| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শুনলাম আজকে নাকি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান' ব্যানারে।আমার কথা হল এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গুলোকারা?যারা ৭১ এ বীরের মত যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে যুদ্ধ করেছিলো তাদের সন্তান,নাকি ১৯৮৬ এর পরে যে ১ লক্ষ নতুন মুক্তিযোদ্ধার দেশে জন্ম হইছে তাদের সন্তান?যারা সত্যিকারে ৭১ এ যুদ্ধ করেছিলো তারা কখনই স্বার্থপর ছিলেন না,নিজের স্বার্থকে ত্যাহ করেই জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পরেছিলেন।তাদের এই আত্মত্যাগ কোন কিছু পাওয়ার আশায় ছিলোনা।কিন্তু বিগত ২৭ বছরে যে সব মুক্তিযদ্ধাদের আবির্ভাব হয়েছে আমি হলফ করে বলতে পারি,তাদের এ আবির্ভাবের পেছনে ছিলো স্বার্থ।ভবিষ্যতে কিছু আদায় করার স্বার্থ।আর সেটা কি?????
আমার মনে হয় না সেটা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে।তবুও বলি,হ্যা।সেটা হল তাদের জন্য ধার্য্য করা এই কোটা।নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য তারা এর থেকে আর কিই বা ভাল পথ বেছে নিতে পারতেন???
একটা সার্টিফিকেট। এর জন্য টাকা ঢালতেও অনেকে দ্বিধা করেন নি।আর টাকা দিয়ে কেনা এসব নামধারি মমুক্তিযোদ্ধারাই আজ সবার আগে বলতে পারে আমাদের জন্য কোটা দাও,কোটার সংখ্যা আরও বারাও।নইলে এদের টাকাগুলা সব জলে চলে যাবে।এটা কি মেনে নেয়া যায়।এদের সন্তানেরাই সবার আগে কোটা বাঁচানোর আন্দোলনে সবার আগে রাস্তায় নামতে পারে।কারন এরা কোনদিনই এদের বাবার কাছ থেকে যুদ্ধের গল্প শুনেনি।শুনেনি তার সেই দেশপ্রেমের কাহিনী।কারন এসব তো তার ছিলোইনা।তারা শুধু শুনেছে তার বাবার কাছে একটা মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে,তাই তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।এটা তার ভবিষ্যৎ কে উজ্জ্বল করবে।সমাজে তার সম্মান বারবে।আর এ কারনেই সেই সব মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা বাবার টাকা দিয়ে কেনা সার্টিফিকেটার সম্মান বাঁচাতে সবার আগে রাস্তায় ব্যানার নিয়ে দারিয়ে যায়।
কিন্তু আমাদের আনাচে কানাচে যে কত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং তার সন্তানেরা দিনের পর দিন জীবন যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন এখনো, হয়তো রিক্সা চালিয়ে,কৃষি কাজ করে,কিংবা দিনমজুরি করে।কই তারাতো কোন কোটার দাবি তুলে নি।তাদের সন্তানের জন্যতো সরকার অন্য কোন ব্যাবস্থা করে দেয়নি।তাহলে তাদের যদি আর সবার মত দিন চলে যায়,আপনার কেন দিন চালাতে কোটার সাহায্য লাগবে?যদি এরপরও নিজের এই কোটাকেই দেখেন, তাহলে বলব কেন ওইসব অবহেলিত লোকগুলোর জন্য রাস্তায় নামছেন না??নাকি কেবল নিজের টুকুই বুঝেন???তাহলে আজকের পর থেকে বলব যে নিজেকে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে পরিচয় দিয়েন না।কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তার সন্তানকে স্বার্থপর হওয়ার শিক্ষা দেন নাই।আর আপনার বাবা যদি সত্যিই তাদের দলের হয়ে থাকে যারা টাকার বিনিময়ে কেবল মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছে তাহলে বলব আন্দোলন চালিয়ে যাম,আপনার বাবার টাকার মান রক্ষা করা আপনার ঈমানি দায়িত্ব।
আপনি আপনার জায়গা থেকে আন্দোলন চালিয়ে যান,সত্যের জয় একদিন ঠিকই হবে।সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
©somewhere in net ltd.