| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভাষার মাস এলেই বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর প্রতি মেডিয়ার দরদ বাড়ে। প্রতি বছরের মত এবারও হয়তো কোন বিলুপ্ত ভাষা পত্রিকার কলাম হয়ে অনেক পাঠকের নজর টানতে সক্ষম হবে। সাধারণ জ্ঞান হিসেবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী, বিসিএস বা চাকরী প্রত্যাশী ছাত্র মুখস্ত করবেন সেই ভাষার নাম। হয়তো গুগল, ইউটিউব হুংকার ছেড়ে দায়িত্বশীল হয়ে ভাষা বাঁচানোর ঘোষণা দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যাবে কি সেই সব দূর্বল, অনগ্রসর ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাটিকে?
সকল ভাষার সমান অধিকারঃ
ভাষার অধিকার প্রতিটি জাতির মৌলিক অধিকার, এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। ইতিহাসে দেখা যায়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে শত শত বছর ধরে নিজের মাতৃভাষা থেকে বঞ্চিত রেখে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো দীর্ঘ শাসন-শোষণকে টিকিয়ে রেখেছে। শাসক গোষ্ঠী নিজস্ব ভাষাকে কখনো বিশেষ মর্যাদা ও অধিকার সম্পন্ন (privileged) হিসেবে জাহির করে অন্য জনগোষ্ঠীগুলোর উপর চাপিয়ে দিয়েছে। পরাধীন বাংলার জনগনের উপর ফার্সি, ইংরেজী, উর্দু প্রভৃতি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার নজির এর প্রমান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচারী শাসকের চাপিয়ে দেওয়া সাম্রাজ্যবাদী ভাষা উর্দুকে প্রত্যাখান করে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগন নিজেদের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। এই ভাষা আন্দোলনের স্লোগান “অন্যতম রাস্ট্রভাষা বাংলা চাই” হলেও এর চেতনাগতভাবে “সকল ভাষার সমান অধিকার” দাবী কাজ করেছিল যেখানে বেলুচ, সিন্ধ, পাঞ্জাবী, পুস্ত প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর ভাষাকে রাস্ট্রের ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে পরোক্ষ সমর্থন দান করা হয়েছিল। গনতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভাষার অধিকারের দিকে তাকানোর এক অপূর্ব চিন্তা তখনকার আন্দোলনকারী নেতৃত্ব ধারণ করত। যদিও আজ স্বাধীন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী পূর্ববর্তী পাকিস্তানী স্বৈরাশাসকদের মতই অনগ্রসর ভাষাগুলোর প্রতি অবিচার করে তাদের বিকাশকে রুদ্ধ করে রেখেছে। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার হরণ করে রাস্ট্র তাদেরকে শিক্ষার বিকাশ রোধ করে চলছে। এই ভাষার মাসে আমাদের সকলের কণ্ঠে একটাই দাবী, সকল ভাষার সমান অধিকার দিতে হবে।
©somewhere in net ltd.