নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্লেয়েইডিয়ান আমাদের শুভাকাংখী

১০ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৩৪



দৃষ্টিকোণ ও বর্ণনাঃ
বৈজ্ঞানিকভাবে ~~~ Pleiades হলো Taurus রাশিতে অবস্থিত একটি বাস্তব তারাগুচ্ছ, প্রায় ৪৪৪ আলোকবর্ষ দূরে।
আধ্যাত্মিকভাবে~~~ বিশ্বাস অনুযায়ী এটি একটি উচ্চ স্পিরিচুয়াল সভ্যতার কেন্দ্র, যেখান থেকে Pleiadians আসে।
পৌরাণিকভাবে~~~ সাত কন্যার কাহিনি থেকে নামকরণ করা হয়েছে; অনেক সংস্কৃতিতেই “সপ্তর্ষি” বা “সপ্ততারা” ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
গুরুত্ব

* নৌ-পথ নির্ণয়ে সপ্তর্ষি নক্ষত্রমণ্ডল সর্বকালেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
* এটি উত্তর দিক চিনতে সাহায্য করে কারণ এর লাইনে “Polaris” নক্ষত্রকে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
* পুরাণে সপ্তর্ষির ভূমিকা সৃষ্টিতত্ত্ব ও ব্রহ্মাণ্ডের শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

“সপ্তর্ষি” সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলোঃ

### ✅ জ্যোতির্বিজ্ঞানে

সপ্তর্ষি নক্ষত্রমণ্ডল হলো **উরসা মেজর (Ursa Major)** বা “Great Bear” নক্ষত্রমণ্ডলের একটি প্রসিদ্ধ অংশ। এটি সাতটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিয়ে গঠিত, যেগুলো একসঙ্গে দেখতে **একটি ডোল বা খুপরির মতো** লাগে। অধিকাংশ দেশেই এটি Big Dipper নামে পরিচিত।

এই সাতটি নক্ষত্র হলো—
1. ডুবহে (Dubhe)
2. মেরাক (Merak)
3. ফেকদা (Phecda)
4. মেগ্রেজ (Megrez)
5. এলিওথ (Alioth)
6. মিজার (Mizar)
7. আলকািদ (Alkaid)

### ✅ ভারতীয় পুরাণ অনুসারেঃ

১. ভৃগু ঋষি
ভৃগু হলেন ব্রহ্মার সন্তান এবং ঋষিদের মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত।
✦ বিশেষত্ব
দেবতা, অসুর ও মানুষ— তিন বর্গের শিক্ষক
বহু রাজবংশের পূর্বপুরুষ
পরশুরামের পূর্বপুরুষ
✦ উল্লেখযোগ্য গল্প
“ত্রিদেবের পরীক্ষা” - এক গল্পে বলা হয়, একবার ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব— এই তিন মহাদেবের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা যাচাই করতে ভৃগু পরীক্ষা করতে গেলেন।—ঋষিগণের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে ত্রিদেবের মধ্যে—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর— কে শ্রেষ্ঠ। এই দায়িত্ব দেওয়া হয় ভৃগু মুনিকে।
✦ ব্রহ্মার কাছে ভৃগু
ভৃগু ব্রহ্মার নিকট গিয়ে তাঁকে সম্মান জানালেন না। ব্রহ্মা অপমান সহ্য করলেও রাগ দমন করলেন। ভৃগু বুঝলেন—ব্রহ্মা রাগী।
✦ শিবের কাছে ভৃগু
শিবের সামনে গেলে শিব ভৃগুকে দেখে আনন্দিত হন। কিন্তু ভৃগু তাঁর গলায় পরা সাপ দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন। শিব রাগে ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁকে ধ্বংস করতে উদ্যত হন। পার্বতীর অনুরোধে শিব নিজেকে সংযত করেন।
✦ বিষ্ণুর কাছে ভৃগু
শেষে ভৃগু বিষ্ণুর বুকে লাথি মারেন! বিষ্ণু বিনম্রভাবে বলেন—
“হে ঋষি, আপনার পা ব্যথা পেয়েছে কি? আমার বুকে আপনার পদচিহ্ন থেকে গেলে আমি ধন্য।”
এই বিনয় দেখে ভৃগু উপলব্ধি করেন—বিষ্ণুই সর্বশ্রেষ্ঠ।
কবির ভাষায়ঃ
'আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি চির-বিদ্রোহী বীর
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!'

