নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যেসব কথা এই সামু ব্লগে লিখতে পারি না নানা কারনে- সেসব কথা আমার পার্সোনাল জার্নাল ব্লগে লিখি -- জার্নাল অফ জাহিদ https://journalofjahid.com/

জাহিদ অনিক

জার্নাল অফ জাহিদ

জাহিদ অনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা করতে আসেননি; কাঁটায় খোঁচা দিতে এসেছেন, যাতে ঘুম ভাঙে।

বইয়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রবন্ধ ‘বাঙালি মুসলমানের মন’। এখানে ছফা বাঙালি মুসলমান সমাজের কিছু প্রবণতা নিয়ে কঠিন কথা বলেন - দোদুল্যমানতা, পরনির্ভরতা, নতুন চিন্তা-জ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহ, আবেগপ্রবণতা, আর সমালোচনা সহ্য না করতে পারা।

তাঁর দাবি, বাইরে বাইরে যুগ বদলেছে, শাসন বদলেছে, পোশাক বদলেছে; কিন্তু “মন” অনেক জায়গায় একই গণ্ডিতে আটকে আছে। তিনি এটা বাঙালি হওয়া বা মুসলমান হওয়ার দোষ বলেন না; বলেন দীর্ঘদিনের এক “ঐতিহাসিক পদ্ধতি”, যা মানসিক ভীতিকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলে। ফলে এক পা এগোলে তিন পা পিছিয়ে যাই।

আবার তিনি এও বোধয় জানতে চান যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মটা গ্রহণ করার পরেও কেন এখনো বাঙালী উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারলো না; সমস্যাটা মূলত কি!

এই বইয়ের ভালো দিক হলো - ছফা শুধু রোগ ধরেন না, ইঙ্গিত দেন চিকিৎসারও। ‘ভবিষ্যতের ভাবনা’, ‘শিক্ষা দর্শন’, এসব জায়গায় তিনি সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানচর্চা, মানববিদ্যা-কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়, আর প্রশ্ন করার সাহসকে মুক্তির দিশা হিসেবে দেখান।

হ্যাঁ, বইটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ ছফাকে অতিরঞ্জনের অভিযোগ করেন, কেউ বলেন তিনি নির্মোহ সমাজসমালোচক। কিন্তু বইটা একটা জিনিস নিশ্চিত করে: আমরা নিজেদের নিয়ে সমালোচনা শুনতে চাই না, এই অস্বস্তিটাই আমাদের সবচেয়ে বড় রোগ।

ছফাকে মানেন বা না মানেন- বইটা পড়া দরকার, কারণ এটা প্রশ্ন করতে শেখায়। আর যে জাতি প্রশ্ন করতে ভয় পায়, তার ভবিষ্যৎ অন্যেরা লিখে দেয়।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ছফা সাব কে নিয়া লিখিয়াছেন দেখিয়া পড়িলাম ।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: থ্যাংকু

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




প্রয়াত আহমদ ছফা শ্রদ্ধেয়।

তবে, বাঙ্গালি এক সময়ে শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো একটি জাতি ছিলো। প্রায় ২০০০ আগের ঘটনা বলছি। সেই সময়ে, পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরাও বাঙ্গালী জাতির অগ্রসরতা নিয়ে লিখতেন।

৩| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: আমার মতে আহমদ ছফার এই প্রবন্ধটি মোটামুটি মানের, এটা খুব বেশি ভালো নয়। এই প্রবন্ধে নতুন চিন্তা তেমন নেই। তিনি কয়েকটি সমস্যাকে চিহ্নিত করেছেন মাত্র, কিন্তু সে পর্যন্তই, তাঁর চিন্তাভাবনা এর বেশি আর এগোয়নি।

আমাদের তসলিমা নাসরিনও এই পর্যন্ত তার মস্তিষ্কের ব্যবহার করতে পারেন। পার্থক্য হচ্ছে মানুষ হিসেবে ছফা সহৃদয়, সৎ এবং সজ্জন। অন্যদিকে তসলিমা হচ্ছেন টাউট এবং পাজি প্রকৃতির।

