নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইকার এর নিঃসঙ্গ বচন

জাফরুল্লাহেল মামুন

আমি একজন মানুষ । দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ , একটি মাথা আছে। মাথার ওপরে খুলির ভেতরে মগজ সবল্পতার কারনে আমি পদে পদে ভিড়মি খাই । খেতে খেতে একটা ভয় ধরে গেছে । এখন পা ফেলতে সাবধানে ফেলি ।

জাফরুল্লাহেল মামুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ওয়ানডে সিরিজঃ প্রিয় ফরম্যাটই টার্গেট

২২ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৪৮

গল টেস্টের সাফল্যটি আসলে অভাবনীয় । এর সাথে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকরা পরিচিত নন । বছরের বছর ধরে আমরা দেখে আসছি বাংলাদেশকে প্রায় প্রতিটি টেস্টেই ওয়ানডে এটিচিউড শো করে ধুমধাম উইকেট ছেড়ে দিয়ে আসতে । কিছু ব্যাতিক্রম আছে যদিও । তাই গল টেস্টে যখন আশরাফুল ১৯০ আর মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেন , আমরা বাঙালিরা বেকুব সেজে হাততালি দেই । উল্লাসে মাতি । সাথে নাসিরও যখন সেঞ্চুরি হাকান , শিটি বাজিয়ে উঠি । গল টেস্ট শেষে যে জিনিসটি কমবেশি সকলেই মেনে নিচ্ছিলেন সেটি হল - এতদিনে টেস্ট খেলার মত একটি এটিচিউড তৈরী হয়েছে খেলোয়াড়দের । অবশ্য এই এটিচিউডটি না থাকার কারনও ছিল । আইসিসি প্রদত্ত শিডিউলে বাংলাদেশ ওয়ানডে-টি২০ যতটা খেলার সুযোগ পায় , ঠিক ততটাই বঞ্চিত হয় টেস্ট খেলার সুযোগ থেকে । তাই টেস্ট খেলার যে মনোভাব সেটি আসবে কোত্থেকে ? তাই গলে এমন পারফরমেন্সের পর সকলের প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে উঠে গিয়েছিল । কলম্বো টেস্টকে ঘিরে তৈরী হয়েছিল আরেক প্রত্যাশার সমুদ্র । কিন্তু এখানেই সমস্যা । বাংলাদেশের টাইগাররা এমনই "আনপ্রেডিক্টেবল", যে তারা সবসময় আপনি যা আন্দাজ করবেন, তার বিপরীত কিছু একটা করে দেখাবে । তাই কলম্বো টেস্টে যখন বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হেরে গেল - আমরা , বাংলাদেশের সমর্থকরা খুব একটা অবাক হলাম না । এটাই তো স্বাভাবিক , এটাই তো হয়ে আসছে সেই কবে থেকে ।



কিন্তু ফরম্যাট যখন ওয়ানডে , তখন কিন্তু সমর্থকদের দাবী ভিন্ন । প্রতিপক্ষ যেই হউক, ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে - এরকম আশাই আজকাল আমরা করার মত সাহস পেয়ে গিয়েছি । হরদম ওয়ানডে ম্যাচ জেতাটা বাংলাদেশ দলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । পরিসংখ্যান ও তাই বলে । গত ৯ টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে ৫ টিই জিতেছে বাংলাদেশ । এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার সাথে খেলা ১টি ম্যাচে একটি জয় । সুতরাং নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক কিছু চিন্তা করাটা আজকাল "আকাস কুসুম" নয় । একই কারনে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ যখন বলেন, " ওয়ানডে সিরিজ জেতাটা টেস্ট সিরিজ জেতার থেকেও কঠিন হবে । " তখন সেটিকে আর নিছক সৌজন্য বলে মনে হয়না । সাকিবকে ছাড়া এশিয়া কাপে দুর্দান্ত সাফল্যে এবং গল টেস্টের নৈপুন্যে পরিস্থিতি এতটাই পালটে গিয়েছে যে, ম্যাচ পরবর্তী প্রেস কনফারেন্স কিংবা অন্য কোনো জায়গায় "সাকিব-বিহীন" বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে কি হতে পারে - সেটি নিয়ে কোনো কথাই হল নাহ ! অবশ্য চিন্তা করার কথাও না । যদিও সাকিব না থাকা মানে ১ জন ব্যাটসম্যান + ১ জন বোলার কম থাকা, কিন্তু তাতে "টিম বাংলাদেশ" এর সমস্যা হচ্ছে না । অধিনায়ক নিজে রানে আছেন । নাফিসের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া আশরাফুল অনেকদিন পর স্বরূপে ফিরেছেন । মিডল অর্ডারে মমিনুল রান করে দিচ্ছেন, সাথে তামিমের অন্তর্ভুক্তিও আলাদা প্রেরণা বাংলাদেশের জন্য । আর ২য় টেস্টের ২য় ইনিংস বাদ দিলে ইদানিং বাংলাদেশ দলের "মিঃডিপেন্ডেবল" হয়ে ওঠা নাসির হোসেন তো রীতিমত দুর্ধর্ষ ফর্মে আছেন । সুতরাং আর কি দরকার ? সাথে বোনাস হিসেবে ব্যাটসম্যানদের পাওয়া, ওয়ানডে সিরিজে থাকছেন না টেস্ট সিরিজে ব্যাটসম্যানদের যম হয়ে ওঠা রঙ্গনা হেরাথ ।

তবে আসল কথা হল , আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা বাংলাদেশ দলকে এই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে মাঠে পারফর্ম করতে হবে । কাগজে কলমে অনেক পরিসংখ্যানই দেখানো যায় , বাস্তবে তার রূপ দেয়াটা বেশ কঠিন । সেই কঠিন কাজটিই যদি করে দেখাতে পারেন মুশফিক-আশরাফুলরা , তাহলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাটা দোষের কিছু নয় মোটেও !







বাংলাদেশ - শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে সিরিজ ফিকশ্চার -



প্রথম ওয়ানডে - ২৩ মার্চ - হাম্বানটোটা

দ্বিতীয় ওয়ানডে -২৫ মার্চ - হাম্বানটোটা

তৃতীয় ওয়ানডে - ২৮ মার্চ - পাল্লেকেল্লে

মন্তব্য ১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:২২

অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: কিন্তু ফরম্যাট যখন ওয়ানডে , তখন কিন্তু সমর্থকদের দাবী ভিন্ন । প্রতিপক্ষ যেই হউক, ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে - এরকম আশাই আজকাল আমরা করার মত সাহস পেয়ে গিয়েছি

এটাই আসল কথা ! এখন ভালো খেলে আর সম্মানজনক পরাজয়ের জন্য বাংলাদেশ টিম খেলে না। টেস্টেও এই অভ্যাস তৈরী হবে নিয়মিত সুযোগ পেলে ।

শুভরাত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.