নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভুলস্রোতের মাঝি

ভুলস্রোতের মাঝি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার প্রথম প্রেম নিবেদন

১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ১:৪৫

আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমার কলেজটা শহরের একপ্রান্তে অবস্থিত ছিল।কলেজটা ঐতিহ্যবাহী হলেও দিনে দিনে এর সুনাম কমছিল,সেই সাথে এখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমতেছিল। এস,এস,সি তে অনেক ভাল রেজাল্ট করেও শহরের অনেক নামিদামি কলেজ রেখেও আমি এমন একটি কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম দুটো কারনে। এক,আমার বাবার সাথে জেদ করে। দুই,কলেজটা ছিল আমার বাসা থেকে একদম পাসে। বাবার সাথে জেদের কারন ছিল তার ধারনা ছিল ভাল নামিদামি কলেজ ছারা নাকি ভাল ফলাফল আশা করা যায়না। আমি তার ধারনাটা ভুল প্রমাণ করার জন্যই ওখানে ভর্তি হই এবং আমি যথাসময়ে তার ভুলটা ভেঙেও দেখিয়েছিলাম। যাক সে কথা,এবার আসল তপিকসে আসি। কলেজে ভর্তির পরে আমার অনেকের সাথে নতুন করে বন্ধুত্ব হল। স্কুলের বন্ধুগুলো আস্তে আস্তে দুরে সরে গেলো, নতুন বন্ধুরাই হয়ে উঠল কাছের বন্ধু। কলেজে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর আমি আমার পরিপূর্ণ ফ্রেন্ড সার্কেল পেয়ে গেলাম । আমাদের ৭ জনের সেই নিদারুন বন্ধুত্বে গড়া সেই সার্কেল। ৭ জনের মধ্যে ৪ জন ছেলে এবং ৩ জন ছিল মেয়ে। আর এর ভিতরে বিভিন্ন জন ছিলাম বিভিন্ন বিভাগের্। আমি ছিলাম বিজ্ঞান বিভাগের ,আমার সাথে একি বিভাগের আরও দুজন ছিল। একজনের নাম ছিল নাজমুল আর অন্যজনের জেরিন। বনিজ্য বিভাগের ছিল ৩ জন । মেহেদী,সৈকত আর মণীষা। আর মানবিক বিভাগের ছিল পপি। বিভিন্ন জন বিভিন্ন বিভাগেরও হলেও আমাদের মাঝে গড়ে উঠেছিল নিবির এক বন্ধুত্ব।





