| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহল তরকারি
আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।
বিশেষ গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের প্যাকেজে রাজতন্ত্র!
পৃথিবীতে একসময় একটি দেশ ছিল, যেখানে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাজাই ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। রাজার কথাই ছিল আইন, তাঁর সিদ্ধান্তই ছিল রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত।
সেই দেশের রাজার নাম ছিল নাহল তরকারি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। আমেরিকার ষড়যন্ত্র, জনগণের অসন্তোষ এবং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ রাজা নাহল তরকারিকে ভাবিয়ে তুলল। তিনি বুঝতে পারলেন, এভাবে আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়।
রাজা নাহল তরকারির আপন দুই ভাই ছিলেন সৈয়দ কুতুব ও স্বপ্নের শঙ্খচিল।
একদিন তিন ভাই গোপন বৈঠকে বসলেন। আলোচনার বিষয় ছিল একটাই—কীভাবে ক্ষমতা নিজেদের পরিবারের হাতে রাখা যায়?
রাজা নাহল তরকারি বললেন,
“দরকার হলে সিংহাসন ছেড়ে দেব। প্রয়োজনে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটাব। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, রাষ্ট্রক্ষমতা যেন আমাদের পরিবারের বাইরে না যায়।”
তখন সৈয়দ কুতুব একটি অভিনব প্রস্তাব দিলেন।
তিনি বললেন,
“চলুন, আমরা গণতন্ত্রের পথে যাই। একটি রাজনৈতিক দল গঠন করি। জনগণ ভোট দিয়ে যাকে নির্বাচিত করবে, সেই দেশ পরিচালনা করবে।”
কথাটি শুনে স্বপ্নের শঙ্খচিল কিছুটা চিন্তিত হয়ে বললেন,
“কিন্তু তাতে তো ক্ষমতা আমাদের পরিবারের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে!”
সৈয়দ কুতুব মুচকি হেসে বললেন,
“সেটারও ব্যবস্থা আছে। রাজনৈতিক দলটি হবে আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। আমরা মারা গেলে আমাদের সন্তান, স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে আমাদের পরিবারের বাইরে কাউকে দলের সভাপতি হিসেবে মেনে নেওয়ার চিন্তাও তারা না করে।”
তিন ভাইয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেল।
অবশেষে রাজতন্ত্রের পতন হলো। দেশে প্রতিষ্ঠিত হলো গণতন্ত্র। গঠিত হলো রাজনৈতিক দল। জনগণের সামনে ঘোষণা দেওয়া হলো—এখন থেকে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে রাষ্ট্রের শাসক।
শুরু হলো গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়।
প্রথম নির্বাচনে স্বপ্নের শঙ্খচিল ও সৈয়দ কুতুবের দল ক্ষমতায় এল। পরবর্তী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হলেন নাহল তরকারি। এভাবেই নির্বাচনী কৌশল, ক্ষমতার সমঝোতা এবং নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে পালাক্রমে তিন ভাই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকলেন।
জনগণ ভাবল, তারা গণতন্ত্র পেয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার প্রকৃত মালিকানা রয়ে গেল সেই তিন ভাইয়ের হাতেই।
একসময় রাজা নাহল তরকারি মারা গেলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দলের সভাপতি হলেন তাঁরই ছেলে তমুক। অন্যদিকে সৈয়দ কুতুবের মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা বেগম।
অর্থাৎ রাজা নেই, রাজসিংহাসনও নেই। কিন্তু রাজপরিবার ঠিকই আছে। শুধু সিংহাসনের নাম পরিবর্তন হয়ে হয়েছে রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদ।
এখন জনগণ ভোট দেয়, নির্বাচন হয়, সরকার পরিবর্তনের নাটক মঞ্চস্থ হয়। কিন্তু ক্ষমতার বলয় ঘুরেফিরে একই পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
এটাই হলো বিশেষ গণতন্ত্র!
এখানে রাজতন্ত্রের মতো বংশপরম্পরায় সরাসরি রাজা হওয়া যায় না। হতে হয় দলের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। পার্থক্য শুধু নামের, ক্ষমতার কাঠামোর নয়।
সব দেশে এমন ব্যবস্থা নেই। তবে কিছু কিছু দেশে গণতন্ত্রের আবরণে পারিবারিক রাজনৈতিক আধিপত্য ঠিক এভাবেই টিকে থাকে।
**রাজতন্ত্রে রাজা উত্তরাধিকার সূত্রে সিংহাসন পান, আর বিশেষ গণতন্ত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব।**
সিংহাসন বদলে যায়, রাজমুকুট হারিয়ে যায়, কিন্তু রাজপরিবারের শাসন শেষ হয় না!
২|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার গল্পটা বাস্তবের সাথে মিল আছে ।
৩|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩
নতুন বলেছেন: আমাদের দেশের জনগন নিজেদের ধান্দার সুবিধার জন্যই ঐ সব পরিবারের সমর্থন করে, তাদের পক্ষে দূনিতি করে, মানুষ হত্যায়ও দ্বিধা বোধ করেনা। তারাই ঐ সব দলের নেতা হয়।
এই দেশে এই রকমের ধান্দাবাজেরাই গ্রাম. উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে রাজনিতির সাথে যুক্ত। তাই পরিবার তন্ত্র বন্ধ হবেনা, জনগন কখনোই ভোটের অধিকার ফিরে পাবেনা, কিছু দুস্ট রাজনিতিকদের হাতেই বন্ধি থাকবে। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রাজা নাহল তরকারির আপন দুই ভাই ছিলেন সৈয়দ কুতুব ও স্বপ্নের শঙ্খচিল।
.............................................................................................................
বর্তমান চলমান ঘটনা সকলের জানা,
তাই জেন- জি,রা মেনে নেবেনা , তাছাড়া আমি ক্ষমতা বা রাজনীতি পসন্দ করিনা ,
সে কারনে অনেক কাছে থেকে বড় তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে ।
যাকে সৎ ও মেধাবী বলে সম্মান করতাম, মন থেকে ভক্তি করতাম
ক্ষমতায় যাবার পর কেমন জানি তার আচরন ধীরে ধীরে পাল্টে যায় ।
====================================================
পাগলা ট্রাম্পকে আমি যতই অপসন্দ করিনা কেন, এবার নির্বাচনে হেরে সে সংযত
আচরন করেছে ।এমনতর অভূত বিজয়ের পরও রিপাবলিক্যানদের ঘড় বাড়ী ভাংয়ার চেষ্টা
দেখি নাই ।
উপসংহার হলো গনতন্ত্র সবচেয়ে ভালো যদি প্রশাসন সঠিক পথে চলে এবং
জনগন গনতন্ত্র কি বিষয় তা পালনে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ।