| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভণিতা:
লিটলের বর্ণ গন্ধ ইত্যাদি বিষয়ে অনুধ্যায়ী হওয়ার আগে যে জিজ্ঞাসা নিজের জন্যই তৈরি হয়ে যায় তা হলো- লিটল ম্যাগ নিয়ে কথা বলার জন্য লেখক কতোটাইবা যোগ্য এবং লেখকের চরিত্র কি লিটল অনুগামী? উল্লেখিত প্রশ্নদ্বয়ের ১ম অংশটির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়ে দ্বিতীয় অংশ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যব্যয় করা বোধ করি অমূলক হবে না- আমি কোন দৈনিকের লেখক নই। লিটল পরিবারের অতিক্ষুদ্র পাঠকমাত্র।
আদি ও আসল:
অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্টের প্রতিশব্দরূপে যে শব্দটি বহুল প্রচারিত তা হলো প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা। জিজ্ঞাসা তৈরি হতে পারে প্রতিষ্ঠান কী? পাড়ার মুদি দোকান থেকে শুরু করে কমিউনিস্ট পার্টি যেমন এক-একটি প্রতিষ্ঠান তেমনি কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসের ফর্ম বা কাঠামোকেও প্রতিষ্ঠানরূপে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক নয়। লিটল ম্যাগের প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার শ্লোগানচারীতায় বা ঘোষণায় কণ্ঠ দেয়ার পূর্বে প্রথমেই মলয় রায়চৌধুরীর কাছে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হোক।
আব্বাসঃ এন্টি-স্টাবলিশমেন্ট বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী বলতে স্পেসিফিকলি কী বোঝানো হয়? আলাপচারিতায় ওঠে এসেছে স্টাবলিশমেন্টের অ্যাবসট্রাক্ট ব্যাপারটিও। ঝেড়ে কাশি দেন।
মলয়ঃ এস্টাবলিশমেন্ট শব্দটির বাংলা ''প্রতিষ্ঠান'' কেন যে করা হয়েছে কে জানে? এস্টাবলিশমেন্ট বলতে কোন প্রতিষ্ঠান বোঝায় না, অরগানাইজেশন বোঝায়। এস্টাবলিশমেন্ট একটি অ্যাবস্ট্যাক্ট ব্যাপার। প্রতিষ্ঠান শব্দটি দ্বারা ঠিক কোলাসা হয় না। এস্টাবলিশমেন্ট এর টোটাল পাওয়ার স্ট্রাকচার এর বিরোধীতা করলেই বিপদ ঘনিয়ে আসবে। জেলে পুরে রাখবে, নাই করে দেবে। প্রতিষ্টান বিরোধীতা করলে আর কী করবে? কিছুক্ষণ চেচামেচি করবে। এস্টাবলিশমেন্ট হচ্ছে সিস্টেমেটিক পাওয়ার স্ট্রাকচার, একটা সমাজের। এসটাবলিশমেন্ট বলে একটা অ্যাক্ট আছে যা দোকান খোলার জন্য প্রয়োজন হয়। ঐটা ট্রান্সলেট করার সময় প্রতিষ্ঠান আইন করা হয়েছিল, তা থেকেই শব্দটি এসে গেছে। সে যাই হোক, আমি অনেকের সঙ্গেই আলাপ করেছি শব্দটি নিয়ে। কেউ বলেছেন, ব্যবস্থা, ক্ষমতাকেন্দ্রিক, আসলে স্পেসিফিক শব্দ তৈরি হয়নি এখনও। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বলতেন- পশ্চিম বাংলায় চারটি পাওয়ার স্টেশন আছে। ঐ চারটি মিলিয়ে হলো এস্টাবলিশমেন্ট। এক. পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দুই. আনন্দবাজার। তিন. রামকৃষ্ণমিশন। চার. ব্রাহ্মণ সমাজের ঘাটি শান্তিনিকেতন- বিশ্ব ভারতী। এই মিলিয়ে পশ্চিম বঙ্গের স্টাবলিশমেন্ট।
আব্বাসঃ আজকাল যারা দৈনিকে লেখে তারাও লিটর ম্যাগের ধ্বজাধারী। গাদা গাদা বেরও হচ্ছে। এগুলো আদৌ কোন লিটল ম্যাগ?
মলয়ঃ লিটল ম্যাগাজিন এখন আর সেই লিটল ম্যগাজিন নেই। এখন তো পশ্চিম বাংলায় যা লিখাপত্র থাকে তার চেয়ে থাকে বিজ্ঞাপন বেশি। শুনেছি অনেকে নাকি পত্রিকা বের করে সংসার চালায়। বেশিরভাগ সম্পাদক আবার খবরের কাগজে কাজ করে। এখন তো টিভি চ্যানেল হয়েছে গাদাগাদা। টিভি চ্যানেলে, কলেজ স্ট্রীটের প্রকাশনা সংস্থাগুলোতেও কাজ করে। জগাখিচুরি হয়ে গেল না সবকিছু? সবাই খুব চালাক হয়ে গেছে- কে আার জীবন নষ্ট করতে চায় বলুন?
আব্বাসঃ বাংলাদেশে ঠিক ঐ রকম নয়। আশির দশকের পর থেকে এখনও মূলত লিটল ম্যাগাজিনেই লেখকের রঙ তৈরি হয়। দৈনিক-টৈনিক লেখককে পঁচিয়ে ফেলে , শস্তা করে দেয়। খুব অনবদ্য প্রতিভা না হলে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে না। বাংলাদেশের লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আপনার ধারণা কী?
মলয়ঃ দু’চারটে পত্রিকাতো বেশ অসাধারণ। টোটাল প্রোডাক্ট, বাঁধাই, লেখা, ছাপা, প্রচ্ছদ এখানকার চেয়ে অনেক ভাল।
----------------------------------------------------------------------------
আব্বাসঃ প্রিয় মজনু শাহ, আমার চিন্তাস্তরে বিরাজমান ছিল আপনি একজন ঈমানদার লিটলম্যাগ কর্মী। আপনার নাম উচ্চারিত হলে '৯০ দশকের একজন কবির চেহারাই ভেসে উঠতো, অর্থাৎ এতোদিনে আপনার নামের রঙ তৈরি হয়েছে; এর পেছনে প্রকাশনা জগতের যে মাধ্যমটি সরাসরি কাজ করেছে তা হলো লিটলম্যাগ। বেশ ক'বছর ধরে আপনি নির্দিষ্ট কিছু দৈনিক পত্রিকায় শুধু লিখছেনই না, ভিন্ন-অভিন্ন আলোচনায় মনে হলো- আপনি ওদের পক্ষেই সাফাই দিচ্ছেন এবং দুর্লক্ষ্য নয়, ঐ দলকেন্দ্রিক লেখকদের নামও আপনার মুখে ঘুরে ফিরে উচ্চারিত হচ্ছে, উচ্চকিত হচ্ছে। কারণ কী? এরকম প্রশ্নের বদলে তেজাব-তীব্র জিজ্ঞাসাই সয়ম্ভূ হয়- আপনি কি তবে লিটলম্যাগ পরিবারের ভ্রষ্ট সদস্যদের একজন? লিটল দৈনিক এসব মিলিয়ে যে হ-য-ব-র-ল অবস্থার তৈরি হয়েছে আপনিও কি এর অংশীদার নন? আমার তো মনে হয় আপনাদের এসব দুর্নীতির প্রভাব পড়ছে তৎপরবর্তী তরুণদের চিন্তায়। শূন্য দশকখ্যাত তরুণরা জনপ্রতি একটা বা দুইটা করে লিটল বের করেই যাচ্ছেন এবং এদের অধিকাংশ জনই আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করায় কনসেপ্ট এর জায়গায় কেউই দাঁড়াতে পারছে না: না দাঁড়াচ্ছে লিটল, না দাঁড়াচ্ছে ব্যক্তি। শুধু দৃশ্যমান হচ্ছে ইঁদুর দৌড়। আপনারা যারা '৯০ দশকে কেন্দ্রে ছিলেন, খামচা খামচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, আমার তো মনে হয় এইসব হ-য-ব-র-ল অবস্থার জন্য পুরোটা না হলেও আংশিক আপনারাই দায়ী।
মজনু শাহ: prosnota pore mone holo, abar sei vut fire esese, je ekbar kadhe uthle ar niche namar nam kore na.
se pray 10 bosor ager kotha. aj e niye bolte gele, aghat na kore upay thakbe na tader,
jara ekhono amar bondhu. bisoyta darshonikvabe bichar korleo, kenona, ekhono amra onner
motamot dashonikvabe grohone okkhom. hoyto ekdin somoy peye bistarito bola jabe tobu.
bistaritoi bolte hobe, noile onek bibvranti toiri hobe abar, jemon bohu purono tottho o bastobotar khuj na janar karone apnar prosnei onek bibvranti ar mongora kisu bepar agagora roye gese....
-------------------------------------------------------------------------------
দীর্ঘ লিটল ম্যাগ কেন্দ্রিক আন্দোলন তর্ক-প্রতর্কসহ আলোচনা প্রত্যালোচনায় আমাদের মনস্তত্বে লিটলম্যাগ নিয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছে তা অনেকটাই এরকম:
লিটল ম্যাগাজিন এক প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠান
১. সুনির্দিষ্ট ও গভীর লক্ষ্য নিয়ে বিদ্যমান
২. স্বনির্ধারিত মানবিক প্রয়োজন কিংবা মূল্যবোধের দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠিত
৩. ক্ষমতাকাঠামোর সাথে আন্তঃসম্পর্কিত, তাই প্রবল শক্তিধর
৪. সাধারণ প্রতিক্রিয়াশীল, কখনও ছদ্মপ্রগতিশীল
৫. জনজীবনের নিয়ন্ত্রণপ্রয়াসী। তাি সুকৌশলে মানুষকে চেতনাগতভাবে বৃত্তাবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট
৬. প্রতিষ্ঠিত প্রথা বা রীতির সমর্থক
৭. মুনাফালোভী। তাই শিল্পসাহিত্য সংস্কৃতির পণ্যায়ণে বিশ্বাসী
৮. বাজার স্বার্থে স্থূলতা, অনৈতিকতার প্রশ্রয়দানারী
৯. মিডিয়া লালিত
১০. শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তিতে বলীয়ান
১১. মননশীলতা, নতুনত্ব বা নিরীক্ষায় অনীহ
১২. সাহিত্য সংস্কৃতির স্বঘোষিত কেয়ার টেকার
১৩. স্বরিনর্বাচিত সূত্রগুচ্ছের অনুসারী
১৪. সত্যিকার দায়বদ্ধতায় অবিশ্বাসী
১৫. নির্বিরোধী স্থিতদাবস্থার পক্ষপাতী
১৬. তারুণ্যের অভিযাত্রায় বাধাদানকালী
১৭. আত্মসম্মানবোধহীন পদলেহীদের সদাপ্রস্তুত পৃষ্ঠপোষক
লিটল ম্যাগাজিন
১. ঐহিত্য ও সামাজ সচেতন
২. সদা নতুনত্বে আগ্রহী, নিরীক্ষাপ্রবণ, মননশীলতায় ঋদ্ধ
৩. ক্ষমতাবলয়ের বাইরে, প্রায়শ এর বিপকেষ অবস্থান
৪.প্রবল নৈতিক শক্তির অধিকারী। তাই স্পষ্ট বক্তব্য প্রকাশে নির্ভীক
৫. সর্বদা প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধির সমর্থক। প্রকৃত ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল
৬. প্রথাবিরোধী
৭. অবাণিজ্যিক। তাই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পণ্যায়নের ঘোর বিরোধী
৮. চেতনার জাগরণের মাধ্যমে জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারে প্রয়াসী
৯. সৎ বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ
১০. সুরুচির প্রতীক। তাই সব রকম স্থূলতা আর কূটকৌশল বিরোধী।
১১. মিডিয়ার বৈরিতার শিকার
১২. দুর্বল আর্থিক ভিত্তি কিন্তু এসবে থোড়াই পরোয়া
১৩. স্বরচিত সূত্রাবলী নিজেই অবিরাম অতিক্রমে নিয়োজিত
১৪. সকলরকম স্থিতাবস্থার বিরোধী
১৫ তারুণ্যের অভিযাত্রায় সঙ্গী, সমর্থক, পৃষ্ঠপোষক। নতুন লেখক, পাঠক তৈরিতে নিবেদিত।
১৬. প্রকৃত সাহিত্য, সংস্কৃতির অনুসন্ধানী
১৭ .সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে স্পর্শ করে। প্রায়ই বিশেষ সংখ্যা বের করে এবং আকৃতির কোনো নির্দিষ্ট মাপ নেই।
* সুবিমল মিশ্রের চোখে, প্রতিষ্ঠিত শক্তিই প্রতিষ্ঠান। তার চরিত্র হলো জিজ্ঞাসাকে জগিয়ে তোলা নয়, তাকে দাবিয়ে রাখা। যে কোনো স্বাধীন অভিব্যক্তির মুখ চেপে বন্ধ করা, অবশ্যই তা শ্রেণীস্বার্থে(সুবিমলের বিরুদ্ধে সুবিমল মিশ্র এবং উস্কানিমূলক অনেক কিছুই, আপাতভাবে)
* লিটল ম্যাগাজিন চর্চার প্রেক্ষাপটে আমাদের বিবেচনায় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ক্ষমতা কাঠামোবর্জিত , অর্থ ও হীনস্বার্থে শিল্প সাহিত্যের পণ্যায়নের মাধ্যমে মানুষের চেতনাজগতে বিভ্রান্তি বুনে দিয়ে তাদের মানসিক দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে বন্দী করে রাখে। প্রথা, রীতি, শিক্ষালয় কিংবা সংক্রামক প্রতিভাও ( রবীন্দ্রনাথ) প্রতিষ্ঠান
* কারো পরোয়ানা করে নিজের ভাবনা-চিন্তা নিজের মতো লেখা, এটাই লিটল ম্যাগাজিনের মূলধর্ম...
* লিটল ম্যাগাজিনস সাহিত্যের ধমনী, লিটল ম্যাগাজিন তো এক অর্থে আন্দোলন। তবে সেই আন্দোলন যদি হয় বুলিস্বর্বস্ব? মাইক নির্ভর, যদি তার মস্তিষ্কে সুদূরপ্রসারী কল্পনা না থাকে? তবে, ঐ কাঁচের ঘরে বনসাই, কী বাহারে লতা হয়ে কী লাভ? বরং পাহাড়ের চূড়ায় বৃক্ষ হওয়া অনেক শ্রেয়। অবশ্য ঘাতকের হাতের কুঠার বা ইলেকট্রিক করাত বুঝিয়ে দেয়, তার স্বল্পায়ু জীবন। একথা প্রায় সব লিটল ম্যাগাজিনের ভবিতব্য।
* যে যে পত্রিকার ধান্দা থাকে, বিজ্ঞাপন মারফৎ শুধুমমাত্র টাকা উপার্জন অর্থাৎ তরুণ লেখকদের লেখা গৌণ- আর সবি মুখ্য, তাকে কে লিটল ম্যাগাজিন বলবে? লিটল ম্যাগাজিনের কাছ থেকে আমরা চাই নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পথ-নির্মাণের নিত্য নতুন চিন্তা ভাবনা বা বিদ্রোহের-হঠাৎ আলোর ঝলকানি বিশেষ।
* বুদ্ধদের বসুর সহিত্যপত্র পড়ে আমরা জেনেছি যে, লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কিত সেই অমোঘ পঙক্তি ঃ লিটল কেন? আকারে ছোট বলে? প্রচারে ক্ষুদ্র বলে? নাকি বেশিদিন বাঁচে না বলে? সবকটাই সত্য, কিন্তু এগুলোই সব কথা নয়; ওই ছোট বিশেষণটাতে আরো অনেকখানি অর্থ আছে। প্রথমত, কথাটা একটা প্রতিবাদ, বহুলতম প্রচারের ব্যাপকতম মাধ্যমিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। লিটল ম্যাগাজিন বললেই বোঝা গেল যে জনপ্রিয়তার কলঙ্ক একে কখনও ছোঁবে না, নগদ মূল্যে বড়োবাজারে বিকোবে না, কিন্তু হয়তো কোনো একদিন এর একটি পুরোনো সংখ্যার জন্য গুণী-সমাজে ঔৎসুক্য জেগে উঠবে। সেটা সম্ভব হবে এই জন্যেই যে, এটি কখনও মন যোগাতে চায়নি, মনকে জাগাতে চেয়েছিল। চিয়েছিল নতুন সুরে কথা বলতে; কোনো এক সন্ধিক্ষণে যখন গতানুগতিকতা থেকে অব্যাহতির পথ দেখা যাচ্ছে না, তখন সাহিত্যের ক্লান্ত শিরায় তরুণ রক্ত বইয়ে দিয়েছিল- নিন্দা, নির্যাতন বা ধনক্ষয়ে প্রতিহত হয়নি। এই সাহস, নিষ্ঠা, গতির একমুখিতা, সময়ের সেবা না করে সময়কে সৃষ্টি করার চেষ্ঠা- এই টেই লিটল ম্যাগাজিনের কূলধর্ম...।
অরুণ মিত্র বলেছেন, শরীর দৃশ্যে তারা লিটল বটে, কিন্তু হৃদয় বলে রীতিমতো বিগ...
