| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২০০৪ সাল -
যার কথা বলছি ধরে নেই তার নাম সুমন । পঞ্চম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত একটি ছেলে । তার প্রধান এবং একমাত্র কাজ হল বাবার কাছে রোচে,ম্যাক্সরাইটার,সেলো,মনটেক্স ইত্যাদি কোম্পানির স্টিল বডির কলম চাওয়া এবং আদায় করে ছাড়া । উদ্দেশ্য - পেনফাইট টুরনামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া । এটা ছাড়াও তার কাজের তালিকায় আছে পাশের মুনমুন আপুদের দরজায় ম+র লেখা । রাকিব নামে এক বড় ভাই এই কাজের জন্য তাকে প্রত্যহ ইগলুর কোন আইসক্রিম খাওয়ায় ।
সারা বছর শেষে অক্টোবর মাসে যখন স্কুলের থার্ড টার্ম শেষ হয়ে গেল , তখন সুমনের মোটামুটি আর কিছুই করার থাকলো না । তাদের ক্লাসের অনেকেই বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা কোচিঙে ভরতি হল কিন্তু সুমন তখন বড় ভাইদের ব্যাডমিন্টনের কোর্ট কাটায় সাহায্য করায় ব্যস্ত- বলা তো যায়না,তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যদি কোনো ভাই তাকে মিনিট দশেকের জন্য খেলতে দেয় !
বছর শেষে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল ।
সুমনের ক্লাসের প্রথম সারির ১৩ জন ছাত্র ছাত্রী বৃত্তি পেল । সুমন, রাসেল, আহনাফ,মিথিলা,ইরেশ,রুপম,রাখি - এরা সবাই মিলে বৃত্তি পাওয়া ১৩ জনকে " দুধভাত" আখ্যা দিল এবং তাদের স্কুল আয়োজিত পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে "দুধভাত" "দুধভাত" করে চেচাতে চেচাতে অস্থির করে ছাড়ল ।
২০০৫ সালের জানুয়ারি তে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৩ জন সহ ক্লাসের সকলেই ( খালি রতন ছাড়া , ও অন্য স্কুলে চলে গিয়েছিল ) ষষ্ঠ শ্রেনীতে পদার্পণ করলো ।
২০১২ সাল -
অর্ক রাজধানীর সেরা একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র । তার প্রি টেস্ট এক্সাম চলছে । প্রিটেস্ট এক্সাম হল এমন একটা এক্সাম যেটা দ্বারা টেস্ট এক্সামের জন্য একটা ছাত্র/ছাত্রী কতখানি যোগ্য তা নির্ণয় করা হয় । আর টেস্ট এক্সাম হল এমন একটি এক্সাম যেটা দ্বারা একজন ছাত্র/ছাত্রী পিএসসি এঁর জন্য কতখানি প্রস্তুত তা যাচাই করা হয় - পিতা মারফত এই তথ্যটুকু জানে অর্ক । তাই সে খুবই মন দিয়ে লেখাপড়া করছে । সকালে সে পরীক্ষা দিতে যায় । এসে গোসল করার আগে আগে আগামিদিনের রুটিন টা মিলিয়ে দেখে, গোসল থেকে ফিরে রুটিনের পরীক্ষার বই পত্র গুলো সাজিয়ে রাখে টেবিলে । ভাত খেয়ে এসে রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরে । তার ২-৩ টে কোচিং থাকে প্রতিদিন । যাওয়ার পথে মাঠে বস্তির কিছু ছেলেকে কাদায় গড়িয়ে গড়িয়ে খুব একচোট ফুটবল খেলতে দেখে সে । এই সময় তার মনে একটা আজগুবি ভাবনার উদয় হয় । ইশশ যদি সেও ওরকম খেলতে পারতো ! পরক্ষনেই এইসব অদ্ভুত চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে সে । কোচিং সেরে বাসায় এসে কোনোমতে নাকেমুখে কিছু গুজে দুপুরে সাজিয়ে রাখা বইয়ের ঢিবির ওপর হামলে পরে । তাকে প্রিটেস্টে ভালো ফল করতে হবে, তা নাহলে সে টেস্ট দিতে পারবেনা, আর টেস্ট দিতে না পারলে ...... ওহ ! আর ভাবতেই পারেনা অর্ক ।
অর্কর মত অবস্থা এখন তার বয়সী প্রায় সকল ছাত্র/ছাত্রীরই । ছোট্ট কাঁধে পাহাড়সম চাপ । যে বয়সে তাদের ঘরে বসে মিনা কার্টুন, সিসিমপুর দেখার কথা সে বয়সে তাদের হিসেব করতে হচ্ছে কত থেকে কত পেলে এ প্লাস পাওয়া যাবে । কত নাম্বার তুলতে পারলে বৃত্তি পাওয়া যাবে এই সেই ।
যে বয়সটা জীবনকে দেখতে শেখার, নিজের চারপাশের সাথে পরিচিত হওয়ার, নিজের অনুভুতিগুলোর তীব্রতা অনুভব করার, মুক্ত আকাশে প্রান ভরে শ্বাস নেয়ার , সেই বয়সে এসব কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর উপরে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বিভীষিকাময় পিএসসি পরীক্ষা ।
