩৭৫)।

সহিহ আল বোখারী, ৬৫৭২ নং হাদিসের (কিতাবুল ফিতান)-
৬৫৭২। হযরত ওসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবি করিম (সা.) মদীনার এক সুউচ্চ অট্টালিকার উপর আরোহন করে বললেন, আমি যা কিছু দেখছি, তোমরা কি তা’ দেখছ? তারা বলল, জী না। তিনি বললেন, আমি দেখছি যে, তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।

* মোনাফেক তার মিথ্যা প্রচারণা দ্বারা রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অলিখিত ফিকাহ নষ্ট করলে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট চলে যায়। সেজন্য কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাঁর মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়। মদীনাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ইয়াজিদ তাঁদেরকে লাঞ্চিত করে। তখন মদীনার ঘর সমূহের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হয়। অবশেষে আখারিন ইমাম আবু হানিফা (র.) কোরআনের সহায়তায় নষ্ট ফিকাহ ঠিক করে সংকলন করে ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থেকে ফিরে আসে। যার সাথে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থেকে ফিরে আসে তার সাথে আপনি না থাকলে আপনার মাঝে ঈমান থাকে ক্যামনে? সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াত অনুযায়ী আখারিনের (অন্যান্য) মধ্যে তাবেঈ থাকা বাধ্যতামূলক। তাবেঈ না হওয়ায় ইমাম মালেক (র.). ইমাম শাফেঈ (র.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.) আখারিন (অন্যান্য) নন বিধায় তাঁদের ফিকাহ কোরআন অনুযায়ী মূলত কোন ফিকাহ নয়।সুতরাং তাঁদের ফিকায় হিদায়াত নাই।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সহিহ মুসলিম, ৪৫৭৬ নং হাদিসের (কিতাবুল ইমারাহ) অনুবাদ-
৪৫৭৬। হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, বারজন খলিফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম পরাক্রান্ত অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কি বললেন, তা’ আমি বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতার নিকট জিজ্ঞাস করলাম তিনি কি বলেছেন? তিনি বললেন নবি করিম (সা.) বলেছেন, তাঁদের সকলেই হবে কোরাইশ বংশোদ্ভুত।

* সবচেয়ে পরাক্রান্ত আব্বাসীয় কুরাইশ খলিফা আমির হারুনুর রশিদ মজলিশে শুরার মাধ্যমে ইমাম আবু হানিফার (র.) ফিকাহ পরিশোধন করে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয় এবং এখনো সেটা বজায় আছে।রাসূলের (সা.) এ হানাফী উম্মত তাদের বিরোধীদের উপর চিরদিন বিজয়ী অবস্থায় বিদ্যমান আছে। ক’দিন আগে তাদের পাকিস্তানকে হারাতে গিয়ে ভারত সক্ষম হয়নি। একাত্তরে তাদেরকে হারানো গেছে সাথে হানাফী বাংলাদেশ থাকায়। গঠিত হওয়ার পর হানাফীদের বিজয় থামেনি। আব্বাসীয়দের পর তুর্কীরা হানাফী বিজয়ের হাল ধরে। তারপর এখন সাতান্ন মুসলিম দেশের অধিকাংশ হানাফী এবং তাদের ভূমিও অন্যদের থেকে বেশী।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

* হানাফীরা সঠিক হওয়ায় তাদের পথ আল্লাহর সুন্নাত সিরাতাম মুসতাকিম। যারা তাদের থেকে আল্লাদা হয়ে যায় তারা তাদের থেকে আলাদা হয়ে জাহান্নামে চলে যায়।শিয়া ফিকাহ তাদের যে আমির সংকলন করেছেন তিনি পরাক্রমশালী নন বিধায় এটি ফিকাহ নয়। পরাক্রমশালী হারুনুর রশিদ হানাফী ফিকাহ অনুমোদন করায় এটি ফিকাহ। যে ফিকাহ অনুসারীকে রাসূল (সা.) চির জয়ী বলেছেন তা’ পরাক্রমশালীর অনুমোদন ছাড়া কিভাবে গঠিত হতে পারে? ইসলাম বিষয়ে মুখস্ত কথা বললেই কি সেটা সঠিক হয়? হানাফী ফিকাহের সঠিকতায় সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকায় এর বিরোধীদের মহাশাস্তি পেতে হয়।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: পোষ্টের সহায়ক হিসাবে আরেকটি পোষ্ট মন্তব্য হিসাবে উপস্থাপন করলাম।

৩| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: আপনি নিজেকে মহাজ্ঞানী পন্ডিত মনে করেন কিন্তু ঠিক মতো যুক্তির উপস্থাপনা করতেও শিখেন নাই..

আপনাকে আবারো জিজ্ঞাস করছি, আমাদের নামাজের যে ভিন্নতা তা বিভিন্ন হাদিস থেকে এসেছে..
আপনি দাবী করেছেনের হানাফী মত ছাড়া বাকী হাদিসসমূহেন কতক রাবী মোনাফেক ছিলেন
আপনাকে স্পেসিফিক বলতে হবে নামায সংক্রান্ত কোন হাদিসের কোর রাবী মিথ্যা কথা বলেছেন..

