নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবদ্ধ রক্ত হতে। পড়ো, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত, যিনি কলমের দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (আল-কুরআন, সূরা-আলাক, আয়াত ১-৫)

ফজলুল কােদর

আসসালামু আলাইকুম...। যে ব্যক্তি ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করে সেই প্রকৃত বন্ধু। (ফজলুল কাদের বিন আব্দুল কুদ্দুছ) [email protected]

ফজলুল কােদর › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক কঠিন আত্মোপলব্ধিঃ আমি কি আসলেই মুসলিম

০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৬



আমরা আসলে সবাই এক সেলুকাসের দুনিয়ায় বাস করি । কেন কথাটা বললাম কারণ আমরা সারাদিন যা বলি বা বিশ্বাস করি বাস্তবে তা করার জন্য তেমন আগ্রহী না । আমরা সবাই জানি একদিন মরতে হবে , কিয়ামত আছে, হাশর আছে, জান্নাত আছে , জাহান্নাম আছে, আখিরাতের জীবন অনন্ত কালের সেখানে কোন মৃত্যু নাই । কিন্ত আমাদের কাজ বা আচরণে তা প্রকাশ পায় না । কেউ যদি ব্যবসায়ী বা খেলোয়াড় হয় তাহলে সে সারাদিন তার কাজ নিয়ে কথা বলে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে । ব্যবসায়ী কখনো এমন কাজে সময় নষ্ট করে না যার ফলে ব্যবসার ক্ষতি হয় তেমনি খেলোয়াড় সারাদিন খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তার সমস্ত চিন্তা ঐ কাজে ব্যইয় করে । সুতরাং মানুষ যা বিশ্বাস করে তার কাজ কর্মে তার প্রতিফলন ঘটে । আমরা মুসলিম আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে একদিন মারা যেতে হবে আর আখিরাতের জীবনের যাত্রার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই । কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না । কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ভাই আপনি তো মুসলমান আপনি নামায পড়ার ফযিলত জানেন ? সে বলবে জানি । নামায না পড়ার শাস্তি কি ? সে বলবে এক ওয়াক্ত নামায না পড়লে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামে জ্বলা লাগবে । কিন্তু নামায পড়েন না কেন? সে তখন নানা অজুহাত দেখাবে বা বলবে পড়ব পরে । কিন্তু আসল কারণ নামায পড়ার প্রতি তার একীন এখনো তৈরী হয় নাই । আসলেই যদি নামাযের প্রতি তার ঈমান থাকত আর নামাযের ফযীলত আর শাস্তির বিধানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সে কখনো নামায ত্যাগ করতে পারতো না । আমরা সবাই জানি আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যায় এই বিশ্বাস আমাদের মধ্যে এত শক্ত যে আগুন দেখলেই লাফ দেই । কোন অন্ধ কে বলা হয় যদি ভাই সামনে সাপ , পা দিলে কামড় খাবেন তাহলে সে কি বলবে এই ভাই পরে সরতেছি নাকী পরি কি মরি বলে দৌঁড় দেবে ।



আর আমরা নামাযের সময় অন্য কাজ করি কিন্তু নামায পরতে পারি না তার মানে আমাদের ভেতরে নামাযের প্রতি বিশ্বাস ভাল ভাবে তৈরী হয় নাই । আমাদের ক্বলবে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা বদ্ধমূল আর তাই সেখানে এখনো আখিরাতের বুঝ আসে নাই । আসলে আমরা মৃত্যুর জন্য এখন প্রস্তত না । আরে ভাই আপনি কি জানেন মালাকুল মউত কখন আসবে ? আর যদি এখন আসে তখন বলবেন একটু পরে আসেন নেক আমল গুলো করে নেই । মনে করেন কোন লোকের খবর আসলো ২ দিনের মধ্যে সে দুবাই/আমেরিকা যেতে পারবে তাহলে সে কি চুপ করে বসে থাকবে বরং সে পাগলের মত তার জিনিস পত্র গোছতে শুরু করবে আর দেখা যাবে ফ্লাইট ছাড়ার অনেক আগে সে রেডী । অথচ সে ঐখানে মাত্র কয়েকদিনের জন্য যাচ্ছে আর তার জন্য গোছগাছের শেষ নাই । আর আমাকে বা আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যদি আপনি মারা গেলে কতদিন পর আসবেন তখন বলা হবে আপনি তো ভাই, মহা ঊল্লুক । মরার পর আর কেউ কি ফিরে আসে । এখন ঐ উল্লুক যদি বলে তাহলে সেই মহাযাত্রার জন্য কি মাল-পত্র গোছাইলেন । এর উত্তর মনে হয় দেয়া হবে না । আরে ভাই দুনিয়ার অল্প কয়দিন যাত্রার জন্য আমাদের এত প্রস্তুতি আর যে খানে অনন্ত কালের জন্য যাব তার কোন খবর ই নাই । তাহলে বলেন কে উল্লুক ? আমাদের কাজ দ্বরা আমাদের নিয়ত আর বিশ্বাস প্রকাশ পায় না । আমরা বলি খারাপ কাজ করলে জাহান্নামে যাওয়া লাগবে আগূনে পোড়া লাগবে যেটা দুনিয়ার থেকে ৭০ গুণ শক্তিশালী । আমরা সেই দুইয়ার আগুনে ১ সেকেন্ড হাত রাখতে পারি না আর অবলীলায় খারাপ কাজ করছি । এখন তাহলে আসলে কি আমাদের মনে জাহান্মামের ভয় আছে ।