২. মরি্চি — ব্রহ্মার প্রথম মানসপুত্রদের অন্যতম; সূর্যদেবের পূর্বপুরুষ।
✦ বিশেষত্ব
বিশ্ব সৃষ্টির শুরুতে “প্রজাপতি” বা সৃষ্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত
সূর্যদেব (বৈবস্বত মনু) তাঁর বংশধর
✦ গল্পঃ “সূর্যবংশের পূর্বপুরুষ”ঃ মরীচির স্ত্রী উরুণা ছিলেন অতুল সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু তিনি রাগী ও অভিমানী ছিলেন।
✦ অভিশাপের গল্প -বলা হয়, একদিন মরীচি ক্ষণিকের জন্য মাতৃসম অনুশোচনায় থাকা অবস্থায় উরুণা তাঁর ওপর রাগ করেন। মরীচি তাঁকে অভিশাপ দেন— “তুমি পাথর হয়ে যাবে।” অভিশাপ সত্যি হয়। পরবর্তীতে ব্রহ্মার অনুরোধে মরীচি অভিশাপ লাঘব করেন।
✦ মরীচির বংশধর
মরীচি → কশ্যপ → সূর্য, ইন্দ্র, বসুধা, গণেশ, অসুর, নাগ— এইভাবে পুরো দেবতা ও অসুর বংশ মরীচির বংশধর বলে গণ্য।

৩.অত্রি — অত্রি মুনির স্ত্রী অনসূয়া; তাঁদের সন্তান দত্তাত্রেয় (বিষ্ণু অবতার)।
অত্রি মুনি তপস্যার জন্য বিখ্যাত। তাঁর স্ত্রী ছিলেন অনসূয়া— যিনি স্ত্রীর সতীত্বের আদর্শ।
✦ বিশেষত্ব
তপস্যার শক্তিতে দেবতারা তাঁর কাছে হার মানত
দত্তাত্রেয় তাঁদের সন্তান— যিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব— তিন শক্তির মিলিত রূপ
✦ গল্পঃ দানবদের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য অত্রির তপস্যা এত শক্তিশালী হয়েছিল যে তিন দেবতা নিজেই তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর গৃহে জন্মগ্রহণ করেন দত্তাত্রেয় রূপে।
✦ তিন দেবতার পরীক্ষা -লোককথায় বলা হয়, দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী ও পার্বতী তাঁদের স্বামীদের প্রশংসা করেন। তিন দেবী রুষ্ট হয়ে অত্রির গৃহে তিন দেবতা—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব—মানুষ রূপে গিয়ে অনসূয়াকে পরীক্ষা নিলেন। তারা শর্ত রাখলেন—
“আমাদের নগ্ন করে আহার করাতে হবে!” অনসূয়া তখন তাঁদের শিশুতে রূপান্তরিত করেন এবং মায়ের মতো খাওয়ান। দেবীশক্তিতে তিন দেবতা পরাজয় স্বীকার করেন।
✦ দত্তাত্রেয় জন্ম - এই ঘটনার পর তিন দেবতা খুশি হয়ে অনসূয়ার গর্ভে জন্মান— দত্তাত্রেয়— তিন দেবতার সম্মিলিত রূপ।
অত্রি–অনসূয়া পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী তপস্যাশক্তির দম্পতি হয়ে ওঠেন।

