নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের সাথে মতভেদ মহাশাস্তির (জাহান্নাম) কারণ?

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৩৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* আল্লাহ ফিকাহ দ্বারা ভয় প্রদর্শন করতে ও সাবধান হতে বলেছেন। সেজন্য বহু ফিকাহ সংকলিত হয়েছে। তারমধ্যে আমির অনুমোদীত ফিকাহ একটি।আল্লাহ আমিরকে মানতে আদেশ করায় আমির অনুমোদীত ফিকাহ মান্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং আমির অনুমোদীত ফিকাহের সাথে মতভেদ মহাশাস্তির (জাহান্নাম) কারণ। আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতে গঠিত আমির অনুমোদীত ফিকাহের পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল।সংগত কারণে আয়াত ও হাদিস দিয়ে আমির অনুমোদীত ফিকাহের সাথে মতভেদের কোন সুযোগ নাই। যারা এটা করে তারা আল্লাহর সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাহান্নামে চলে যায়। আমির তবে ফিকাহ অনুমোদন দিলেন কেন?

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

# সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াতের তাফসির- তাফসিরে ইবনে কাছির
৩। এ আয়াতের তাফসিরে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহর পার্শ্বে বসে ছিলাম, এমন সময় তাঁর উপর সূরা জুমুয়া অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞাস করেন হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ‘ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিন বার এ প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে সালমান ফারসীও (রা.) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাতখানা সালমান ফারসীর (রা.) উপর রেখে বললেন, ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থাকত তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক কিংবা একাধিক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেত।(ফাতহুলবারী ৮/৫১০, মুসলিম ৪/১৯৭২, তিরমিযী ৯/২০৯, ১০/৪৩৩, নাসাঈ ৫/৭৫, ৬/৪৯০, তাবারী ২৩/৩৭৫)।

সহিহ আল বোখারী, ৬৫৭২ নং হাদিসের (কিতাবুল ফিতান)-
৬৫৭২। হযরত ওসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবি করিম (সা.) মদীনার এক সুউচ্চ অট্টালিকার উপর আরোহন করে বললেন, আমি যা কিছু দেখছি, তোমরা কি তা’ দেখছ? তারা বলল, জী না। তিনি বললেন, আমি দেখছি যে, তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।

* আমির অনুমোদীত ফিকাহ না থাকায় সাহাবায়ে কেরাম (রা.) পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। এসব যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত সাহাবা মুমিন থাকলেও অন্যরা কাফের হয়ে গিছে। কুফুরির বিস্তার লাভ করে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট চলে যায়।সেজন্য কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাঁর মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়। মদীনাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ইয়াজিদ তাঁদেরকে লাঞ্চিত করে। তখন মদীনার ঘর সমূহের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হয়।নেজন্য ফিকাহ সংকলন তৈরী করা এবং এটি আমির কর্তৃক অনুমোদীত হওয়া জরুরী ছিল। নতুবা সারা বিশ্বের মুসলিমের ঘর সমূহ ফিতনা থেকে অনিরাপদ থেকে যেত।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলবে না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধী আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।
৩৩। আর তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রচীন যুগের মত নিজদিগকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।তোমরা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে। হে আহলে বাইত (নবি পরিবার)! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।

* মুসলিম বিশ্বের ফিতনা প্রতিরোধে আখারিনের শুরা তথা ইমাম আবু হানিফা (র.) ও তাঁর ছাত্রবৃন্দের শুরা ফিকাহ সংকলন করলে ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় আব্বাসীয় আহলে বাইত আমির হারুনুর রশিদের শুরা উক্ত ফিকাহ পরিশোধন করে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়।কিন্তু তথাপি বেকুবের দল আয়াত ও হাদিস দিয়ে উক্ত ফিকাহের সাথে মতভেদে লিপ্ত থাকায় মুসলিম জাতি ফিতনা থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পায় নাই।অথচ আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতে সাব্যস্ত ফিকাহের পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়।রদ্দে আবু হানিফার (র.) নিয়তে বেকুবের দল বহু ফিকাহ ও হাদিস সংকলন তৈরী করে যার একটিও আমির অনুমোদীত নয়। সংগত কারণে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম হানাফী ফিকাহের অনুসারী থেকে যায় এবং বেকুবের দল মাথা কুটে মরে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার জানাজা নিয়েও বেকুবের দল উত্তেজনা প্রকাশ করে।এসব বেকুব মুসলিম জাতির অশান্তির একটি প্রধান কারণ।

