| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি বলতে বোঝায় — এমন এক পরিস্থিতি, যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা, সংখ্যা-গুচ্ছ, বা সংখ্যার প্যাটার্ন (যেমন ১১:১১, ২২২, ১২৩৪, ১৮১৮ ইত্যাদি) বারবার বিভিন্ন জায়গায়, সময়ে, কিংবা পরিস্থিতিতে চোখে পড়ে। এগুলো দৈব বা কাকতালীয় মনে হলেও, অনেকেই মনে করেন এগুলো কোনো গোপন বার্তা, ইশারা বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সংকেত।
উদাহরণঃ ঘড়িতে বারবার ১১:১১ দেখা, গাড়ির নম্বরপ্লেট, ফোন নম্বর, ঠিকানা বা কাগজপত্রে বারবার ৭৭৭, ১২৩, ৫৫৫ ইত্যাদি দেখা। যেমন এখন ২৬.০৩.২৬ তারিখের সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে দেখাচ্ছে মন্তব্য করেছি ১৮১৮ টি।
হঠাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা পরে একই সংখ্যার সাথে বারবার সম্মুখীন হওয়ার তাৎপর্য কি?
অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই সংখ্যাগুলোর মাধ্যমে অবচেতন মন, মহাবিশ্ব (universe), ঈশ্বর বা আত্মিক শক্তি আমাদের বার্তা পাঠাচ্ছে।
জ্যোতিষশাস্ত্র, নিউ এজ স্পিরিচুয়ালিটি ও অ্যাঞ্জেল নাম্বার-এর ধারণায় সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
উদাহরণস্বরূপ, ১১:১১-কে “জাগরণের সংখ্যা” বা “spiritual awakening”-এর সংকেত বলা হয়।
বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে কার্ল গুস্তাভ ইউং বলেন, সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি আমাদের মানসিক অবস্থা, আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। কখনো কখনো একে “confirmation bias” হিসেবে দেখা হয়—অর্থাৎ, যখন আমরা কোনো কিছু আশা করি বা খুঁজি, তখন সেটি বেশি করে চোখে পড়ে।
সুতরাং সংখ্যার সিঙ্ক্রোনিসিটি হলো — মানসিকভাবে অবশ্যই অর্থপূর্ণ যদিও তা অবচেতন মন জানে,কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সংখ্যার প্যাটার্ন বারবার চোখে পড়া, যা ব্যক্তির কাছে একটি বার্তা, ইঙ্গিত বা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এটি আধুনিক আত্মিক-মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাজগতে এক আকর্ষণীয় ও আলোচিত বিষয়। যারা নিউমারালজি জানেন তারা আরো বেশী উপলব্ধি করেন।
©somewhere in net ltd.