বলা হচ্ছে শিক্ষা ব্যাবস্থার আধুনিকীকরণ এ এঁর কোনো বিকল্প নেই । শিক্ষা কাঠামো পরিবরতন করার মাধ্যমেই একমাত্র দেশের সিক্ষাব্যাবস্থা কে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ।
কিন্তু এই শিক্ষা ব্যাবস্থা আধুনিক করতে যেয়ে কি উলটো ছেলেপেলেদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে না ?? কয়েকটা বিশয় আলোচনা করা যাক ।
১/ চাপঃ-
মানেন আর নাই মানেন, এই বয়সে সকল ছাত্রছাত্রী একটা বোর্ড পরীক্ষা দেয়ার চাপ নেয়ার মত ক্ষমতা রাখে না ।
অনেকেই যুক্তি দেখাবেন, " আগে তো বৃত্তি পরীক্ষা হত, সেটা কি? " ।
কিন্তু কথা হল , বৃত্তি পরীক্ষায় সবাই অংশ নিত না । গুটিকয়েক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করত । এবং তারাই অংশ নিত যারা স্কুলের আগের পরীক্ষা গুলোতে সবার চাইতে ভালো ফলাফল করেছে । তার মানে তারা বড় একটা পরীক্ষা দেয়ার উপযুক্ত ।
আবার বৃত্তি পরীক্ষায় পাশ-ফেলের কোনো ব্যাপার ছিলো না। কিন্তু এই পরীক্ষায় তা থাকছে। সুতরাং এই চাপ সামাল দিতে না পেরে অনেক ছাত্র ছাত্রীই মুষড়ে পরে এবং ফলশ্রুতিতে আমরা আত্মহত্যার ঘটনাও শুনেছি ।
২/ বৈষম্যঃ-
প্রথমদিকে গ্রেডিং সিস্টেমের বদলে ডিভিশন সিস্টেম চালু ছিলো পিএসসি তে । পরবর্তীতে গ্রেডিং সিস্টেম চালু হয় ।
আচ্ছা ভালো কথা গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা হবে, নামের পাশে এ প্লাস থাকবে - রাজকিয় ব্যাপার !
কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি যে গ্রেডিং সিস্টেম জিনিসটা কি পরিমান বৈষম্য সৃষ্টি করে ??
একটা বৃত্তি প্রাপ্ত ছেলে আর একটা বৃত্তি না পাওয়া ছেলের মধ্যে তফাৎ করা হত কতটুকু ? বড়জোর বৃত্তি প্রাপ্ত ছেলেটি সুশীল সমাজ কর্তৃক সমাদৃত হত, সরকারের কাছ থেকে কিছু পকেটমানিও পেত । এইই ।
কিন্তু একটা ৫ পাওয়া ছেলে আর ৪ দশমিক ৬ পাওয়া ছেলের তফাৎ জানেন ????
জীবন আর মরন । হ্যাঁ । যেখানে ৫ পাওয়া ছেলেটি আনন্দের আতিশায্যে কক্সেস বাজার বেড়াতে যাচ্ছে অন্যদিকে তার থেকে দশমিক ৪০ কম পাওয়া ছেলেটি হতাশায় আত্মহত্যার মত পথ বেছে নিচ্ছে ।
এই হল আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা । যেখানে এ প্লাস প্রাপ্ত ছাত্র সংখ্যা বাড়ানোই থাকে শিক্ষানীতির মুল উদ্দেশ্য ।
এক কাজ করা যায়না ? জন্মানোর পরপরই বাচ্চাদের কপালে স্টিকার লাগানো হোক । যেখানে লেখা থাকবে , " হে মনুষ্য সন্তান ! তোমার পিতামাতা তোমাকে জন্ম দিয়েছে এ প্লাস পাবার জন্য । এখন তোমার পশ্চাৎ দেশে থাপ্পর মেরে ডাক্তারি শাস্ত্র অনুযায়ী তোমাকে কাঁদানো হবে । ৪ থাপ্পরের মধ্যে কাদতে পারলে এ প্লাস । এ প্লাস পেলে পরীক্ষায় পাস করবে, না হলে জীবনের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগই দেয়া হবেনা ! "
২|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৫৩
মাক্স বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন++
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৩৭
জাফরুল্লাহেল মামুন বলেছেন: ধন্যবাদ মাক্স ভাই ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:০০
রাতজাগাপাখি বলেছেন: kintu bhai... ei shikkha bebosthay manush shikhche ki etai amar ashol proshno... durbhaggokrome ami ekta beshorkari biswabiddhalaye shikkhokota kori... 12 pass chele meye ra eto kom gyan niye ki kore bhorti hoy ami bujhe paina... khatay kichu na likhe era nomborer jonno chillay... baba maa porjonto ashe shuparish niye... ki jomanay bash korchi bujhe paina...