*
অরুণ মিত্র, বিনয় মজুমদার, উৎপল কুমার বসু, আলোক সরকার, উদয়ন ঘোষ, অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যঅয়, বাসুদেব দাশগুপ্ত, সুবিমল মিশ্র, দেবদাস আচার্য্য, মলয় রায়চৌধুরী, অশোক চট্টোপাধ্যায়, শৈলেশ্বর ঘোষ কি মনীন্দ্র গুপ্ত দের চিনে নিতে আমাদের হয়তো সামান্য সময় লেগেছে। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসদের মতো লেখকদের চিনে নিতে আমাদের অসুবিধা হয়নি।
* লিটল ম্যাগাজিনে ছাড় দেবার কোনো সুযোগ নেই। লেখক নতুন কি পুরোনো এটাও মূখ্য বিষয় নয়। দেখতে হয় লেখাটিকে লিটল ম্যাগাজিন যে লেখাটিকে ধারণ করবে সেটি প্রচলের বাইরে কতটুকু, লেখকের দৃষ্টিভঙ্গিটি কী, নাকি একেবারেই চলমান স্রোতে গা ভাসানো- এইসব।
লিটল ম্যাগাজিনের লেখক কী বেছে নেবেন?
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলেছেন, মৈথুনে পরিচিত মুখ না হলে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। যাপিত জীবনের বাইর একটা মানুষ কতটুকু স্বচ্চন্দ হতে পারে? এই সমাজকাঠামোর ভেতরে থেকে সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি, সেক্স , ক্রাইম, ক্রমাগত অধোগতি, মিথ্যাচার-এগুলোর বাইরে একজন লেখক অবস্থান নেবেন কোন সে পরিসরে? যদি নাই থাকে তবে শুধু শুধু ফর্ম ফর্ম বলে চেঁচিয়ে, লেখার বিষয়টাকেই ফর্ম বানিয়ে ফেললে সমাজ থাকে না, সমাজের মানুষ থাকে না। মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, সার্থকতা, ব্যর্থতা, জীবনের টানাপোড়েন সর্বোপরি জীবন থাকে না। যুদ্ধ নাই থাকে তবে সাহিত্য কোথায়? চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি, মানুষের ভেতরকার বেপোরোয়া জেদ এবং হেরে যাওয়ার বেদনা কেবলই মুখ থুবড়ে পড়ে থেকে একসময় হারিয়ে যাবে সমাজেরই কোনো এক গলিতে।
সুবিমল বলেন, সমাজের এইসব অনিয়মগুলোকে আঙুল তুলে দেখাতে চাই।
সুবিমল বলেন,
আমার কাছে লিটল ম্যাগাজিনের মধ্যে কোনো লিটল ব্যাপার নেই, তা বাণিজ্যিক সাহিত্যের কোনো পরিপূরক নয়, প্যারালাল। লিটল ম্যাগাজিন হচ্ছে সাহিত্যের একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি, বেপোরোয়া,রবীন্দ্রপরবর্তী বাংলা সাহিত্যে যা ক্রমশঃ প্রকট হচ্ছে, হয়ে উঠছে। এক কথায় আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক সমস্ত রকম স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তার অবস্থান। তথাকথিত জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকাগুলোর প্রথম কথা হচ্ছে বাণিজ্য, দ্বিতীয় কথাও বাণিজ্য, এমনকি তৃতীয় কথাও। সৃষ্টিশীলতার প্রশ্ন যেখানে অবান্তর, না হলে অত্যন্ত গৌণ। রুচিশীল পাঠক সৃষ্টির দায়বদ্ধতা সে স্বীকার করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত স্রোতে তাকে গা ভাসাতে হয়, ভাসাতে হয় তার নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থেই। যা ছাপলে কমার্স হবে না, বিক্রি হবে না, তার পৃষ্ঠপোষকতা তারা সচারচর করে না, করতে পারেনা। কশ্চিৎ কখনও যখন করে বা করার ভান করে, মনে রাখতে হবে করে অবশ্যই শ্রেণীস্বার্থে।
অন্য ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগাজিনের মূলধন হচ্ছে সমস্তরকম স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তার বিপ্লবাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস। বড় কাগজ, সাহিত্যে বাণিজ্য সফল কাগজ, যা, যেসব ছাপতে ভয় পায় তাই ছাপবে লিটল ম্যাগাজিন। যা কখনই এই আর্থ-সামাজিক পরিবেশে বাণিজ্যিক নয়, বরং মৌলিক, একগুঁয়ে বা পরীক্ষানির্ভর। কখনও কখনও উস্কানিমূলকও। খ্যাতিমানের অনুগ্রহের এক-আধ পৃষ্ঠার এঁটোর সে তোয়াক্কা করে না। পুরোনো কালের সৃষ্টিশীল বিষয়গুলির পুনরাবিষ্কারএর সঙ্গে সঙ্গে সমসাময়িককালে নতুন কে কী বলছে কী লিখছে তার একটা ধারণা তুলে ধরার দাযিত্ব লিটল ম্যাগাজিনের। প্রচলিত ধ্যান-ধারণাগুলোর ফাঁপা জায়গাটা সে দেখিয়ে দেবে, সমস্ত রকম ভাঙচুর আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করার দায়িত্ব তার, সাহিত্যের সবরকম আর সবদিকের সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখার - আর সেই সূত্রেই একধরণের বেপরোয়া আর বেহিসেবী তার ভঙ্গি। আগামী প্রজন্মের সমস্তরকম প্রশ্নচিহ্নের প্রতি তার থাকবে পিতৃপ্রতিম সহানুভূতি। লিটল ম্যাগাজিন যেহেতু মূলত সাহিত্য-সংস্কৃতি নির্ভর, তাই জীবনের লক্ষণ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে লিটল ম্যাগজিন থেকে আরো বেশি চাই-চাই এ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট মানসিকা। প্রচ- রাগী চেহারা হবে তার। কোনরকম কম্প্রোমাইজের মধ্যে নেই সে। গতানুগতিকতার বিরুদ্ধে তার বিতৃষ্ণা হবে আন্তরিক, ব্যবসায়িক স্বার্থে যে সব আধমরা লেখককে প্রতিষ্ঠান তুলে ধরতে চায়, দেখাতে চায় এরাই লেখক, এদের লেখাই ১নং, আগমার্কা এবং বাজারের সেরা মাল-তাদের, সেইসব যশ-কাঙালের মুখোশ খুলে দেয়ার দায়িত্বও লিটল ম্যাগাজিনের। প্রচলিত দৈনিক সাপ্তাহিকগুলোতে সাহিত্যের নামে কুচো চিংড়ির যে রগরগে ঝালচচ্চরি চালাবার চেষ্টা করা হয়, তা স্বাদু হতে পারে কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে তা মারাত্মক, সেখান থেকে কলেরা ছড়াবার সম্ভাবনা প্রবল। এ সম্বন্ধে পাঠককে সতর্ক করে দেবার দাযিত্বও লিটল ম্যাগাজিনের। মোট কথা, অন্যভাবে বললে আমাদের সমাজের কাঠামোগত দিক, সংস্কৃতির জগতেও চারিয়ে আছে সেই একই লড়াই। যে কাগজের পুঁজি তিনশ টাকা আর যে কাগজের তিরিশ লক্ষ তাদের উদ্দেশ্য কখনও এক হতে পারে না। সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যবসায়িক কাগজের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানোকে আমি এক ধরণের বেশ্যাবৃত্তি ছাড়া অন্যকিছু মনে করি না। সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলি তো আমাদের দেশে , কুকুর পোষার মতো লেখক পোষে। আবার যাঁরা বই ছাপার জন্য রাইটার্স বিল্ডিং থেকে ‘‘ডোল’’ আনতে যান তাঁরাও ব্যবহৃত হন প্রায় একই রকমভাবে। প্রত্যক্ষভাবে হয়তো নয়, কিন্তু পরোক্ষে তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কিছু না কিছু কেড়ে নেওয়া হয়ই। নিজেদের শ্রেণীস্বার্থে তাদের ব্যবহার করা হয় এবং ছিবড়ে করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়- এ ।
একথা অস্বীকার করে লাভ নেই যে বাণিজ্যিক সাহিত্যের একটা ধারা সব সময়ই সব দেশেই আছে থাকবে। শংকর-সুনীল-শ্যামল-শীর্ষেন্দু প্রফুল্ল রায়দের দল( আরো নাম যোগ হতে পারে) একশ বছর আহে ‘‘নীল বসনাসুন্দরী’’ লিখেছে, এখনও লিখছে, ভবিষ্যতেও লিখবে। কিন্তু সতর্ক হবার জায়গা এখানে যে, এনারা দাবি করেন এনাদের তৈরি মালই ১ নং, খাঁটি এবং মৌলিক। এনাদের আগমার্কা প্রোডাকশনের বাইরে আর কিছু নেই, আর কেউ কিছু করছে না। ব্যবসায়ী সাহিত্য-প্রতিষ্ঠান তার অস্তিত্বের পাশাপাশি আর কোনো সৃজনশীল সাহিত্যগোষ্ঠীর অবস্থিতি সত্য করতে পারে না। কমার্শিয়াল লেখা নয় এমন লেখাকে এক্সপেরিমে›াঁল নাম দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়। এঁরাই নিজেদের কাগজে বেস্ট সেলার ছেপে বাঙলা সাহিত্যেল ‘‘বেস্ট ’’ বইগুলো বেছে দেয়। মফস্বলের লাইব্রেরিগুলো এবং অগণিত সাধারণ পাঠক , যাঁরা অতশত খোঁজ খবর রাখেন না, ভেতরের ধান্দাবাজি বোঝেন না, তাঁরা -কলকাতায় এসে বেস্ট বইগুলো কিনে নিয়ে যান। বিয়ে-শাদিতে এই বেস্ট বইগুলোই উপহার দেওয়া হয়। এইসব বইয়ের বাইরে বাংলা সাহিত্যের যে বিপুল জগৎ, সত্যিকারের সৃষ্টি যেখানে সম্ভব হচ্ছে, তার খোঁজ রাখা এঁদের সম্ভব হয় না, প্রচার নেই বলে, মিডিয়ার অনুগ্রহ নেই বলে, বিজ্ঞাপন নেই বলে। এই যে মিডিয়ার কথা বলছি, এ এক সাংঘাতিক বস্তু এ যুগে। যেহেতু এইসব সংবাদ সাহিত্য প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এক একটা মিডিয়া, তাই এদের এই ভঙ্গি ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায়- কাদের এরা লেখক করবেন কাদের করবেন না তা এঁদের মেজাজ মর্জির ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কতখানি অনুগত তার আনুপাতিক হারের ওপর। এর ফল হিসেবেই আমরা দেখতে পাই কমল কুমার মজুমদার বা অমিয়ভূষণ মজুমদারের মতো লেখকের নামই পৌঁছায় না ব্যাপক পাঠক-সাধারণের কাছে, রমেন্দ্রকুমার আচার্য্যচৌধুরীর মতো কবি সারাজীবন অনাবিস্কৃত থেকে যান, পুরস্কারটার মতো ঘরে লোকদেরও নিয়েও এরা ছেলেখেলা করে।। রবীন্দ্রপরবর্তী বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় দুর্লক্ষণ, যা ক্রমশঃই বর্ধমান, তা হচ্ছে এই যে নিস্কৃষ্ট বহু কিছুকে শ্রেষ্ঠত্বের মুখোশ পরিয়ে বাজারে বিপুলভাবে বিজ্ঞাপিত করে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করা-প্রচার করা ঐগুলোই একমাত্র ১নং- যে প্রবণতা অক্ষম সাহিত্য সৃষ্টির চেয়েও ক্ষতিকর।
লিটল ম্যাগ কেন্দ্রিক বহুবিধ ধারণাপোষণ করে তৃতীয়বাংলা থেকে যে কয়টি কাগজ বের হয় তার মধ্যে শব্দপাঠ, স্রোতচিহ্ন, আদি কাকতাড়–য়া, ধী স্বর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসকল কাগজের সঙ্গে যারা জড়িত তারা কি শুধু সম্পাদকের দযিত্ব পালন করছেন না সংগ্রাহকের? কতোটা মৌলবাদ বিবর্জিত? আদৌ কি লিটল ম্যাগ হয়ে উঠছে নাকি নানা রকমের লেখকদের মহাসমাবেশ ঘটিয়ে বিশ্ব এজতেমা সংকলিত করছেন? পেটমোটা সংকলন করে ভলিউমের বাইসেপ, ট্রাইসপ দেখিয়েছে, দেখিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর? জিজ্ঞাসা আরো গভীরে প্রোথিত হলে তৃতীয় বাংলার লিটলম্যাগ উভয়বঙ্গে তথা বাংলাভাষাভাষী সর্বঅঞ্চলে চিহ্ন তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত কছি। পত্রিকাগুলোর সম্পাদেকের নামও স্মরণ করছি সেই সঙ্গে। আদি কাকতাড়ুয়া - মাশুক ইবনে আনিস, স্রোতচিহ্ন- সুমন সুপান্থ, শব্দপাঠ- আবু মকসুদ, ধীস্বর – মঞ্জু মিস্ত্রাল।
প্রিয় নম্রতা
আজ আপাতত এই সকল তথ্যই আপনাকে জানালাম তৃতীয়বাংলা এবং লিটলম্যাগ নিয়ে।
এখন পচ্ছিল অন্ধকারে দীর্ঘ দাঁড়াবো...
ভাল থাকুন।
ইতি
গেওর্গে আব্বাস।
------------------------------------------------------------------
তথ্যসূত্রঃ
১.শিল্পের জন্য স্বার্থত্যাগ, দেবী রায়
২. লিটল ম্যাগাজিন এক প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রতিষ্ঠান, কামাল মোস্তফা
৩. টেক্সচুয়াল কালচার থেকে অ্যাকটিভ কালচারে প্রত্যাবর্তন প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ইশতেহার বিষয়ে একটি খসড়া আলোচনাসূত্র
৪. লিটল ম্যাগাজিনের চারিত্র-সন্ধানে, সরকার আশরাফ
৫. ছোটকাগজ /বড় কাগজ বৈপরীত্য ও সৃষ্টির প্রকাশ, মঈন চৌধুরী
৬. সমাজ নিরীক্ষণ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭
৭. উলুখাগড়া, এপ্রিল ২০০৯
৮. অমৃতলোক, ১৯৯৭
৯. কবিতীর্থ, গ্রীষ্ম ২০০৪
১০. নিসর্গ, বর্ষ ২১, সংখ্যা ০১
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কনসেপচ্যুয়াল বিষয়গুলো যুক্ত হোক।
২|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২২
মাঠশালা বলেছেন: Click This Link
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: যাচ্ছি সময় নিয়ে।
৩|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫২
শিবা বলেছেন:
এতো বিশাল লেখা!!!!!
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মজনু শাহ এসে আরেকটু বিশাল করবেন।
ভাল আছেন!!!
৪|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৪
নৃপ অনুপ বলেছেন: এখনো পরিনি,
পড়ে- ভেবে উত্তর দেবো...
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পড়ুন। কথা ক্রমবর্ধিত হোক।
৫|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৪
শিবা বলেছেন:
আরুণি বললেন, আমি জ্ঞানার্থী। গুরু আদেশ কররেন, যাও, আমার ক্ষেত্রের আল বাঁধো। আরুণি জলপ্রবাহ বন্ধ করতে না পেরে ক্ষেতের আলে শুয়ে পড়েন। তারপর তিনি গুরুকে বললেন, এবার আজ্ঞা করুন। সৌম্য বললেন, কেদারখণ্ড বিদারণ করে উঠেছ বলে তুমি উদ্দালক, সমস্ত বেদ তোমার অন্তরে প্রকাশি হোক্। এ কথা মহাভারতের। জ্ঞান আহরণের জন্য বাস্তবতার গভীরে ব্যক্তিগত সম্পৃক্তির প্রয়োজন পড়ে। তাই গুরুর এমন আদেশ ছিল। আর সে কারণেই একলব্য গিয়েছিলেন একা- একলব্যের মতো। পএ কথা আমি কেন বললাম? কেননা, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সূত্রপাত হয়েছিল একলব্যের সময় থেকেই মূলতঃ। একলব্য সাব-অল্টার্নবর্গের প্রতিষ্ঠান ও কর্তত্ববিরোধিতার দক্ষতা -জ্ঞান অর্জনের পথ ধরে দাঁড়িয়েছিলেন অর্জুনের বিপরীতে। আর আজ কি সত্যিই আমরা একজনও তেমন করে পাচ্ছি ? যিনি কেউ পাশে না থাকলেও একা একা লড়ে যাবেন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে? এখন তো সবাই প্রতিষ্ঠানের ছায়াতরে দাঁড়াতে চায়, সুবিধা চায়, সাফল্য চায়, লাইম লাইটে আসতে চায়- অতি অল্প সময়ে...
ধন্যবাদ কবি পোস্টের জন্য
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লিটল ম্যাগ নিয়ে কথা বললে আসলে অস্থিরই লাগে। আপনি তো স্থিরতা নিয়ে এসেছেন। স্থিরচিত্রে উজ্জ্বল হরিণ...
৬|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৬
শিবা বলেছেন: স্যরি, কবি
একলেব্যর জায়গায় আরুণি পড়তে হবে
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পড়লাম। নতুন কী রচিত হচ্ছ্রে!!!
আপনার লিটলের অবস্থা কী...
৭|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৩
শিবা বলেছেন:
হায় আমার কী-বোর্ড!