আমরা বলি আল্লাহ সব কিছু দেখেন ,শোনেন । আমাদের মনে আসলেই কি এর ঈমান আছে । মনে করেন ভাই একটা চোর যদি পুলিশ দেখে সে কি খারাপ কাজ করার সাহস পায় ? পায় না । শিক্ষক সামনে দাঁড়ালে ছাত্র কি নকল করার সাহস পায় ? পায় না । আর আমি আপনি বলই যে আল্লাহ সব দেখেন ,সব কিছুর খবর রাখেন, আর দেদারসে খারাপ কাজ করতে থাকি । চোরের মন চুরি করতে চাইলে ও সে পুলিশের ভয়ে তার করে না , ছাত্রের মন নকল করতে চাইলে ও সে নকল করতে পারে না। আর আমাদের মনে যদি আল্লাহর ভয় আসলেই থাকত তাহলে খুন হয়ে গেলে ও আমরা সেই কাজ করতাম না যেটা আল্লাহ পছন্দ করেন না । আমাদের আসলে অন্তরে ঈমান আসলে আসে নাই । আমাদের সব দাবী আসলে মৌখিক ।



পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ,



'হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয়।(সূরা মায়দা; আয়াত ৪১)



“ মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।“ (৪৯;১৪)



সুতরাং মুখে বললেই ঈমানদার হওয়া যায় না । প্রকৃত মুসলমান হলো সেই সেই ব্যক্তি সে যা বিশ্বাস করে সে অনুযায়ী কাজ করে।আরে ভাই কেউ যদি নিজেকে খেলোয়াড় দাবী করে আর সারাদিন ঘুমায় তাহলে তাকে কি খেলোয়াড় বলবে কেউ ? কেউ দাবী করে সে ভালো ছাত্র আর সে সারাদিন ঘোরাফেরা করে সে কি ভালো ছাত্র ? আমরা দাবী করি আমরা ঈমানদার আর করি উলটা কাজ তাহলে আমরা কি ধরণের ঈমানদার ? প্রশ্ন রইল.............

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৫০

রানা চৌধুরী বলেছেন: Vai mobile theke likhsi,tai Bangla likhte parsina.Khub shundor likhesen.Khub valo laglo.Allah Quran a boleshen:''This Earth is made attractive for those who loves this Earth,they will not get Jannat.This Earth is a 'Jail Khana' for Those Who is True Muslim''.May Allah bless you.

০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১০:১৭

ফজলুল কােদর বলেছেন: আপনার ভাল লাগা শুনে আমার বলতে ইচ্ছে করছে আলহামদুলিল্লাহ। আপনাকে ধন্যবাদ........

২| ০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২৭

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: মুসলমান শব্দটি কোরআনের কোথাও নাই। যেটা আছে সেটা হলো মুসলিম। সূরা বাকারাহ ১৩২ এবং সুরা আল ইমরান এর ১০২-৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন

(হে ইমানদারগণ) তোমরা মুসলিম না হইয়া মারা যেও না।

সাহাবারা কি মুসলিম ছিলেন না? মুসলিম হতে হলে ৩ টা শর্ত পুরণ করতে খুব কম মানুষই পুরণ করতে পারে। এজন্যই আল্লাহ সূরা ইউসুফ এর ৬ নং আয়াতে বলছেন, ইমানদারদের অধিকাংশই মুশরিক।

