নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

জাদিদ

ব্যক্তিগত ব্লগ।

জাদিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক বাস্তব কুসংস্কারের গল্প।

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

কুসংস্কার নিয়ে গত কিছুদিন ধরে একটু পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি। কুসংস্কার কি শুধুই অযৌক্তিক যেকোনো বিশ্বাস বা অভ্যাস নাকি কাকতালীয় কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে কোন ঘটনা যা এক সময় সমাজে স্বীকৃত ছিলো নাকি এর পিছনে আছে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

আপনি চাইলে এক কথায় বলে দিতে পারেন, ধুর! কুসংস্কার মানে হচ্ছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, ভ্রান্ত ধারনা। অথচ সকল কুসংস্কার ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আধুনিকতার নামে সবকিছুকে ধর্মের বিপরীতে দাঁড় করানো বা সাংঘর্ষিক করানো ইদানিং এক ধরনের সংস্কারে পরিনত হয়েছে, যা হয়ত নিজেই এক সময় কুসংস্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তাই বলে, ধর্মকে কেন্দ্র করে যে কোন কুসংস্কার নেই তা অস্বীকার করা যাবে না।

আপনাদের সাথে একটা ইন্টারেস্টিং কুসংস্কারের গল্প শোনাচ্ছি।

গ্রামদেশে বা শহরে যে বিশাল বাড়িগুলো এক সময় খুব রমরমা ছিলো, চকচকে ছিলো, সেই বাড়িতে যখন কোন নতুন বউ বেড়াতে যায়, তাঁকে সাধারনত বাড়ির পিছনে বা যেখানে কিছুটা মানুষজন কম সেখানে যেতে দেয়া হয় না। কারন হিসেবে বলা হয় 'মায়ায়' ধরবে। মায়া কি? মায়ায় ধরলে কি হয়?
মায়ায় ধরলে, সুন্দরী সেই নারীর রূপ বাড়ি খেয়ে ফেলে। মেয়েটি আস্তে আস্তে বুড়িয়ে যায় আর বাড়ি চকচকে হয়ে উঠে।

এইবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে, এই কুসংস্কার সম্পর্কে জানলাম। আমাদের গ্রামের বাড়িটা এক সময় অনেক রমরমা ছিলো, চারিদিক পরিষ্কার তকতকে, ঝকঝকে। এখন পুরো বাড়িতে আমার বৃদ্ধ নানী, একশ বছর বয়স অতিক্রমন করা এক সময়ের বাড়ির কাজের লোক, যিনি এখন আমাদের পরিবারের সদস্য, আর দুই একজন রাখাল ছাড়া প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই বাড়িতে আর কেউ নেই। আমরা সবাই এখন শহরে বাস করি, মাঝে মাঝে যাই, বাড়ীর বৃদ্ধকাল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি।

এবার ঈদে যখন গ্রামের বাড়ী গেলাম, আমাদের বাড়ির পেছনের বাগানে যখন স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চাইলাম, তখন আমাদের বাড়ির সেই একশ বছর পার হওয়া বৃদ্ধা দেখাশোনাকারী দাঁত বিহীন মাড়ি দিয়ে বললেন, মনি, বাড়ির পেছনে এখন বউদের নিয়ে যাইও না। মায়া, মায়া ধইরব!

নানীকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি হাসলেন। বললেন না যাওয়াই ভালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম মায়া কি?

তিনি বললেন, আরে তেমন কিছু না। এইগুলো প্রচলিত কথা।
আমি বললাম, দিদামনি বলেন না! ব্যাপারটা কি?
তিনি বললেন, ব্যাপারটা আর কিছুই না। অনেক মেয়েদের সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার প্রবনতা বেশি, তাঁরা চারিদিক সাজানো গোছানো পছন্দ করে। আশেপাশে ময়লা দেখতে পারে না। ফলে এরা যখন বড় কোন বাড়িতে যায়, বাড়ির কিছুটা ভগ্ন দশা দেখে, তখন একটা অদ্ভুত টান অনুভব করে। এই টান থেকে সে বেশি বেশি পরিশ্রম করে, ফলে বাড়িঘর চকচক করে, পরিষ্কার থাকে। কিন্তু অধিক পরিশ্রমে মেয়েটি ক্লান্ত হয়, নিজের প্রতি খেয়াল থাকে না। ধীরে ধীরে সে হয়ত কিছুটা বিপর্যন্ত হয়, কিন্তু সুন্দর হয় সেই অবহেলিত বসত বাড়ি। মায়ায় ধরে তাঁকে।

আমার হঠাৎ আমাদের বাড়ির ১০০ বছর বয়সী সেই নারীর কথা মনে পড়ল। উনার ডাক নাম জাকেরা বেগম। আমার জন্মের পর তাঁর তেমন দাঁত দেখি নাই। তখন তিনি নিজের নাম ফোকলা দাঁতে বলতেন 'জাক্কা। আমরাও ভালোবেসে তাঁকে জাক্কা বলেছি।