কেবলই ভুল হয়ে যায়
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: সব ভুল সংশোধনের যোগ্য
মৃত্যু সংশোধনের অযোগ্য।
৮|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০
শিবা বলেছেন:
সবাই যদি লিটল বের করে তবে লেখবে কে?
আপনি তো জানেন, যে কোন আন্দোলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কতোটা শ্রম ব্যয় করতে হয়! আর প্রকৃত কবি কিংবা লেখকের জন্য সক্রিয় আন্দোলনে জড়িয়ে পড়াটা কতোটা ভয়াবহ! কেননা এতে করে লেখকের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। তবে হ্যাঁ, যদি কখনও এমন হয় কেউ আর আমার লেখা ছাপছে না...তখন নিজের পত্রিকা বের করে নিজের লেখা ছাপবো। যেমনটা কেদার ভাদুড়ি বলেছিলেন...
আপনি কেমন আছেন!
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: অনেকেই লিটল বের করেন, হয়ে যায় বিয়ের স্মরণিকা। কনসেপ্ট তো দাঁড়াতে হবে প্রথম, পরে বাদবাকি...
যেমনটা কেদার ভাদুড়ি বলেছিলেন... মনে আছে আপনার!!!
৯|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩
শিবা বলেছেন:
আপনি লিখেছেন!
মনে তো থাকতেই হবে!
আপনার লেখার স্টাইলটাই এমন যে খুব মনোযোগী পাঠক বোধহয় উপেক্ষা করতে পারে না।
সম্প্রতি লেখালেখি করার চেয়ে পাঠ করার প্রবণতা বেড়েছে... আগে এতো এলোমেলো পড়েছি যে, হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই গলাধঃকরণ করার চেষ্টা করেছি। এখন সিলেকটিভ কিছু গ্রন্থ পাঠ করছি...
আপনি কি নতুন কবিতা লিখলেন?
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লেখা ও প্রকৃতি উভয়ই পঠিত হোক।
কবি কিশওয়ারের মতো বলি- বেঁচে থাকার জন্য কবিতা আমার একমাত্র অবলম্বন।
মঙ্গলার্থে...
১০|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৬
মাঠশালা বলেছেন: কেউ যখন বড় কাগজ বলেন তখন সম্ভবত সে মুনাফাশ্রয়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজগুলোর সাহিত্য সাময়িকীগুলো/সাহিত্য পত্রিকাকে বোঝাতে চান। এবং এদের দ্বারা মূল্যায়ীত সাহিত্যবস্তুর প্রকাশক ও পৃষ্ঠপোষকদের একটা সম্মিলিত গোষ্ঠিকে বোঝাতে চান। কিন্তু বড় কাগজ বললে তাদের বনিক বৃত্তিপনাটি আড়াল হয়ে যায়। বনিক কাগজগুলোর যেমন বেতনভোগীকর্মী আছে তেমনি লেখকদের জন্যও আছে নির্ধারিত মূল্য/সম্মানী। সেখানে লেখকদের লেখার অন্যতম একটা কারণ হিসেবে থাকে লেখক সম্মানী। কিন্তু হামেশাই এ অভিযোগ প্ওায়া যায় যে সেখানকার লেখকগন তাদের সম্মানী পান না। কিন্তু তারপরও সেখানে বারবার লেখক যখন মূল্য/সম্মানী থেকে প্রতারিত হয়েও লিখে চলেন হয় অনিচ্ছা সত্বে বা পাঠকের সাথে “মিথিকাল যোগাযোগ” ঘটাতে বা নিজেকে বাজারে দৃশ্যমান রাখতে। একই সাথে কোন বিকল্প প্রকাশ মাধ্যম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যখন সেখানকার লেখকরা নেন না আবার প্রতারিত হবার পর প্রতিরোধহীন হাহুতাশ চালায়ে যান,তখন অবস্থাটাতো ভয়াবহ নিশ্চয়।
আমরা সবাই জানি ছোট কাগজ কোন অবস্থাতেই বানিজ্যিক উদ্যোগ নয়। এখনে সম্পাদকও সাধারণত একজন লেখক। এখানে সম্পাদক অনেকাংশেই কেবল লেখা সংগ্রাহক, আর লেখার মূল্যায়নের দায় বহন করে সংশ্লিষ্ট লেখকগনও। এখানে বানিজ্যিক উদ্যোগের অনুপস্থিতির কারণে কেবল সম্পাদকই অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করেন না লেখকরাও এতে অংশ নেন। এেেত্র লেখকও লিখেই দায়িত্ব শেষ করেন না বরং সম্পাদনা ও অর্থৈতিক দায় বহন করেন। সেেেত্র বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ আসে, যেখানে পত্রিকাটির সম্পাদক, লেখক ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক তির পরিমান বা ঝুকি কমাবার ল্েযই বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেষ্টা চলে। কিন্তু এই প্রচেষ্টাতেও আংশিক ভাবেও সফল এমন পত্রিকাও খুব কম। আর রাভ করার চেষ্টাতো অনেক দূরের ভাবনা। এতে অবশ্য কখনোই ছোটকাগজের কারোরই কোন ােভ থাকে না। কারন তারা জানেন ছোট কাগজ পন্য বাজারের প্রচল ও তাৎনিক চাহিদা মেটাতে বের হয় না তাই জনপ্রিয় পন্য উৎপাদনকারীর বিজ্ঞাপন পাওয়াও এখানে বিস্ময়, নতুবা পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তুচ্ছ উদারতা। আর একথা তো স্পষ্ট যে ছোট কাগজের প্রধানতম ল্যই থাকে সাহিত্যিক অর্জনের দিকে।
আবার এই ছোট কাগজ এবং বড় কাগজের বাইরে আরো এক ধরণের কাগজ আছে। তারা নিয়মিত বা অনিয়মিত যাই হোক না কেন তারা বড় কাগজের মতই সাহিত্যিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অন্যাণ্য মূল উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য বের হয়, যার সাথে অর্থনৈতিক লাভও জড়িয়ে থাকে। যিনি বা যারা সাহিত্যিক ল্যকে সামনে রেখে এধরণের পত্রিকা বের করেন তার প্রথম ল্য অবশ্যই বানিজ্য আর ২য় বা ৩য় বা ৪র্থ বা..... ল্য হতে পারে সাহিত্য। তখনতো সে সাহিত্য ব্যবসায়ী, তার পন্য লেখক ও লেখা। তার সাথে তখন বাজারের অন্য সব পন্য ব্যবসায়ীর তফাৎ থাকে না। কিন্তু সমস্যা হয় তখন এধরণের কাগজ যখন নিজেকে ছোট কাগজ বলে চালাতে চায় আর বিভিন্ন উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হওয়া লেখকরা তাকে বৈধতা দিতে গিয়ে নানান ফন্দির অবসরে ছোট কাগজের বিরুদ্ধাচারণ করেন।
এখন এ বাস্তবতায় এই তিন ধরনের উদ্যোগকে একই ভাবে ও একই মাত্রায় এবং একই পাত্রে ভাবা যায় না। লিটিল ম্যগের প্রতিষ্ঠা বলতে তার সাহিত্য কর্মের প্রতিষ্ঠা বা স্বীকৃতি বোঝায় আর্থিক প্রতিষ্ঠাকে বোঝায় না। বানিজ্যক সাহিত্য কাগজের প্রতিষ্ঠা বলতে আমরা তাদের জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সফলতাকে বুঝি। এেেত্র আবার যেগুলো সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং অন্যান্য উদ্দেশ্যে বের হয় যদিও সেখানে “লেখক প্রতারিত হয়ে চলেছে সংবাদ প্রচারিত হয়”, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন বলে শিরোনাম সাজানো হয় এবং তাদের পইে প্রকারান্তরে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালনা হয়। এই সব প্রচারণার আড়ালে থাকা এত সব প্ররোচণা ও পার্থক্য ঘাপটি মেরে থাকা সত্বেও সেগুলোকে উপো করা হয় সচেতন ভাবে তদুপরি ঐসব কাগজকে “প্রতিষ্ঠিত ছোট কাগজ” তকমা এঁটে লেখকের সম্মানির জন্য হাহাকার করতে থাকেন । লেখক সম্মানী আদায়ের প্রচেষ্টার আড়ালে ঐসব কাগজকে ছোট কাগজের মর্যাদায় উপস্থাপন করার কৌশলকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একটা অবানিজ্যিক প্রচেষ্টর সাথে বানিজ্যিক উদ্যোগকে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা চোখে লাগে।
বেশির ভাগ বানিজ্যিক কাগজ লেখককে দিয়ে লাভ করিয়ে নেয় কিন্তু লেখকদের টাকা দেয় না, এই প্রতারণা অব্যাহত আছে এবং লেখকরাও লিখে চলেছেন। এ আসলে তাদের আপোষ কামিতা। যা লেখকদের েেত্র মেনে নেয়া কঠিন।
বানিজ্যিক উদ্যোগে বেরোনো কাগজের অফসেট কাগজে মুদ্রণ ব্যয় বহন করতে বাধে না কিন্তু লেখকদের টাকা দিতে বাধে। আর ছোট কাগজের েেত্র যদিও তারা ওই ব্যয়বহুল উপকরণ দিয়েই বের করে বলে অনেকে অভিযোগ করে বসেন, তখন নিউজ পেপারে ছাপলেও কাগজ ব্যয় আর কতটা কমে তা বুঝতে গবেষনার দরকার হয় না বলেই মনে হয়। তারপর আসে ছোট কাগজ কতগুলো কপি বের করছে। আমার জানা মতে এদেশে পাচশ কপির বেশী কোন ছোট কাগজই করে না। এবং কাগজের লেখক সংখ্যা দিয়ে সেই সংখ্যাটকে ভাগ করে নিলে লেখকদের কপালে সম্ভবত ৫০-৬০ টাকার বেশি জুটবে না, তাও যদি সব বিক্রি হয় এবং বাজার থেকে বিক্রির টাকা পরিপূর্ণভাবে তোলা যায়। বানিজ্যিক কাগজের কথা আলাদা। লেখকদের টাকা লাগেনা এটা কিন্তু বোঝাচ্ছি না। কিন্তু কাগজের পেছনে লেখককদের বিনিয়োগ ও সম্পাদকদের বিনিয়োগ যখন লোকসানের কোটায় থাকে তখন এই হিসাবেটা কিভাবে হবে? তবে তৃতীয় ধরণের যে কাগজের কথা এ লেখায় উল্লেখ করেছি তাদের দু একটা কাগজের যখন লাভজনক অবস্থা এর কাছে টাকা চাওয়াই যায় কিন্তু আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে ঢালাও ভাবে “ছোট কাগজের কাছে” টাকার দাবী আসলে লাভজনক ঐ ধরণের কাগজেই লেখার গোপন আকাঙ্খা প্রকাশ করে এবং একই সাথে তা মান সম্পন্ন ছোট কাগজকে প্রকাশে অনুৎসাহিতই করা হয়। এর ভেতর দিয়ে এই সব তথাকথিত লাভজনক সাহিত্য পত্রিকার প্রচারে এবং প্রকাশের ভুমিকা যোগানোর সাথে সাথে তাদের কাগজকে প্রতিষ্ঠিত করারই চেষ্টা পরিলতি হয়। এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তারা ব্যবসায়ি হওয়া সত্বেও ছোট কাগজ হওয়ার স্বিকৃতি পায়।
অনেকে ছোট কাগজের ব্যয় কমাবার জন্য চার রঙা প্রচ্ছদকে এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এটাকে কাগজের অলংকরণ না ভেবে একজন শিল্পীর সৃজন কর্ম ভাবলে এই মন্তব্য শিল্পির কাজের অবশ্যই অবমূল্যায়ন করে। তাছাড়া সকলেই জানে ছোটকাগজ যৌথতার ভেতর দিয়ে বের হয় সাধারণত। তো একজন আর্টিষ্ট যদি এমন একটি উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকে আর সে যদি তার শিল্পকর্ম অবিকৃত অবস্থায় প্রকাশের দাবি রাখে তবে এই পরামর্শকে আর গ্রহনযোগ্য মনে হয় না। আর যদি একে গ্রহন করতে হয় তাহলে লেখদের রচনাগুলোকেও ছোট করার অথবা অংশবিশেষ ছাপানোর মতো প্রস্তাবকেও ব্যয় কমাবার উছিলায় গ্রহন করতে হতে পারে।
উপরের লেখায় সাহিত্য কাগজের যে একটা সরল বিভাজনের উল্লেখ আছে তাকে কোনরূপ বিবেচনা না করেই সাহিত্য কাগজের কথা উঠলেই অনেকে "ছোট কাগজ" শব্দটিকে খাবলে চলেন। আর তাদের আলোচনা তখন ব্যাক্তির সাথে ওঠা নামা করতে থাকে। কে কবে কোন কাগজে লিখেছিল এবং পরে কোথায় লিখছেন এ নিয়েই কথা আগাতে থাকে। এই কথামালার ভেতর যা মনে হতে পারে তা হলো এইসব ব্যক্তিবর্গই ছোটকাগজ। আবার অনেকের কথায় এটাও ফুটে ওঠে যে কোন একটা পত্রিকায় লেখা শুরু করে পরে অন্য চরিত্রের একটি কাগজে লেখা শুরু করায় কারো কারো পদস্খলনের হয়েছে। এখন এক পত্রিকায় না লিখে বা ত্যাগ করে বা ত্যাক্ত হয়ে বা এমনিই অন্য আরেকটি কাগজে লিখতে যাওয়া/চাওয়া তাদের আলোচনায় কেন স্খলন বোঝায়? এ প্রশ্ন সহজেই সামনে চলে আসে। আর এইসব স্খলিত আত্মা কিভাবেইবা অন্যদের দোষারোপ করে চলে, বোঝা মুশকিল।এথিক্স এবং আত্ম সমালোচনার ও লেখকের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলে এরকম অবস্থায় আমার মনে পড়ে-নির্বাচন বা লীগ সামনে রেখে নেতা/খেলোয়াড়দের দলবদলের কথা। যার মোদ্দাকথাটা দাড়ায় মতা ও পদ নিশ্চিত করার ভেতর দিয়ে নিজের দাম ভাঁড়িয়ে নেয়া। এখানেও লেখক হিসেবে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে দুয়েকদিন কিছু পত্রিকা ও দৈনিকে লিখে এবার নিজের বাজার চাহিদা বিবেচনা করে বা না করেই লেখার পণ্যমূল্য আদায়ের করুন প্রচেষ্ঠা । নিজে দায়ীত্ব স্বীকার না করলে নিজেকে সমাজের পুরোহিত শ্রেনীর প্রতিনিধি বলেই মনে হয়, সেরা জীব, আশরাফ। আর তার জন্য সকল আতরাফ সম্পাদকেরা লেখকের টাকার ব্যবস্থা করবেন। যেহেতু তারা তাদের লেখা ছেপেই নিজেদের(সম্পাদকেরা) দৃশ্যমান ও দামী করে তোলেন। আর এ প্রক্রিয়া জারি থাকে বলেই সম্পাদক নিজেকে মধ্যসত্বভোগী হিসেবে আবিস্কার করেন। সেইসাথে নিজেকে প্রায়শই ২য় শ্রেনীর সৃজনশীল জীব হিসেবে তারই(সম্পাদক) লেখকদের চোখেমুখে নিজেকে ফুটে থাকতে দেখেন। তখন সেও খেলায় নামে আর লেখকদের খেলনা বানিয়ে ছাড়ে ও টুর্নামেন্ট জমে ওঠে; একদিন দেখা যায় দুএকজন সম্পাদকের বানিজ্য ভালোই হচ্ছে লেখককে ফাঁকি দিয়ে, আর লেখক তখন আত্মপ্রতারিত মনে করে। কিন্তু লেখকের নিজের দায়ীত্বে অবহেলা হেতু যে এই অনাসৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয় তা আর লেখক মনেই করতে পারে না। কোনো লেখক প্রতিবাদ করতে গেলে দেখা যায় তার লেখা নেই বা তাকে গ্রীনরুমে বসিয়ে একাধিক অযোগ্য বদলি খেলোয়ার নামিয়ে দেয়া হয়েছে সাদা পৃষ্ঠার মাঠে। আর গ্রীনরুমে বসে উনি চেচাতে থাকেন । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তাদের সেই বিষোদগার যে বা যাদের উদ্দেশ্যে করার কথা তা না হয়ে ছোটকাগজকেই গালাগাল করা শুরু করেন। "যা হাস্যকর লাগে এবং প্রায়শই হাসি। লেখকেরই চরিত্র ঠিক নাই সেখানে পত্রিকার চরিত্র কি করে ঠিক থাকে? তদুপরি অনেকের নিজমুখে সগৌরবে পদস্খলনের কথা শুনে আমার বাংলা সিনেমার ভিলেনদের অশ্লিলতা বিরোধী আন্দোলনের কথাই মনে পড়ে।