এবার আসুন ৩ টা শর্ত কি কি তা জানি।

আল্লাহ বলেছেন,
সূরা আল ইমরান-৬৪> এসো সেই কথায় যা তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এক

১। আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করি না।

অর্থ্যাৎ আল্লাহর আইনকানুন মানাও যেমন আল্লাহর ইবাদত তেমনি আল্লাহর কোরআনের আইনের উপস্থিতিতেও মানুষের রচিত আইন মানা মানুষের ইবাদত। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

২। তার সাথে কোন কিছু শরীক করি না।

অর্থ্যাৎ তার আদেশ সবার উপরে। তার আদেশের বা কোন আইন কানুন বিধিবিধান এর সাথে মানবরচিত আইন কানুন বা বিধি বিধানকে শরীক করিনা। আল্লাহর আইন কোরআনে থাকা অবস্থায় নতুন আইন রচনা করা শিরক বা হুকুম দানের ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীক করা।

৩। আমাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব (আদেশদাতা বিধানদাতা ইলাহ হিসাবে) মানি না।

যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা স্বাক্ষী থাক আমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী আল্লাহর কাছে নিজের ইচ্ছার পক্ষে হোক বা বিপক্ষে হোক)।
=========================================


আপনি উপরে যতগুলো সমস্যার কথা বলেছেন তার মূলে হলো কালেমা না বুঝা। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষই সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্ব সম্পর্কে এমনকি হুজুর রাও এগুলো বিষয় সম্পর্কে ভালো জানে। কিন্তু প্রথম যে কালেমা বা তাওহীদ রয়েছে সে ব্যাপারে অজ্ঞ। মোট কথা বেইজ মেন্ট তাওহীদ এ যাদের প্রবলেম আছে তাদেরই পরবর্তী সমস্যা গুলো বেশী হয়।

ইলাহ মানে অনেক হুজুরকে জিজ্ঞেস করছি। জানে না। বলে ইলাহ মানে মাবুদ, ইলাহ মানে উপাস্য। কিন্তু এগুলো মুখস্থ বিদ্যা।

কালেমা "আল্লাহ ছাড়া কোন "ইলাহ" নাই" এই ঘোষনা যদি কেউ দেয় এবং সে যদি পরের পরের গুলো নামাজ রোজা হজ্ব ইত্যাদি না থাকলেও জান্নাতে যাবে। কিন্তু কালেমা যদি ঠিক না থাকে আর বাকী গুলো পরিপূর্ণ থাকে তাহলেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। থাক এ পর্যন্তই বেশী আগে বাড়লাম না।

========================================
আরেকটা ব্যাপার,

=> নামায না পড়ার শাস্তি কি ? সে বলবে এক ওয়াক্ত নামায না পড়লে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামে জ্বলা লাগবে ।

এই যে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামে জ্বলার ব্যাপারে যে হাদিস টা ফাযায়েলে আমল এ আছে সেটা একটা দুর্বল হাদিস। এটা অনেকের মতে নবীর নামে প্রচলিত জাল বা বানোয়াট ।

০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৩৯

ফজলুল কােদর বলেছেন: আব্দুল্লাহ আরিফ ভাই আপনাকে ধন্যবাদ। খুবই গঠনমুলক উত্তর পেশ করলেন। আমি আপনার সাথে সম্পূর্ন একমত। এই পোষ্ট ছিল সেসব লোকদের জন্য যারা আমাদের সমাজে শির্ক, বিদআত, এর মধ্যে হাবুঢুবু খাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আপনার মত একজন ব্লগার পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। পাশে থাকবেন। আমি ১ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামে জ্বলার ব্যাপারে যে হাদিস টা তা মিথ্যা। এও জানি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার মধ্যে আর কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ তরক করল সে কাফের। (সহীহ মুসলিম) জাযাকাল্লাহ খায়ের।

৩| ০২ রা মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:০০

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: ভাই ইলাহ মানে আদেশদাতা, বিধানদাতা। সূরা জাছিয়া ৪৫:২৩ এবং সূরা ফুরকান ২৫:৪৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, (হে নবী) আপনি কি সেই লোকটাকে দেখছেন যে নিজের খেয়াল খুশীকে "ইলাহ" বানিয়ে নিয়েছে। আপনি কি মনে করেন তারা শুনে। তারা তো চতুষ্পদ জন্তু বা তার চেয়েও নিকৃষ্ট।