আপনি যেগুলোকে সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন - সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানচর্চা, মানববিদ্যা-কারিগরি শিক্ষা, এসব কোনো চিন্তাশীল কথা নয়। এগুলো সাধারন শিক্ষার্থীর রচনার বুলেট পয়েন্টের মতো গৎবাঁধা কথা।

৪| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: ছফা গ্রেট।
তার সবচেয়ে বড় গুন- একজন কুসংস্কারমুক্ত মানুষ।

৫| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হ্যাঁ প্রশ্ন করতে শিখাটাই বড় একটি শিক্ষা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এখনো সেই জায়গাটিতে পৌঁছতে পারিনি।

বুদ্ধিদিপ্ত প্রশ্ন থেকেই আহমদ ছফার “বাঙালি মুসলমানের মন” গ্রন্থে বাঙালি মুসলমানের ঐতিহাসিক পরিচয় ও
মানসিক গঠনের অনুসন্ধান করা হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, বাঙালি মুসলমানের পরিচয় গড়ে উঠেছে বহুস্তরীয়
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেখানে বাঙালি ও মুসলমান এই দুই পরিচয়ের সহাবস্থান
থেকেই জন্ম নিয়েছে গভীর এক সংকটবোধ। বৌদ্ধ ও হিন্দু অন্ত্যজ জনগোষ্ঠীর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে যে নতুন
জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে, তার দীর্ঘ ইতিহাস বাঙালি মুসলমানের মানসিক কাঠামোকে নির্ধারণ করেছে।

ছফা পুঁথি সাহিত্য ও ভাষাকে বাঙালি মুসলমানের মনের রূপরেখা বোঝার প্রধান উপাদান হিসেবে বিশ্লেষণ
করেছেন। এই সাহিত্য মূলত একটি নির্দিষ্ট সামাজিক শ্রেণির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজন থেকে জন্ম নিয়েছিল
এবং এতে অলৌকিকতা ও বিশ্বাসের আধিক্য স্পষ্ট। এসব সাহিত্যকর্ম মানুষের যুক্তিবোধের চেয়ে বিশ্বাসনির্ভর
মানসিকতার প্রতিফলন ঘটায়। মধ্যযুগে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মুসলমান সমাজ
আত্মরক্ষার তাগিদে নিজস্ব সাংস্কৃতিক রূপ গড়ে তোলে, যদিও তা হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল না।

ইংরেজ আমলে অভিজাত হিন্দু শ্রেণির উত্থান ও মুসলমান সমাজের পশ্চাৎপদতার ব্যাখ্যায় ছফা শুধু ঔপনিবেশিক
রাজনীতিকেই দায়ী করেননি; বরং তিনি দেখিয়েছেন, দীর্ঘকাল ধরে ধর্ম পরিবর্তনের পরও বাঙালি মুসলমানের
মানসিক মৌল কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। এই অপরিবর্তিত চিন্তাকাঠামোই আজও বাঙালি
মুসলমানের মানসিক জগতকে প্রভাবিত করছে এই সত্যটি ছফা তাঁর যুক্তি, বিশ্লেষণ ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির
মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

প্রয়াত এই বরেন্য সাহিত্যকের প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

আপনার প্রতি রইল শুভেচ্ছা ।

৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৪

তানভীর রাতুল বলেছেন: ছফা 'বাংলা' সাহিত্যের লেখক তালিকায় অনেক নিচের দিকে অবস্থানকারী একজন। আর এই স্বয়ংক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা যে কিনা যুদ্ধের পুরোটা সময় কোলকাতায় আনন্দবাজার অফিসে চা-বিড়ি খেয়ে আরামে কাটিয়েছে, সে-ই কিনা দেশে ফিরে নীলক্ষেতে সুনীল-শীর্ষেন্দুদের বই দেখে শওকত ওসমানকে বলে, "যদি ভারতের বই-ই বেঁচতে হবে, তাহলে কি বাল ফালাইতে দেশ স্বাধীন করছিলাম!" ।

এটাই 'ভারতবিরোধিতা' নামক রাজনৈতিক মুখোশ পরা 'হিন্দুবিদ্বেষী' বাঙ্গুমুমিন লেখকের মনমানসিকতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.