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।

* যারা হযরত মুয়াবিয়ার (র.) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা বলবেন কি মাওলা আলী (রা.) ফিকাহ সংকলন প্রস্তত করেননি কেন? তিনি ফিকাহ সংকলন প্রস্তত না করায় তাঁর সাথে কেউ যুদ্ধ করলে এর দায় কার? সেজন্য আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) পাইকারী ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু বেয়াদব তাবেঈ সাহাবার উপর অস্ত্র ধারণ করে কাফের হয়ে গেছে। কারণ আল্লাহ যাঁদেরকে ক্ষমা করেন তাঁদের উপর অস্ত্র ধারণ করাতো দূরের কথা তাঁদের সমালোচনা করাও কুফুরী। এটা আল্লাহর ক্ষমার কুফরী।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



একটি কি দুটি আয়াত লিখে পরে বিভিন্ন দৃস্টিকোন হতে
সেটির তর্জমা তাফসির করলে পাঠকগন সহজে বুঝতে
পারবে আযাতটি মর্মার্থ ।

শুভেচ্ছা রইল

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আল্লাহ সর্বনিম্ন তিনটি আয়াত একটি সূরা হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। আর তিনি সর্বোচ্চ ২৮৬ আয়াত একটি সূরা হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। একটি কি দুটি আয়াত দিয়ে কাংখিত মর্ম না আসলে তারচেয়ে বেশী আয়াত এক সঙ্গে উপস্থাপন না করে উপায় থাকে না। বাকারা বা গাভী সূরা বা অধ্যায়ে বিষয়টি ছিল নিজের দোষ পরের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজের দোষে পরকে বিপদগ্রস্থ্য করার মত গুরুতর অপরাধ। এটা এমন একজন নবির (আ) সময়ে করা হয়েছে যে নবি (আ) আল্লাহর সাথে কথা বলেন। উক্ত ঘটনার সুরাহা বিষয়ে সূরাটি উপস্থাপিত। পরে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ বিষয় যোগ হয়ে সূরাটি ২৮৬ আয়াত হয়েছে। এটি যাঁর কাজ সেই আল্লাহ নবচেয়ে বেশী সুবিবেচক। আমি আল্লাহর বান্দা হিসাবে তাঁর কিছু কাজ করে দিচ্ছি। আমি মনে করি কেউ আমার কথা বুঝলে সে উপকৃত হবে। এর জন্য তার আমার কথা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। এটাকে কেউ গুরুত্ব না দিলে সেটা তার বিষয়। কেউ কারো উপকার গ্রহণ না করলে জোর করে তো কারো উপকার করা যায় না। আমি যা জানি সেটা আমি না বললে আমি দোষারফের মধ্যে পড়ব বিধায় আমি বলছি। কেউ আমার কথা না শুনা বা নাবুঝার দায় আমার নয়। আমি আমার সাধ্যের ষোলআনা দিতে চেষ্টা করি। কেউ তারচেয়ে বেশী প্রত্যাশা করলে আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে অপারগ।

২| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: জান্নাত জাহান্নাম নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: মাদুরো হয়ত ভাবেননি ট্রাম্প তাঁকে ছিনতাই করবেন। তথাপি তেমন ঘটনা ঘটেছে। জান্নাত জাহান্নাম নিয়ে চিন্তা না করলেই যে সে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটবে না বিষয়টা সেরকম না।

৩| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


ফিকাহ মানার কথা না বলে যারা কোরআন-হাদিস মানার কথা বলে তারা আল্লাহর সাথে মতভেদে লিপ্ত হয়

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

* আল্লাহ ফিকাহ দিয়ে ভয় প্রদর্শন করতে ও সাবধান হতে বলেছেন। সুতরাং ফিকাহ মানার বিষয়ে আল্লাহর কথা সুস্পষ্ট। সুতরাং ফিকাহ মানার কথা না বলে যারা কোরআন-হাদিস মানার কথা বলে তারা আল্লাহর সাথে মতভেদে লিপ্ত হয়, যা তাদের মহাশাস্তির কারণ।

সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ২ বাকারা, ৩৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৪। আর যখন আমরা ফেরেশতাগণকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর তখন ইবলিশ ছাড়া সবাই সিজদা করে ছিল। সে অগ্রাহ্য করলো, আর অহংকার করলো এবং কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।