উদাহরণস্বরূপ, হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ সালাতে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফ'উল ইয়াদাইন করে না
আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে রফ'উল ইয়াদাইন সংক্রান্ত হাদিসগুলোতে কোন রাবী আপনার দাবী অনুযায়ী মোনাফেক ছিলেন।


০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


নামাজে যারা একবারের বেশী রফেঈ ইয়াদাইন করবে তাদের নামাজ বাতিল হবে

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে জান না। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি।আমারা সিগ্র তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব। এরপর তারা মহা শাস্তির দিকে যাত্রা করবে।

* নামাজে রফেঈ ইয়াদাইন বিষয়ে সাহাবার (র.) মাঝে মতভেদ আছে। তাঁদের কোন একজনকে মোনাফেক সাব্যস্ত করে তাঁদের মতভেদ নিরসন করা কারো দায়িত্ব নয়। সাহাবার (রা.) মতভেদ কিভাবে নিরসন করা হবে সেটা আল্লাহ বলেছেন।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ১০ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ কর না কেন- তার মিমাংসা তো আল্লাহরই নিকট। তিনিই আল্লাহ- আমার প্রতি পালক; তাঁর উপর আমি নির্ভর করি, আর আমি তাঁর অভিমুখী।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

* সাহাবার (রা.) মতভেদ নিরসনের দায়িত্ব আখারিনের। তা্ঁদেরকে এ দায়িত্ব আল্লাহ দিয়েছেন।তাঁদের শুরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।তাঁদের কেউ রাসূলের (সা.) সাথে মিলিত হননি এবং তাঁদের কেউ সাহাবার (রা.) সাথে মিলিত হননি। সুতরাং আখারিন হলেন তাবেঈ ও তাবে তাবেয়ী সহযোগে গঠিত একটি শুরা।যেহেতু আল্লাহ অভিন্ন পথ দেখান সেহেতু এমন একটির বেশী শুরা গঠিত হয়নি। সেই সূরায় তাবেঈ ছিলেন ইমাম আবু হানিফা (র.)। তিনি হযরত আনাস বিন মালেকের (রা.) সাক্ষাৎ পেয়ে তাবেঈ সাব্যস্ত হয়েছেন।তাঁর শুরার অন্যান্যরা তাবে তাবেঈ ছিলেন। উক্ত শুরা রফেঈ ইয়াদাইন বিষয়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) মতভেদের থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) অভিমত গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতে গঠিত শুরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) অভিমত গ্রহণ না করায় এটি বাতিল সাব্যস্ত হবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।

* সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মতভেদের কারণে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে আগে থেকে ক্ষমা করায় তাঁরা মুমিন থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অন্যান্যরা কাফের হয়ে গেছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নিজেদের মতভেদ নিরসন না করে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়েছেন বিধায় আল্লাহ তাঁদের মতভেদ নিরসনের দায়িত্ব আখারিনের শুরাকে প্রদান করেছেন। মতভেদ নিরসনে ইমাম আবু হানিফার (র.) শুরা ছাড়া অন্য কোন শুরাকে আখারিন বলার সুযোগ না থাকায় রফেঈ ইয়াদাইন বিষয়ে এ শুরার মত গৃহিত হয়ে এ শুরার মতের গরমিল হাদিস বাতিল হবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

* কোরআন অনুযায়ী ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় বিশ্ব মুসলিম ইমাম আমিরের শুরা আখারিনের শুরার অভিমত পরিশোধনের অধিকার রাখে। রফেঈ ইয়াদাইন বিষয়ে আখারিনের শুরার অভিমত ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় বিশ্ব মুসলিম ইমাম আমির হারুনুর রশিদের শুরা বহাল রাখায় এ বিষয়ে কোন হাদিস দিয়ে কারো মতভেদের কোন সুযোগ নাই। সুতরাং আখারিনের শুরা ও আমিরের শুরার অভিমত অনুযায়ী নামাজে একবারের অধীক রফেঈ ইয়াদাইন বাতিল সাব্যস্ত হবে। নামাজে যারা একবারের বেশী রফেঈ ইয়াদাইন করবে তাদের নামাজ বাতিল হবে।

৪| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সহিহ হাদিস সংকলনে কোরানিক পদ্ধতি বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিক সমুহ তুলে ধরেছেন ।
ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় প্রধান উৎস হল হাদিস হাদিস। কুরআনের ব্যাখ্যা, বিধান বাস্তবায়ন ও নবি(সা.) এর
আদর্শ অনুসরণের ক্ষেত্রে সহিহ হাদিসের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো ইতিহাসের বিভিন্ন
পর্যায়ে রাজনৈতিক, মতাদর্শিক, আবেগপ্রবণ ও কখনো ব্যক্তিস্বার্থমূলক কারণে জাল (মাওদূ‘) ও দুর্বল (দাঈফ)
হাদিসের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আধুনিক যুগে বই, বয়ান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনিয়ন্ত্রিত ইসলামিক
আলোচনার মাধ্যমে এসব হাদিস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ
মুসলিম সমাজ বিশেষত যারা হাদিস যাচাইয়ের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন।

