| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নিকুঞ্জ চৌদ্দ নম্বর রোডের এক কিনারে গরম গরম তৈলের পিঠা বানাচ্ছিলেন এক মহিলা । বেঞ্চি দেয়া আছে , ওখানটায় বসে একটা পিঠা নিলাম । বেশ শক্ত লাগলো, বুঝতে পারলাম পিঠা গুলো আতপ চালের তৈরি । কিছুদিন আগে আম্মা বাসায় একবার আটা দিয়ে তৈলের পিঠা বানিয়েছিলেন, ওগুলা খেতে অনেক মোলায়েম লাগছিলো তাছাড়া পরের দিন পর্যন্ত নরম ছিলো, অথচ আতপ চাওলের পিঠা গুলো অল্প সময়ের পরই শক্ত হয়ে যায় । আমি তখন আব্বাকে জিজ্ঞাসা করলাম,"আচ্ছা আব্বা , আটা রেখে সবাই কেন তাহলে আতপ চাল দিয়ে পিঠা বানায়" । আব্বা কিছু বলতে পারলেন না । আমার ইচ্ছা হলো এই চাচীকে বলি,"চাচী, আপনি আটা দিয়ে পিঠা বানিয়ে দেখবেন, সবাই আপনার পিঠা খেয়ে যেমন তৃপ্তি পাবে তেমনি অনেক সময় ধরে আপনি মোলায়েম পিঠা বিক্রি করতে পারবেন ।"
আমারা ভাবনার জগতে এবার ছেদ পড়লো । তড়িৎ বেগে একটা রিক্সা এসে থামলো সেখানটায় । রিক্সাওয়ালার নাম দিলাম আলম মিয়া । ছল ছল চোখ আর খোঁচা খোঁচা দাড়ি লোকটার,পাঁচ টাকার দুটা কয়েন দিয়ে দুটা পিঠা কিনলেন এবং কাগজে পেঁচিয়ে সেটা লুঙ্গীর কোঁচরে রেখে রিক্সা চালিয়ে চলে গেলেন । পাঁচ টাকার দুটা কয়েন যেন আমার কাছে লোকটার দারিদ্রতাকে আরও প্রকট করে তুলেছিলো ।
এবার আমার কল্পনার রাজ্যে আবারো পট পরিবর্তন দেখা দিলো । সতেরো নম্বর রোডের পর একটা বস্তি আছে । ওখানের এক কোনে ছোট্ট একটা কুটিরে জুলেখা নামের অল্প বয়স্ক একটা মেয়ে আলম মিয়ার পথ চেয়ে বসে আছে ।
আচ্ছা, সারাদিন শেষে ক্লান্ত ক্ষুধা নিয়ে কুপির আবছা আলোর ছোট্ট কুটিরে প্রিয় মানুষটার সাথে বসে তৈলের পিঠা খেতে কেমন লাগবে আলম মিয়ার ???
আমার সেই পিঠার স্বাদ পাবার প্রচন্ড লোভ হলো ।
ইশ, আমি যদি রিক্সাওয়ালা হতাম !!!!!
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪২
ইদানীং জাহিদ বলেছেন: দেখে ফেলার ভয় ছিলো ।। @ইষ্টিকুটুম
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৩
ইষ্টিকুটুম বলেছেন: রিকশাওয়ালা না হয়ে রিকশাওয়ালার সাথে গিয়ে পিঠা খাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করতে পারতেন।
ভালো লাগলো।