নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ আমি, আমার কেন পাখির মত মন!!__fb.com/geo.hanif

হানিফ21

লিখতে না পারার যন্ত্রণায় হতভম্ব এক যুবক...

হানিফ21 › বিস্তারিত পোস্টঃ

সিটিং বাসের চিটিং সার্ভিস

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:১০

হাদু ভাইয়ের আজ বড়ই আনন্দের দিন। লটারি জেতার আনন্দ নয়, ইচ্ছাপূরণের আনন্দ। হাদু ভাইয়ের আজ ইচ্ছা পূরণ হতে চলেছে। তিনি আজ সিটিং বাসে উঠেছেন। এলাকায় সিটিং বাসের গল্প শুনতে শুনতে হাদু ভাইয়ের কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছিল। বহুদিনের সেই তীব্র বাসনা আজ পূরণ হতে চলেছে। কানের ঝালাপালা মুক্তির প্রশান্তি নিয়ে হাদু ভাই বাসের সিটে বসে ছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রশান্তির মেয়াদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। শুরু হলো যানজট!
যানজটে হাদু ভাই অতিষ্ঠ হয়ে হাঁসফাঁস করছেন, এমন সময় উল্কার বেগে কন্ডাক্টর এল ভাড়া চাইতে। আচমকা সিটিং বাসের চিটিং ভাড়া শুনে হাদু ভাই বিনা নোটিশে ধপ করে সিট থেকে পড়ে গেলেন। পরে গিয়েই আবেগশূন্য হাদু ভাইয়ের চোখে-মুখে গভীর আবেগ ফুটে উঠতে লাগল। কন্ডাক্টর ও আশপাশের কয়েকজন ধরাধরি করে সিটে বসিয়ে দিতেই হাদু ভাই স্বাভাবিক হতে লাগলেন। এই ফাঁকে কন্ডাক্টর তার কর্কশ গলায় যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতে লাগল।
২০ টাকার টিকিট হাতে হাদু ভাই ভাবতে লাগলেন, কীভাবে সিটিং বাসের এই চিটিং সার্ভিসের উচিত শিক্ষা দেওয়া যায়! হাজার হলেও তিনি ভেঙে যাওয়ার পাত্র নন। পাড়ায় তাঁর আলাদা একটা সম্মান আছে। তিনি বড়জোর মচকাতে পারেন। তাই বলে ভেঙে যাবেন? তা হতে দেওয়া যায় না।
গুলিস্তানের কাছাকাছি যেতেই বেশ কজন যাত্রী বাসে উঠল। যাদের একজন বসল হাদু ভাইয়ের পাশে। হাদু ভাই লোকটার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে দুম করে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বাসের সবাইকে অবাক করে হকারদের মতো উচ্চ স্বরে বলতে লাগলেন, ‘সুপ্রিয় যাত্রী ভাই ও বোনেরা, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন।’ সবাই গভীর কৌতূহলে হাদু ভাইয়ের দিকে তাকাল। হাদু ভাই তাঁর দরাজ গলায় বলতে লাগলেন, ‘আমি গুলিস্তানে যাব। সদরঘাট থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ২০ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই নাকি সিটিং বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া! ২০ টাকার টিকিটে এই সিট নাকি বাড্ডা পর্যন্ত রিজার্ভ করা হয়েছে। শ্রদ্ধেয় কন্ডাক্টর সাহেব বলেছেন, আমি সদরঘাট থেকে গুলিস্তান-ফুলিস্তান, পল্টন-ফল্টন, মৌচাক-বোলতাচাক—যেখানেই যাই, ভাড়া ২০ টাকা। যেহেতু আমি এখানেই নেমে যাচ্ছি, তাই আমার রিজার্ভ করা সিটটা আমার পাশে বসা এই ভাইকে দিয়ে গেলাম। এই ভাই বাড্ডা পর্যন্ত যাবেন। যেহেতু এই সিট আমি রিজার্ভ করেছি, তাই বাড্ডা পর্যন্ত ইনি বিনা ভাড়ায় যেতে পারবেন। কী বলেন আপনারা?’
হাদু ভাইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই যাত্রীদের সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল, ‘ঠিক বলেছেন! ঠিক বলেছেন!’ হাদু ভাইয়ের কাণ্ড দেখে কন্ডাক্টর, হেলপার আর ড্রাইভারের মাথা খারাপ হওয়ার উপক্রম। ইতিমধ্যে যাত্রীদের একাংশ ঘোষণা করেছে, তারাও তাদের রিজার্ভ টিকিট নতুন যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে যাবে। হাদু ভাই বাস থেকে নামতে নামতে কন্ডাক্টরের হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললেন, ‘যাত্রী দেখেছ, যাত্রীর ফাঁদ দেখো নাই!’

রস+আলো
২৮ মার্চ ২০১৬

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২১

মোঃ সায়হান আলী বলেছেন: ‘যাত্রী দেখেছ, যাত্রীর ফাঁদ দেখো নাই!’

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০১

হানিফ21 বলেছেন: না, দেখি নাই :)

২| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৮

উন্মুক্ত অাঙ্গিনা বলেছেন: খুব ভালো

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০২

হানিফ21 বলেছেন: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ! উন্মুক্ত আঙ্গিনা :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.