উক্ত আয়াতে ইলাহ হিসেবে শুধু আল্লাহকেই মেনে নিতে হবে। নিজে থেকে বিধান রচনা করা আল্লাহর আইন এর উপস্থিতিতে আইন রচনা করা। এগুলো যারা করে তারা মুলত নিজেদের ইলাহ বানিয়ে নেয়।
===============================================
আমার মধ্যে আর কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ তরক করল সে কাফের।

ভাই কিছু মনে করবেন না। প্রথশ অংশ ১০০% সঠিক। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ নিয়ে একটু গড়মিল আছে। যে ব্যক্তি নামাজ তরক করল সে কুফুরী করল। কুফুরী করলেই কাফের হয় না।

তবে সালাত না পড়লে জাহান্নামে যাবে। এটার দলিল হলো
সূরা মুদ্দাসির-৪১-৪২> (জান্নাতিরা প্রশ্ন করবে জাহান্নামীদের) কিসে তোমাদের জাহান্নামে এনেছে। তারা বলবে আমরা সালাত পড়তাম না।

তবে সে যদি শুধু আল্লাহ কে ইলাহ হিসেবে মেনে নেয় এবং আল্লাহর আইন থাকা সত্তেও যদি অন্য মানুষের আইন না মানে তবে সেটা হবে একত্ববাদ। এরুপ লোক সালাত, সাওম, যাকাত না করলেও একদিন না একদিন জাহান্নাম থেকে জান্নাতে যাবে। কিন্তু যারা সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্ব সবই করে। কিন্তু আল্লাহর আইন মানে ঘরে কিন্তু রাষ্ট্রপরিচালনার সময় আল্লাহর আইন মানে না। উল্টো নতুন আইন তৈরী করে শরীক করে আল্লাহর সাথে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নিজেই বলেছেন তারা কাফের জালেম ফাসেক।

সূরা মায়িদাহ-৪৪-৪৫-৪৭> যারা আল্লাহর আইন/বিধান অনুযায়ী রায় দেয় না তারা কাফির, জালিম, ফাসিক।

এটা একেবারে ফিক্সড।

সূরা মায়িদাহ-৭২> যারাই আল্লাহর সাথে শিরক করে/শরীক স্থাপন করে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। তার বাসস্থান জাহান্নাম।

কিছু হাদিস দেই।
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে সে শিরক করে।
(তিরমিজি, কসম ও মানত অধ্যায়-১৫৪১)
জয়নব রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, মন্ত্র তাবিজ ভালবাসা সৃষ্টিকারী তাবিজ নিঃসন্দেহে শিরক।
(ইবনে মাজাহ-৩য় খন্ড হাদিস নং-৩৫৩০)

যে ব্যক্তি তাবিজ লটকাইলো সে শিরক করলো।
(৪র্থ খন্ড-মুসনাদে আহমদ)
=============================================

তিরমিজির একটা হাদিস, হাদিস নং জানি না।
আল্লাহ বলছেন হাদিসে কুদসী-
হে বনী আদম, তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ গোনাহ নিয়ে আমার নিকট আস, আর যদি আমার সাথে শরীক না করো তাহলে আমি আল্লাহ পৃথিবী পুর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাত করবো।

কুরাইব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাসের একজন সন্তান দাড়ালো ছুরির আঘাতে অথবা নির্যাতনের কারণে মারা যায়, তিনি বললেন, হে কুরাইব, দেখ তো কি পরিমাণ মানুষ তার জন্য জমায়েত হযেছে ? সে বলল : আমি বের হয়ে দেখলাম তার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। আমি তাকে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন : তুমি বলছ তারা চল্লিশ জন হবে। সে বলল : হ্যাঁ। তিনি বললেন : তাকে বের কর। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : "কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন মারা যায়, অতঃপর তার জানাযার জন্য এমন চল্লিশ জন লোক দাঁড়ায়, যারা কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করে না।" তবে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ অবশ্যই গ্রহন করবেন। মুসলিম : (৯৪৮)


উপরোক্ত দুটি হাদিসেই একটা শর্ত দেওয়া হইছে "শিরক করা"। কিন্তু এগুলো হুজুরদের চোখে পড়ে না।

