| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ই্শতিয়াক
মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপক হিসাবে কাজ করছি । পছন্দ করি ইন্টারনেটে সময় কাটাতে । বাংলায় ব্লগ পড়া একটি অন্যতম শখ । গান শোনার ক্ষেত্রে আমার প্রধান পছন্দ হচ্ছে সুর, ভাষা গান শোনার জন্য কখোনো বাঁধা হতে পারেনি । ক্রিকেট আমার প্রথম পছন্দ ।
কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্টের প্রিমিসেসের ভেতরে ১৯৭৫ পরবর্তী যে সব বাচ্চারা থাকতো তাদের কাছে «দিদি» নামটা কতটা আতংক জাগাতো তা শুধু তারাই বলতে পারবে । ঐসব বাচ্চাদের মধ্যে আমিও অন্যতম একজন । আমার মনে পরে আমার মা আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য "দিদি বকা দিবে " এই কথা বলে অসংখ্য বার ঘুম পাড়ায় দিয়েছিলো ।
কিন্তু কে এই দিদি ?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ইতিহাস যারা জানেন তারা বোধকরি রনদা প্রসাদ সাহার নাম শুনে থাকবেন । সঠীক হিসাব জানা না থাকলেও মোটামুটি এক দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন । যার প্রতিটি টাকাই তিনি আর্তমানবতার সেবামূলক কাজে ব্যায় করে গেছেন । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনারা তাকে রাজাকারদের সহায়তায় ধরে নিয়ে যায় এবং অদ্যবধী তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই । স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই বিশাল সম্পত্তির দেখভাল করার এবং ট্রাস্টকে চালানোর জন্য তার পরিবারের সবচেয়ে ছোটো মেয়েটি দ্বায়ীত্ত তুলে নেন । রনদা প্রসাদ সাহার ছোটো মেয়ে জয়া পতি ছিলেন কুমুদিনীতে দিদি নামে পরিচিত । কঠিন এডমিনিস্ট্রেটর ছিলেন তিনি । আইরন লেডি বলতে আমার এই দুনিয়ায় দুইজনকে নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিলো - ১) মিসেস মার্গারেট থ্যাচার ২) মিসেস জয়া পতি । হাস্যকর লাগছে তাই না ? তার স্বান্নিধ্যে যারা আসার সুযোগ পেয়েছেন তারা আমার এই কথায় মোটেও হাসবেন না জানি । সেই সময় দোদর্প এর সাথে এতবড় একটা অর্গানাইজেশন চালিয়েছেন শক্ত হাতে ।
আমি চার্টার্ড একাউন্টেন্সি আর্টিকেলশীপ এর সময় কুমুদিনীতে অডিট করতে যেতাম । সেসুবাদে ছোটো পিসির সাথে কাজ করার সুযোগ হয় আমার । ভালোকথা "দিদি" আমাদের জন্য ছিলেন ছোটো পিসি । ১৯৯৫ সাল হবে , তিনি আমাকে ওনার ওঅফিসের একপাশে একটি কম্পিউটার দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন কাজ করার জন্য । যেই দিদি ছিলেন আমার জন্য মূর্তিমান আতংক , সেই দিদির পাশের টেবিলে কিভাবে কাজ করবো আমি ?!!! কিন্তু উপায় ছিলো না আমার । বাধ্য হয়ে ওনার পাশের টেবিলটাতে প্রায় ৩ বছর আমাকে কাজ করতে হয়েছে । ওনার পাশের টেবিলে বসে আমি দেখেছি কি ভাবে উনি ডিসিশন নিতেন ইন্সট্যান্টলি । কত সমস্যার সমাধান করতেন কতো সহজ করে । আর রুমে কেউ না থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন , "বলতো আমি কেনো এই ডিসিশনটা দিলাম ? " পরে নিজেই আবার ব্যাখ্যা করে দিতেন কেনো নিলেন এই ডিসিশন । তার রুমে বসে তৎকালিন অনেক বড় বড় ব্যাবসায়ী , সরকারী আমলা , বিভিন্ন সংগঠনের বড় বড় কর্তাব্যাক্তি , রাষ্ট্রদূতদর সাথে তার মিটিংগুলো এতকাছ থেকে দেখার আমার সুযোগ হয়েছিলো । শেখার সুযোগ হয়েছিলো । বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী র ও উনি একজন প্রিয় ব্যাক্তিত্ত । চন্দন দা , আপনি তার ছেলে হয়েও মনে হয় ছোটো পিসিকে এত কাছ থেকে দেখার বা তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাননি । আমি আপনার এবং রাজিবদার চাইতে বেশি লাকি । আমি আমার ২২ বছরের ক্যারিয়ারে আজকে নিজেকে অনেক স্ট্রং মনে করি । আজকে এই পর্যায়ে আসার পেছনে ছোটো পিসির সেই ট্রেনিং এর অবদান অনেক বেশি ছিলো । আমার কাছে এখন অফিসের কোনো প্রবলেম কে প্রবলেম বলে মনে হয় না । আমাকে উনি একটা মন্ত্র শিখিয়ে দিয়েছিলেন । "মনে রাখবি , তুই জীবনে জন্ম এবং মৃত্যু কন্ট্রোল করতে পারবি না , এর বাইরে যে কোনো প্রব্লেম আসুক না কেনো তার কোনো না কোনো সলুশন তুই পাবিই পাবি "। ঐ মন্ত্রটা আমি মনের ভেতরে গেথে নিয়েছিলাম এবং আমি নিজেকে আজকে সাকসেসফুল বলে মনে করি ।
ছোটো পিসির বয়স হয়তো ১০০ পার হয়ে গিয়ে থাকবে বা একটু কম হবে । উনি লন্ডনে ওনার ছেলে মেয়ের সাথে থাকেন । গতবছর উনি বাংলাদেশ এ এসেছিলেন । ঠীকমতো কাউকে চিনেন না । কুমুদিনী থেকে হোটেল রেডিসনে ওনার জন্য একটা ইনভাইট ওনলি মিটিং এর আয়জন করা হয় । আমি ইনভাইটেড ছিলাম না তাই দেখা করতে পারি নাই । পরের দিন অফিসের কাজে দেশের বাইরে চলে যাই , তাই আর ছোটো পিসিকে আমার দেখা হয় নাই ।
ছোটো পিসি , আপনাকে দেখতে পরিনি কিন্তু জেনে রাখবেন , সেই ছোট্ট ছেলেটা আজকে অনেক বড় হয়ে গেছে কিন্তু আপনার সেই হ্যান্ডস অন ট্রেনিং ভুলে নাই । আপনার দেয়া সেই মন্ত্র দিয়ে আরো ক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ।
গতকালকে খবর পেলাম ছোট পিসি আর নেই । লন্ডনে তার ছেলে মেয়ের সান্নিধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ।
আপনাকে কোনোদিনও ভুলবো না ।

©somewhere in net ltd.