* কোরআন এবং এর বিবরণ হাদিসে মানসুখ আছে বিধায় উভয়টিতে ব্যতিক্রম আছে। মানসুখ বাদ দিয়ে যে ফিকাহ গঠিত হয় তাতে পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম থাকা সম্ভব নয়। এমন ফিকাহ আল্লাহর সুন্নাত। যারা এমন ফিকাহের সাথে মতভেদে লিপ্ত হয় তারা অহংকারে আক্রান্ত হয়ে কাফের হয়ে যায়।সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) আল্লাহ ক্ষমা করবেন বিধায় তাঁদের সময় আল্লাহ এমন ফিকাহ দৃশ্যমাণ করেননি। তাঁরা রাসূলের (সা.) অলিখিত ফিকাহের অনুসারী ছিলেন।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

* ফিকাহ সংকলনের বিষয় আল্লাহ আখারিনের শুরার জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন। এটা ছিল তাঁদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর ইচ্ছার ব্যাপার। এ শুরার প্রধান ছিলেন ইমাম আবু হানিফা (র.) এবং এর সদস্য ছিলেন তাঁর ছাত্রবৃন্দ। তাঁরা ফিকাহ সংকলন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।উক্ত শুরার প্রধান সদস্য ইমাম আবু ইউনুফ (র.) পরে খেলাফতের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলবে না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধী আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।
৩৩। আর তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রচীন যুগের মত নিজদিগকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।তোমরা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে। হে আহলে বাইত (নবি পরিবার)! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।

* ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আহলে বাইত আব্বাসীয় আমির হারুনুর রশিদের শুরায় ইমাম আবু হানিফার (র.) শুরা সংকলিত ফিকাহ পরিশোধীত হয়ে আমির হারুনুর রশিদ কর্তৃক অনুমোদীত হলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয় এবং এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* হানাফী ফিকাহ বিরোধীরা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে বিভিন্ন পথ অনুসরন করে যার কোনটি ইব্রাহীম (আ.) বংশীয় কোন মুসলিম বিশ্ব আমির কর্তৃক অনুমোদীত নয়। উক্ত বিভিন্ন পথের যাত্রী হয়ে তারা সবাই জাহান্নামের পথের যাত্রী হয়ে যায়।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

* আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতে গঠিত হানাফী ফিকাহের পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়। আল্লাহর অভিন্ন পথ হানাফী ফিকাহ ছেড়ে যারা বিভিন্ন পথের যাত্রী হয়েছে তারা মানসুখ আয়াত ও বাতিল হাদিসের প্রভাবে এমন দুরবস্থায় পড়েছে। রাসূল (সা.) মাওলা আলীকে (র.) মাওলা বলেছেন তো কি হয়েছে মানতে তো হবে এ হাদিসের ফিকাহ। এ হাদিসের ফিকাহ কি?

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

* আল্লাহ সাদেকীনদের সাথে থাকতে বলেছেন। রাসূল (সা.) সিদ্দিক খেতাব দিয়েছেন হযরত আবু বকরকে (রা.)। সুতরাং রাসূলের (সা.) পর তাঁর উম্মত হযরত আবু বকরের (রা.) সাথেই থাকবেন। তিনিই হবেন রাসূলের (সা.) পর মুসলিমদের জন্য রাসূলের (সা.) খলিফা। আর হযরত আলী (রা.) হবেন মুসলিমদের জন্য রাসূলের (সা.) ওলী। রাসূল (সা.) একা যে দায়িত্ব সামলিয়েছেন তাঁর পর এর একাশেংর দায়িত্ব খলিফার এবং অন্য অংশের দায়িত্ব ওলীর। রেসালাতের দায়িত্ব সম্পন্ন করে রাসূলের (সা.) ইন্তেকাল হওয়ায় রাসূলের (সা.) ওলী হযরত আলীর (রা.) দায়িত্ব ছিল রেসালাতের ফিকাহ সংকলন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা। তিনি সে দায়িত্ব পালন না করায় তাঁকে রাসূলের (সা.) ওলী বলার সুযোগ থাকলো না। অবশ্য পরে তিরি রাসূলের (সা.) খলিফা হয়েছেন। অবশ্য আল্লাহর বিশেষ জ্ঞানের বেলায়াত হযরত আলী (রা.) থেকে প্রচারিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.