কিন্তু নিজেরাই যেসব কাগজের লেখক, সেগুলোকে লানৎ দেয়া সত্বেও লিটলম্যাগাজিন নয় বলার সাহস আর তারা অর্জন করতে পারে না। মোল্লা কি মসজিদের বিরুদ্ধে যেতে পারে? কারন এসব পত্রিকার পেছনে সেই লেখকদের খাদেমগিরি আছেতো। আর যারা কাগজগুলো চরিত্র নিয়ে আপোষ করে নিজের লেখা নয় নিজের নাম প্রচারণায় লেংটি কেঁচে নেমে পড়েন তারাতো সব পত্রিকা/কাগজ দেখলেই তাকে ছোট কাগজ সিল মেরে নিজেকে সান্দানোর ঠাপাঠাপিতে নেমে পড়েন। কিন্তু এগুলোকে ছোট কাগজ মনে করার কারণ তাদের কাছ থেকে জানা যায় না। ছোটকাগজ যেখানে অর্থনৈতিক মানদন্ডে কোন অবস্থাতেই বিবেচনা করা যায় না সেখানে অর্থনৈতিক ইস্যুতে তাকেই চাদমারী করে কথা চলতে থাকে কপালে মন্তব্যের ছাপ সহ। আবার তাদের কথায় লেখায় গুটিকয়েক ছোট কাগজের নামও চলে আসতে থাকে অথচ যে পত্রিকা বা কাগজগুলোকে তারা অভিযুক্ত করতে চান তাদের নাম অনুক্তই থেকে যায়। এদের নাম নেয়া যায় কারণ সম্ভবত এতে ঝুকি থাকে না। অভিযুক্ত কাগজগুলোর নাম নিলে অন্তত অন্যরা ঐ পত্রিকাগুলোর কাছে সম্মানীর জন্য দাবী তুলতে পারত। সেই সুযোগটাও তৈরী হয় না আর। দৈনিক পত্রিকার অপরাধকে আড়াল করে সুকৌশলে ছোট কাগজ কন্সেপ্টকেই দূবর্ল করার চেষ্টায় নেমে সাহিত্য পত্রিকা-(সম্ভবত)-কে "ছোট কাগজ" বলে মাঠ গরম করে কুৎসা রটনায় নেমে নিজেদের প্রচার মোহ আর দৈনিকের প্রতি পরো প্রভুভক্তিই প্রকাশ পায় এসব ঘটনায়।
করে সংশ্লিষ্ট লেখকগনও। এখানে বানিজ্যিক উদ্যোগের অনুপস্থিতির কারণে কেবল সম্পাদকই অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করেন না লেখকরাও এতে অংশ নেন। এেেত্র লেখকও লিখেই দায়িত্ব শেষ করেন না বরং সম্পাদনা ও অর্থৈতিক দায় বহন করেন। সেেেত্র বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ আসে, যেখানে পত্রিকাটির সম্পাদক, লেখক ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক তির পরিমান বা ঝুকি কমাবার ল্েযই বিজ্ঞাপন সংগ্রহের চেষ্টা চলে। কিন্তু এই প্রচেষ্টাতেও আংশিক ভাবেও সফল এমন পত্রিকাও খুব কম। আর রাভ করার চেষ্টাতো অনেক দূরের ভাবনা। এতে অবশ্য কখনোই ছোটকাগজের কারোরই কোন ােভ থাকে না। কারন তারা জানেন ছোট কাগজ পন্য বাজারের প্রচল ও তাৎনিক চাহিদা মেটাতে বের হয় না তাই জনপ্রিয় পন্য উৎপাদনকারীর বিজ্ঞাপন পাওয়াও এখানে বিস্ময়, নতুবা পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তুচ্ছ উদারতা। আর একথা তো স্পষ্ট যে ছোট কাগজের প্রধানতম ল্যই থাকে সাহিত্যিক অর্জনের দিকে।
আবার এই ছোট কাগজ এবং বড় কাগজের বাইরে আরো এক ধরণের কাগজ আছে। তারা নিয়মিত বা অনিয়মিত যাই হোক না কেন তারা বড় কাগজের মতই সাহিত্যিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অন্যাণ্য মূল উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য বের হয়, যার সাথে অর্থনৈতিক লাভও জড়িয়ে থাকে। যিনি বা যারা সাহিত্যিক ল্যকে সামনে রেখে এধরণের পত্রিকা বের করেন তার প্রথম ল্য অবশ্যই বানিজ্য আর ২য় বা ৩য় বা ৪র্থ বা..... ল্য হতে পারে সাহিত্য। তখনতো সে সাহিত্য ব্যবসায়ী, তার পন্য লেখক ও লেখা। তার সাথে তখন বাজারের অন্য সব পন্য ব্যবসায়ীর তফাৎ থাকে না। কিন্তু সমস্যা হয় তখন এধরণের কাগজ যখন নিজেকে ছোট কাগজ বলে চালাতে চায় আর বিভিন্ন উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হওয়া লেখকরা তাকে বৈধতা দিতে গিয়ে নানান ফন্দির অবসরে ছোট কাগজের বিরুদ্ধাচারণ করেন।
এখন এ বাস্তবতায় এই তিন ধরনের উদ্যোগকে একই ভাবে ও একই মাত্রায় এবং একই পাত্রে ভাবা যায় না। লিটিল ম্যগের প্রতিষ্ঠা বলতে তার সাহিত্য কর্মের প্রতিষ্ঠা বা স্বীকৃতি বোঝায় আর্থিক প্রতিষ্ঠাকে বোঝায় না। বানিজ্যক সাহিত্য কাগজের প্রতিষ্ঠা বলতে আমরা তাদের জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সফলতাকে বুঝি। এেেত্র আবার যেগুলো সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং অন্যান্য উদ্দেশ্যে বের হয় যদিও সেখানে “লেখক প্রতারিত হয়ে চলেছে সংবাদ প্রচারিত হয়”, সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত লিটিল ম্যাগাজিন বলে শিরোনাম সাজানো হয় এবং তাদের পইে প্রকারান্তরে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালনা হয়। এই সব প্রচারণার আড়ালে থাকা এত সব প্ররোচণা ও পার্থক্য ঘাপটি মেরে থাকা সত্বেও সেগুলোকে উপো করা হয় সচেতন ভাবে তদুপরি ঐসব কাগজকে “প্রতিষ্ঠিত ছোট কাগজ” তকমা এঁটে লেখকের সম্মানির জন্য হাহাকার করতে থাকেন । লেখক সম্মানী আদায়ের প্রচেষ্টার আড়ালে ঐসব কাগজকে ছোট কাগজের মর্যাদায় উপস্থাপন করার কৌশলকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। একটা অবানিজ্যিক প্রচেষ্টর সাথে বানিজ্যিক উদ্যোগকে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা চোখে লাগে।
বেশির ভাগ বানিজ্যিক কাগজ লেখককে দিয়ে লাভ করিয়ে নেয় কিন্তু লেখকদের টাকা দেয় না, এই প্রতারণা অব্যাহত আছে এবং লেখকরাও লিখে চলেছেন। এ আসলে তাদের আপোষ কামিতা। যা লেখকদের েেত্র মেনে নেয়া কঠিন।
বানিজ্যিক উদ্যোগে বেরোনো কাগজের অফসেট কাগজে মুদ্রণ ব্যয় বহন করতে বাধে না কিন্তু লেখকদের টাকা দিতে বাধে। আর ছোট কাগজের েেত্র যদিও তারা ওই ব্যয়বহুল উপকরণ দিয়েই বের করে বলে অনেকে অভিযোগ করে বসেন, তখন নিউজ পেপারে ছাপলেও কাগজ ব্যয় আর কতটা কমে তা বুঝতে গবেষনার দরকার হয় না বলেই মনে হয়। তারপর আসে ছোট কাগজ কতগুলো কপি বের করছে। আমার জানা মতে এদেশে পাচশ কপির বেশী কোন ছোট কাগজই করে না। এবং কাগজের লেখক সংখ্যা দিয়ে সেই সংখ্যাটকে ভাগ করে নিলে লেখকদের কপালে সম্ভবত ৫০-৬০ টাকার বেশি জুটবে না, তাও যদি সব বিক্রি হয় এবং বাজার থেকে বিক্রির টাকা পরিপূর্ণভাবে তোলা যায়। বানিজ্যিক কাগজের কথা আলাদা। লেখকদের টাকা লাগেনা এটা কিন্তু বোঝাচ্ছি না। কিন্তু কাগজের পেছনে লেখককদের বিনিয়োগ ও সম্পাদকদের বিনিয়োগ যখন লোকসানের কোটায় থাকে তখন এই হিসাবেটা কিভাবে হবে? তবে তৃতীয় ধরণের যে কাগজের কথা এ লেখায় উল্লেখ করেছি তাদের দু একটা কাগজের যখন লাভজনক অবস্থা এর কাছে টাকা চাওয়াই যায় কিন্তু আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে ঢালাও ভাবে “ছোট কাগজের কাছে” টাকার দাবী আসলে লাভজনক ঐ ধরণের কাগজেই লেখার গোপন আকাঙ্খা প্রকাশ করে এবং একই সাথে তা মান সম্পন্ন ছোট কাগজকে প্রকাশে অনুৎসাহিতই করা হয়। এর ভেতর দিয়ে এই সব তথাকথিত লাভজনক সাহিত্য পত্রিকার প্রচারে এবং প্রকাশের ভুমিকা যোগানোর সাথে সাথে তাদের কাগজকে প্রতিষ্ঠিত করারই চেষ্টা পরিলতি হয়। এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তারা ব্যবসায়ি হওয়া সত্বেও ছোট কাগজ হওয়ার স্বিকৃতি পায়।
অনেকে ছোট কাগজের ব্যয় কমাবার জন্য চার রঙা প্রচ্ছদকে এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেন। কিন্তু এটাকে কাগজের অলংকরণ না ভেবে একজন শিল্পীর সৃজন কর্ম ভাবলে এই মন্তব্য শিল্পির কাজের অবশ্যই অবমূল্যায়ন করে। তাছাড়া সকলেই জানে ছোটকাগজ যৌথতার ভেতর দিয়ে বের হয় সাধারণত। তো একজন আর্টিষ্ট যদি এমন একটি উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকে আর সে যদি তার শিল্পকর্ম অবিকৃত অবস্থায় প্রকাশের দাবি রাখে তবে এই পরামর্শকে আর গ্রহনযোগ্য মনে হয় না। আর যদি একে গ্রহন করতে হয় তাহলে লেখদের রচনাগুলোকেও ছোট করার অথবা অংশবিশেষ ছাপানোর মতো প্রস্তাবকেও ব্যয় কমাবার উছিলায় গ্রহন করতে হতে পারে।
উপরের লেখায় সাহিত্য কাগজের যে একটা সরল বিভাজনের উল্লেখ আছে তাকে কোনরূপ বিবেচনা না করেই সাহিত্য কাগজের কথা উঠলেই অনেকে "ছোট কাগজ" শব্দটিকে খাবলে চলেন। আর তাদের আলোচনা তখন ব্যাক্তির সাথে ওঠা নামা করতে থাকে। কে কবে কোন কাগজে লিখেছিল এবং পরে কোথায় লিখছেন এ নিয়েই কথা আগাতে থাকে। এই কথামালার ভেতর যা মনে হতে পারে তা হলো এইসব ব্যক্তিবর্গই ছোটকাগজ। আবার অনেকের কথায় এটাও ফুটে ওঠে যে কোন একটা পত্রিকায় লেখা শুরু করে পরে অন্য চরিত্রের একটি কাগজে লেখা শুরু করায় কারো কারো পদস্খলনের হয়েছে। এখন এক পত্রিকায় না লিখে বা ত্যাগ করে বা ত্যাক্ত হয়ে বা এমনিই অন্য আরেকটি কাগজে লিখতে যাওয়া/চাওয়া তাদের আলোচনায় কেন স্খলন বোঝায়? এ প্রশ্ন সহজেই সামনে চলে আসে। আর এইসব স্খলিত আত্মা কিভাবেইবা অন্যদের দোষারোপ করে চলে, বোঝা মুশকিল।এথিক্স এবং আত্ম সমালোচনার ও লেখকের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলে এরকম অবস্থায় আমার মনে পড়ে-নির্বাচন বা লীগ সামনে রেখে নেতা/খেলোয়াড়দের দলবদলের কথা। যার মোদ্দাকথাটা দাড়ায় মতা ও পদ নিশ্চিত করার ভেতর দিয়ে নিজের দাম ভাঁড়িয়ে নেয়া। এখানেও লেখক হিসেবে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে দুয়েকদিন কিছু পত্রিকা ও দৈনিকে লিখে এবার নিজের বাজার চাহিদা বিবেচনা করে বা না করেই লেখার পণ্যমূল্য আদায়ের করুন প্রচেষ্ঠা । নিজে দায়ীত্ব স্বীকার না করলে নিজেকে সমাজের পুরোহিত শ্রেনীর প্রতিনিধি বলেই মনে হয়, সেরা জীব, আশরাফ। আর তার জন্য সকল আতরাফ সম্পাদকেরা লেখকের টাকার ব্যবস্থা করবেন। যেহেতু তারা তাদের লেখা ছেপেই নিজেদের(সম্পাদকেরা) দৃশ্যমান ও দামী করে তোলেন। আর এ প্রক্রিয়া জারি থাকে বলেই সম্পাদক নিজেকে মধ্যসত্বভোগী হিসেবে আবিস্কার করেন। সেইসাথে নিজেকে প্রায়শই ২য় শ্রেনীর সৃজনশীল জীব হিসেবে তারই(সম্পাদক) লেখকদের চোখেমুখে নিজেকে ফুটে থাকতে দেখেন। তখন সেও খেলায় নামে আর লেখকদের খেলনা বানিয়ে ছাড়ে ও টুর্নামেন্ট জমে ওঠে; একদিন দেখা যায় দুএকজন সম্পাদকের বানিজ্য ভালোই হচ্ছে লেখককে ফাঁকি দিয়ে, আর লেখক তখন আত্মপ্রতারিত মনে করে। কিন্তু লেখকের নিজের দায়ীত্বে অবহেলা হেতু যে এই অনাসৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয় তা আর লেখক মনেই করতে পারে না। কোনো লেখক প্রতিবাদ করতে গেলে দেখা যায় তার লেখা নেই বা তাকে গ্রীনরুমে বসিয়ে একাধিক অযোগ্য বদলি খেলোয়ার নামিয়ে দেয়া হয়েছে সাদা পৃষ্ঠার মাঠে। আর গ্রীনরুমে বসে উনি চেচাতে থাকেন । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তাদের সেই বিষোদগার যে বা যাদের উদ্দেশ্যে করার কথা তা না হয়ে ছোটকাগজকেই গালাগাল করা শুরু করেন। "যা হাস্যকর লাগে এবং প্রায়শই হাসি। লেখকেরই চরিত্র ঠিক নাই সেখানে পত্রিকার চরিত্র কি করে ঠিক থাকে? তদুপরি অনেকের নিজমুখে সগৌরবে পদস্খলনের কথা শুনে আমার বাংলা সিনেমার ভিলেনদের অশ্লিলতা বিরোধী আন্দোলনের কথাই মনে পড়ে।
কিন্তু নিজেরাই যেসব কাগজের লেখক, সেগুলোকে লানৎ দেয়া সত্বেও লিটলম্যাগাজিন নয় বলার সাহস আর তারা অর্জন করতে পারে না। মোল্লা কি মসজিদের বিরুদ্ধে যেতে পারে? কারন এসব পত্রিকার পেছনে সেই লেখকদের খাদেমগিরি আছেতো। আর যারা কাগজগুলো চরিত্র নিয়ে আপোষ করে নিজের লেখা নয় নিজের নাম প্রচারণায় লেংটি কেঁচে নেমে পড়েন তারাতো সব পত্রিকা/কাগজ দেখলেই তাকে ছোট কাগজ সিল মেরে নিজেকে সান্দানোর ঠাপাঠাপিতে নেমে পড়েন। কিন্তু এগুলোকে ছোট কাগজ মনে করার কারণ তাদের কাছ থেকে জানা যায় না। ছোটকাগজ যেখানে অর্থনৈতিক মানদন্ডে কোন অবস্থাতেই বিবেচনা করা যায় না সেখানে অর্থনৈতিক ইস্যুতে তাকেই চাদমারী করে কথা চলতে থাকে কপালে মন্তব্যের ছাপ সহ। আবার তাদের কথায় লেখায় গুটিকয়েক ছোট কাগজের নামও চলে আসতে থাকে অথচ যে পত্রিকা বা কাগজগুলোকে তারা অভিযুক্ত করতে চান তাদের নাম অনুক্তই থেকে যায়। এদের নাম নেয়া যায় কারণ সম্ভবত এতে ঝুকি থাকে না। অভিযুক্ত কাগজগুলোর নাম নিলে অন্তত অন্যরা ঐ পত্রিকাগুলোর কাছে সম্মানীর জন্য দাবী তুলতে পারত। সেই সুযোগটাও তৈরী হয় না আর। দৈনিক পত্রিকার অপরাধকে আড়াল করে সুকৌশলে ছোট কাগজ কন্সেপ্টকেই দূবর্ল করার চেষ্টায় নেমে সাহিত্য পত্রিকা-(সম্ভবত)-কে "ছোট কাগজ" বলে মাঠ গরম করে কুৎসা রটনায় নেমে নিজেদের প্রচার মোহ আর দৈনিকের প্রতি পরো প্রভুভক্তিই প্রকাশ পায় এসব ঘটনায়।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: যুক্তির সিঁড়ি ভেঙ্গে অনেক কথার অভিনিবেশ হয়েছে আপনার লেখায়। অমত, সহমতের বিষয়টি কখনোই প্রধান করে দেখি না, বরং জিজ্ঞাসার ক্রমবর্ধনের মাধ্যমেই নতুন পথ নতুন মত তৈরী হবে বলেই মনে করি।
আপনার উপস্থিতি উজ্জ্বল মনে হলো।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লিটল ম্যাগাজিনের লেখক কী বেছে নেবেন?
