| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খালিদ হাসান মিলু
একজন স্টুডেন্ট
___
.
সবার মনের ভিতরেই কিছু কিছু কষ্ট লুকানো থাকে। হোক সেটা ছোট কিংবা বড়। কিন্তু কিছু কিছু কষ্টের কারণ কারো কাছেই ব্যক্ত করা যায়না।সেই কোষ্টগুলো সবসময় অব্যক্ত রয়ে যায়। জানতে পারে না নিজের জন্মধাত্রী মা অথবা জন্মদাতা পিতা। জানতে পারে না খুব কাছের বেস্টফ্রেন্ডটিও। এমন কি সেই প্রিয় মনের মানুষটির কাছেও তা বলা হয় না যার সাথে সবকিছু শেয়ার না করলে পেটের ভাত হজম হয় না। হ্যাঁ কিছু কিছু কষ্ট একান্ত নিজেরই। সেই কষ্টের ভাগ কাউকেই দেয়া যায়না। খুবই ব্যক্তিগত থাকে সেই কষ্ট গুলো। সেই কষ্ট গুলো তখনই খুব বেশি করে আমাদের মনের মাঝে উকি দেয় যখন আমরা রাতের আধারে একাকি নির্ঘুম রাত কাটাই। বার বার সেই কষ্টের স্মৃতি গুলো তখন মনের মাঝে রিপিট হতে থাকে। অজান্তেই চোখের কোণে দেখা যায় বিন্দু বিন্দু অশ্রুজল। সবার অগোচরেই থেকে যায় তা। কেউ দেখে না সেই চোখের পানি। সবাই যে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সবাই ঘুমে মশগুল পরের দিনে একটা সুন্দর সকাল উপভোগের জন্য। কিন্তু অগোছালো আমরা কষ্ট নিয়ে বেচে থাকা মানুষ গুলো শুধু অভিনয় করে দিন পার করে দেই।দিনের আলোয় হেসে খেলে মজ মস্তি করে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকি।আমাদের আনন্দ দেখে কেউ বুঝতে পারবে না যে আমরা রাতের বেলায় চোখের জল ফেলি। হঠাৎ মন খারাপ করে বসে থাকলে হয়তো কোনো বন্ধুর নজরে ধরা পরি। কাছে এসে যদি জিজ্ঞেস করে, কি রে কি হয়েছে,মন খারাপ নাকি? তখন উত্তর দেয়ার মতো কিছুই থাকে না। তারপরও বলি, আমি ঠিক আছি। কেউ যদি কখনো জিজ্ঞেস করে ,কেমন আছিস? তখন সেই চিরন্তন মিথ্যা বাক্যটাই উচ্চারণ করি, হ্যাঁ অনেক ভালো আছি। হয়তো খুব বেশি ভালো নেই তবে অনেকের চেয়ে তো অনেক ভালো আছি। বেচে তো আছি। যখন রুমমেটরা জিজ্ঞেস করে ,কিরে কদিন থেকে দেখছি মন খারাপ করে থাকিস? কাহিনী কি? তখন একটা নিঃশব্দ হাসি দেই আর বলি, কই কিছু হয়নিতো।
.
খুব বেশি কষ্ট পাওয়া মানুষ গুলো কষ্ট লাঘব করার জন্য নেশাকে করে রাতের সঙ্গি। রাতভর শুধু বাতাসে উড়াতে থাকে সিগারেটের নিকোটিনযুক্ত ধোঁয়া। সিগারেটের প্যাকেটের উপর যে লেখা থাকে "ধূমপান মৃত্যুর কারণ " সে লেখাটা সে ভালোভাবেই পড়ে দেখে। কিন্তু দেখার পরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। লেখাটা এক নজর দেখেই হেসে উড়িয়ে দেয় আর আবার ধোঁয়া ছাড়তে থাকে। মনের মৃত্যু তো অনেক আগেই হয়ে গেছে।নির্দিধায় বলে ওঠে সিগারেট, তুমি ভালোবাসা। শত ডিপ্রেশানের মধ্যে বুক উঁচু করে জাগিয়ে রাখো তুমি। এর বদলে ফুসফুসটাই না হয় একটু কালো করলে। কিন্তু সবকিছু ভুলতে সাহায্য তো করো। এটাই বা কে করে!
.
খুব বেশি কষ্ট পাওয়া মানুষ গুলো শুধু বেচে থাকার অভিনয় করতে থাকে। মনের মৃত্যু হয়ে গেলে কি হবে, দেহ যে এখনো জীবিত। তাই মরে গিয়েও বেচে থাকার অভিনয় করতে থাকে। খুব বেশি ডিপ্রেশনকে মেনে নিতে না পেরে মরে যেতে চায় বার বার কিন্তু পারেনা। সে মরে গেলে তো চলবে না। তার জীবন টা যে কতজনের সাথে জড়িয়ে আছে। মা বাবা চেয়ে আছে তার দিকে ছোট ভাইবোন গুলো তো ছাড়তে চাইবে না। তাই কষ্টগুলো মনের মাঝে পুষে রেখেই নিজেকে অভিনয়ে ব্যস্ত রাখে। নিজের জন্য না হলেও অন্যের জন্য অন্তত বেচে থাকতে হবে। সবাই যে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তাই নিজের কষ্টগুলো মনের মধ্যেই চেপে রেখে অন্যের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য চলতে থাকে।
.