অবশ্যই তাঁকে মায়ায় ধরেছিলো। এই বাড়ি এখনও তাঁর জন্য চকচক করে, তিনি এখনও জানেন, কোন গাছের কোন আম কখন ঝরে পড়বে, কোন গাছের ডাবের পানি মিষ্টি, জঙ্গলের ভেতর কোথায় পেয়ারা ধরেছে। লাঠি হাতে পুরো বাড়িতে তিনি কোমর কুজো করে এখনও ঘুড়ে বেড়ান, পাহারা দেন। আর দিন দিন তিনি হয়েছেন বৃদ্ধ, শ্রী হীন। কারন মায়ায় ধরেছে তাঁকে।

উনি আজীবন থাকবেন আমাদের অন্তরে, আমাদের মায়ার রাজত্বে। জীবনে সব কিছু কুসংস্কার নয়, কিছু জিনিস সংস্কার থেকেও আসে। উনি সেটা বাস্তব প্রমান।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:২৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: এই নামে আপনি আছেন জানতাম না হাহাহা
আমি কই এই জাদিদের পোস্ট আবার ফেবুতে আপনি দিলেন ক্যামনে। ঢুকে দেখি আপনার ছবি হাহাহাহা
মায়ায় ধরছে

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

জাদিদ বলেছেন: আপনি সিরিয়াসলি জানতেন না, এটা আমার মুল আইডি?

২| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আমরা অজানা, অবোধগম্যতা বা বিশ্বাসের সাথে কনফ্লিক্ট করলেই ট্যাগিং করে ফেলি কু-সংস্কার!

আপনার দারুন বিশ্লেষনে যেমন মায়ার রহস্য উন্মোচিত হলো, তেমনি সকল সংস্কারের পেছনেই যৌক্তিক কারণ ছিল বা আছে।

যেমন আগে বিয়ের আগে মেয়েদের পায়ের ছাপ দেখা হতো!
সবাই ছি: ছি: নারী কি পন্য? বলা ব্লা অভিযোগে চিল চিৎকার উঠাবে।

যখন ব্যাখ্যাটা শুনলাম - পায়ের গঠন দেখে মানুষের স্ব-ভাব, মেজাজ, মর্জি এগুলো বুঝতেন মুরুব্বীরা!
আমার কাছেতো ভালই মনে হল। এখন সেই জ্ঞান বা বিধ্যাটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। পরম্পরায় ধরে রাখতে পারিনি!
ব্যাস! এটা হয়ে গেল কুসংস্কার!
যেমন আমাদের শায়মাপুনি- হাতের লেখার ম্যাজিকে মানুষের আঁতিপাতি বলতে পারেন! সেই জ্ঞান যার নাই
তার কাছে মনে হবে সবই বুজরুকি! ভুং ভাং!

অভিজ্ঞতার চলন্ত পিডিয়া সিনিয়র দাদু জাক্কা'র প্রতি রইল শুভকামনা। দোয়া।
আল্লাহ উনাকে আরো দীর্ঘায়ু দান করুন।

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

জাদিদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু ভাই।! আসলে অনেক জিনিসের ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়গুলো কুসংস্কারে রুপ নিসে।

৩| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: সত্যিই জানতাম না ।

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৮

জাদিদ বলেছেন: আমি সত্যি খুবই অবাক হইলাম।

৪| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


ব্লগার বিদ্রোহী ভৃগু বেলেছেন, 'মেয়েদের পায়ের চাপ' থেকে মুরব্বীরা মেয়েদের স্বভাব, মানস-মনন বুঝতেন, এবং এটা উনার পছন্দ হয়েছে; এটাই একটা বড় কুসংস্কার।

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৮

জাদিদ বলেছেন: আমি ঠিক জানি না, পায়ের ছাপ দেখে মানুষের রুচি বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কতখানি নির্ভুলভাবে নির্নয় করা যায়, তবে এটা নিঃসন্দেহ যে, এই প্রথা শুধু বাংলাদেশে নয়, বহু প্রাচীন যুগ থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে মিশরে প্রচলিত ছিলো। এই ব্যাপারে উপযুক্ত তথ্য আমি সময় করে আপনাকে জানিয়ে দিবো।

৫| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বাহা! মায়া সম্পর্কে চমৎকার ব্যাখ্যা পেলাম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা গ্রামের প্রবীণ মানুষদের সংস্কারকে বিনা বাঁধায় গ্রহণ করি। প্রচলিত সংস্কারের পিছনে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো যুক্তি থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ সংস্কার বাহকরা সেটি না জানাতে বছরের পর বছর সংস্কারটি চলে এলেও যুক্তিটি অজানাই থেকে যায়। আপনার নানীজান শুধু আবেগের বশে প্রচলিত সংস্কার বাহক নন, নিঃসন্দেহে একজন যুক্তিবাদী বটেও।
এমন হাসিখুশি প্রাণবন্ত মানুষটার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৯

জাদিদ বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পদাতিক ভাই। আপনি খুব সুন্দর করে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন।

কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানবেন।

৬| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:২৬

রাজীব নুর বলেছেন: চমৎকার একটি পোষ্ট।
আপনি কি অলৌকিক নয় লৌকিক বইটি পড়েছেন??

