নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মিথ্যা বলি....সত্যিই মিথ্যা বলি

পাগলাটে আজ,মন শুধু চায়,পাগল হয়ে যেতে,তোমায় কাছে পেতে..

খালিদ ফারহান

আমি কেউ না।আই অ্যাম নোবোডি।লল।।ঃপি

খালিদ ফারহান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুঘল সাম্রায্য এবং আমাদের সমাজবিজ্ঞান পড়া - ১

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:০৭



আজকে বাদশাহ তার দ্বিতীয় ঘুম টি দেন নি। এমনিতে প্রতিদিনের নিয়ম হল বাদশা প্রথমে ভোরবেলা আজানের পরে ঘুম থেকে ওঠেন, নামাজ পড়েন এবং তার দুর্গের দক্ষিণ পাশের জানালা খোলেন। হাজারো মানুষ ভোর বেলায় বাদশাহ কে একবার দেখার জন্য তার জানালার নিচে জমা হয়। তারা জানতে চায় যে হিন্দুস্তান এর বাদশাহ এখনো বেঁচে আছে। তাদের দেখা দিয়ে বাদশাহ তার দ্বিতীয় ঘুম দিতে যান এবং ১২ টার দিকে উঠে রাজ দরবারে যান।

সেসময় সময় খুব খারাপ ছিল। ভাই ভাইকে বিশ্বাস করতে পারতো না। এজন্য এটা জরুরি ছিল। আমি বলছি ১৫26 সালের কথা। খুব বেশিদিন আগের ঘটনা না। আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে আমাদের আশপাশের অবস্থা কেমন ছিল উঁকি মারা যাক :)

তো বাদশাহ আজ দ্বিতীয় ঘুম টি দেন নি। বৈশাখ মাসের গরম একটা কারণ কিন্তু তার থেকেও বড় কারণ হল আজ ৩ জন প্রজা কে খোঁজা করা হবে এবং বাদশাহ নিজে দেখতে চান খোঁজা করার প্রক্রিয়া। তিন জন গ্রামবাসী কে আনা হয়েছে। সবাই শক্ত সমর্থ পুরুষ। ২৪-২৫ বছর বয়সী। খোঁজা করার প্রক্রিয়া হবে মাটির নিচে কারণ খুব চিৎকার করে এসময় প্রজা রা।
বাদশাহ তার মাটির নিচের ঘরে গেলেন। তার সাথে আছে পানিবাহক এবং দুজন সেবিকা। সেবিকাদের বাদশা বললেন, তোমরা চিতকার সহ্য করতে পারবে না। জেনানা মহলে ফেরত যাও। বাদশা পানিবাহক কে নিয়ে প্রবেশ করলেন খোঁজা করানোর কক্ষে।
খোঁজা করার প্রক্রিয়াঃ

প্রচন্ড তাপে প্রথমে সীসা গলিয়ে ফেলা হয় একটা বড় হাড়িতে। এরপর সে গলন্ত সীসা একটি বড় চামচ সদৃশ বস্তুতে নেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় তিনজন সিপাহীর সাহায্য প্রয়োজন। প্রথম জন চামচে করে গলন্ত সীসা নিয়ে আসে, দ্বিতীয় জন যে প্রজা কে খোঁজা করানো হবে তার কোমরের ওপরে বসে থাকে এবং তৃতীয়জন প্রজার গলা চেপে ধরে রাখে।
এর পর চামচে করে গলন্ত সীসা প্রথমে ডান কান দিয়ে প্রবেশ করানো হয় প্রজার। কান পুরো ভরে গেলে কিছুক্ষন ধরে রাখা হয় এবং বাতাশ করা হয় যাতে সীসা শক্ত হয়ে যায়। এরপর একইভাবে বাম কান খোঁজা করানো হয়।

বাদশাহ দেখছেন। প্রজারা পাগলের মত চিতকার করছে। কিন্তু কিছু করার নেই। দরবার মহলে নতুন প্রহরী প্রয়োজন। প্রহরী নেয়ার আগে তাকে খোঁজা করতে হবে কারণ বাদশাহ এবং তার বিবি রা কি আলাপ করে তা শোনার অধিকার তাদের নেই।
খোঁজা করা শেষ হয়েছে। ক্লান্তিকর এই কাজ দেখে বাদশাহ ক্লান্ত কিন্তু একই সাথে তার ইচ্ছে করছে বই পড়তে। আমাদের হিন্দুস্তানের বাদশাহ অনেক পড়ুয়া সভাবের। তার শয়নকক্ষের পাশেই বিশাল বইঘর। তিনি বই ঘরে প্রবেশ করলেন।
আমরা কথা বলছি এমন একজন কে নিয়ে যিনি আমরা যেখানে থাকি এই সব জায়গা শাসন করেছেন। তখন এত ভাগ ছিল না। পুরো হিন্দুস্তান শাসন করতেন একজন ই। শাসন শুরু হল এবং আমাদের গল্প ও শুরু হল।

আমাদের বাদশাহ এর নাম জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ। আমরা তাকে সমাজ বই এ চিনি বাদশাহ বাবর নামে। রক্তের সম্পর্কে উনার পিতার দিকে আছেন মঙ্গোলের বিখ্যাত শাহেনশা তৈমুর আর তার মায়ের দিকে আছেন আরেক বিখ্যাত রাজা চেঙ্গিজ খান।
দেখাই যাক বাবরের এই ঢাকা, চিটাগং, দিল্লি, পাঞ্জাব বা লাহোর শাসন কেমন ছিল। আমাদের সমাজ বইগুলা সেই লেভেলের তাই কনসেপ্ট ক্লিয়ার হওয়া টাফ। বাবর আমাদের এই এলাকায় মুঘল সাম্রাজ্য বানিয়েছিল একটা যুদ্ধ জিতে এই এলাকা দখল করে। যুদ্ধটার নাম আমরা সবাই জানি। এটা ছিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধ।

(চলবে)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.