হাদিস শাস্ত্র একটি বিশেষায়িত জ্ঞানশাখা যার মধ্যে রয়েছে ইলমুল রিজাল, ইসনাদ যাচাই, মতন বিশ্লেষণ, শুজূয
ও ইল্লাত নির্ণয় ইত্যাদি। সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে এসব জটিল পদ্ধতি জানা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে তারা প্রায়ই
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তার বক্তব্য, আবেগঘন ওয়াজ, বহুল প্রচলিত বই বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত
পোস্টএসবের উপর নির্ভর করে হাদিস গ্রহণ করেন। এতে সহিহ ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণনার মধ্যে সীমারেখা বিলুপ্ত
হয়ে যায়।

জাল ও দুর্বল হাদিস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল বা মতের স্বার্থে তৈরি বা ব্যবহার করা হয়েছে মর্মে ব্যপক অভিযোগ
রয়েছে। এর ফলে ইবাদতের পদ্ধতি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মতভেদ সৃস্টি হচ্ছে, সুন্নাহ বনাম বিদ‘আহ বিতর্কের তীব্রতা বাড়ছে,ফিকহি মতভেদের জায়গায় আকিদাগত কঠোরতা তৈরী হচ্ছে। ফলে সাধারণ মুসলমান বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন ,
কোনটি সত্য সুন্নাহ আর কোনটি ভিত্তিহীন প্রচলন, তা নির্ণয় করতে না পেরে অনেক সময় ধর্ম থেকে বিমুখ বা
চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবনতা দেখা যাচ্ছে ।

দুর্বল বা জাল হাদিস প্রায়ই অতিরঞ্জিত সওয়াব বা ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে ফরজ ও ওয়াজিবের
চেয়ে নফল আমলে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া, সমাজ ও নৈতিকতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু আমলে সীমাবদ্ধতা তৈরী হ ওয়া,
“এই আমল করলেই সব গুনাহ মাফ” এ ধরনের সরলীকৃত ধর্মচিন্তা গড়ে ওঠে, যা ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ
জীবনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

যেসব আমলের ভিত্তি দুর্বল বা জাল হাদিস, সেগুলো ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংস্কৃতি তে পরিণত হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম
তা অনুসরণ করতে থাকে। ফলস্বরূপ প্রমাণিত সুন্নাহ উপেক্ষিত হয়, প্রশ্ন করলে বেয়াদবি বা ফিতনার অভিযোগ ওঠে,
ধর্মীয় সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় ।এতে সুন্নাহর প্রকৃত চেতনা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

যখন দুর্বল উৎসের উপর ভিত্তি করে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া হয়, তখন প্রায়শই দেখা যায় একেক আলেম একেক কথা
বলেন,সাধারণ মানুষ আলেম সমাজের উপর আস্থা হারায়, সব কিছুতেই তো মতভেদ এমন আপেক্ষিক চিন্তা জন্ম
নেয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ইলমের মর্যাদা হ্রাস করে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সহিহ হাদিসভিত্তিক পাঠ্য ও আলোচনার প্রসার, বক্তা ও লেখকদের জন্য উৎস
উল্লেখের সংস্কৃতি চালু করা সেসাথে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ন্যূনতম হাদিস সচেতনতা সৃজন করা খুবই জরুরী ।

মনে রাখতে হবে জাল ও দুর্বল হাদিসের ব্যাপক প্রচার নিছক একটি ইলমি সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মুসলমানদের
আমল, চিন্তা, ঐক্য ও ধর্মীয় ভারসাম্যের উপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যারা হাদিস যাচাইয়ের জটিল
প্রক্রিয়া জানেন না, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই আবেগ নয়, বরং প্রামাণ্যতা ও দায়িত্বশীলতার
ভিত্তিতেই ইসলামি জ্ঞান প্রচার ও গ্রহণ করা এটাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

মুল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ

শুভেচ্ছা রইল

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি মনোযোগ সহকারে পড়লাম। পোষ্টের সাথে আপনার মন্তব্যটি পাঠক মনোযোগ দিয়ে পড়লে তাদের পোষ্ট বুঝতে সুবিধা হবে। সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য আপনার প্রতি অনেক ধন্যবাদ ও দোয়া ।

৫| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

আপনি বুঝে শুনে কোরআন পাঠ করেন না।
তাই আপনার জ্ঞান পূর্নাঙ্গ নয়।

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৫১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনি বুঝে শুনে কোরআন পাঠ করে কি জ্ঞান হাসিল করেছেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.