আমি কোনো কুসংস্কার বিশ্বাস করি না।
কিন্তু এই সমাজে বহু লোক কুসংস্কারে বিশ্বাসী।

সেদিন দেখলাম মাস্টার্স পাশ করা এক মেয়ে গলায় তাবিজ পড়ে আছে। তাবিজ পড়েছে কারন তার বাচ্চা হয় না।

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৩

জাদিদ বলেছেন: ভদ্রলোক তো আমাদের এখানেই লিখতেন বলে যতদূর মনে পড়ে? আপনি কি জাতিস্বর ভাইয়ের কথা বলছেন? যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে উনার এই সংক্রান্ত অনেক লেখাই পড়েছি।

৭| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: জাকেরা বেগমের জন্য শুভ কামনা।
প্রসঙ্গক্রমে এক মুরুব্বির কথা মনে পড়ল। আমাদের এলাকায় মুরুব্বিরা আনারস খেয়ে দুধ খেতে বারন করেন। ফিনল্যান্ড থেকে উচ্চ শিক্ষা নেয়া এক ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন দুধ আর আনারসের জুসের কোন বিরোধ নেই, হজমেরও কোন অসুবিধা হয়না।
তার অনেক বছর পর আরেক মুরুব্বির কাছে এর ব্যাখ্যা পেলাম। তিনি জানালেন, সাপ নাকি পাকা আনারসের জুস খায়। তাই পাকা আনারসে সাপের বিষ থাকতে পারে। সাপের বিষ মানুষের পেটে গেলে কোন ক্ষতি হয়না। কিন্তু সাপের বিষের সাথে দুধের মিশ্রণ ঘটলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আর এ কারণেই মুরুব্বিরা আনারস খেয়ে দুধ খেতে বারন করেন।

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৩

জাদিদ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া। তবে এটা সত্য যে সাপ কখনই ফল জাতীয় কোন খাবার খায় না।

তবে মুল ব্যাখ্যাটি আপনাকে আমি বলছি, সাধারনত যাদের প্রচুর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, যারা দুধ জাতীয় খাবার সহ্য করতে পারেন না, তাঁরা যদি আনারস জাতীয় কোন খাবার খান, তাহলে তাদের সমস্যা হতে পারে। পেট ব্যাথা, তিতা বমি সহ আরো অন্যান্য অনেক ব্যাপার। আগের দিনের মানুষ এই সব সিনড্রোমকে বলত দুধ আর আনাসর মিলে বিষ হইছে।

৮| ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩১

নতুন বলেছেন: দাদী নানীরা তো নিজেরাই এক একটা গল্প, তারা তাদের জীবনে অনেক কিছু দেখেছেন সেটা নতুন প্রযন্মের কাছে গল্প বলে মনে হবে।

এই বটবৃক্ষের মতন মানুষ গুলি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু।

আমারও নানী এখনো বেচে আছে মুরুব্বিদের মধ্যে। তাদের সরলতা দেখে অবাক লাগে তাদের মনে কুটিলতা ছিলোনা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা অনেক।

আগেকার দিনে অনেক কিছু মানুষ বুঝতে পারতো না তাই অজানা বিশ্বাসের থেকেই অনেক কিছু মানা শুরু করতো... সেটা এখন কমে যাচ্ছে। আগের মতন অন্ধ বিশ্বাস কম করছে, বিজ্ঞানের ব্যক্ষ্যায় আস্থা বাড়ছে মানুষের।

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:১০

জাদিদ বলেছেন: সেটাই এই বটবৃক্ষের মত মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস এই শূন্যতাকে কোনভাবেই প্রকাশ করতে পারে না। অথচ আমার বার বার শুধু দীর্ঘশ্বাসই পড়ে।

৯| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:২১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: হিন্দু শাস্ত্রে এখনও দেখি কোথাও কোথাও নুতন বউ বাড়ী এলে
প্রথমে আলতা পায়ে বাড়ীর মেঝে পদচিহ্ন দেবে এরপর, বাড়ীর
কোন একটা দেয়ালে হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ দেবে

.....................................................................................
এটাও কি কুসংস্কার ???