সেকেন্ড ইয়ারটা আমার দারুনভাবে কেটে গেলো। ৭ বন্ধু মিলে আড্ডা আর পরাশুনা নিয়ে দারুন গেলো। আমরা এই ৭ জন কলেজে এসে ক্লাশবাদে ফ্রি সময়টা একি সাথে কাটাতাম ,আর বাংলা- ইংলিশ ক্লাশ একসাথেই হত। ওখানেও পাশাপাশি বসে ক্লাশের ফাকে আড্ডা,দুষ্টুমি চলত। সবাই সবার প্রতিদিনকার দু:ক্ষ সুখ গুলো ভাগাভাগি করে নিতাম । কারও পারসোনাল সমস্যা থাকলে সবার সাথে শেয়ার করে সমাধানের চেষ্টা করতাম। আমাদের মাঝে আবার দুজনের এ্যাফেয়ার ছিল- মেহেদী এবং পপির। তাই আমাদের আড্ডার মাঝে ওদের গালফ্রেন্ড আর বয় ফ্রেন্ড বিষয়ক টপিকসই বেশী চলে আসত। মাঝে ওদের গালফ্রেন্ড-বয়ফ্রন্ড নিয়ে কোন সমস্যা হলে সেগুলো সমাধানের উপায় খুজতে হত। আমাদের মাঝে আবার কেউ কেউ নতুন রিলেশনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে উৎসাহ দিতেও কারপণ্য করতামনা। যদিও ওই দুজন ছারা আর কারও ভাগ্যে কিছু জোটেনি। কলেজ টাইমটা শেষ হয়ে গেলে বিকেল বেলাতে কেবল আমরা ছেলেরাই আড্ডা দিতাম। কিন্তু পপির বাসা আমার বাসার খুব কাছেই ছিল বলে মাঝে মাঝে ওর বাসাতে গিয়ে আড্ডা দিতাম সবাই মিলে। কখনওবা আমি একাই আড্ডা দিতাম ওর বাসায় গিয়ে। ওর আম্মা আবার আমাকে খুব ভাল জানতেন। যাইহোক,এমনি করেই একসময় আমাদের ইন্টার পরীক্ষা চলে আসলো। তো পপি একটু ইংলিশে দুর্বল ছিল বলে বিকেলে ওর বাসাতে গিয়ে ওর পড়ার ব্যাপারে সাহাহ্য করতাম। হঠাৎ পপি আমাকে বল,'তুই কি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছিস ,আমরা সবাই আমাদের কথা শেয়ার করলেও জেরিন কিন্তু কখনোই ওর পার্সোনাল কথা খুব একটা আমাদের সাথে শেয়ার করেনা। কোন ছেলে ওকে কিছু বললেও আমাদের তা বলে না। তাছারা ও কাউকে পছন্দ করে কিনা এতদিন হয়েগেলেও আমাদের কে বলেনি। জিজ্ঞেস করলেও বলেনা।' আমি ওর কথাগুলো শুনে একটু সময় ভাবলাম। আসলেই তাই ,এই মেয়েটা আমাদের কাছে কিছু বিষয় গোপন করে। আগে কখনও গভীরভাবে ভাবিনি বলে চোখে পরেনি। পপির কথা শোনার পর জেরিনের উপর মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো। এতটাদিন একসাথে চলাফেরা করেও আমাদের বন্ধু ভাবতে পারল না। কিন্তু মেজাজ খারাপ হলেও খুববেশি এটা গায়ে মাখলামনা। যার যেভাবে খুশি তেমনি চলুক কোন সমস্যসতো হচ্ছে না। কিন্তু হঠাৎ পপি বলল ,'চল জেরিন কে একটা চুরান্তভাবে পরীক্ষা করে দেখি। ও আমাদের কাছে আসলেই নিজের কথা গোপন করে কিনা। যদি দেখি করে তাহলে ওকে সবাই মিলে আচ্ছা বকাবকি করব। ' ওর আইডিয়াটা ভাল লাগলো। জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে করবি পরীক্ষা? পপি জনাল যে আমাদের ছেলেদের মধ্যে যে কেউ ওকে গোপনে প্রোপোজ করবে। তারপর দেখব সেটা ও বাকিদের সাথে শেয়ার করে কিনা। আমার কাছে এটা দারুন এবং খুব ইন্টরেস্টিং লাগলো। আমি সাথে সাথে বললাম এই এক্সপেরিমেন্টই চালাবো । তারপর আমরা দুজনে মিলে ঠিক করতে লাগলাম কাকে দিয়ে কাজটা করানো যায়। মেহেদী আগেই এনগেজড, তাই ও বাদ। তারপরে আসল নাজমুল আর সৈকতের পালা। কিন্তু তারা ঐ সময়ে অন্য দুইটা মেয়ের পিছনে লাইন মারছিল এটা আমাদের সবারই জানা। তাই টোটাল বিষয়টা গ্রহন যোগ্যতার প্রশ্নে ওরা দুজনও বাদ পরল। বাকি ছিলাম কেবল আমি। তাই শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব আমার উপরেই চাপালো পপি। আমি প্রথমে মোরামুরি করলেও পরে এত সুন্দর একটা প্লান নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে রাজি হলাম। কিন্তু একটা শর্ত দিলাম ওকে, এখনি বাকিদের জানানোর দরকার নেই। প্লান সাকসেস হলে সবাইকে জানাব। তারপর ঠিক করলাম কবে কখন এবং কিভাবে কাজটা করা যায়। যেহেতু আমাদের পরীক্ষা একদমই কাছে ছিল তাই সিদ্ধান্ত নিলাম শেষ পরীক্ষার দিন কাজটা করা হবে। আর প্রোপোজ করব ছোট্ট একটা চিরকুটের মাধ্যমে।







আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো যথা সময়ে। এখন আর খুব বেশি আড্ডা দেওয়া পরেনা। সবাই ব্যাস্ত। আমি আরও বেশি ব্যাস্ত এবং সিরিয়াস,কেননাআব্বুকে দেখাতে হবে ভাল কলেজে না পড়েও ভাল রেজাল্ট সম্ভব। পরীক্ষাগুলো দুর্দান্তই হচ্ছিলো ।যে পরীক্ষার মাঝে বেশি গ্যাপ থাকত তার মাঝে পপির বাসায় গিয়ে ক্ষানিক আড্ডা দিয়ে আসতাম। আর আমাদের মিশন নিয়ে আলোচনা করতাম। তো পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসল। শেষ পরীক্ষার আগে অনেকদিন বন্ধ ছিল। ওই সময়ে আমরা দুজন মিলে গুছিয়ে ছোট্ট একটা লাভ লেটার লিখে ফেল্লাম। যেখানে লেখাছিল,'জেরিন,তোমার সাথে দীর্ঘ দুটা বছর একসাথে চলতে চলতে চলার পথেই কখন যেন মনের কোঠায় তোমায় ঠাই দিয়ে ফেলেছি। জানিনা এর পরে আর আগের মত তোমাকে দেখতে পাবো কিনা,কিন্তু তোমার দেখা না পেলে আমি একটি দিনও বাঁচতে পারবনা। আমার ভবিষ্যৎ এখন তোমার উপর নির্ভর করছে,প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিওনা। ' এই ছোট্ট সাদামাটা চিঠিটা শেষ পরীক্ষার দিন পকেটে করে নিয়ে গেলাম। হলে ঢুকেই জেরিন কে বললাম পরিক্ষা শেষ হলে একটু ওয়েট করিস । জরুরি কিছু কথা আছে। এরপর পরীক্ষা আরম্ভ হল। পরীক্ষা ভালভাবে শেষ করে বের হলাম। হলের বাইরে বেরিয়ে দেখি ও একপাশে দাড়িয়ে আছে। আমি ওকে কিছু না বলে পকেট থেকে চিঠিটা বের করে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম পড়ে আমাকে পরে উত্তরটা জানাস। আর কাউকে এই বিষয়ে কিছু বলবিনা। বলেই আমি দ্রুত হেটে গেটের বাইরে এসে রিকসা নিলাম। ওকে আর কিছু বলার সুজোগ দিলামনা।