৪.অঙ্গিরা — দেবতাদের পুরোহিত এবং আগ্নেয়বিদ্যার বিশেষজ্ঞ।
অঙ্গিরা ঋষি অঙ্গিরা দেবতাদের পুরোহিত হিসেবে পরিচিত।
✦ বিশেষত্ব
আগ্নেয়বিদ্যা (Fire science)–এর জনক
ব্রহ্মবিদ্যা ও মন্ত্রশক্তিতে পারদর্শী
✦ গল্পঃ ইন্দ্র বহুবার অঙ্গিরার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। অসুরদের বিরুদ্ধে দেবতাদের জয়ী করার পেছনে অঙ্গিরার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“আগ্নেয়বিজ্ঞান ও দেবতাদের উদ্ধার” - অঙ্গিরা ছিলেন আগুনের সৃষ্টিতত্ত্ব-জ্ঞ।
✦ ত্রিশিরাসের যুদ্ধ -অসুর ত্রিশিরাস দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গ দখল করেছিল। দেবতারা অসহায় হয়ে অঙ্গিরাকে ডাকলেন।
অঙ্গিরা অগ্নিমন্ত্র উচ্চারণ করে ত্রিশিরাসকে দুর্বল করেন। ইন্দ্র তাঁর সুযোগে আঘাত করে তাকে পরাজিত করেন।
✦ অঙ্গিরার “ব্রহ্মবিদ্যা” - “অঙ্গিরস” নামে উপনিষদের একটি শাখা তাঁর নামে পরিচিত। অনেক অস্ত্র মন্ত্রের জনক বলেও তাঁকে গণ্য করা হয়।

৫.পুলস্ত্য — রাবণের পিতামহ; পুরাণে অসুরদের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পুলস্ত্য ঋষি পুরাণে এক রহস্যময় ও বহু-বর্ণনার চরিত্র।
✦ বিশেষত্ব
অসুর বংশের পূর্বপুরুষ
রাবণের পিতামহ
✦ গল্পঃ পুলস্ত্য যখন তপস্যায় মগ্ন ছিলেন, তখন তাঁর ছায়া থেকে জন্ম হয় বিশ্ব্রবা ঋষির। তাঁর থেকেই রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও বিভীষণ জন্মগ্রহণ করে। তাই রাবণী বংশ তাঁরই বংশধর।
“রাবণ বংশের উৎস” - পুলস্ত্য ঋষি ব্রহ্মার সন্তান হলেও তাঁর গল্পে আলাদা রহস্য আছে।
✦ মেনকা–বিভিন্না গল্প
বিশৃবা ঋষি, যিনি লঙ্কার রাবণের পিতা, পুলস্ত্যের বংশধর।
বিশৃবার দুই স্ত্রী— কেশিনী (যার গর্ভে রাবণ, কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ)। মালিনী (যার গর্ভে কুবের)। ফলে, রাবণ কুবেরের সৎ ভাই।
এই বংশসূত্র পুরাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
✦ পুলস্ত্যকে নিয়ে কিংবদন্তি - বলা হয়, পুলস্ত্য রাগ করলে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হতো, তাই দেবতারা সবসময় তাঁকে শান্ত রাখতে ভয় পেতেন।

৬.পুলহ — তপস্যা এবং যোগের সাধনা দিয়ে পরিচিত।
পুলহ ঋষি শান্ত ও ধ্যানী এক চরিত্র।
✦ বিশেষত্ব
যোগ ও ধ্যানের গুরু
বহু প্রাণীর বংশধর তাঁর থেকেই এসেছে
✦ গল্পঃ বিভিন্ন যোগ–সংপ্রদায়ের ও তপস্যাবিদের দীক্ষা তিনি দিয়েছেন। তাঁর তপস্যা দ্বারা প্রকৃতি শান্ত হয়েছে বলে পুরাণে উল্লেখ আছে।
ধ্যান ও প্রাণীদের বংশ” - পুলহ মুনির তপস্যা ছিল নিভৃতপ্রিয় ও শান্ত।
✦ প্রাণীদের জন্মকথাঃ পুরাণে বলা হয়, বহু বন্যপ্রাণী— সিংহ, বাঘ, ভালুক, হরিণ ইত্যাদি অনেক বংশ তাঁর তপস্যাশক্তি থেকে উদ্ভূত।
✦ পুলহের আশ্রমঃ কথিত আছে, হিমালয়ের গভীরে তাঁর আশ্রম ছিল। অন্যরা তাঁর তপস্যার প্রতি কোনও বাধা দিলে ভয়াবহ অভিশাপে আক্রান্ত হতো।