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলেছেন, মৈথুনে পরিচিত মুখ না হলে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। যাপিত জীবনের বাইর একটা মানুষ কতটুকু স্বচ্চন্দ হতে পারে? এই সমাজকাঠামোর ভেতরে থেকে সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি, সেক্স , ক্রাইম, ক্রমাগত অধোগতি, মিথ্যাচার-এগুলোর বাইরে একজন লেখক অবস্থান নেবেন কোন সে পরিসরে? যদি নাই থাকে তবে শুধু শুধু ফর্ম ফর্ম বলে চেঁচিয়ে, লেখার বিষয়টাকেই ফর্ম বানিয়ে ফেললে সমাজ থাকে না, সমাজের মানুষ থাকে না। মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, সার্থকতা, ব্যর্থতা, জীবনের টানাপোড়েন সর্বোপরি জীবন থাকে না। যুদ্ধ নাই থাকে তবে সাহিত্য কোথায়? চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি, মানুষের ভেতরকার বেপোরোয়া জেদ এবং হেরে যাওয়ার বেদনা কেবলই মুখ থুবড়ে পড়ে থেকে একসময় হারিয়ে যাবে সমাজেরই কোনো এক গলিতে।
সুবিমল বলেন, সমাজের এইসব অনিয়মগুলোকে আঙুল তুলে দেখাতে চাই।
সুবিমল বলেন,
আমার কাছে লিটল ম্যাগাজিনের মধ্যে কোনো লিটল ব্যাপার নেই, তা বাণিজ্যিক সাহিত্যের কোনো পরিপূরক নয়, প্যারালাল। লিটল ম্যাগাজিন হচ্ছে সাহিত্যের একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি, বেপোরোয়া,রবীন্দ্রপরবর্তী বাংলা সাহিত্যে যা ক্রমশঃ প্রকট হচ্ছে, হয়ে উঠছে। এক কথায় আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক সমস্ত রকম স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তার অবস্থান। তথাকথিত জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকাগুলোর প্রথম কথা হচ্ছে বাণিজ্য, দ্বিতীয় কথাও বাণিজ্য, এমনকি তৃতীয় কথাও। সৃষ্টিশীলতার প্রশ্ন যেখানে অবান্তর, না হলে অত্যন্ত গৌণ। রুচিশীল পাঠক সৃষ্টির দায়বদ্ধতা সে স্বীকার করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত স্রোতে তাকে গা ভাসাতে হয়, ভাসাতে হয় তার নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থেই। যা ছাপলে কমার্স হবে না, বিক্রি হবে না, তার পৃষ্ঠপোষকতা তারা সচারচর করে না, করতে পারেনা। কশ্চিৎ কখনও যখন করে বা করার ভান করে, মনে রাখতে হবে করে অবশ্যই শ্রেণীস্বার্থে।
অন্য ক্ষেত্রে লিটল ম্যাগাজিনের মূলধন হচ্ছে সমস্তরকম স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তার বিপ্লবাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস। বড় কাগজ, সাহিত্যে বাণিজ্য সফল কাগজ, যা, যেসব ছাপতে ভয় পায় তাই ছাপবে লিটল ম্যাগাজিন। যা কখনই এই আর্থ-সামাজিক পরিবেশে বাণিজ্যিক নয়, বরং মৌলিক, একগুঁয়ে বা পরীক্ষানির্ভর। কখনও কখনও উস্কানিমূলকও। খ্যাতিমানের অনুগ্রহের এক-আধ পৃষ্ঠার এঁটোর সে তোয়াক্কা করে না। পুরোনো কালের সৃষ্টিশীল বিষয়গুলির পুনরাবিষ্কারএর সঙ্গে সঙ্গে সমসাময়িককালে নতুন কে কী বলছে কী লিখছে তার একটা ধারণা তুলে ধরার দাযিত্ব লিটল ম্যাগাজিনের। প্রচলিত ধ্যান-ধারণাগুলোর ফাঁপা জায়গাটা সে দেখিয়ে দেবে, সমস্ত রকম ভাঙচুর আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করার দায়িত্ব তার, সাহিত্যের সবরকম আর সবদিকের সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখার - আর সেই সূত্রেই একধরণের বেপরোয়া আর বেহিসেবী তার ভঙ্গি। আগামী প্রজন্মের সমস্তরকম প্রশ্নচিহ্নের প্রতি তার থাকবে পিতৃপ্রতিম সহানুভূতি। লিটল ম্যাগাজিন যেহেতু মূলত সাহিত্য-সংস্কৃতি নির্ভর, তাই জীবনের লক্ষণ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে লিটল ম্যাগজিন থেকে আরো বেশি চাই-চাই এ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট মানসিকা। প্রচ- রাগী চেহারা হবে তার। কোনরকম কম্প্রোমাইজের মধ্যে নেই সে। গতানুগতিকতার বিরুদ্ধে তার বিতৃষ্ণা হবে আন্তরিক, ব্যবসায়িক স্বার্থে যে সব আধমরা লেখককে প্রতিষ্ঠান তুলে ধরতে চায়, দেখাতে চায় এরাই লেখক, এদের লেখাই ১নং, আগমার্কা এবং বাজারের সেরা মাল-তাদের, সেইসব যশ-কাঙালের মুখোশ খুলে দেয়ার দায়িত্বও লিটল ম্যাগাজিনের। প্রচলিত দৈনিক সাপ্তাহিকগুলোতে সাহিত্যের নামে কুচো চিংড়ির যে রগরগে ঝালচচ্চরি চালাবার চেষ্টা করা হয়, তা স্বাদু হতে পারে কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে তা মারাত্মক, সেখান থেকে কলেরা ছড়াবার সম্ভাবনা প্রবল। এ সম্বন্ধে পাঠককে সতর্ক করে দেবার দাযিত্বও লিটল ম্যাগাজিনের। মোট কথা, অন্যভাবে বললে আমাদের সমাজের কাঠামোগত দিক, সংস্কৃতির জগতেও চারিয়ে আছে সেই একই লড়াই। যে কাগজের পুঁজি তিনশ টাকা আর যে কাগজের তিরিশ লক্ষ তাদের উদ্দেশ্য কখনও এক হতে পারে না। সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যবসায়িক কাগজের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানোকে আমি এক ধরণের বেশ্যাবৃত্তি ছাড়া অন্যকিছু মনে করি না। সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলি তো আমাদের দেশে , কুকুর পোষার মতো লেখক পোষে। আবার যাঁরা বই ছাপার জন্য রাইটার্স বিল্ডিং থেকে ‘‘ডোল’’ আনতে যান তাঁরাও ব্যবহৃত হন প্রায় একই রকমভাবে। প্রত্যক্ষভাবে হয়তো নয়, কিন্তু পরোক্ষে তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কিছু না কিছু কেড়ে নেওয়া হয়ই। নিজেদের শ্রেণীস্বার্থে তাদের ব্যবহার করা হয় এবং ছিবড়ে করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়- এ ।
একথা অস্বীকার করে লাভ নেই যে বাণিজ্যিক সাহিত্যের একটা ধারা সব সময়ই সব দেশেই আছে থাকবে। শংকর-সুনীল-শ্যামল-শীর্ষেন্দু প্রফুল্ল রায়দের দল( আরো নাম যোগ হতে পারে) একশ বছর আহে ‘‘নীল বসনাসুন্দরী’’ লিখেছে, এখনও লিখছে, ভবিষ্যতেও লিখবে। কিন্তু সতর্ক হবার জায়গা এখানে যে, এনারা দাবি করেন এনাদের তৈরি মালই ১ নং, খাঁটি এবং মৌলিক। এনাদের আগমার্কা প্রোডাকশনের বাইরে আর কিছু নেই, আর কেউ কিছু করছে না। ব্যবসায়ী সাহিত্য-প্রতিষ্ঠান তার অস্তিত্বের পাশাপাশি আর কোনো সৃজনশীল সাহিত্যগোষ্ঠীর অবস্থিতি সত্য করতে পারে না। কমার্শিয়াল লেখা নয় এমন লেখাকে এক্সপেরিমে›াঁল নাম দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়। এঁরাই নিজেদের কাগজে বেস্ট সেলার ছেপে বাঙলা সাহিত্যেল ‘‘বেস্ট ’’ বইগুলো বেছে দেয়। মফস্বলের লাইব্রেরিগুলো এবং অগণিত সাধারণ পাঠক , যাঁরা অতশত খোঁজ খবর রাখেন না, ভেতরের ধান্দাবাজি বোঝেন না, তাঁরা -কলকাতায় এসে বেস্ট বইগুলো কিনে নিয়ে যান। বিয়ে-শাদিতে এই বেস্ট বইগুলোই উপহার দেওয়া হয়। এইসব বইয়ের বাইরে বাংলা সাহিত্যের যে বিপুল জগৎ, সত্যিকারের সৃষ্টি যেখানে সম্ভব হচ্ছে, তার খোঁজ রাখা এঁদের সম্ভব হয় না, প্রচার নেই বলে, মিডিয়ার অনুগ্রহ নেই বলে, বিজ্ঞাপন নেই বলে। এই যে মিডিয়ার কথা বলছি, এ এক সাংঘাতিক বস্তু এ যুগে। যেহেতু এইসব সংবাদ সাহিত্য প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এক একটা মিডিয়া, তাই এদের এই ভঙ্গি ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায়- কাদের এরা লেখক করবেন কাদের করবেন না তা এঁদের মেজাজ মর্জির ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কতখানি অনুগত তার আনুপাতিক হারের ওপর। এর ফল হিসেবেই আমরা দেখতে পাই কমল কুমার মজুমদার বা অমিয়ভূষণ মজুমদারের মতো লেখকের নামই পৌঁছায় না ব্যাপক পাঠক-সাধারণের কাছে, রমেন্দ্রকুমার আচার্য্যচৌধুরীর মতো কবি সারাজীবন অনাবিস্কৃত থেকে যান, পুরস্কারটার মতো ঘরে লোকদেরও নিয়েও এরা ছেলেখেলা করে।। রবীন্দ্রপরবর্তী বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় দুর্লক্ষণ, যা ক্রমশঃই বর্ধমান, তা হচ্ছে এই যে নিস্কৃষ্ট বহু কিছুকে শ্রেষ্ঠত্বের মুখোশ পরিয়ে বাজারে বিপুলভাবে বিজ্ঞাপিত করে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করা-প্রচার করা ঐগুলোই একমাত্র ১নং- যে প্রবণতা অক্ষম সাহিত্য সৃষ্টির চেয়েও ক্ষতিকর।
১১|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭
আলঝেইমার ক্রিস্টোসান বলেছেন: আপাতত প্রিয়তে, সময় নিয়ে পড়ব।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
মঙ্গলার্থে...
১২|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৮
শিবা বলেছেন:
কবি
লিটলম্যাগ নিয়ে দীর্ঘ কথার অবতাড়ণা করেছেন, আমরা উপকৃত হলাম। তবে শিরোনামের সঙ্গে মিল নেই। তৃতীয়বাংলার লিটলম্যাগ নিয়ে বোধহয় কথা বলতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই সংযোজন করবেন।
পাঠ করার অপেক্ষায় রইলাম...
ভালো থাকুন
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আমরা উপকৃত হলাম।
-------------------------
লেখালেখির উপকার অপকার নিয়ে দারিদার কিছু ডিসকোর্স আছে। ইন্টিডিউসিং দারিদাতে পাবেন। বেশ রসাত্নক। মজা পাবেন।
সর্বমঙ্গালা থাকুন।
মঙ্গলার্থে...
১৩|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১২
মিলটনরহমান বলেছেন: * বুদ্ধদের বসুর সহিত্যপত্র পড়ে আমরা জেনেছি যে, লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কিত সেই অমোঘ পঙক্তি ঃ লিটল কেন? আকারে ছোট বলে? প্রচারে ক্ষুদ্র বলে? নাকি বেশিদিন বাঁচে না বলে? সবকটাই সত্য, কিন্তু এগুলোই সব কথা নয়; ওই ছোট বিশেষণটাতে আরো অনেকখানি অর্থ আছে। প্রথমত, কথাটা একটা প্রতিবাদ, বহুলতম প্রচারের ব্যাপকতম মাধ্যমিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। লিটল ম্যাগাজিন বললেই বোঝা গেল যে জনপ্রিয়তার কলঙ্ক একে কখনও ছোঁবে না, নগদ মূল্যে বড়োবাজারে বিকোবে না, কিন্তু হয়তো কোনো একদিন এর একটি পুরোনো সংখ্যার জন্য গুণী-সমাজে ঔৎসুক্য জেগে উঠবে। সেটা সম্ভব হবে এই জন্যেই যে, এটি কখনও মন যোগাতে চায়নি, মনকে জাগাতে চেয়েছিল। চিয়েছিল নতুন সুরে কথা বলতে; কোনো এক সন্ধিক্ষণে যখন গতানুগতিকতা থেকে অব্যাহতির পথ দেখা যাচ্ছে না, তখন সাহিত্যের ক্লান্ত শিরায় তরুণ রক্ত বইয়ে দিয়েছিল- নিন্দা, নির্যাতন বা ধনক্ষয়ে প্রতিহত হয়নি। এই সাহস, নিষ্ঠা, গতির একমুখিতা, সময়ের সেবা না করে সময়কে সৃষ্টি করার চেষ্ঠা- এই টেই লিটল ম্যাগাজিনের কূলধর্ম...।
লিটলম্যাগ বিষয়ে এটিই সারকথা কথা মনে করি।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: সময় বদলেছে, জেনারেশান চেঞ্জ হয়েছে; সার কথা কি একজায়গায় স্থির থাকে!!! সামাজিক ইলিমেন্টও-তো আগের জায়গায় অবস্থান করছে না।
পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
মঙ্গলার্থে...
১৪|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৬
রশীদ খাঁন বলেছেন: প্রিয় পোষ্টে নলাম
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
সর্ব সন্তু সুখি ন...
১৫|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৪
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন:
আপাততঃ প্রিয়তে
সময় নিয়ে পড়তে হবে
দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য লেখার জন্য শুভেচ্ছা।
ভাল থাকুন
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
সর্ব ভবন্তু নিরাময়...
১৬|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০০
কালিদাস কবিয়াল বলেছেন: মফস্বলের নিথর গ্রামগুলোতে লিটলম্যাগ দূরে থাক এর ছায়াও বড় দূর্লভ। তবু সতীর্থদের সহযোগীতায় দুয়েকটি পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। লিটলম্যাগের শিকল ভাঙার শব্দ আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, সাহিত্য কোন সীমানাবন্ধী হ্রদ নয়, এটি প্রবাহমান স্রোতধারা; এর গতিপথে নানা বাঁক থাকবে, নানা রঙ থাকবে- এটি বাঁধনছেড়া বিস্তীর্ণ প্রাণের কোলাহল। সাহিত্য কালের পথে এক ব্রাত্য পথিক, যার গন্তব্য অনির্দিষ্ট্য ও অসীম। সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠানের ঘেরাটোপে বেঁধে রাখলে এটি ক্রমশই হয়ে উঠবে বৈচিত্রহীন-জড়-মেকি। তাই সাহিত্যের প্রকৃত চাষাবাদ হতে পারে লিটলের খোলা মাঠে-প্রান্তরে।
দাদা, লিটল নিয়ে আপনার জ্ঞানগর্ভ লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। লিটল ও লিটল পরিবারের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী পথচলা দীর্ঘ হোক.....
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আপনার বেদনা বোঝতে পারি আমি!!! আমিওযে গ্রামে থাকি।
----------------------------------------------------------------------------
লিটল ও লিটল পরিবারের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী পথচলা দীর্ঘ হোক.....
----------------------------------------------------------------------------
সবই যে হ য ব র ল। উই মাষ্ট ষ্ট্যান্ড।
১৭|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৫
আসাদুজ্জামান তাপুশিকদার বলেছেন: যোগ চিহ্ন দিয়েই শোকেছে নিলাম। সময় করে পড়ে নেব।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ধন্যবাদ।
সর্ব সন্তু সুখি ন
সর্ব ভবন্তু নিরাময়...
১৮|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৮
তনুশ্রীপাল বলেছেন: মূলধারার সঙ্গে যোগসূত্র রেখে লিটলম্যাগ ও তৃতীয়বাংলা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ঠিক জায়গায় আলো ফেলেছেন। তবে তৃতীয় বাংলা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই আমার। আমি মনে করি, তৃতীয় বাংলা তো মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়।
মঙ্গলার্থে...
১৯|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০১
মাশূক আনিস বলেছেন: পড়ছি, আরো পড়ে মন্তব্য করার সাহস সঞ্চয় করছি। আপনার মঙ্গল কামনা করছি, ভালো থাকুন...
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
সর্ব ভবন্তু নিরাময়...
২০|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৩
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
পড়ছি ,জানছি......ভাবছি।
এত কষ্ট সাধ্য লেখার জন্য ধন্যবাদ ।
আগামীর আশায় থাকলাম।
শুভেচ্ছা আপনাকে।
শুভকামনা অন্যসবাইকে যারা সুন্দর মতামত দিয়েছেন.........ভালোলাগলো সবই।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
সর্ব সন্তু সুখি ন
সর্ব ভবন্তু নিরাময়...
২১|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯
তারিক টুকু বলেছেন: পড়লাম আপনার পোস্ট ।এ সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে এখন আর ইচ্ছা করে না।
তারপর্ও দেখি সময় করে উঠতে পারলে প্রতিক্রিয়া জানাবো।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ।এ সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে এখন আর ইচ্ছা করে না।
--------------------------------------------------------------------
ইচ্ছা না করলে সম্পূর্ণ ইগনোর করাই ভাল। ইগনোর করা একপ্রকার মৌলিক ক্ষমতাও বটে!!
পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
২২|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৮
মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ব্যক্তিকথন:
১.এই সময়ে লিটলম্যাগাজিনের দৈহিক এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার মানসিক তথা দার্শনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং সংশয় উভয়ই জাগে।
২.এবং জাতীয় দৈনিক-বৃক্ষের সাহিত্য-ফুল-ফোটানো শাখার যে মরণ ঘটে চলেছে দিনকে দিন তা ভাবতে এবং মানতে আমার ভালোই লাগে। না মরলে, শীতের হাওয়া লাগলো বলে!!
জাতীয় দৈনিকের সাহিত্যপত্র হেমন্ত পার করে শীতের অপেক্ষায়, হাওয়া উঠুক, সে পাতা ঝরবেই।
৩.কিছু কিছু পত্রিকার সাহিত্য-পত্র-পল্লব নাই এটা আমাকে বেশ আরাম দেয় এই ভেবে যে যাক কিছু হতাশার অন্তত জন্ম হবে না কারও কারও পক্ষ থেকে।
যে লিটলম্যাগ মানেই দৈনিকের পাতা বিরোধীতা, তা কিন্তু নয়। সেকথা কেউ বলেছে না তার পরও একথা বলে রাখি।
৪.এবং এর মানে এই নয় লিটলম্যাগের ভবিষ্যত উজ্জ্বল, হীরকোজ্জ্বল।
৫.লেখকের নিজেদের দেখা নিজেরাই ছাপছে বা ছাপার সুযোগ থাকছে নানা ওয়েবভিত্তিক ব্লগগুলোতে তখন লেখক কি আসলেই সম্পাদকের ( কিছু কিছু ক্ষেত্রে) অত্যাচার, আবদার, অনুযোগ মেনে লিটলম্যাগগুলোতে লিখবে কি? কোন কোন দিক দিয়ে লিটলম্যাগে লেখা অত্যাচারও বটে। লেখকের স্বাধীনতা খর্ব হয় বটে, করেই লিখতে হয়, নতুবা সেই পত্রিকা লেখককে স্থান দেয়না। এমন ঘটনা বিরল নয়। আপনি কি লিখবেন কেন লিখবেন, কি লিখবেন, কি লিখকেন না, কোন লিটলম্যাগগুলোতে লিখবেন, কোথায় লিখবেন না, কাদের সাথে লিখবেন, কাদের সাখে কাথা পর্যন্ত বলবেন না-- নির্ধারণ করে দেয় তখন তা অত্যাচারই বটে। এই সমস্ত থেকে ব্যক্তিগত ব্লগসাইট অনেক ভালো। এটা এন্টি-ডেইলি এবং এন্টি-লিটলম্যাগ হিসাবে দাঁড়াতে পারে।
৬. লিটলম্যাগিষ্টদের প্রায়ই ক্ষোভ করতে দেখা যায় যখন দৈনিকের পাতায় নিজ সংঘের কারও বই আলোচিত হয় না। এবং তারা নিজেদেরকে শুদ্ধ লিটলম্যাগকর্মী হিসাবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে, গর্বে ভোগে।
আলোচনা প্রসঙ্গে:
১. "লিটল ম্যাগাজিন ঐতিহ্য ও সামাজ সচেতন"???
ঐতিহ্য ব্যাপারটাইতো এস্টাবিলিশ একটা ধারণা। ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠান নিজ প্রয়োজনে তৈরি করে। বেঁচে থাকার জন্যই সে ঐতিহ্যকে লালন করে।
সমস্ত ঐতিহ্যকে বিদায় করা অতি জরুরী। আপনার লিটলম্যাগ কনসেপ্টের ১ নং পয়েন্টের সাথে আমার বড় বিরোধ বোধ হচ্ছে। বিরোধ বোধ করলাম। আশা করি ঐতিহ্যপ্রবন সাতিত্যের প্রয়োজনীয়তা বা এই পদ কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন ব্যাখ্যা করলে আলোচনায় সুবিধা হয়। হয়তো আপনার কথাটাই বুঝতো পারি নাই।
বাকি বিষয় নিয়ে পরে আলোচনা করবো।
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: "লিটল ম্যাগাজিন ঐতিহ্য ও সামাজ সচেতন"???
---------------------------------------------------------------
ঐতিহ্য যদি ডগমা না হয় তা হলে সমস্যা কী? তবু যদি প্রশ্ন থেকে যায় তবে x এবং z এর নামও বদলে দেয়া হোক। ''চিন্হক'' ''চিন্হিতের'' মধ্যে কোন অনিবার্য সম্পর্ক নেই। আপনারা সবাই রাজী থাকলে মানুষকে আজ থেকে মাছ বলতে পারি। এতে মানুষের রসায়ন মানুষের কাঠামোও কি বদলে গেল ? লিটল মানোত্তীর্ণ না হলে, হ-য-ব-র-ল হলে, মৌলিক চিন্তাকাঠামো ম্যাড়ম্যাড়ে হলে লিটলম্যাগ ঐতিহ্যের অনুগামী কী না, এসব জিজ্ঞাসা ঠিক শক্ত পায়ে দাঁড়ায় না যেনো!!!
ঐতিহ্য বললেই প্রাচীনপন্হী মনোভাব অনেকের কাছে সয়ম্ভু। ঐতিহ্য মহৎ হলে মহৎ নতুনত্ব দিয়েও তা অনতিক্রম্য। যেমন ধরুণ- আপনি হয়তো জীবনানন্দ দাশ থেকে ভাল কবিতা রচনা করেছেন। কিন্তু এর মানে এই নয় আপনি জীবনানন্দকে অনতিক্রম করেছেন। আপনি আসলে প্রতিস্থাপন করলেন। মহৎ কিছু আমার কাছে অনতিক্রম্য। আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে। দ্বতীয় বিশ্বযু্দ্ধের পর, যুগসন্ধিক্ষণের কালের ছায়া, অবক্ষয়ী মূল্যবোধ লেখক বুদ্ধিজীবীর উপর তো পড়েছিলোই। ঐ সময়ের অ্যাবসার্ট নাটকের কথা কার না মনে আছে!!! প্রায়-প্রলাপোক্তির মতো। আসলে মানব জীবনের বিধ্বস্ত ধারণা নতুন কিছু নয়। আলবেয়ার যেনো সত্যি কথাই বলেন- A world that can be explaineded by reasoning, however faulty is a familiar world. But in a Universe that is suddenly deprived of illusion and of light, man feels a stranger. He is an irremediable exile, because he is deprived of memories of a last homelands as much as he lacks the home of promised land to come. This devance between man and his life, the actor and his setting, truly constitutes the feeling of absurdity.
মৃদুল মাহবুব,
আপনার ব্যক্তিগত কথন অনেক ভাল লাগল। আপনার চিন্হিতকরণ প্রক্রিয়া, র-মেটেরিয়াল অনেক উজ্জ্বল। আসলে আমার কম্পোজ সমস্যা না হলে দীর্ঘ বলা যেত। স্পেইসও দিয়েছিলেন।
মঙ্গলার্থে...
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৪৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লেখালেখি ও ঐতিহ্য
লেখকের কনটেন্ট পুরোপুরি সামাজিক, তাঁর ফর্ম ও সামজিক বিকাশের স্তরের সাথে সম্পর্কিত। যার কারণে একটি পর্যায়ে আখ্যানসাহিত্যে সমাজবাস্তবতার পরিবর্তনের অন্য পর্যায়ে ছোটগল্প, নাটক ও উপন্যাসে গিয়ে বিকশিত হলো। মহাকাব্যের জায়গায় নতুন শৈল্পিক প্রয়োজনে উপন্যাস চলচ্চিত্রের আবির্ভাব ঘটলো। সাহিত্যকর্ম রচনার ক্ষেত্রে তাই লেখক যে ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছেন সেই ঐতিহাসিক বাস্তব পরিস্থিতি দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত হন। এই প্রভাবের অনুপাত ও ধরণ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু এর মূর্ত ক্রিয়া অগ্রাহ্যকর নয়। তাই লেখকের কাজ অনেক জটিল ও আন্তঃসন্ধানী। বৃহৎ ঐতিহাসিক মাত্রার মধ্যে জীবনের দ্বন্দ্বময় অভিমুখটি ধরতে পারা তাই এখক লেখকের জন্য ঐকান্তিক প্রয়োজন ও তাগিদ। সেই তাগিদেই লেখকের অতীত ও বর্তমানের স্থানিক ও কালিক জগৎ পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত হওয়া লেখকের সহজাত শিক্ষা-বাধ্যবাধকতা। কেননা মানুষের বিভিন্ন কালিক-দার্শনিক উপলব্ধি সাহিত্যে সমীকৃত হয়(প্রতিফলিত নয়)। যথার্থ সাহিত্য সমালোচনা তাই মতাদর্শদের বুঝতে সাহায্য করে। মতাদর্শদের বোঝার অর্থ অতীত ও বর্তমান উভয়কেই আরো গভীরভাবে বোঝা।
২লেখক বা শিল্পীর ক্ষেত্রে অন্যসব দায়বদ্ধতা বাদ দিলেও যে ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ক্রিয়াশীল সেই পরিস্থিতিকে বোঝা এবং এিতিহ্যগতভাবে যে শিল্প ব্যবস্থাতন্ত্রের তিনি উত্তরসূরী সেই ব্যবস্থাকে (ফর্ম) বিকশিত করা, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর শৈল্পিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ কারণে সৃজনশীল লেখক-গোষ্ঠী মাত্রেরই তাঁর কাজের বিষয় ও পদ্ধতিকে উন্নত করার অনিবার্য় তাগিদ সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার। এর বাইরে তাঁর কাজ হলো যে ব্যবস্থা ও শক্তি এই বিকাশকে ব্যাহত করে, রুদ্ধ রাখার চিন্তাতন্ত্র ও ব্যবস্থাতন্ত্র তৈরি করে তার সাথে নিজের ব্যক্তি-অস্তিত্ব ওশিল্প-অস্তিত্বের বোঝাপড়া জরুরী।
২৩|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৫
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: গেওর্গে আব্বাসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি লিটলম্যাগকেন্দ্রিক আলোচনা উসকে দেয়ার জন্য। গেওর্গে আব্বাসের লেখাটা পড়ার পর থেকে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই লেখাটা পড়েই যে প্রশ্নগুলার ঘূর্ণি শুরু হয়েছে তা নয়, এই নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং নানাজনের লিটলম্যাগ কেন্দ্রিক আলোচনার পঠন-পাঠন এবং আড্ডার শ্রোতা হিসেবে উক্ত বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনা শোনার ফলেই অনেক দিন থেকেই কিছু প্রশ্ন একলা একলা - একলা হয়ে ঘুরছে, বলা যায় ঘুরঘুর করছে। আলাপ পাড়ার কোন ‘ক্ষণ’ পাইনি। এই ‘ক্ষণ’ গেওর্গে আব্বাসের লেখাটা পড়ে পাওয়া গেল। এ জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।
লিটলম্যাগের সংগা আসলে কি, এর কি কোন সার্বজনীন সংগা প্রদান করা সম্ভব? আমরা যতটুকু জানি, তা হলো কিছু সমমনা সাহিত্যচর্চাকারী এক সাথে কিছু লেখা-জোখা একসঙ্গে প্রকাশ করে অবাণিজ্যিকভাবে। ‘সমমনা’ হওয়া সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিকভাবে এককাতারের নাও হতে পারে। আলাদা আলাদা হতে পারে। আবার উক্ত বলয়ে এককাতারেরও হতে পারে। এইসব করে, মানে চর্চা করে, মানে লিটলম্যাগ করে, যার একটা কারণ থাকে লেখা-জোখা প্রকাশ করা, ‘অন্য’ কে পড়ানোর একটা পায়তারা করা। এই চর্চার মাধ্যমে একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজির থাকাই মুখ্য মনে হয় আমার কাছে। এই তো, নাকি অন্য কোন মাজেজা আছে? থাকলে কি..এই যদি হয় তাহলে প্রতিষ্ঠান বিরোধী কেন? কেন বিরোধীতা করতে হবে, কেন দৈনিকে লেখা প্রকাশ করা যাবে না? জাত যাওয়ার ভয়? কি কি কারণে? আর সবচেয়ে বড় কথা প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে কি প্রতিষ্ঠানের বিরোধীতা করা যায়? সেটাকে কি প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা বলে? মানবসভ্যতার সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো সব স্তরে মানুষের ক্রমাগত আত্মউন্নয়ন ও উত্তরণের সাধনা করে যাওয়া, যার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি ‘সমাজ’ এবং যার ভিত্তি গড়ে ওঠে ‘বিবাহ’ ও ‘পরিবার’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে, যাদের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভুত, বা হাজির। এর ভিতর থেকে, এর অন্তরে ডুব দিয়ে কিভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়া যায়, আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এজন্য ‘লিটলম্যাগ’ ‘প্রতিষ্ঠান’ ‘বিরোধীতা’ এই শব্দবন্ধগুলোকে আগে ভাল ভাবে বুঝার দরকার আছে বলে মনে করি।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন:
মজনু শাহ-এর অংশ সংযোজনের পর বিস্তারিত বলছি।
আজকের মধ্যেই মেইল পাওয়ার কথা।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন:
লিটলম্যাগের সার্বজনীন সংজ্ঞা না থাকলেও কনসেপ্ট আছে, যা এখনও শক্ত পায়ে দাঁড়ানো, যা মূল টেক্সেটেই ব্যাখ্যাত আছে বিবিধ প্রযত্নে; আর কনসেপ্ট এক্সিস্ট করছে বলেই হয়তো এখনও কিছু
খামচাখামচি, আলোচনা, প্রত্যালোচনা দৃশ্যমান হচ্ছে।
প্রিয় মুক্তি মণ্ডল
আমার ইচ্ছে ছিল মজনু শাহের উত্তর যুক্ত করার পর আপনাকে দীর্ঘ লিখব। কিন্তু সে ইচ্ছে আপাতত দমে গেল। কেন মজনু শাহ সবকিছু এড়িয়ে গেলেন? দৈনিকের দলভূক্ত বলে? বন্ধুরা বেজার হবে বলে? এরকম এক্সট্রিম আলোচনার অবতারণা করছিনা এ-মুহূর্তে।
আপনি বলেছেন- ''কিছু সমমনা সাহিত্যচর্চাকারী এক সাথে কিছু লেখা-জোখা একসঙ্গে প্রকাশ করে অবাণিজ্যিকভাবে। ‘সমমনা’ হওয়া সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিকভাবে এককাতারের নাও হতে পারে। আলাদা আলাদা হতে পারে। আবার উক্ত বলয়ে এককাতারেরও হতে পারে। এইসব করে, মানে চর্চা করে, মানে লিটলম্যাগ করে, যার একটা কারণ থাকে লেখা-জোখা প্রকাশ করা, ‘অন্য’ কে পড়ানোর একটা পায়তারা করা। এই চর্চার মাধ্যমে একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজির থাকাই মুখ্য মনে হয় আমার কাছে।'' এই কথাগুলো লিটলম্যাগ কনসেপ্টের বৃহত্তর ধারণার একটি অংশ বটে! তবে সত্যি কথা হলো লিটলম্যাগ মূলত পলিটিক্যাল মুভমেন্টের সঙ্গেই জড়িত। এখন তো ওসব মুভমেন্ট নাই হয়ে গেছে। মানুষ স্বপ্নহীন হয়েছে। প্রজন্ম চালাক হয়ে গেছে। ঊনিশ শতকের মনীষীর আবির্ভাব আশা করা এখন কি সম্ভব? লিটল তো অনেক পরের বিষয়। আমার কাছে বেশ হাসিই লাগে- এখন যারা লিটল বের করেন তাদের কথাবার্তায়; মনে হয়, ৫ থেকে ১০ বছর লেখালেখি করে অনেক মুরুব্বী হয়ে গেছে। দু'চার সংখ্যা কাগজ বের করে লিটলের ধ্বজাধারী হয়ে গেছে- এগুলো আদৌ কি কোন লিটল নাকি দৈনিকে লেখা প্রকাশের সিঁড়ি?
সব কিছুই যেন নষ্টদের অধিকারে যাবে...
আপনি লিখেছেন, দৈনিকে লিখলে জাত যাওয়ার ভয় কি কি কারণে?
