নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অচেনা পথিক

ইকবাল ইবনে মালেক

ইকবাল ইবনে মালেক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেলদার চোখের জলে বিশ্বকাপ

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৩১

সকলের অনেক দাদা থাকে। এই ধরুন বড়দা, মেজদা, ছোটদা, এইদা সেইদা আরও কত দা। আমার আছে বেলদা। দাদার মাঝবয়সী লোক। সভাব চরিত্র সবই ভালো তবে একটা বিশেষ গুন রয়েছে। তাই বেলদা সবসময় গুনে গুণান্বিত হতে চান, প্রশংসাটা নিজের ঝুড়িতে রাখতে ভালবাসে। সর্ব মহলে নিজেকে আলোচনা সমলোচনার মধ্যে রাখতে দাদা খুব পছন্দ করে। তাইতো বেলদা সর্বদা নিজেকে কাজে কর্মে ব্যস্ত রাখেন। এবার দাদার গুন সম্পর্কে একটু বলে রাখি, দাদার মহাগুনটা হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে জয় লাভ করা। দিনক্ষণ ঠিক করে বলতে পারব না কবে দাদা জয় লাভ করেছিলেন। তবে দাদা যে রীতিমত হারেন এটা আমার কাছে যথাযথ প্রমাণ রয়েছে।



একবার আমি বলদার সঙ্গে শপিং করে মার্কেটে গিয়েছিলাম। দাদা ফিক্স রেটের দোকানে ঢুকে দাম নিয়ে যে তর্ক বিতর্ক শুরু করেছে একবারে সংসদে ঝগড়ার মতো। শেষ পর্যায়ে দোকানদার তার কর্মচারী দিয়ে যে আপ্যায়ন করেছেন তা এখনো ভুলতে পারিনি। দাদার নাকি এখনও মাঝে মাঝে গলা ব্যাথা করে। যাহোক সেদিন আর শপিং করা হল না। আমি কোনোভাবে আমার সম্মান নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম।



কিছুদিন পর বেলদা ফোন করে ডেকে নিয়ে গিলেন আমাকে নিয়ে ঘুরবেন। যেই কথা সেই কাজ, ঘুরার জন্য দু’জনে লোকাল বাসে উঠলাম। গাড়িতে উঠে হঠাৎ দাদা সীদ্ধান্ত নিলেন ড্রাইভারের পাশে খালি সিটে বসবেন। আমি অনেকবার বুঝালাম যে এখানে বসাটা উচিত নয়। কে শুনে কার কথা। দাদা বসলেন তো বসলেন। এমনকি মহিলা আসার পরও দাদা সিট ছাড়তে রাজি নয়। অবশেষে দাদা মহিলাদের চরম পরশে সিক্ত হয়েছেন এবং সিট ছেড়েছেন। সেই থেকে বেলদা একটু নারী বিরোধী।



বেশ কিছুদিন দাদার মন খারাপ অতিক্রম করার পর জোড় করে দাদাকে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। দূর্ভাগ্যক্রমে দাদার পাশের সিটে একজন রমণী এসে বসে। দাদাতো তেলে বেগুন। সাথে সাথে দাদা জোড়ালোভাবে আপত্তি জানান। মহিলাটিও নাছোড়বান্দা। বেলদার দাবী উপেক্ষা করে দাদার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। এভাবে বসা না বসে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তর্ক প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে দাদার বেশি ক্ষতি হয়নি। শুধু হল ধোলাই এর সম্মুখীন হয়েছেন।



ফুটবল বিশ্বকাপে পুরো বিশ্ব কাঁপে। দাদা কাঁপবেন না তা কি হয়। এবার বিশ্বকাপের মহাউৎসবে বেলদা বেশ খুশি। ব্রাজিল দাদার খুব প্রিয় দল। তাইতো ব্রাজিলকে নিয়ে দাদার নানান আয়োজন। ব্রাজিলের খেলার সময় দাদার বাসায় খাবারের আয়োজন বসে। মনে হয় যেন বিয়ে বাড়ি। গরু, খাসি, মুরগী, চিংড়ি, পোলাও সব থাকে খাবার টেবিল জুড়ে। যার যেটি ইচ্ছে স্বাধীনভাবে সে সেটা খায়। পাকটা খুব মজা হয় কারন বেলদা বাবুর্চির ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগদান করেছেন। দাদা অতি উৎসাহী বিশেষ করে ফুটবল খেলার প্রতি। তাই খেলা শেষে ব্রাজিলের সৌজন্যে দাদার পক্ষ থেকে মিছিল বাহির করেন। মিছিলে ব্যান্ড পার্টি থাকে। ব্রাজিলের পাশাপাশি অনেকে দাদার নামে স্লোগান ধরেন- “বেলদা তুমি এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে রাজপথ। এতে বেলদা বেশ খুশি হন।



বিশ্বকাপের আগমনে বেলদা নিজেকে সাজিয়েছেন ব্রাজিলের রঙে। তাই বাড়ির দেয়ালের রঙটা করেছেন ব্রাজিলের পতাকার রঙে, গাড়িটা ঠিক। পোশাকটা কিন্তু এখন ব্রাজিলের জার্সি। দাদা বাড়ি গাড়ি সব ফাল্টিয়েছেন। শুধু পারেননি বৌকে পাল্টাতে। বুঝতে পারছেন ভাবীসাহেবা কোন দলের লোক।



যাক সে দিকে না যায়। বেলদার এখন খেলাটা হচ্ছে সব তাও আবার ব্রাজিল। ব্রাজিলের সমর্থকরা যাতে সবসময় তর্কে বিজয় লাভ করতে পারেন সেজন্য বেলদা নিয়োগ করেছেন বিশেষ ফোর্স পাড়ায়-মহল্লায়। আর গোলের মুহূর্তে যাতে ভূকম্পানো তালি হয় এজন্য বিশেষ তালিবাজ এনেছেন। এদের সবাইকে বেলদা যথাযথ সম্মাননা দিয়ে থাকেন। বেলদার সব আয়োজন সব ঠিক চলছিল। আমরাও আশাবাদী ছিলাম অনেক দিন পর অবশেষে বেলদা জয়ের মুখ দেখবেন। কিন্তু না সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপর্যয়ে বেলদা দিশেহারা হয়ে পড়েন। একে একে সাত সাতটা গোল!!! এতে বেলদা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় একটা গোলেও তালিবাজেরা তালি দিতে পারেনি। তর্কবিদেরা তর্ক করতে পারেনি। সবাই কান্নার সুরে হাউমাউ করে কেঁদেছে। আহা! এ যেন গোলের সুনামি বয়ে গেল। আর মুহূর্তে বেলদার বাসার ডাস্টবিনের ঝুড়ি টিস্যু দিয়ে ভরে গেল। পুরো বাড়িটাকে বেদনার ছায়ায় গিরে ধরল.........

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.