১০| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৩১

চাঁদগাজী বলেছেন:


@গিয়াস উদ্দিন লিটন ,

সাপ কোন ধরণের ফলমুল খায় না।

১১| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৫৭

রাকু হাসান বলেছেন:


অভাব নেই কুসংস্কারের । কুসংস্কার নিয়ে কোনো বই পড়ছেন ? থাকলে নাম বলার অনুরোধ করছি ।

১২| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৩:১৫

সোহানী বলেছেন: এ কুসঙস্কারটা জানা ছিল না তবে এর পিছনের ব্যাখ্যাটা ভালো লেগেছে।

১৩| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৩:৫৬

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: ধর্মের বাইরেও কুসংস্কার ছিলো, আছে। সুতরা সবকিছুতে ধর্মের দোষ খুঁজা বা ধর্ম টেনে আনা ঠিক নয়।

ছোটবেলায় শুনতাম, সাপ ছুবল দিলে নেউল নাম না-জানা কোনোএক গাছের শিকড় খেয়ে ফেলে। এই গাছটা নেউল ছাড়া আর কোনো পশুপাখি চেনে না। তাই সাপুড়ে'রা নেউল পোষে।
ইন্টারনেট ব্রাউজিং শেখার পর, ইউটিউবে সাপ-নেউলের মারামারি'র ভিডিও দেখে আমারও সেটা মনে হয়েছিলো। সাপের ফুসফাস নেউল'রা বিলকুল কেয়ার করেনা। নিশ্চয়ই নেউল'রা কোনোগাছপালা, শিকড় ফিকড় সম্পর্কে জানে!!

বছর পাঁচেক আগে, একটা আর্টিকেলে পড়েছিলাম।লেখক একটি পশ্চিমা একদল বিজ্ঞানীর সূত্র উল্লেখ করে বলতে চেয়েছেন, বিজ্ঞানীদের ধারনা- নেউলের শরীরে এক ধরণের নিউরোট্রান্সমিটার থাকে যার কারণে সাপের বিষ নেউলের শরীরে তেমন বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে না। এবং প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য এই নিউরোট্রান্সমিটার নেউলের শরীরে আস্তে আস্তে তৈরি হয়েছে। আর্টিকেল'টা তখন আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, সুপারবাগ বা ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়াদের এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধে সক্ষমতা অর্জন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পড়ে বা জেনে 'নেউলের যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা অর্জনের' ব্যাপারটা বুঝলাম।

আগের মানুষ, সাপ-নেউলের মারামারিতে নেউলকে জয়ী দেখে ভাবত নেউল হয়তো কোনো শিকড়ের সন্ধান জানে। তাই শিকড়, তাবিজ কবজের এই কুসংস্কার জন্ম নিয়েছিলো।

১৪| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনি চাইলে এক কথায় বলে দিতে পারেন, ধুর! কুসংস্কার মানে হচ্ছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, ভ্রান্ত ধারনা। অথচ সকল কুসংস্কার ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আধুনিকতার নামে সবকিছুকে ধর্মের বিপরীতে দাঁড় করানো বা সাংঘর্ষিক করানো ইদানিং এক ধরনের সংস্কারে পরিনত হয়েছে, যা হয়ত নিজেই এক সময় কুসংস্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তাই বলে, ধর্মকে কেন্দ্র করে যে কোন কুসংস্কার নেই তা অস্বীকার করা যাবে না।

-সুন্দর বলেছেন।

উনি আজীবন থাকবেন আমাদের অন্তরে, আমাদের মায়ার রাজত্বে। জীবনে সব কিছু কুসংস্কার নয়, কিছু জিনিস সংস্কার থেকেও আসে। উনি সেটার বাস্তব প্রমান।

-শেষের এই কথাগুলোও মন ছুঁয়ে যাওয়া।

পোস্টে +++

১৫| ২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:৪১

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: কুসংস্কারের শব্দ আজো শোনা যায় কর্ণকুহরে.....

পরিশ্রমের সাথে উপযুক্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। লেখাটি পড়ে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের পালামৌ এর নারীদের কথা মনে পড়লো । তারা তাদের কর্মোর কারনে যৌবনা।

ধীরে হলেও কুসংস্কারের অন্ধকার কাটছে....

১৬| ২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১৬

সুপারডুপার বলেছেন: কুসংস্কারের সাথে বিশ্বাস জড়িত। এজন্য দেখা যায় , যে ঐ কুসংস্কার বিশ্বাস করে তার জন্য বাস্তব মনে হয়। যে বিশ্বাস করে না , তার জন্য অবাস্তব মনে হয়।

আর বিজ্ঞানের সাথে কুসংস্কার দীর্ঘদিন থাকতে পারে না। যেমন : একসময় জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষবিদ্যা অভিন্ন থাকলেও পরে আলাদা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.