| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাকিব হক ২০১৩
আমি গর্বিত! কারন আমি বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।
আমি যে বাসায় ভাড়া থাকি সে বাসার দরোয়ান থেকে কাজের মেয়ে সবারই কমপক্ষে একটি ফেসবুক একাউন্ট আছে। তার মানে দাড়ায় আমরা ১০০% শিক্ষিত না হলেও আমরা অন্তত নিজেদের ভালোটা খুব ভালোভাবেই বুঝি। আসি আসল কথায়, প্রতি বছর জাতি হিসাবে আমাদের মাঝে একটি করে নতুন ফ্যাশনের জন্ম হয়। যেমন এই ঈদে গেলো তথাকথিত “পাখি” ফ্যাশন। দুঃখ নাই ইহা তো কেবলিই বস্ত্র। যার প্রেমের সুত্রতা ধরে দুই কিশোরী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে। আরেকটি একদম কমন ফ্যাশন, তা হলো “লঞ্চডুবি”।
ঈদের দিন দোস্তের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে উত্তরা যাত্রা করলাম। উত্তরা পৌছানোর পর অনুভব করলাম রাস্তায় কি যেন একটা মিস হয়েছে। কোনমতেই মাথায় খেলতেছেনা, কি মিস হলো। মিনিট পাঁচেক পরে বুঝলাম, “ট্র্যাফিক জ্যাম” মিস হয়েছে। আফসোস! প্রতি রোজায় অফিস থেকে আসার পথে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগত। সেই সময়ে বাসের এক ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা পাওয়া ছিল চরম ভাগ্যের বিষয়। তবে এই বিষয়ে আমার ভাগ্য আমার সাথে বরাবরই সহায় ছিল। কারন একদম শুরুতে বাসে উঠতাম আর নামতাম সবার শেষে। এর মধ্যে আবার কয়েকদিন ১০০% দাড়িয়ে কর্ম সাধন করতে হয়েছে। লক্ষ্যনীয় বিষয় বাসের হেল্পার চিল্লাইয়া গলা ফাটায়া ফেলতেছে, ‘ভাই সিটিং গাড়ি দাঁড়াইয়া লোক নেয়া যাবে না!!!’ কে শোনে কার কথা। বাসের সিঁড়ীতেও জায়গা ফাঁকা নাই। ভাঁড়া কিন্তু সিটিং এরই দিতে হয়। লোকাল বাসের ব্যাপার টা নাহয় নাই বললাম।
যারা লঞ্চে প্রতি ঈদে যাতায়াত করেন তারা তো কমপক্ষে এইটুকু জানেন যে, কোন লঞ্চে জীবনের ঝুঁকি আছে আর কোন লঞ্চে নেই। মানলাম যাত্রী অনেক সেই তুলনায় যান অল্প। আমাদের দেশে যারা যানবাহন ব্যবসার সাথে জড়িত তারা যে যাত্রীর জানমাল নিয়ে মোটেই চিন্তিত না, জাতি হিসেবে এইটুকু তো আমরা বুঝি। তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন এই অনিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে যাত্রা?
উত্তরটা খুবই সহজ, আর তা হলো আমরা খুবই “অস্থির”। যার প্রতিফলন এই ৩০০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি।
“এমএল পিনাক-৬
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ আর সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, লঞ্চটির চলাচল অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, লঞ্চটির জরিপ মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল গত এপ্রিলে। বিশেষ ব্যবস্থায় ৪৫ দিন ‘টোকেন’ নিয়ে চলছিল। টোকেন অনুমোদনের সময়ও পার হয়ে গেছে কিছুদিন আগে। নদী এখন উত্তাল, পদ্মায় ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানো হচ্ছিল। এ অবস্থায় ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ছিল ৫২ ফুট লম্বা (সাড়ে ১৯ মিটার)। তবে এ দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একই ধরনের আরও কয়েকটি লঞ্চ মাওয়া ঘাট ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এই ধরনের লঞ্চে দিনে ৮৫ জন আর রাতে ৭৫ জনের অধিক যাত্রী পরিবহন ছিল নিষিদ্ধ। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী লঞ্চে কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ যাত্রী ছিল।”
যাত্রী বেশি নিলে তো যানবাহনের মালিকেরই লাভ। অন্যদের কথা নাহয় নাই বললাম। আমরা যাত্রীরাই তো মূলত দোষী। জানা সত্ত্বেও কেন পা দিলাম মরণফাঁদে। হতো নাহয় একদিন ক্লাস বা অফিস মিস। তাতে কি! জীবনটা তো বাঁচত।
প্রতি ঈদে ব্রেকিং নিউজে যদি লঞ্চডুবির খবরটি না আসে, তাহলে হয়ত মনের মধ্যে খুতখুতি থেকে যাবে যে, এই ঈদে বিশেষ কি যেন একটা মিস হয়েছে!!!
©somewhere in net ltd.