| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২৮ মে,২০৮০ সাল, মঙ্গলবার
আজকের আবহাওয়া বেশ মেঘাচ্ছান্ন মনে হচ্ছে। আমার রুমের আবহাওয়া অবশ্য বাইরের থেকে ভিন্ন থাকে যা আমি সব সময় অনুধাবন করতে পারি না । প্রযুক্তির ছোয়ায় নাকি এমনটা করা হয় অবশ্য আমি প্রযুক্তি সম্পর্কে অতটা ধারনা রাখিনা । বয়ষের কারনে ধারনা রাখাটা সম্ভব হয়না । আমার রুমের আবহাওয়া ক্যালিফোনিয়ায় বসে আমার নাতি নিয়ন্ত্রন করে আমার মন মেজাজের উপর ভিত্তি করে । এমন মেঘাচ্ছান্ন দিনে সাতক্ষীরার এই গ্রামে বসে আমার অতীতের অনেক স্মৃতি মনে উদয় হচ্ছে অবশ্য এত বয়ষে সবকিছু হয়ত মনে থাকার কথা না কারন শতক ছুই ছুই একজন বৃদ্ধ মানুষের স্মৃতি শক্তি আর কতটুকু ভাল থাকতে পারে । তবে আমার যতদুর ধারনা আমার স্মৃতিশক্তি অতটা লোপ পায়নি যতটা সাধারন মানুষ ভাবে। আমার জানা মতে আমার বাবা ও সত্তর বছর বয়ষে অনেক কিছু গুলিয়ে ফেলতেন আমি সব সময় স্মরন করিয়ে দিলেও তার স্থায়িত্ব হত সামান্য সময় মাত্র । সে বিবেচনায় এখন ও আমি যথেষ্ঠ স্মরন শক্তিওয়ালা বলতে পারি নাকি আমার প্রযুক্তিবিদ নাতি আমার মস্তিষ্কে কোন ডিভাইস লাগিয়েছে যার কারনে আমি এবয়ষে এখনও সবকিছু মনে রাখতে পারি সে বিষয়ে অবশ্য যথেষ্ট সন্ধেহ আছে কারন আমার রুমটা নিয়ে ও বিস্তর গভেষনা করে বিশেষ করে ওর দাদি অর্থাৎ আমার স্ত্রী বেনুর মৃত্যুর পর থেকে। ওর দাদির সাথে ওর এত বোঝাপড়া ছিল তা সত্যিই আমাকে ভাবিয়ে তোলে কারনআমি দেখেছি বয়ষ্ক মানুষের কদর কিভাবে লোপ পায়, অবহেলায় কেউ কেউ পৃথিবী ছাড়ে অথচ যৌবনে যারা ছিল প্রতাপশালী সেতুলনায় নিজেকে ভাগ্যবান বলতে হবে । এবয়ষে এসে ও সংসার নামক যন্ত্রের কাছে এখন ও ফুরিয়ে যায়নি ভেবে ভাল লাগে হয়ত আমার স্ত্রীর গুনে এমনটি হয়েছে ও বেশ ভাল স্বভাবের ছিল কাউকে কখন অবহেলা করতে দেখেনি । আমার বাবা ও ওকে বেশ পচ্ছন্দ করতেন । বেনু বলত সবাইকে সম্মান করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়।হয়ত ওর প্রতিদান আমি এখন ভোগ করছি তা না হলে এই বয়ষে আমার মন যে অবহেলা আর অনাদরে বিষিয়ে উঠত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । বেনুর মন ছিল শিশুর মত সরল, খুব অভিমান ছিল ওর । ওর তুলনায় আমি ছিলাম ১২ বছরের বড়। হয়ত সে কারনে ওর সব কিছুতেই শিশুর মত মনে হত।কখন অফিস থেকে ফিরতে দেরি হলে অভিমান করে বসে থাকত তখন সত্যিই ওকে অন্য রকম লাগত, ওর রাগী চেহারা আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলত, হয়ত পাগলামীটাও আমার মধ্যে ছিল তাই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়তাম ওর রাগ কিংবা অভিমান ভাঙাতে। সে জন্য সব কিছু করতে আমার সায় ছিল। তবে এবয়ষে যখন ভাবি তখন খবি লজ্জা লাগে আহা কত ছেলে মানুষিই না ছিলাম তখন । খুব মনে আছে ঢাকা শহরে ছোটখাট চাকরির সুবাদে থাকতাম মিরপুরে । গুলশানে অফিসের পাঠ চুকিয়ে বড্ড দেরি হয়ে যেত কখনো কখনো । দরজা খুলে দিয়ে ও চলে যেত বারান্দায় আমি ঠিক বুঝতাম এটা আমার দেরির ফল তার পর ও ইচ্ছে করে বলতাম বেনু শরীর খারাপ বুঝি , দেখিত জ্বর কিনা , কপালে হাত রেখে বলতাম গরম মনে হচ্ছে যদিও আমি জানতাম ওসব কিছু না । বেনু আমার হাত সরিয়ে দিয়ে বলত যাও এখান থেকে আমার কিছু হয়নি । চোখ ছল ছল করত ওর , চোখের পানি মুছে দিয়ে বলতাম আর কখন দেরি হবে না তখন ও মোমের মত গলে যেত, আমার বুকে মাথা গুজে ফুফিয়ে কাদতে কাদতে বলত আমার বুঝি একা থাকতে কষ্ঠ হয় না ।.............(চলবে) ( লেখাটি নিয়মিত ফেসবুকে ও প্রকাশিত হচ্ছে আশাকরি ভালো লাগবে)
©somewhere in net ltd.