আজ আর না। ভালো থাকবেন। যদি আমার কোন ভূল হয়ে থাকে জানাবেন। জাজাকাল্লাহ।

০২ রা মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৫২

ফজলুল কােদর বলেছেন: আব্দুল্লাহ আরিফ ভাই! আপনার ব্যখ্যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে ভাই আপনি বললেন,যে ব্যক্তি নামাজ তরক করল সে কুফুরী করল। কুফুরী করলেই কাফের হয় না।
এটা আমার কথা না, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন> আল-আহাদুল্লাযি বাইনানা ওয়া-বাইনাহুমুছ ছালাত ফামান তারাকাহা ফাকাদ কাফারা। রাওহুল মুসলিম>
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার মধ্যে আর কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ তরক করল সে কাফের। (সহীহ মুসলিম) আপনার মতে কাফের না সে কুফুরি করল। আমার জানামতে ইসলাম ধর্মে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত কুফুরি করে সে কাফের। যেমন, নামাজ ত্যাগ করা, তাবিজ ব্যবহার করা ইত্যাদি। আপনিতো তুলে ধরলেনঃ- সূরা মায়িদাহ-৭২> যারাই আল্লাহর সাথে শিরক করে/শরীক স্থাপন করে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। তার বাসস্থান জাহান্নাম।
তাহলে যারা নামাজ না পড়ে নিজেদের ভিতরে পোশা শয়তানের পূজা করছে অথবা মনের ইচ্ছা মতো কখনো নামাজ পড়ছে না তাদেরকে কি বলবেন?
যারা মনের পূজা করছে তারা কি শির্রক করছে না?
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- (ওয়েল নামক জাহান্নাম) সে সব নামাজিদের জন্য, যারা নিজেদের নামাজে অমনোযোগী। যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।(সূরা আল-মাউন, আয়াত-৪,৫,৬)
এই মুহুর্তে হাদিসটি মনে পরছে না, যেখানে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ- রিয়া হচ্ছে শির্রক অর্থাৎ লোক দেখানো ইবাদাত ছোট শির্রক।(আল্লাহু আলম)
সুতরাং এভাবে বলতে পারি যে তাদেরকে সরাসরি কাফের না বলে বুঝিয়ে বলা উচিৎ। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝার তাউফিক দান করুন আমীন......।
ভূল হলে শুদরিয়ে দিবেন।

৪| ২২ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:৫৯

ঝটিকা বলেছেন: "নামাজ না পড়লে কাফের হয়ে যায়" এ অংশটা নিয়ে বিতর্ক আছে।

যাইহোক আপনার প্রেজেন্টেশন ভাল লাগ্লো, আপনার চেষ্টার জন্য ধন্যবাদ।

দোয়া করবেন ৫ ওয়াক্ত নামাজই যেন সময় মত পড়তে পারি।

২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪১

ফজলুল কােদর বলেছেন: সংক্ষেপে বলতে গেলে ঠিকআছে। কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করলে সরাসরি কোন মুসলিমকে কাফের বলা যায় না। কিন্তু যে ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করল সে কুফুরি করল, আর যে কুফুরি করে সে ...........।
আমি দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাকে আপনাকে সমস্ত মুসলিমকে ইমান ঠিক রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তাউফিক দান করে। আমীন...........

৫| ২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২০

গরীবের কথা বলেছেন: Thank you for your reasoning; simple, yet undeniable.

২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০৯

ফজলুল কােদর বলেছেন: allah bless you. thank's

৬| ২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৪৪

শায়েরী বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বললেন ভাই

২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১১

ফজলুল কােদর বলেছেন: বোন আল্লাহ যেন আমাদেরকে সত্য সঠিক মেনে চলার তাউফিক দান করে। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি আমার মাতৃভূমি ছেড়ে অনেক দূরে আছি।

৭| ২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৫১

তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: আমরা সবাই জানি একদিন মরতে হবে , কিয়ামত আছে, হাশর আছে, জান্নাত আছে , জাহান্নাম আছে....................


বলেন কি??? আমি তো জানি না!!

=p~ =p~ =p~

২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১৯

ফজলুল কােদর বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে আজ থেকে জানার চেষ্টা করুন। চিন্তা করুন আপনাকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে, আপনার করণিয় কি?
এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ মানুষকে ঘুন করতেছে, চুরি করতেছে, লুচ্চামী করতেছে, অন্যকে কষ্ট দিচ্ছে।
আবার কিছু মানুষ ভাল কাজ করতেছে, গরীবদের সাহায্য করতেছে, অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করতেছে, স্রষ্টার উপাসনা করতেছে। ঐ দু ধরনের মানুষের মধ্যে কি কোন বিচার হবে না? গভির ভাবে চিন্তা করুন। বিস্তারিত এখানে বলে শেষ করা যাবে না। প্রশ্ন থাকলে করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.