৭.ক্রতু — যজ্ঞ ও আচার-বিচারের বিশেষজ্ঞ ঋষি।
ক্রতু যজ্ঞসংক্রান্ত জ্ঞান ও আচার-বিধিতে বিশেষজ্ঞ।
✦ বিশেষত্ব
যজ্ঞের মাধ্যমে শক্তির সঞ্চার
দেবতা ও মানুষকে যজ্ঞ করতে শিক্ষা দিয়েছেন
✦ গল্পঃ ক্রতু তাঁর কঠোর যজ্ঞসাধনার মাধ্যমে দেবতাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। ফলে অসুরদের আক্রমণ থেকে দেবতারা রক্ষা পেয়েছে। তাঁরা জ্ঞান, যোগ, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মাচরণে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেন।
“যজ্ঞ ও শক্তিবৃদ্ধির মহাগুরু”ঃ ক্রতু ছিলেন যজ্ঞবিশারদ।
✦ যজ্ঞের শক্তিঃ একবার দেবতারা অসুরদের দ্বারা পরাজিত হয়। শক্তি ফিরে পেতে ক্রতুকে আহ্বান করা হয়। তিনি অগ্নিকুণ্ডে যজ্ঞ শুরু করেন— যজ্ঞ থেকে উৎপন্ন শক্তি দেবতাদের শরীরে প্রবেশ করে তাঁদের আবার শক্তিশালী করে তুলেছিল। দেবতারা পুনরায় জয়লাভ করেন।
✦ ক্রতুর কন্যাসন্তানঃ তাঁর কন্যারা ঋষিগণের স্ত্রী ছিলেন, যা বিভিন্ন বংশগাথায় গুরুত্বপূর্ণ।

✅ সপ্তর্ষিদের প্রধান ভূমিকা

ধর্ম প্রতিষ্ঠা: মানুষের আচার-বিচার, ব্রত, যজ্ঞ ও নীতির শিক্ষা দিয়েছেন।
তপস্যা: কঠোর তপস্যার মাধ্যমে শক্তি অর্জন করেছেন।
ব্রহ্মাণ্ডের শৃঙ্খলা: সৃষ্টির চক্র অব্যাহত রাখতে ব্রহ্মাকে সহায়তা করেছেন।
মানবজাতির পূর্বপুরুষ: বহু রাজার, দেবতার ও বংশের সূচনা তাঁদের থেকেই।

✅ সপ্তর্ষিদের সাথে নক্ষত্রমণ্ডলের সম্পর্ক
পুরাণে এই সাত ঋষির প্রতীক হিসেবে উরসা মেজর (সপ্তর্ষি নক্ষত্রমণ্ডল)-এর সাতটি নক্ষত্রকে ধরা হয়। প্রতিটি নক্ষত্র একটি ঋষির প্রতিরূপ।

✅ চক্র অনুযায়ী সপ্তর্ষি

প্রতি যুগে (মন্বন্তর) সপ্তর্ষির তালিকা বদলে যায় বলে পুরাণে উল্লেখ আছে। এখন যে মন্বন্তর চলছে তাকে “বৈবস্বত মন্বন্তর” বলা হয়, এবং এই সময়ে এই সাতজন ঋষিকে সপ্তর্ষি হিসেবে গণ্য করা হয়।
view this link

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩২

কঙ্কাবতী রাজকন্যা বলেছেন: আপনাকে আর ব্লগে দেখছিনা।

ভালো আছেন তো?

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ভালো আছি। আপনার লেখা চাই যে!

২| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:১০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ১️⃣ প্রাথমিক উৎস—ব্রহ্মা → সাত মানসপুত্র। ব্রহ্মার “মনোজাত পুত্রদের” মধ্য থেকে ভৃগু, মরীচি, অঙ্গিরা, ক্রতু—এইসব ঋষিরা জন্মান। এর মধ্যে ক্রতু হলেন সপ্তর্ষিদের একজন।

২️⃣ ক্রতুর কন্যারা (৪৯/৬০/১০০)
➤ ক্রতুর কন্যারা = জ্ঞান–শক্তির প্রতীক। তাঁদের বিবাহ হয়—প্রজাপতি কশ্যপ, অঙ্গিরা, ধ্রুব, ভৃগু, অন্যান্য ঋষিদের সাথে। ফলে সৃষ্টির ধারাবাহিকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

❖ ক্রতুর কন্যারা = জ্ঞান ও শক্তির উৎস
❖ ঋষিগণ = তপস্যা ও ধর্মের উৎস
⚡ দুয়ের মিলনেই সৃষ্টি–বিস্তার হয়।
বংশ–চিত্র
ব্রহ্মা

├── ভৃগু ── ক্রতুর কন্যারা → ভৃগুবংশ (পরশুরাম, শুক্র)
├── অঙ্গিরা ── ক্রতুর কন্যারা → অঙ্গিরস বংশ (বেদীয় মন্ত্র)
├── মরীচি ── কশ্যপ ── ক্রতুর কন্যারা → দেবতা/অসুর/নাগ/প্রাণী
└── ধ্রুব ── ক্রতুর কন্যা → ধ্রুবতারা–বংশ

প্রজাপতি কশ্যপ + ক্রতুর কন্যারা → হাজারো বংশ
✅ কশ্যপ–বংশ থেকে জন্ম নেয়—

১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন:
প্রজাপতি কশ্যপ + ক্রতুর কন্যাদের বিবাহে হাজারো বংশ সৃষ্টি হয়। কশ্যপ–বংশ থেকে জন্ম নেয়—
দেবতাঃ সূর্য, ইন্দ্র, বায়ু, বরুণ,অগ্নি, চন্দ্র
অসুর/দানবঃ হিরণ্যকশিপু, হিরণ্যাক্ষ, পৃথু, ত্রিশিরা
নাগঃ বাসুকি, শেশনাগ,তক্ষক
গন্ধর্ব/যক্ষ/কিন্নরঃ চিত্রসেন
অন্যান্য অর্ধদেব জাতি
প্রাণীঃ পুরাণে বলা হয় সিংহ,বাঘ,হরিণ,ভালুক সহ বহু প্রাণীর বংশধর কশ্যপীয়।

১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৯

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অঙ্গিরা + ক্রতুর কন্যারা জন্ম দেন “অঙ্গিরস বংশ”
উৎপত্তি:অগ্নি (প্রতীকী)
বহু ব্রহ্মবিদ্যাধারী ঋষিগণ, বহু মন্ত্রকার।
অঙ্গিরস বংশ ঋগ্বেদের অনেক সূক্ত রচনা করেছে।

১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৪০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ভৃগু + ক্রতুর কন্যারা জন্ম দেন “ভৃগু বংশ”
উৎপত্তিঃ পরশুরাম, শুক্রাচার্য (অসুরের গুরু), ভৃগুবংশীয় রাজারা।

১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৪১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ধ্রুব + ক্রতুর কন্যারা জন্ম দেন ধ্রুবতারা–বংশ।
ধ্রুবকে (ধ্রুবতারা) সৃষ্টির এক চিরস্থায়ী ভিত্তি বলে মনে করা হয়।
তাঁর বংশ থেকে আসে— বহু প্রজাপতি, রাজার বংশ।

৩| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:১৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ১. দেবতা–বংশ (কশ্যপ বংশ)
মূলসূত্র: ব্রহ্মা - মানসপুত্র মরীচি - কশ্যপ
কশ্যপের একাধিক স্ত্রী—অদিতি, দিতি, দনু, কদ্রু, বিনতা, সুরভি, অরুন্ধতী, ইত্যাদি।