কখনো কখনো মনে হয়, না এভাবে আর নয়। নিজেকে বদলাতে হবে। জীবনকে আবার নতুন করে সাজাতে হবে। সব কষ্ট ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে। অতীতকে ভুলে যেতে আবার নতুনভাবে জীবনকে রাঙ্গাতে থাকে। একসময় অনেক পরিবর্তন হয়ে যায় সেই মানুষ গুলো। ছোট ছোট কস্ট গুলোকে তখন আর কস্ট মনে হয়না তার।অগোছালো সেই ছেলেটা হয়ে যায় অনেক গোছালো প্রকৃতির।সে যে এর চেয়েও অনেক বড় কস্টকে জয় করে এতদূর এসেছে।
.
মন খারাপ করে থাকা সেই আবেগী ছেলেটা তখন আর আগের মতো থাকে না। অনেক পরিবর্তন হয়ে যায় সে। এখন সে আর কারো কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট কে মনে রাখে না। যে অল্প একটু কষ্ট পেলেই চোখের জল ফেলতো সে আর কোনোকিছুতেই কাদে না। কাদতেঁ ভুলে গেছে সে। এখন সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। নিজের জীবনকে রাঙ্গাতে ব্যস্ত সে। তার কষ্টের মুহুর্ত গুলোতে যারা আগে বিদ্রুপ করতো তারাও এখন ছেলেটাকে দেখে অবাক হয়। নিজেদের জরাতে চায় ছেলেটার সাথে। কিন্তু ছেলেটা আর কারো দিকে তাকায় না। তার যে আর কাউকে তার জীবনের সাথে জড়ানোর সময় নেই। সে এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। নিজের ভবিষ্যৎ কে গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। এখন আর নতুনভাবে কষ্টগুলো উপস্থাপন করার সময় নেই।
.
একসময় নিজেকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যায় সে। হ্যাঁ কষ্ট গুলো ভুলে থাকার অভিনয়ই তাকে এই উন্নতিতে নিয়ে গেছে। অতীতের কষ্টকে মনে রাখতে নেই। কষ্টগুলো মনে রাখলে ধুকে ধুকে মরতে হয়। তাই সেগুলো ভুলে থাকতে হয়। আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার জন্য ব্যস্ত হয়ে যেতে হয়।
.
একদিন হঠাৎ করেই পুরনো কষ্টগুলো উকি দেয় মনের মাঝে। সফল জীবন নিয়ে ভাবতে থাকে অতীতের কথাগুলো। কত কষ্টই না পেয়েছিলো সেদিন। আর আজ কতো উন্নতি হয়েছে তার। কত উন্নতি করেছে সে। ভাবতে থাকে আর সিগারেটে আবার ধোঁয়া উড়াতে থাকে। পাশে থাকা সঙ্গিনী হয়তো জিজ্ঞেস করে বসে, কি নিয়ে ভাবছো এতো?
হেসে উড়িয়ে দেয় মানুষ টা তখন আর বলে
,ছোটবেলার একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেলো আজ, তুমি কি শুনবে?
এরপর শুনাতে থাকে সেই ছেলেবেলার মজার ঘটনাগুলো। কিন্তু কষ্ট গুলো অব্যাক্তই রয়ে যায়। সেগুলো প্রকাশ করা হয়না কারো কাছেই। কারণ কিছু কষ্ট যে একান্ত নিজেরই।
.
-লিখাঃ খালিদ হাসান মিল
.
আমি ব্লগে নতুন। এই ব্লগে এটাই আমার প্রথম লেখা। বড়দের সহযোগিতায় হয়তো ভবিষ্যতে আমিও আমার জ্ঞানের বিস্তার ঘটাতে পারবো এই ব্লগে। সবার দোয়া কামনা করছি।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২৫
খালিদ হাসান মিলু বলেছেন: আসলে প্রথম পাতায় আমার লেখা দেখানোর জন্য কি আরো ভালো ভালো লিখতে হবে? কেউ যদি একটু সহযোগিতা করতো তাহলে অনেক উপকার হতো।
২|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩০
ওমেরা বলেছেন: আমি তেমন একটা জানি না ভাইয়া , তবে সবারই কম বেশী সময় লাগে, যারা ভাল লিখে তাদের হয়ত কম সময় লাগে । আমার তিন মাসের বেশী লেগেছিল ।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৭
খালিদ হাসান মিলু বলেছেন: আপনার ইনফরমেশন এর জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া
৩|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৩
ওমেরা বলেছেন: আমি ভাইয়া না আপু !
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩৫
খালিদ হাসান মিলু বলেছেন: ওহ সরি আপু..আমি লক্ষ করিনি
৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৪৭
আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: আমি ভাইয়া না আপু !
![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৩
ওমেরা বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম ।
আরো বেশী বেশি লিখুন ।