| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মো: ফজলুল হক পিয়াশ
ওয়েব সাইট ডেভেলপার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার, ভিশন ষ্টুডিও সফটওয়্যার।
আচ্ছালামুআলাইকুম। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা সাধারণ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ ভুল যেগুলো রমজানের সময় আমরা করে থাকি।
১. রামাদানকে একটি প্রথাগত অনুষ্ঠান মনে করাঃ
আমাদের অনেকের কাছে রামাদান তাঁর আধ্যাত্মিকতা হারিয়ে ইবাদাতের বদলে একটি প্রথাগত অনুষ্ঠানের রূপ লাভ করেছে। আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘zombie’র মত উপোস থাকি শুধুমাত্র আমাদের আশেপাশের সবাই রোজা রাখে বলে। আমরা ভুলে যাই যে এই সময়টা আমাদের অন্তর ও আত্মাকে সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য.... আমরা দু’আ করতে ভুলে যাই, ভুলে যাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে মুক্তি দান করতে। নিশ্চিতভাবে আমরা পানাহার থেকে বিরত থাকি কিন্তু সেটা কেবল লৌকিকভাবেই!
যদিও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “জিবরাঈল (আঃ) আমাকে বলেছেন, আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির নাক মাটিতে ঘষুন যার নিকট রামাদান আসল এবং তার গুনাহসমূহ মাফ হল না, এবং আমি বললাম, আমিন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির নাকও মাটিতে ঘষুন যে জীবদ্দশায় তার পিতামাতার একজনকে অথবা উভয়কে বৃদ্ধ হতে দেখল এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করার অধিকার রাখল না তাদের সেবা করার মাধ্যমে আর আমি বললাম, আমিন।
অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির নাক মাটিতে ঘষুন যার উপস্থিতিতে যখন আপনার নাম উচ্চারণ করা হয় তখন সে আপনার প্রতি সালাম বর্ষণ করে না আর আমি বললাম, আমিন।”(তিরমিযী, আহমাদ, এবং অন্যান্য_আলবানী কর্তৃক সহীহকৃত)
২. পানাহারের ব্যাপারে অতিমাত্রায় চাপে থাকাঃ
আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে, রামাদান মাসের পুরোটাই খাবার ঘিরে আবর্তিত হয়। সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদাতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া বদলে আমরা পুরোটা দিন কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন, রান্নাবান্না, কেনাকাটা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তা করে কাটাই। আমাদের চিন্তা ভাবনার পুরোটা জুড়েই থাকে ‘খাওয়া-দাওয়া’।
যার দরূন আমরা উপোস থাকার মাসকে ভোজের মাসে পরিণত করেছি। ইফতারের সময়ে আমাদের টেবিলের অবস্থা দেখার মত! পুঞ্জীভূত নানাপদী খাবার, মিষ্টান্ন এবং পানীয়ে পরিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, আমরা রামাদানের মুখ্য উদ্দেশ্য ভুলে যাচ্ছি, আর এভাবে আমাদের লোভ আর প্রবৃত্তির অনুসরণ বাড়তে থাকে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষালাভ করার বদলে। এটাও একধরনের অপচয় এবং সীমালঙ্ঘন।
“.....তোমরা খাও এবং পান করো, এবং কোনো অবস্থাতেই অপচয় করো না, আল্লাহ্ তাআলা কখনোই অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না ।”(সূরা আ’রাফঃ৩১)
৩. সারা দিন রান্না করে কাটানোঃ
কতিপয় বোন(হয় স্বেচ্ছায় নতুবা স্বামীর চাপে) সারা দিন ও সারা রাত ধরে রান্নাবান্না করতে থাকেন, তার ফলে দিনের শেষে তারা এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে এশার সালাত পড়তে পারেন না, তাহাজ্জুদ কিংবা কুরআন তিলাওয়াত তো দূরে থাক! এই মাস হল মাগফিরাত এবং মুক্তিপ্রাপ্তির মাস। সুতরাং, চলুন আমরা চুলা বন্ধ করে নিজেদের ঈমানের প্রতি মনযোগী হই।
৪. মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়াঃ
আমাদের কিছুসংখ্যক সেহরীর সময়ে নিজেদেরকে বিস্ফোরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভরাক্রান্ত করে তুলি, কারণ আমরা মনে করি সারা দিন ক্ষুধার্ত অনুভব না করার এটাই একমাত্র পথ, আর কিছুসংখ্যক রয়েছেন যারা ইফতারের সময় এমনভাবে খান যাতে মনে হয় আগামীকাল বলে কিছুই নেই, সারাদিন না খাওয়ার অভাব একবারেই মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যাহোক, এটা সম্পূর্ণরূপে সুন্নাহ্ বিরোধী কাজ।
পরিমিতিবোধ সব কিছুর চাবিকাঠি। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “আদম সন্তান তার উদর ব্যতীত আর কোনো পাত্রই এত খারাপভাবে পূর্ণ করে না, আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ সোজা রাখার জন্য এক মুঠো খাবারই যথেষ্ট। যদি তোমাদেরকে উদর পূর্ণ করতেই হয়, এক তৃতীয়াংশ খাবার দ্বারা, এক তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা আর অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ বায়ু দ্বারা পূর্ণ করো।”(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্, আলবানী কর্তৃক সহীহ্কৃত)
অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ একজন মানুষকে আবশ্যকীয় অনেক আমল এবং ইবাদাত হতে দূরে সরিয়ে নেয়, তাকে অলস করে তোলে এবং অন্তরকে বধির করে ফেলে।
ইমাম আহমদকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ “উদরপূর্ণ অবস্থায় একজন মানুষ কি তার হৃদয়ে কোমলতা ও বিনয় অনুভব করে?” তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “আমার মনে হয় না।”
ধন্যবাদ। ইনশাআল্লাহ্ সামনে আরো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১১
মো: ফজলুল হক পিয়াশ বলেছেন: ইনশাআল্লাহ্ আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুক। আমিন।
২|
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১২
নৈঋত বলেছেন: ভাল লিখেছেন। অনেক অজানা জিনিস জানলাম। ধন্যবাদ
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১৫
মো: ফজলুল হক পিয়াশ বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ্ সামনে আপনাদেরকে আরো ভাল কিছু জানাতে পারবো। ![]()
৩|
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৩১
ধীবর বলেছেন: ধন্যবাদ। পবিত্র রমাদান শুধু আমার দৈহিক নয়, আত্মিক ও মানসিক শুদ্ধতার জন্যও রহমত স্বরুপ দান করা হয়েছে। লৌকিকতার চাপে পড়ে আমরা শুধু উপোস থাকাটিকেই রোজা হিসাবে মান্য করছি। (সবাই নয়)।
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৫৩
মো: ফজলুল হক পিয়াশ বলেছেন: হ্যা। আমাদের সমাজে এখন যেটা হচ্ছে তা আমরা চাপে পড়েই করছি। কিন্তু বলা আছে, "যখন জান্নাতে কেউ যাবেন তখন দুনিয়ার এই কষ্ট হাসি ঠাট্টার বিষয় হয়ে দাড়াবে যেমনটা আমরা দেখেছি ক্লাস ৫ এ রাগী স্যারের হাতে মার খাওয়ার আগের মুহূর্ত এবং ১০ বছর পরে বন্ধুদের সাথে হাসি ঠাট্টার বিষয়"
আল্লাহ্ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন যেন আমরা এই সামান্য কষ্ট করেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:০৬
িটউব লাইট বলেছেন: অনেক ভালো লাগল । মানার চেষ্টা করব ইনসা আল্লাহ