| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই শিক্ষার্থীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়।
এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।
এই ছিল গত কিছু দিন যাবৎ প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে শুরু করে হালের সোস্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রচারিত সংবাদ। কিন্তু কি কারনে এই ঘটনাটি এত আলোচিত হলো তা সমাজ বিজ্ঞানীদের জন্য গভেষনার উন্নতম বিষয় হতে পারে কারন এর ঠিক কাছাকাছি সময়(২৯ এপ্রিল সকালে) ধর্ষনের বিচার না পেয়ে হযরত আলী এবং তাঁর মেয়ে আয়েশা (১০) গাজীপুরের শ্রীপুর রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশের সিগন্যালের কাছে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন৷ নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম মারফত জানা যায়, ‘‘কয়েক মাস আগে ফারুক নামের এক বখাটে তার মেয়ে আয়েশাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে৷ স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এর বিচারের দায়িত্ব নেন৷ কিন্তু কোনো মীমাংসা ছাড়াই তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেন৷ আর এতেই তার স্বামী মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন৷''
অন্তত এই একটি ঘটনাই গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারত। আমরা নামতে নামতে কোথায় নেমে গিয়েছি সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যাওয়া হযরত আলী ও তার নাবালিকা মেয়ে আয়শার জন্য কোন মিডিয়ায় ঝড় উঠেনি। কারন কি তার জন্যও সমাজ বিজ্ঞানীদের দারস্থ হওয়া ছাড়া আমাদের মত আমজনতার পক্ষে বের করা সম্ভব নয়।
পাশাপাশি সময়ের দুটি ঘটনা অথচ প্রতিক্রিয়া দুরকম কারনটা সম্ভবত আমরা অভিজাত শ্রেনির গল্প শুনতে যতটা পচ্ছন্দ করি গরিব শ্রেনীর প্রতি ততটা আগ্রাহী নই।
নারীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নামের সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৬ সালে এক হাজারেরও বেশি নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে হাতে গোনা দুএকজনই কেবল মিডিয়া কাভারেজ পায়। তাদের মধ্যে বিস্মকর ভাবে তনু উঠে এসেছিল এবং সব মহালের বিবেকে আঘাত আনতে সক্ষম হয়েছিল আর এর পেছনে মিডিয়ার ভুমিকা ছিল প্রবল ঠিক যেমন এখন রেইনট্রির দুই ছাত্রী ধর্ষনের পর সব মিডিয়া উঠে পড়ে লেগেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মিডিয়ায় এর ভুমিকার প্রবল সমার্থক কারন রাষ্ট্র যতই অলস আর অপরাধীর সমার্থক হোক তা প্রতিহত করার ক্ষমতা মিডিয়ার যতটা আছে সাধারন জনগনের ততটা নেই। যদিও আমরা বলি জনগনের কথা আসলে জনগন সংগঠিত হবার জন্য মিডিয়াই একমাত্র নিয়ামক। সুতরাং ভীতু এবং লেজুড়বৃত্তির মিডিয়া আমরা চাই না বরং শক্তিশালী নিরপেক্ষ মিডিয়া চাই। কিন্তু অবাক হলাম হযরত আলী এবং আয়েশার ঘটনাটি মিডিয়া শক্তি ভাবে সমার্থন এবং গন আন্দোলনে রুপ দিতে পারেনি যেটা দুই তরুনীর ক্ষেত্রে পেরেছে।
কেন হযরত আলী আর আয়েশাদের জন্য আন্দোলন দরকার ছিল তা বোঝার জন্য যদি সমাজের হাজার হাজার হযরত আলী আর আয়েশাদের কথা চিন্তা করি তাহলে সহজে অনুধাবন করা যাবে এই অসহয় মানুষগুলো আমাদের সভ্যতাকে, আমাদের বিবেককে কিভাবে চপেটাঘাত করে পৃথিবী থেকে নিরবে সরে পড়ল।
এখন বনানীর ঘটনা যা মিডিয়ায় টর্নেডোর মত স্বজোরে আঘাত এনে গোটা সমাজটাকে তছনছ করে দিচ্ছে তা আসলে কতটা ঝড় তোলার মত। প্রথমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য বলে নেওয়া ভাল নারীর প্রতি সব প্রকার সহিংসু ঘটনা, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সে যদি পতিতাও হয় এবং জোর পূর্বক তাকে বাধ্য করা হয় তার অমতে তাহলেও আমি ঐ পতিতার পক্ষে অবস্থান নিবো কারন আমি তার ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। বনানীর ছাত্রীদের অমতে জোর জবরদস্তি করে কোন কিছু হয়ে থাকলে সেটার প্রতিবাদ করা উচিত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেটার জন্য ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া জরুরী। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটে চলেছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। নিউজ এজেন্সীগুলোর ঘুম হারাম হয়ে গেছে নিউজ সংগ্রহ করতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে ইতিপূর্বে এমন ঘটনা আগে আর ঘটেনি এটিই প্রথম এবং এর নিউজগুরুত্ব অনেক অথচ এরকম অসংখ্য ঘটনা দেশের আনাচে কানাচে ঘটে যাচ্ছে তার জন্য কতটুকু সময় ব্যায় করছে মিডিয়া?
আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিচারহীনতা আর এটিই অপরাধ সংঘটিত হবার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সেখানটাতে মিডিয়া যদি তীব্রভাবে লড়ে তাহলে সাময়িক ভাবে হলেও কাপিয়ে দিয়ে যেতে পারে যেমনটা আজ হচ্ছে। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ, দুদক, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এখন তড়িঘড়ি করে বনানী রেইনট্রির ছাত্রী ধর্ষনের পর তীব্র গতিতে কাজ করে যাচ্ছে। রেইনট্রি হোটেলের বানিজ্যিক অনুমোদন নেই কিভাবে ইউটিলিটি কনেকশন হলো সে প্রশ্ন আজ বড় হয়ে দাড়িয়েছে অথচ কদিন আগেও কেন কেউ প্রশ্ন তোলেনি শুল্ক ফাঁকির, মানবাধিকার লংঘনের কিংবা দূনীতির। আর এখনটাতেই আমার মত অনেককে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। যাদের উপর দুনীতি, শুল্ক ফাঁকী রোধের দায়িত্ব ছিল তাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য মিডিয়া কি জাগবে? নাকি মিডিয়ারই সেই দায়িত্ব অবহেলার দায় রয়ে গেছে? জাতিকে সঠিক সময়ে সঠিক খবর দিতে ব্যার্থ হবার? না হলে কেন তারা সব কিছু চেপে দু’ একটি ঘটনা নিয়ে মাতামাতি করে? এর পেছনেকি ধর্ষকের বাবার স্বর্ণ ব্যবসার যোগসুত্র আছে? রহস্য যাই থাকুক আমরা প্রতিটি ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি চাই। সমাজের উচু শ্রেনীর বকে যাবার ঘটনাটা ঐশীকে দিয়ে প্রকাশ পেলে ও বনানী ঘটনা নতুন করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল অনেক কিছু। বন্ধুত্বের আড়ালে লীলা খেলার আসরের সদস্যরা গোটা সমাজটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। মেয়েদের ও সাবধান হতে হবে হোটেল পাটির নামের নিজেকে অনিরাপদ করে বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে। মিডিয়ার কল্যানে আমরা জেনেছি সাফাত নাকি এটাকে ধর্ষন বলতে নারাজ তারা এমনটি করে থাকে অর্থাৎ এদের কাছে এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার এবং অভিযোগকারীনিরাও পূর্ব পরিচিত। হোটেলে জন্মদিনের পাটি এবং সিমিত গেষ্ট জেনেও তারা সেখানে অংশ গ্রহন করেছে এবং ঘটনার কিছুদিন পর তারা কেন অভিযোগ করলো সেটা ও বিবেচনার বিষয় তবে আমি সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই না কারন সেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিবাহ বিহিঃভূত কোন সম্পর্ক আমাদের সমাজে গ্রহনযোগ্য নয়।
আমরা একটি সুন্দুর সমাজের প্রত্যাশা করি। আমরা আমাদের এই সমাজ জাতি সর্বপরি দেশটাকে নিয়ে গর্ব করতে চাই।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৯:৫২
খালিদ১২২ বলেছেন: নেটে প্রকাশ হলে ধর্ষণ তার আগে সেক্স