এরপর বিকালবেলা আমি পপিদের বাসায় চলে গেলাম

। আমাদের দুজনের মনেই দারুন উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জেরিন আসলে কি করে তা দেখার জন্য। আমাদের ধারনা ছিল সে অন্তত পপি কিংবা মণীষার সাথে যোগাযোগ করবে। কিন্তু বিকাল পর্যন্তও কোন রেসপন্স নেই বলে পপি মণীষাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করল জেরিন ওকে ফোনে কিছু বলেছে কিনা। কিন্তু ও বলল যে জেরিন ওকে ফোন করেনি। তারপর পপি জেরিনকে ফোন দিয়ে নরমাল খবরাখবর নিল। কিন্তু তখনও ওই বিষয়ে কিছু বলল না। তারপর ধরে নিলাম আমাদের মিশন সাকসেসফুল। ওকে একটা কঠিন ঝারি দেওয়ার জন্য রেডি হতে পারি। এরপর আমি বসায় চলে আসলাম। আমাকেও সে আর ফোন করল না। আমরাতো দারুন খুশি আমাদের কাজে। যাক আমাদের দীর্ঘদিনের প্লান সফল।





এভাবেই কারও উপরে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়েই হয়ে গেলো কারও কাছে আমার প্রথম প্রেম নিবেদনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাটা। যদিও এর ফলাফলটা খুব একটা মধুর ছিলনা। সে কথাপরে কোনদিন বলা হবে ।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ২:১৬

তামীল০০৯৬ বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।
বাকী অংশের অপেক্ষায় রইলাম।

২| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ২:২২

মিজভী বাপ্পা বলেছেন: আবার ক্লাইম্যাক্স ধুর!!! বলে দিলে ভাল হইত।আর ভালাই হইছে B-)) ++++++++++

৩| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ২:৫২

ভুলস্রোতের মাঝি বলেছেন: বাকি অংশ শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

৪| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ৩:১৫

নানাভাই বলেছেন: লগ ইন করমু না, চিন্তাইছিলাম; আফনের ফাইজলামীর জইন্য না কইর‌্যা আর পারলাম না! :(
ফাইজলামী পাইছেন? ইট্টু লেইখ্যা আবার গিট্টু মাইর‌্যা ঝুলাইয়া রাখছেন! X((
ফাইজলামী রাইখ্যা বাকী গপ্পটা পুষ্টান। :P
তয় লেখাডারে প্লাসাইলাম। :)

৫| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ৩:৩০

ভুলস্রোতের মাঝি বলেছেন: আসলে আমি আমার প্রথম প্রেম নিবেদনের কাহিনিটা কেবল প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এর ফলাফলটা পরেই প্রকাশ করব।
:-P

৬| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ৩:৫৮

নানাভাই বলেছেন: আপনি এখন কোথায়? দেশে না দেশের বাইরে?

৭| ১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ১০:০৭

"চিরকুট" বলেছেন: লাগাইছেনে তো প্যাচ.... এখন ছুড়ানোর ব্যবস্থা করেন

৮| ১৮ ই মে, ২০১৩ রাত ৩:৫১

মর্গের লাশ বলেছেন: hei mama jainna gelam to :p

৯| ১৮ ই মে, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩

ভুলস্রোতের মাঝি বলেছেন: ভালা করছ।
:-p

১০| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৭

আপেক্ষিক বলেছেন: জাইনা গেছি :D

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:০০

ভুলস্রোতের মাঝি বলেছেন: অহন মুড়ি খা মিশুর মত।:-P

১১| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:২০

ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন: ফলাফলটা কইতে পারতেন.........

X( X( X( X(

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:০২

ভুলস্রোতের মাঝি বলেছেন: ফলাফল আপনি যা ভাবছেন তা না।:-P

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.