''দৈনিক মূলত লেখকের চরিত্র নষ্ট করে । বাজারি লেখকে পরিণত করে। দৈনিক কোন লেখকের রঙ তৈরি করতে পারে না। নামকে ব্রান্ড বানাতে পারে না। এমনকি ব্রান্ড নামকেও পঁচিয়ে ফেলে। ৭০/৮০'র দশকের বাজারি লেখকরা কোথায় আজ? নায়ক-নায়িকারা তো জীবদ্দশায়ই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। '' দৈনিকের এসব লিখে হাজার পৃষ্ঠা ভ'রে দেয়া সম্ভব। কিন্তু বিষয় হলো আমারই গ্লানি তৈরি হচ্ছে- আমি এগুলো লিখছি কেন? ওগুলো তো ১০ বছর আগেই মোটামুটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই ছিল; অনেকটা এরকম- গ্যালিলিও জন্মের পর আমরা অধিবিদ্যাকে যুক্তিবিদ্যায় জড়াবো না। এখন হঠাৎ করেই ইঁদুর দৌঁড় দেখছি। সব কিছু বোধহয় হঠাৎ করেই হচ্ছে না। কেন্দ্রের বাইরে থাকি বলেই হয়তো ঠিক মতো খেয়াল করিনি।
প্রতিষ্ঠানবিরোধী হলে আহামরি কিছুই হয় না, এন্টি-স্টাবলিশমেন্টে অনেক কিছু হয়। মলয় রায় তো ষ্পষ্ট করেই বললেন। তবে এটা বুঝি এখন এন্টি স্টাবলিশমেন্টের যুগ নয়। সবাই তড়িৎ প্রাপ্তিতে বিশ্বাসী। তড়িৎ ছাপা, তড়িৎ প্রকাশনা, তড়িৎ নোবেল প্রাপ্তি, তড়িৎ রোজহাশর ইত্যাদি ইত্যাদি।
২৪|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি................ এই পোষ্ট থেকে আমার একটা ধারনা তৈরী হচ্ছে। সত্য কথা বলতে কি এই লিটল সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনায় ছিলোনা কিছুদিন আগেও......খুব অল্প সময় হলো লিটল সম্পর্কে জানছি......
এই পোষ্টে আমার জানবার অনেক কিছু আছে বুঝবার অনেক কিছু আছে........মন্তব্য করবার কিছু নেই আসলে.......শুধু বুঝে নিতে চাই.......
তারপরও কিছু কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে...........নিজের কথা
প্রায় একযুগ আগে জীবনের প্রথম দুটি কবিতা পাঠিয়েছিলাম আমাদের ''দৈনিক আজ ও আগামীকাল'' নামে স্থানিয় একটি পত্রিকায়....তার ভেতরে একটি লিখা ছাপা হয়েছিলো। এর ঠিক কিছুদিন পর পত্রিকা মারফত একটি ছোট কাগজের জন্যও দুটি লিখা পাঠিয়েছিলাম, যতদুর মনে পড়ে ওখানেও আমার একটি লিখা ওরা ছাপিয়েছিলো। ওই লিখা ছাপার পর আমি আনন্দে আত্মহারা হইনি বরং আমার ভেতরে আরও ভালো লিখার একটা ইচ্ছা তৈরী হয়েছিলো এবং এর পর আমি কয়েকজন পরিচিত সাহিত্ব চর্চাকারির সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করেছিলাম......যাদেরকে আমি অনেক সম্মান করতাম। কিন্তু আমি ব্যার্থ হয়েছিলাম তাদের কাছে আসতে....... আমার ভেতরের যতটুকু ইচ্ছা জন্মেছিলো লিখালিখির প্রতি তা নিমিষেই ধুলা হয়েছিলো এর পর প্রায় সাত/আট বছর কোথাও কোন লিখা পাঠাইনি আর এই সময়ে আমার লিখালিখিও ছিলো খুব ধিরগতিতে.......যদিও আমি খুব ধীর গতিতেই লিখি.......
বছর তিন চারেক আগে প্রথম আলোর একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনটি অথবা দুটি লিখা পাঠালাম..... তার ঘন্টা তিনেকের মধ্যে আমার কাছে একটা ফোন এলো পত্রিকা অফিস থেকে সাহিত্ব সম্পাদকের........আমাকে আমন্ত্রন জানানো হলো একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ও প্রথম আলোর উদ্দ্যগে একটি কবিতা আলোচনা ও আবৃতির অনুষ্টানে ঐদিন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম সম্পাদকের ফোন পেয়ে বিশেষকরে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন পেয়ে..........।
আমি সেই আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহোন করেছিলাম.........বর্তমান সময়ের কয়েকজন পরিচিত কবি ও লেখক সেখানে এসেছিলেন আলোচনা করেছিলেন আমিও নিজের লিখা একটি পাঠ করেছিলাম।
এই অনুষ্ঠানে এসে আমার ভেতরে আবার ইচ্ছেগুলো দানাবাধতে শুরুকরে........ কিন্তু আর কোথাও কোন লিখা পাঠায়নি বা কোন দলের সাথেও যেতে পারিনি.........
অতঃপর প্রায় বছর খানিক হলো এই সামহোয়ারে.........যা কিনা আমাকে নতুন এক পথের সন্ধান দিয়েছে........দিয়েছে অনেক ভালোবাসা অনেক অনুপ্রেরনা সর্বপরি আপনার মতো একজন মানুষ একজন কবিকে কাছে পেতে সাহায্য করেছে.........যার জন্য আমার ভেতরের ভাবটায় আমূল পরিবর্তন হয়ে গেলো...... বিষ্ময়
সত্য বলতে কি.............আমি কবিতা পড়তাম দৈনিক গুলোর আর খুব কম কবিতার বই পড়েছি............আর লিটলতো মাত্র পরা শুরু করলাম।
হ্যাঁ, আমিও ভাবি আমার লিখাগুলো দৈনিক পত্রিকার সাহিত্ব সাময়ীকিতে ছাপানো হবে
দেশ পত্রিকার মতো কাগজে ছাপানো হবে.....ভাবি কারন আমিতো ওসবই চর্চা করেছি বহুসময় ধরে......
তাই আমার ভেতরেতো দ্বিধা কিছুটা থেকেই যায়.......
আর এখন জানছি আসলে কিভাবে পথ চলতে হবে.........গাইড লাইন পেলে তবেইতো ভালোকিছু শেখা যায়........
এখানে আমার তাৎখনিক মন্তব্য লিখেদিলাম............কিছু ভুল হলে তা অনিচ্ছাকৃত..........
পাঠকরছি..............
সুস্থ থাকুন .......মঙ্গলে বসবাস করুন......
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আপনার স্মৃতিকথা অনেক ভাল লাগল।
এ-রকম স্মৃতি সবারই আছে। কবির পথ দীর্ঘ দীর্ঘ...
মঙ্গলার্থে...
২৫|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৮
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: কান পেতে রই....
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কান পেতে রই....
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
মঙ্গলার্থে...
২৬|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি............. এই সেহ্রির সময় আপনাকে কয়েকদিন হলো দেখছি...........এটা খুব ভালোলাগে। আসলে এই সময়তো ব্লগে বসা হয়েওঠেনা তাই আপনাকেও দেখতে পাইনা........
এখন আবার একটু ঘুমদিতে যাচ্ছি.......
শুভভোর.........
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: thanks
সারা দিনে এই একটু সময় আমিও পাই।
প্রতিদৃশ্যে সেহরী খাওয়া হোক, দৃশ্যান্তরে ইফতারী...
অদূরে সোনার রফরফ কি দেখা যায় অদৃশ্য!!!!
শুভ রাত্রি।
২৭|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি........... আসলে স্মৃতিকথা এখানে উঠে এসেছে.........আমি বলতে চেয়েছি..........আমাদের দেশে অনেকেই দৈনিক পত্রিকার সাহিত্ব পাতায় নিয়মিত চর্চা করে যান........ছড়ানো ছিটানো সাময়ীকি গুলোতে সাহিত্য চর্চা করে যান........দু'চারটে বই পড়ে সাহিত্য চর্চা করে যান............আমিও করেছি
আমার স্মৃতি থেকে ওইসব বলেছি একারনে যে আমি এভাবে ভাবতাম ............তাই এখানে আমাকেই উদাহরন হিসেবে দিতে চেয়েছি...........আমার মতো যারা পত্রিকার পাতা পড়ে সাহিত্য চর্চা করে তাদের কি হবে........যদি ভালোভালো লেখকরা ওসব জায়গায় না লিখে তাহলে আমরা কিভাবে সহজে ভালো চর্চা করবো ?
গ্রাম বাংলার পথে-প্রান্তরে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকাগুলো যায়.........সপ্তাহে একদিন সাহিত্য পাতা...........আর আমার জানা মতে সেটা পড়বার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন অধীর আগ্রহে।
সেখান থেকেই লেখক লেখিকাদের প্রতি ও তাদের লিখার প্রতি ভালোলাগা ভালোবাসা তৈরী হয়......... এবং সেখান থেকেই অনেকে স্বপ্ন দেখে লেখক/লেখিকা হবার ( এটা একটি অবস্থা মাত্র )।
আসলে আমি বলতে চাইছি এভাবে যে........... আপনার মতো একজন কবির লিখা যদি সহজে আমাদের হাতে এসে না পৌছায় তবে আমরা সাধারনরা কিভাবে জানবো কিভাবে দেখবো প্রতিভার বিচ্ছুরণ.....শহর ও পল্লীর আনাচে কানাচে ছড়ানো পরবর্তি প্রজন্মরা কিভাবে তাদের সাহিত্য চর্চার শুরুতে আপনাকে ভাববে বা স্বপ্ন দেখবে আপনার মতো একজন কবি/লেখক হবার.......... (( যদিও অনেকই মনে করেন .....তিনি যা লিখবেন তা আমজনতার জন্য লিখতে হবে কেন !.......এখানে আমার বক্তব্য হলো সাহিত্য মানুষের জন্য....অসাধারণ ও সাধারণ মিলেই মানুষ.......তাই একটি ভালো সৃষ্টি সবার কাছে পৌছানো চাই........তা লিটলের মাধ্যমে হোক অথবা দৈনিক পত্রিকা সেটা তেমন কোন ব্যাপার না হবারই কথা ))।
আমি আসলে এখানে দৈনিক পত্রিকার সাফাই গাইছি...........লিটল ম্যাগ থেকে সরে এসেছি। এখানে যেহেতু পত্রিকার ব্যাপার আছে তাই শুধু ওটা নিয়েই একটু কথা বললাম...........
আমার ভাবনা জানিয়েছি মাত্র, গুছিয়ে লিখতে পেরেছি কিনা আপনি ভালো বুঝবেন.....বুঝার ভুল থাকলে শুধরে দেবার অনুরোধ রইলো।
সুস্থ থাকুন........... মঙ্গলে বসবাস করুন.....
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি........... আসলে স্মৃতিকথা এখানে উঠে এসেছে.........আমি বলতে চেয়েছি..........আমাদের দেশে অনেকেই দৈনিক পত্রিকার সাহিত্ব পাতায় নিয়মিত চর্চা করে যান........ছড়ানো ছিটানো সাময়ীকি গুলোতে সাহিত্য চর্চা করে যান........দু'চারটে বই পড়ে সাহিত্য চর্চা করে যান............আমিও করেছি
আমার স্মৃতি থেকে ওইসব বলেছি একারনে যে আমি এভাবে ভাবতাম ............তাই এখানে আমাকেই উদাহরন হিসেবে দিতে চেয়েছি...........আমার মতো যারা পত্রিকার পাতা পড়ে সাহিত্য চর্চা করে তাদের কি হবে........যদি ভালোভালো লেখকরা ওসব জায়গায় না লিখে তাহলে আমরা কিভাবে সহজে ভালো চর্চা করবো ?
গ্রাম বাংলার পথে-প্রান্তরে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকাগুলো যায়.........সপ্তাহে একদিন সাহিত্য পাতা...........আর আমার জানা মতে সেটা পড়বার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন অধীর আগ্রহে।
সেখান থেকেই লেখক লেখিকাদের প্রতি ও তাদের লিখার প্রতি ভালোলাগা ভালোবাসা তৈরী হয়......... এবং সেখান থেকেই অনেকে স্বপ্ন দেখে লেখক/লেখিকা হবার ( এটা একটি অবস্থা মাত্র )।
আসলে আমি বলতে চাইছি এভাবে যে........... আপনার মতো একজন কবির লিখা যদি সহজে আমাদের হাতে এসে না পৌছায় তবে আমরা সাধারনরা কিভাবে জানবো কিভাবে দেখবো প্রতিভার বিচ্ছুরণ.....শহর ও পল্লীর আনাচে কানাচে ছড়ানো পরবর্তি প্রজন্মরা কিভাবে তাদের সাহিত্য চর্চার শুরুতে আপনাকে ভাববে বা স্বপ্ন দেখবে আপনার মতো একজন কবি/লেখক হবার.......... (( যদিও অনেকই মনে করেন .....তিনি যা লিখবেন তা আমজনতার জন্য লিখতে হবে কেন !.......এখানে আমার বক্তব্য হলো সাহিত্য মানুষের জন্য....অসাধারণ ও সাধারণ মিলেই মানুষ.......তাই একটি ভালো সৃষ্টি সবার কাছে পৌছানো চাই........তা লিটলের মাধ্যমে হোক অথবা দৈনিক পত্রিকা সেটা তেমন কোন ব্যাপার না হবারই কথা ))।
আমি আসলে এখানে দৈনিক পত্রিকার সাফাই গাইছি...........লিটল ম্যাগ থেকে সরে এসেছি। এখানে যেহেতু পত্রিকার ব্যাপার আছে তাই শুধু ওটা নিয়েই একটু কথা বললাম...........
আমার ভাবনা জানিয়েছি মাত্র, গুছিয়ে লিখতে পেরেছি কিনা আপনি ভালো বুঝবেন.....বুঝার ভুল থাকলে শুধরে দেবার অনুরোধ রইলো।
২৮|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯
মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ১.ঐতিহ্য মহৎ হলে মহৎ নতুনত্ব দিয়েও তা অনতিক্রম্য।
বোঝা গেলো আপনার ঐতিহ্যবোধ এবং নতুনত্ববোধ। আলোচনায় সুবিধা হবে।
মহৎ ঐতিহ্যকে নতুনত্ব শুধু অতিক্রমই করে না ধ্বংসও করে। নতুনত্বের বদলে শিল্প বা সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমি সমকালিনতা শব্দটিই ব্যবহার করতেই বেশি আগ্রহী। কেননা আপনার উচ্চারিত মহত্ব যদি মহান হয়ে ওঠে তবে তা হয়তো একদিন ঐতিহ্য হয়ে উঠতে পারে। হলে দোষ নেই। দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তাকে হয়তো অতিক্রম করা যেতে পারে কেননা ''মহৎ ঐতিহ্যকে নতুনত্ব শুধু অতিক্রমই করে না ধ্বংসও করে'' , নাও পারে যেহেতু ''ঐতিহ্য মহৎ হলে মহৎ নতুনত্ব দিয়েও তা অনতিক্রম্য''।
কবিতা বা চিত্রকলা বা শিল্পকলার ঐতিহ্য নেই, আছে ইতিহাস। ঐতিহ্য এবং ইতিহাসকে আমি এক্ষেত্রে এক করা যাবে না। কিন্তু সংগীতের ক্ষেত্রে এই কথা ঠিক উল্টে বলতে হবে কেননা সেক্ষেত্রে ইতিহাস কিছু নয়, ঐতিহ্যই মূখ্য। সংগীত বিষয়ে আলোচনা থাক।
ফলে একই শব্দের প্রয়োগিকতা এবং প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ভিন্ন। কবিতায় ঐতিহ্যের আনয়ন বাহু্ল্য। ইউরোপীয় সমালোচনা তত্ত্ব থেকে এর আমদানি, এবং এলিয়ট এর গুরু সম্ভবত যদি ধরি ''ট্রেডিশন''এর বাংলায়ন '' ঐতিহ্য''।
এহলো আমার বোঝাপড়া ঐতিহ্য নিয়ে। কবিতায় প্রতিস্থাপন হয় না, সমীত অর্থে অতিক্রমও নয়, নতুন কবিতা এবং তার নন্দনতত্ত্ব সৃষ্ট হয় এবং সমকাল নয় স্বসময়েই তার মৃত্যু হয়। ফলে কবিতার ইতিহাস আমরা পাই, আর ঐতিহ্য অতিকথন, জোরপূর্বক।
২.লেখকের কনটেন্ট পুরোপুরি সামাজিক, তাঁর ফর্ম ও সামজিক বিকাশের স্তরের সাথে সম্পর্কিত। যার কারণে একটি পর্যায়ে আখ্যানসাহিত্যে সমাজবাস্তবতার পরিবর্তনের অন্য পর্যায়ে ছোটগল্প, নাটক ও উপন্যাসে গিয়ে বিকশিত হলো। মহাকাব্যের জায়গায় নতুন শৈল্পিক প্রয়োজনে উপন্যাস চলচ্চিত্রের আবির্ভাব ঘটলো।
গল্প উপন্যাসের সমাজিক বাস্তবতা থাকতে পারে। এবং কিছু কতিতার সামাজিক বাস্তবতা আছেও বটে তবে অধিকাংশ মহৎ কবিতা সমাজহীন। আর সমকালীন কবিতারো কোন দেশকালই নেই, আবার সমাজ!! এক্ষেত্রে কি এগুলো কবিতা নয়। কনটেন্ট যদি সমাজিক বাস্তবতা সম্পন্ন না হয় তকে কি আমার তাকে কবিতা বলবো না?