কশ্যপ + ক্রতুর কন্যারাও জ্ঞান–শক্তির সংমিশ্রণে এই বংশ সম্প্রসারিত করেন।
অদিতি + কশ্যপ মিলনে সৃষ্ট “আদিত্য” দেবতা -সূর্য (বৈবস্বত মনু সহ), ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, মিত্র,আর্যমান,অংশ,ত্বষ্টা,ভগ,পুষা।
দিতি + কশ্যপ মিলনে সৃষ্ট দৈত্য/অসুর বংশ (পরবর্তীতে দানব)- হিরণ্যকশিপু, হিরণ্যাক্ষ, প্রহ্লাদ,অন্ধক,বাণাসুর, ত্রিশিরা।
দনু + কশ্যপ হতে সৃষ্ট দানব বংশ। ১০০+ দানব, যেমন হুত, ভৃক, কালনেমি ইত্যাদি।
কদ্রু + কশ্যপ হতে সৃষ্ট নাগ বংশ। যেমন, বাসুকি, শেশনাগ, তক্ষক, কার্কটক, ধৃতরাস।
বিনতা + কশ্যপ হতে সৃষ্ট পক্ষী বংশ। যেমন, গরুড়, অরুণ (সূর্যরথের সারথি)।
অরুন্ধতী + কশ্যপ হতে সৃষ্ট গন্ধর্ব/অপ্সরা বংশ। যেমন ঃ চিত্রসেন, ১০০+ গন্ধর্ব/কিন্নর জাতি

৪| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:১৯

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ২. অসুর/দানব বংশ (দিতি ও দনু বংশ)

ব্রহ্মা

মরি্চি

কশ্যপ
├── দিতি মিলনে সৃষ্ট হিরণ্যকশিপু → প্রহ্লাদ → বালী (বিরাট রাজা)

└── দনু মিলনে সৃষ্ট কালনেমি → অসংখ্য দানব

উল্লেখযোগ্য অসুরঃ হিরণ্যকশিপু (নৃসিংহ অবতারের গল্প)।
হিরণ্যাক্ষ (বরাহ অবতার দ্বারা নিহত)
বাণাসুর (শিবের ভক্ত)
শুম্ভ–নিশুম্ভ (দুর্গার প্রতিপক্ষ)
অন্ধক (শিব দ্বারা নিহত)

৫| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৩. নাগ–বংশ (কদ্রু বংশ)
কশ্যপ + কদ্রু মিলনে সৃষ্ট
├── বাসুকি
├── শেশনাগ
├── তক্ষক
├── কুলিক
├── কার্কটক
└── ধৃতরাস

বিশেষ ভূমিকা
শেশনাগ — বিষ্ণুর শয়নশায়ী
বাসুকি — সমুদ্র মন্থনে নাগরাজ
তক্ষক — মহাভারতে পরিক্ষিতকে দংশন

৬| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৪. গন্ধর্ব/যক্ষ/কিন্নর বংশ (অরুন্ধতী বংশ)
কশ্যপ + অরুন্ধতী মিলনে সৃষ্ট
├── চিত্রসেন (গান–সঙ্গীত)
├── বিশ্ববসু
└── অন্যান্য গন্ধর্ব ও কিন্নর (হিজড়া)
ভূমিকা
সঙ্গীত, নৃত্য, সুর, স্বর্গীয় রক্ষক (হেরেম রক্ষক খোজা )
দেবসমূহের সভা-গায়ক

৭| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৩০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৫. ভৃগুবংশ
ব্রহ্মা

ভৃগু
├── শুক্রাচার্য (অসুরদের গুরু)
└── পরশুরাম (বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার)

ভৃগুবংশের গুরুত্বঃ পরশুরাম ২১ বার ক্ষত্রিয়বংশ ধ্বংস করেন। শুক্রাচার্য অসুরদের পুনর্জীবন দিতেন "মৃতসংজীবনী" মন্ত্রের মাধ্যমে।

৮| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৩১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৬. অঙ্গিরস বংশ
ব্রহ্মা

অঙ্গিরা
├── ব্রিহদ্রথ
├── বৃত্ত
└── অঙ্গিরস ঋষিগণ (ঋগ্বেদের বহু সূক্ত রচয়িতা)

৯| ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৩৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৭. ধ্রুবতারা–বংশ
উত্তানপাদ + সুনীতি

ধ্রুব (তপস্যায় অর্জিত ধ্রুবতারা)

ক্রতুর কন্যা (স্ত্রী)

প্রজাপতি (সৃষ্টিকর্তা) বংশ - বহু রাজবংশের সূচনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.