নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইকার এর নিঃসঙ্গ বচন

জাফরুল্লাহেল মামুন

আমি একজন মানুষ । দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ , একটি মাথা আছে। মাথার ওপরে খুলির ভেতরে মগজ সবল্পতার কারনে আমি পদে পদে ভিড়মি খাই । খেতে খেতে একটা ভয় ধরে গেছে । এখন পা ফেলতে সাবধানে ফেলি ।

জাফরুল্লাহেল মামুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অমর একুশে বইমেলাঃ যাকে মনে পড়ছে এসময়টায়

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৪০

প্রথম যেবার অমর একুশে বইমেলাতে যাই তখন আমার বয়স ৮ বছর । তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ি । আমার ছোটচাচা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র । একদিন এসে বলল, চল তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাই - সেখানে অনেক বই পাওয়া যায় ।

সেই সময়টাতে নতুন নতুন বইপত্র পড়া শুরু করেছি । কদিন আগেই মুহম্মদ জাফর ইকবালের "যারা বায়োবট" আর "টুকি ও ঝায়ের প্রায় দুঃসাহসিক অভিযান" পড়ে রক্ত গরম হয়ে আছে - এরকম একটা সময়ে ছোটচাচার এরকম প্রস্তাব শুনে পুরো লোম দাঁড়িয়ে গেল । আমি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম ।



ঘটনাটা ২০০২ সালের । সেই বছর আমি প্রথমবার একুশে বইমেলায় গিয়েছিলাম এবং বইমেলার সাথে আমার যে আত্মিক একটা বন্ধন তৈরী হয়েছিল , এত বছর পরে এসেও সেটা এখনো বিদ্যমান ।

তৃতীয় শ্রেণীর গণ্ডি পেরিয়ে আমি চতুর্থ,পঞ্চম, ষষ্ঠ - এভাবে আরো উচু ক্লাসে উঠেছি - আর তার সাথে সাথে আমার পড়ার রুচিও বদলেছে । মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন-কিশোর উপন্যাস , শাহরিয়ার কবিরের ছোটদের গল্প - এগুলোর গন্ডি পেরিয়ে হুমায়ুন আহমেদ,শীর্ষেন্দু মুখাপাধ্যায়,সত্যজিৎ রায় এবং একসময় রবীন্দ্র সাহিত্য,মানিক-শরত এ ঘুরপাক খেয়েছি ।

কিন্তু যে মানুষটির বই এবং একুশে বইমেলা - আমার কাছে একই সুত্রে গাঁথা ছিল এ'কছর - তাঁর নাম "হুমায়ুন আহমেদ" ।



ছোটগল্প বলুন,উপন্যাস বলুন কিংবা অপন্যাস - "প্লটবিহীন" একটা জিনিস ও যে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সেটা হুমায়ুন সাহিত্য থেকেই প্রথম দেখেছি । তাঁর বর্ণনার সারল্য - যেটা তাঁর ট্রেডমার্ক বলে পরিচিত সেই জিনিসটা এত সরল হয়েও কিভাবে এত হৃদয়স্পর্শী হতে পারে সেটাও বুঝে উঠতে পারিনি কখনো । মানিক বন্দোপাধ্যায় এর পর বাংলা সাহিত্যের সার্থক যাদুবাস্তবতার প্রয়োগ তিনি করেছেন । নিজে পলিমার কেমিস্ট্রির উপরে ডক্টরেট করেছেন অথচ তাঁর শেষদিকের বই "বলপয়েন্ট" "কাঠপেন্সিল" "ফাউন্টেনপেন" ইত্যাদিতে লিখেছেন "সুফিবাদ" "পরকাল" "আত্মা" ইত্যাদি গণ্ডিবিহীন বিষয় নিয়ে ।

৭০ পরবর্তী সময়ে "বাংলা সাহিত্যের পাঠক" - এরকম একটা প্রজন্ম তৈরীতে তাঁর অবদান সবচে বেশী । যারা তাকে "বাজারি লেখক" "সস্তা লেখক" ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করে খোজ নিয়ে দেখবেন তাদের নিজেদের ঘরেও হুমায়ন আহমেদের ডজনখানেক বই আছে । এই যে সাহিত্যমুখী পাঠক সমাজ,যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের লেখন সমরেশ মজুমদার আফসোস করে বলেছিলেন, " যখন আমাদের কোলকাতায় আমরা অনেক পরিচিতি পেয়েও আমাদের এক মুদ্রনে দশ হাজারের বেশি বই বের করতে ভয় হয়, সেখানে বাংলাদেশের এক লোক, আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও প্রথম মুদ্রনে কমসে কম ৭০-৮০ হাজার বই বের করেও কুলিয়ে সারতে পারতেন না । তাঁর নাম হুমায়ুন আহমেদ । "



সেই হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া প্রথম বইমেলা শুরু হয়েছে, মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে তাঁর নামে । উপর থেকে তাকিয়ে নিশ্চয়ই দেখছেন স্যার আর মিটিমিটি হাসছেন ।

যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন স্যার । খুব বেশী ভালো থাকুন ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.