আর ফর্ম হলো কবির বর্জনমীলতার ক্ষমতা, কাব্য-ঐতিহ্য/ ইতিহাস কে নাকচ করেই কবি তার ফর্ম গড়ে তোলেন। এটাকে কি সমাজবিকাশ বলবেন নাকি চিন্তার মৌলিক বিন্যাস বলবেন। তবে যদি বলা হয় মৌলিক শিল্প বলে কিছু নাই তবে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে অবশ্য ফর্ম বলে আর কিছু থাকে না।
কথাগুলো কবিতা বাস্তবতা থেকে ভাবলেই শ্রেয়। সমন্নিত নন্দনতত্ত্ব বলে কিছু নাই। কবিতা গল্প উপন্যাস ছবি সংগীত চলচ্চিত্র এদের নন্দতত্ত্ব ভিন্ন ভিন্ন।
অন্যকথা
লিটলম্যাগ নিয়ে আলোচনার স্থানে আমার এই জাতীয় আলোচনা হয়তো অপ্রয়োজনীয়। তবে লিটলম্যাগ নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশা আমার আছে।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লিটলম্যাগ নিয়ে আলোচনার স্থানে আমার এই জাতীয় আলোচনা হয়তো অপ্রয়োজনীয়।
----------------------------------------------------------------------------
অপ্রয়োজনীয় হবে কেন? ভালই তো লাগছে। লিটল নিয়ে আপনার ধারণাগুলেঅ জানিয়ে গেলে ভাল হয়। শুধু তত্ত্ব নয়, ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকগুলোও।
আগেই উল্লেখ করেছিলাম কোন কিছুই ডগমা নাহলেই হয়। কিন্তু এখানেও বোধকরি একটা গ্যাপ থেকে গেল। ডগমা কী? স্ট্যান্ড কী? ডগমা থাকবেনা বলে কি স্ট্যান্ডও থাকবে না- আমরা কি তবে তেলে-জলে এক করে দেবো?
নতুন কবিতা বলে কিছু নেই। একজন মহৎ কবির জন্য একটি ভূখণ্ডকে অপেক্ষা করতে হয় শতবর্ষ। কবিতা হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিল্পকর্ম, সঙ্গীত হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর। কবিতা ব্রহ্মবিদ্যা হয়ে উঠতে পারে না। সঙ্গীত আসলে ব্রহ্মবিদ্যা( রবীন্দ্রসঙ্গীত, বাউলগান এগুলো ব্রহ্মবিদ্যা বা পরাবিদ্যা নয়) ইত্যাদি দু'এক বাক্যে বলা বোধকরি যৌক্তিক হবে না। বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিশ্লেষ্য, বিস্তৃত পরিসরে...
অতিক্রম বললে কেমন যেন অবজ্ঞা বা দৌঁড় প্রতিযোগিতার রঙ ভেসে ওঠে। এই শব্দে আমি কোন স্থিরতা পাই না। প্রতিস্থাপনে পাই।
----------------------------------------------------------------
২৯|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২১
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন:
কবি
আপনাকে একটি মেইল করেছি। পেয়েছেন কি?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: Thank you, I have received your poem.
৩০|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৯
শিবা বলেছেন:
কবি
খুব ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করছেন মনে হচ্ছে!
আপনার দীর্ঘ লেখা পাঠ করে এবং সকলের অংশগ্রহণ দেখে ভাল লাগল। আপনিও অত্যন্ত ধৈর্য্ সহকারে সকলের উত্তর দিয়েছেন। তবে মূলধারর লিটল নিয়ে তো অনেক আলোচনা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কিন্তু আপনি তীয়বাংলার লিটলম্যাগ নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। আপনার লেখার শিরোনাম তাই বলে। এবার তৃতীয়বাংলার লিটল সম্পর্কে কিছু বলুন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: প্রকৃত অর্থে তৃতীয়বাংলায় এখনো ''লিটলম্যাগ'' কনসেপ্ট দাঁড়ায়নি। আমরা যে ক'জন প্রকাশনার সঙ্গে একটু-আধটু জড়িত, চেষ্টা করছি। দেখুন না কেন্দ্ররই কী হ-য-ব-র-ল অবস্থা! আর লেখকদের চরিত্র!! তা-তো আলোচিত হল বিবিধ প্রযত্নে। আমরা দৈনিকের মহান লেখকের বাদ দিয়েছি অনেক আগেই।
কার এক পোষ্টে বিদেশী অর্থায়নে লিটলের বিষয়টি বেশ তীর্যক ভাবে উপস্থান করা হয়েছে, জানলাম। আসল কথা হল- এখান থেকে যে সব লিটল বের হয় এর সবগুলো মানসম্পন্ন হয় না সত্যি, শ্রম/ ঘাম/ উপার্জনের পয়সায়ই বের হয়, ব্যবসার জন্য নয়- এটা শতভাগ সত্য।। অবশ্য এসব প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের স্পর্ধা দেখে বিষ্মিত নই, বুড়া হলে এরাই হবে যমুনা গ্রুপের বুদ্ধজীবী, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের। দু'লাইন লেখার আগেই ইঁদুর দৌড় আয়ত্ব করে নিয়েছে।
৩১|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০২
মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ১. তেলে জলে এক হয় না। হয়ই না।
২. ''অতিক্রম বললে কেমন যেন অবজ্ঞা বা দৌঁড় প্রতিযোগিতার রঙ ভেসে ওঠে। এই শব্দে আমি কোন স্থিরতা পাই না। প্রতিস্থাপনে পাই।''
কেমন যেনো কন্টাডিক্টোরি লাগলো।
ভালো থাকবেন। লিটলম্যাগ আলোচনায় পরে আসা যাবে। আলোচনা চলুক।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কেমন যেনো কন্টাডিক্টোরি লাগলো।
--------------------------------------------
কন্টাডিক্টোরি মনে হওয়ার বিশেষ কোন কারণ তো দেখি না। তারপরও মনে হলে বলতে পারি- উই কনটেইন মালটিচিউট।
------------------------------------------------------------
তেলে জলে এক হয় না। হয়ই না।
------------------------------------------------------------------
আসলে যে কোন বিষয়ে অমত আর সহমতটাই বড় বিষয় না। জিজ্ঞাসার ক্রমবর্ধনটা জরুরী। questions, once asked, seem never go away.
আলোচনা চলুক।
ভাল থাকুন।
৩২|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৫
সৈয়দ নাসের বলেছেন: কবি ,তৃতীয় বাংলাথেকে যে কটা লিটল ম্যাগ প্রকাশিত হয় এর বেশীর ভাগই রেডিমিট , শুধু এখান থেকে অর্থ যোগান দেয়া হয় ,বাকি দেশ থেকে তৈরী হয়ে আসে , এবং বেশীর ভাগই অনিয়মিত , এসবের মান এবং আঙ্গিক সম্পকে আপনার মুল্যবান মন্তব্য চানতে চাই ।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন:
আমি জানি না আমার লেখাটি আপনি কোন পারস্পেকটিভ থেকে দেখছেন! আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন- যতবারই এখানকার কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি আমি কখনোই মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বা মূলধারাকে পাশ কাটিয়ে কিছুই বলিনি। শিরোনাম হতেই পারে- ''গুণে বৈগুণ্যে তৃতীয়বাংলার কথা ও কবিতা...'' কিন্তু এর মানে এই নয়- আমাদের লিটলম্যাগ, আমাদের সহিত্যকর্ম মূলধারা থেকে পৃথক কিছু। আমি লক্ষ্য করেছি কিছু কিছু লেখক আছেন তাঁরা এখানকার কোনকিছু নিয়ে কথা বলললেই ''সিলেট টু লন্ডন'' এ ধরণের একটা রোডম্যাপ তৈরি করে দেন। আমার মতে এগুলো হচ্ছে কনসেপচুয়াল প্রবলেম। ধ্বংসাত্মক!!!! আমাকে কেউ প্রবাসী লেখক বললে আমার ইগোতে লাগে। লেখক হিসেবে অলেখক, গৌণ লেখক ইত্যাদি বলতেই পারে কিন্তু প্রবাসী বলে ব্রান্ডিং করতে যাবে কোন স্পর্ধা নিয়ে!
পূর্বতন মন্তব্যগুলো কি খেয়াল করবেন! আমি কিন্তু উভয় বঙ্গের লিটলম্যাগ নিয়ে কথা বলেছি; এখানকার লিটল নিয়েও তো বলেছি। এখানে লিটল কোন কনসেপ্ট এখনো দাঁড়াইনি...। আপনি হয়তো দেখে থাকবেন এখানকার প্রায় সবগুলো কাগজই পেটমোটা; যেন অর্থবিত্তের বাইসেপ-ট্রাইসেপ দেখাচ্ছে...। শ'-পঞ্চাশেক লেখকদের একটা করে আইটেম থাকে, মূলত খেলকের নামের মহাসমাবেশ ঘটানো হয়। কে দৈনিকের লেখক, কে লিটলের, কে মৌলবাদী? কাগজের উদ্দেশ্য কী? র-ম্যাটেলিয়াল কী? ইত্যাদি বিষয়ে এখানকার সম্পাদকরা প্রায়-অসচেতন। অবশ্য আদিকাকতাড়ুয়ার মৌলবাদ বিরোধী ষ্টান্ড রয়েছে নব্বইয়ের শুরু থেকেই। আদি কাকতাড়ুয়া খুব একটা উন্নত না হলেও বাংলাদেশ কোলকাতার অনেক লিটলের চেয়ে উন্নত হয়েও আমার মতে এটি একটি মাঝারি মাপের পত্রিকা। বাদবাকি প্রায় সবগুলোই হ-য-ব-র-ল। স্রোতচিহ্ন তো দীর্ঘদিন বেরই হয় না। ধারাবাহিকতা থাকলে অবশ্য চিহ্ন তৈরি করত। আপনার মন্তব্য নোট করছি ''তৃতীয় বাংলাথেকে যে কটা লিটল ম্যাগ প্রকাশিত হয় এর বেশীর ভাগই রেডিমিট'' স্থানিক কারণে ওগুলো কি খুব বড়ো দোষের? এসব কাগজের দেশীয় এজেন্টদের নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
''নিয়মিত/ অনিয়মিত'' এই বিষয়ে ঠিক জায়গায় আলো ফেলেছেন। নিয়মিত প্রকাশনার ক্ষেত্রে শব্দপাঠের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। সময় যাক, দেখি কি হয়! মানুষের বোধ তো আর এক জায়গায় বসে থাকে না! মানুষ, লিটল সবই সম্ভাবনাময়। কিছু যে বের হচ্ছে ঐটাই বা কম কি? দশ বছর আগে এখানকার সিনিয়ররা যা বের করে দেখিয়েছেন তা দেখে রীতিমতো হাসি পেত- আপনি কী বলেন?
৩৩|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭
শিবা বলেছেন: কবি কেমন আছেন?
নতুন লেখা দিন
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আছি একরকম।
গীন্সবার্গ নিয়ে বিকাশ সরকারের লেখাটা সংযোজনের ইচ্ছে রাখি।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: গীন্সবার্গের বিখ্যাত সেই হাউল কি পড়েছেন বা অনুবাদ করেছেন কখনো!!!
৩৪|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭
শিবা বলেছেন: তাই!
কবে দেবেন কবি?
একটা ধাঁ ধাঁ বলি শুনবেন?
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ধাঁ ধাঁ !!!!!!!
৩৫|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০০
শিবা বলেছেন: হুম! আমাদের গ্রামের মানুষরা বলত ঠললক। আপনি অনুমতি দিলে বলবো। আপনাকে উত্তর দিতে হবে। বলবো?
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: জ্বি, বলুন।
৩৬|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
শিবা বলেছেন: আচ্ছা থাক আপনাকে উত্তর দিতে হবে না।
প্রশ্নটি হচ্ছে- সু-ফুল ফুটে আছে তুলবার লোক না। আর সু-শয্যা পড়ে আছে শুইবার লোক না।
এর উত্তর
সু-ফুল মানে হলো তারা ফুল ফুটে আছে আসমানে কিন্তু কেউ তুলে না। তুলতে পারে না। আর সু-শয্যা মানে হলো নদী। কেমন সুন্দর বিছানা, ধুলা নাই ময়লা নাই, শীতল পাটির মতো ঠান্ডা কিন্তু কেউ শুতে পারে না। কেবলমাত্র মৃত মানুষ ছাড়া।
অনেক দিন পর এই ধাঁধাঁটি পেলাম অদ্বৈতমল্ল বর্মনের লেখায়- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে। আমি তো রীতিমতো বিস্মিত! মুগ্ধ! সাধু ভাষায় লেখা । সাধু ভাষায় লেখা পড়তে আপনার কেমন লাগে কবি! আমার তো বেশ লাগে!
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: বাহ!!!!
মহাত্নন,
এই ধাঁ ধাঁ শুনিয়া ভয় পাই নাই। প্রীত হইয়াছি।
৩৭|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৫
শিবা বলেছেন:
ধন্যবাদ
মহাত্মন!
আপনাকে প্রীত করিতে পারিয়া আমার যারপর নাই আনন্দ হইতেছে।
তাহার পর বলুল, নতুন কোন কাব্যকথা কি আজ রচিত হইল?
অনুগ্রহ পূর্বক, কিঞ্চিত নমুনা উপস্তাপন করিয়া চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন করুন!
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আপনার ভাষাজ্ঞানে মুগ্ধ হয়েছি। জানতে চাচ্ছিলাম গীন্সবার্গের বিখ্যাত সেই হাউল প্রসঙ্গে...
আপনাদের প্রিয় বিকাশ সরকার মাসিক কাগজ করছেন। জানেন তো!!!
আপনাদের উপস্থিতি নিয়মিত হোক।
৩৮|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
ফারুক আহেমদ রনি বলেছেন: কবি এখনো উদাসীন আছি বিলুপ্ত স্মৃতি নিয়ে।
আমার এখনো বাকি আছে পড়তে। মন্তব্য হবে।
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: বিলুপ্ত স্মৃতি বলে কিছু নেই। ডিমিনিস ফোর্সটাই আসল।
চলুন, বিষল্যকরণী উৎপাটন করি।
৩৯|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৩
শিবা বলেছেন:
I saw the best minds of my generation destroyed by
madness, starving hysterical naked,
dragging themselves through the negro streets at dawn
looking for an angry fix,
angelheaded hipsters burning for the ancient heavenly connection to the starry dynamo in the machin
-ery of night,
হাউল যে কবিতাতেই আসলে বোদ্ধাগণ মনে করেন সত্যিকারের গীন্সবার্গ ছিঁড়ে খুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে!
বিকাশ সরকারকে শুভেচ্ছা তার পত্রিকার জন্য। সবাইকে অনুরোধ জানাব তার কাগজের খোঁজ রাখতে ...
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: হাউল পড়ে কে একজন যেন আত্নহত্যা করেছিলেন। নাম কেন যে মনে আসছে না শিবা!!! আপনার মনে আছে !!!
I saw the best minds of my generation destroyed by
madness, starving hysterical naked,
dragging themselves through the negro streets at dawn
looking for an angry fix,
angelheaded hipsters burning for the ancient heavenly connection to the starry dynamo in the machin
-ery of night,
৪০|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০১
শিবা বলেছেন:
হ্যাঁ, গীন্সবার্গের প্রেমিকা! নাম তো আমারও মনে পড়ছেনা
কবিতাটি যাকে উৎসর্গ করা কার্ল সলোমন কি?
............................................
............................................
night and won't let us sleep
I'm with you in Rockland
where we wake up electrified out of the coma
by our own souls' airplanes roaring over the
roof they've come to drop angelic bombs the
hospital illuminates itself imaginary walls col-
lapse O skinny legions run outside O starry
spangled shock of mercy the eternal war is
here O victory forget your underwear we're
free
I'm with you in Rockland
in my dreams you walk dripping from a sea-
journey on the highway across America in tears
to the door of my cottage in the Western night
শুভরাত্রি কবি
ভালো থাকুন
সুস্থ থাকুন
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কার্ল সলোমন কি?
--------------------------------------------------------
ঠিক বলতে পারবো না। সন্ধান করছি।
পরবর্তী পোষ্টে হাউল থেকে কিছু ভাষান্তর আশা করছি। গীন্সবার্গের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ''ডেথ এন্ড ফেম''ও বিবেচনায় আনতে পারেন।
সর্বমঙ্গলা থাকুন। দুর্গা থাকুন।
৪১|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩০
হিটার০০৭ বলেছেন: ব্লগটি মোট ৯৯৯৬২ বার দেখা হয়েছে
লাখের বাতি জ্বালাইবেন না কবি!
নইলে রোজা রমজানের দিন একটা মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেন...
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: হিটার শব্দের সঙ্গে হিটংয়ের কি কোন যোগসূত্র রয়েছে!!
৪২|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি................. এর পরের অংশের অপেক্ষায় আছি...........অবশ্য এর ফাঁকে আপনি নিজের দু'একটি কবিতা আমাদের পাঠের জন্য দিতে পারেন..........
সুস্থ থাকুন.........মঙ্গলে বসবাস করুন
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ...সময় করে পোষ্ট দেব।
ভাল থাকুন।
৪৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৭
শিবা বলেছেন: কবি
মন্তব্য নিচ্ছেন না কেন?
মন্তব্য নেয়া উচিত
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ব্যস্ত সময় যাচ্ছে...
৪৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৭
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি................... জানলাম অ্যালেন গিনসবার্গ সম্পর্কে , তার বিতার ধরন সম্পর্কে........... এবং অনেক কিছু জানা হলো, আর আরও অনেক কিছুই জানা বাদ রয়ে গেলো.....
সুস্থ থাকুন...... মঙ্গলে বসবাস করুন
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মঙ্গলার্থে...
৪৫|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৪
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি................... অনেকক্ষন আগে থেকেই পাঠকরছিলাম লিখাটা স্রেফ মন্তব্য করবার জন্য লগইন করেছি.........
তাই এখানেই কিছু বলে গেলাম.........
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ব্লগে নিয়মিত না পেলে মেইল করবেন। ভাল থাকুন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০
সৈয়দ আফসার__১৯৭৯ বলেছেন: অনেক কিছু জানা যাবে।
আবার এসে পড়ব।
ভাল থাকুন।